অন্বেষণ

বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সৌরবিদ্যুতের গ্রিড?

স্ট্যানফোর্ড থেকে জার্মানি হয়ে ঢাকায় এসেছেন সেবাস্টিয়ান গ্রো সলশেয়ার নামের একটি স্টার্টআপ শুরু করার জন্য৷ উদ্দেশ্য: প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যাপারীদের একক সোলার প্যানেলগুলোকে জুড়ে সৌরবিদ্যুতের গ্রিড সৃষ্টি করা৷

default

দক্ষিণ বাংলাদেশের রাঙ্গাবালী দ্বীপ৷ এখানে বিদ্যুতের তারের চাহিদা খুব বেশি, কেননা সরকারি বিদ্যুৎ এখনও এখানে এসে পৌঁছয়নি৷ অপরদিকে বাজারের বহু ব্যাপারী দোকানের মাথায় সোলার প্যানেল বসিয়েছেন৷ সলশেয়ার কোম্পানি সেই একক প্যানেলগুলোকে জুড়ে গোটা মোল্লার বাজার এলাকার জন্য একটি গ্রিড সৃষ্টি করতে চায়৷

সলশেয়ার-এর হেড অফ অপারেশনস আজিজা সুলতানা বলেন, ‘‘আমাদের দেখতে হবে, কোথায় সোলার হোম সিস্টেমগুলির সংখ্যা বেশি৷ শুধুমাত্র সেখানেই গ্রিড সৃষ্টি করা সম্ভব৷ প্রযুক্তিগত পরিস্থিতি জানার পরেই আমরা অগ্রণী হতে পারবো৷’’

ভিডিও দেখুন 04:40

বাংলাদেশের ঘরে ঘরে পৌঁছে যাবে সৌরবিদ্যুৎ

একটি স্থানীয় গ্রিড থেকে ব্যাপারীদের অনেক সুবিধা হবে৷ তারা তাদের সোলার প্যানেলগুলো একসঙ্গে চালু করে বিদ্যুৎ কেনাবেচা করতে পারবেন, প্রতিবেশীর কাছ থেকে বিদ্যুৎ কিনতে পারবেন ও সেই বিদ্যুৎ দিয়ে আরো বেশি যন্ত্র চালাতে পারবেন৷ সলশেয়ার কোম্পানি সেজন্য একটি বিশেষ পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউটর বার করেছে, যা বিদ্যুৎ দেওয়া বা নেওয়ার বিশদ হিসেব রাখতে পারে৷ এই ডিস্ট্রিবিউটরগুলোর নাম রাখা হয়েছে সলবক্স৷

বাজারের ব্যাপারী ও সৌরশক্তি

মোল্লার বাজারের ১৫০ জন ব্যাপারী শিগগিরই একটি গ্রিডে একত্রিত হবেন৷ গোটা বাংলাদেশে এ ধরনের গ্রিডের ব্যাপক সুযোগ আছে, কেননা সারা বিশ্বে এদেশেই বেসরকারি মালিকানার একক সোলার প্ল্যান্টের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি: সব মিলিয়ে ৪০ লাখের বেশি৷

সলবক্স বাংলাদেশেই তৈরি করা হয়৷ স্টার্টআপটি এখনও মুনাফা করতে পারছে না বটে, কিন্তু তাদের এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক কিংবা জার্মান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জিআইজেড-এর মতো পৃষ্ঠপোষক আছে৷ সলবক্সের প্রধান এককালে ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকার ছিলেন৷

সলশেয়ার-এর  সিইও সেবাস্টিয়ান গ্রো জানালেন, ‘‘আমরা চিরকাল এখানে উৎপাদন করিনি৷ গোড়ায় আমরা স্ট্যানফোর্ড থেকেই আমাদের পণ্যটির বিকাশ ঘটানোর চেষ্টা করেছি, পরে সে কাজে বার্লিনে বাসা গেড়েছি৷ কিন্তু তাতে কোনো কাজ হয়নি৷ আমরা প্রথম সাফল্য পেয়েছি এখানে উৎপাদন শুরু করার পর৷ এখানে তৈরি করে তারপর দেখা, পণ্যটা কীভাবে বাস্তবে কাজে লাগানো হচ্ছে – সত্যিই দারুণ৷’’

তাঁর কোম্পানির জন্য গ্রো জার্মানি থেকে বাস উঠিয়ে ঢাকায় এসেছেন, এদেশে ব্যবসা করার ধরণ-ধারণ শিখেছেন ও কাজ চালানোর মতো বাংলাও শিখেছেন৷

‘বাংলাদেশ ই-মোবিলিটির পক্ষে আদর্শ’

গ্রো-র সমস্যা হল, সরকারি গ্রিডে বিদ্যুৎ দিয়ে কোনো দাম পাওয়া যায় না৷ আগামী বছরের শেষে নির্বাচন, কাজেই তার আগে এক্ষেত্রে কিছু বদলাবে বলেও মনে হয় না৷ ওদিকে সরকার আণবিক চুল্লি তৈরির সপক্ষে জনমত সৃষ্টি করতে সচেষ্ট৷ অথচ গ্রো দেখছেন, বাংলাদেশে ‘‘অবিশ্বাস্য রকমের ঘন জনবসতি৷ আবার দূরত্বগুলোও খুব বেশি নয়৷ ইলেক্ট্রোমোবিলিটি বা ব্যাটারি-চালিত গাড়ির জন্য এর চাইতে ভালো পরিস্থিতি হতে পারে না৷’’

পরিবহণের ক্ষেত্রে সারা দেশে ইতিমধ্যেই প্রায় আট লাখ ইলেক্ট্রো রিকশা চলেছে, যেগুলো চার্জ করার কাজে সলশেয়ার সংশ্লিষ্ট হতে চায়৷ সলশেয়ার পরীক্ষা করে দেখছে, স্থানীয় সৌরশক্তির গ্রিড থেকে এই রিকশাগুলির ব্যাটারি রি-চার্জ করা যায় কিনা৷ গ্রো জানালেন, ‘‘আমাদের লক্ষ্য হল যে, গ্রামগুলির বিকাশ ঘটবে৷ বর্তমানে ওরা সৌরশক্তি থেকে পাওয়া বিদ্যুতের আদানপ্রদান করছেন, ফলে বিদ্যুতের ব্যবহার আরো কার্যকর হচ্ছে৷ কিন্তু গ্রামের আমদানি বাড়ানোর জন্য বাইরে থেকে টাকা আসা প্রয়োজন৷ রিকশা চালকরা যদি ব্যাটারি চার্জ করার জন্য বাইরে থেকে গ্রামে আসেন, তাহলে উন্নয়নের আরো একটা রাস্তা খুলে যাবে৷’’

মারিয়ন হ্যুটার/এসি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

Albanian Shqip

Amharic አማርኛ

Arabic العربية

Bengali বাংলা

Bosnian B/H/S

Bulgarian Български

Chinese (Simplified) 简

Chinese (Traditional) 繁

Croatian Hrvatski

Dari دری

English English

French Français

German Deutsch

Greek Ελληνικά

Hausa Hausa

Hindi हिन्दी

Indonesian Bahasa Indonesia

Kiswahili Kiswahili

Macedonian Македонски

Pashto پښتو

Persian فارسی

Polish Polski

Portuguese Português para África

Portuguese Português do Brasil

Romanian Română

Russian Русский

Serbian Српски/Srpski

Spanish Español

Turkish Türkçe

Ukrainian Українська

Urdu اردو