বিশ্ব

বাংলাদেশে অন্তত ৫৭ লাখ মানুষ বাস্তুহারা

প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ছয় বছরে বাংলাদেশের ৫৭ লাখ মানুষ বাস্তুহারা হয়েছেন৷ ‘ইন্টারনাল ডিসপ্লেসমেন্ট মনিটরিং সেন্টার' ও ‘নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল'-এর প্রতিবেদনে জানা গেছে এ তথ্য৷

Bangladesh Armut

সোমবার প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে, যেখানে বাস্তুচ্যুতির হিসাব ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত দেখানো হয়েছে, বলা হয়, বাংলাদেশে মূলত ঘূর্ণিঝড় আইলার কারণে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বেড়িবাঁধ ভেঙে যায়৷ এ কারণে শুধুমাত্র ঐ এলাকাতেই সে সময় ৮ লাখ ৪২ হাজার মানুষ প্রাথমিকভাবে বাস্তুহারা হয়ে পড়েন৷ পরবর্তী সময়ে বেড়িবাঁধ সময়মতো মেরামত না করায় বাস্তুচ্যুতির সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে৷

প্রতিবেদনে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ছ'টি এলাকার মানুষ সবচেয়ে বেশি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে৷ এর মধ্যে রয়েছে খুলনার দাকোপ, কয়রা ও বটিয়াঘাটা, সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও আশাশুনি এবং বাগেরহাটের মংলা উপজেলা৷ এ সব এলাকার মানুষ ঘূর্ণিঝড়ে সব হারিয়ে দেশের অন্যত্র চলে যান বা যেতে বাধ্য হন৷ পরবর্তীতে বাস্তুহারা এই মানুষদের মধ্যে বেশিরভাগই আশ্রয় নেন ঢাকা, চট্টগ্রাম ও যশোর জেলায়৷ তবে অনেকে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতেও আশ্রয় নিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়৷ বাস্তুচ্যুত হয়ে যাঁরা অন্যত্র গেছেন, তাঁরা আগের চেয়ে আরো খারাপ অবস্থায় রয়েছেন৷ জমি-জমা না থাকায় পরিবারগুলোর মাসিক আয় কমে গেছে৷

Bangladesch illegale Flüchtlingssiedlung

জলবায়ু শরণার্থীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে...

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বা বাপা-র সভাপতি ড. আব্দুল মতিন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘সদ্য প্রকাশিত এই প্রতিবেদনটি আমরা সমর্থন করি৷ তবে বাস্তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে৷ আশঙ্কা করা হচ্ছে, যদি সমুদ্রের পানির উচ্চতা ১০০ সেন্টিমিটার বাড়ে, তাহলে বাংলাদেশে উপকূলবর্তী এলাকার দুই কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হবেন৷''

তিনি বলেন, ‘‘ঢাকাসহ বড় বড় শহরে এই লোকজন এখন জীবিকার তাগিদে ভিড় করছেন৷ তাঁরা বস্তিতে থাকছেন৷ তাঁদের অর্থনেতিক অবস্থাও আরো খারাপ হচ্ছে৷ ঢাকায় মোট জনসংখ্যার ৩০ ভাগ ভাসমান৷ আর এঁদের মধ্যে কমপক্ষে ৮০ ভাগ জলবায়ু উদ্বাস্তু বা বাস্তুহারা মানুষ৷''

বলা বাহুল্য, এই বাস্তুচ্যুত মানুষের একাংশ চট্টগ্রামে পাহাড়ের ঢালে আশ্রয় নিয়ে আবারো দুর্যোগের কবলে পড়ছেন৷ এই মানুষগুলোর নির্দিষ্ট কোনো পেশা নেই, নেই ঘর৷ তাঁরা বস্তুত রিকশা চালিয়ে বা ঠিকা শ্রমিকের কাজ করে বেঁচে আছেন৷

পরিবেশবিদ ড. আতিক রহমান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘জলবায়ু পরিবর্তনের ফলেই বন্যা, জলোচ্ছ্বাসসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হচ্ছেন বাংলাদেশের মানুষ৷ এর প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে৷ উপকূলীয় মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে শুরু করেছেন ইতিমধ্যেই৷ তবে এটা আরো বড় আকারে দেখা দেবে৷''

ড. রহমানের মতে, ‘‘বাস্তুহারারা শুধু দেশের মধ্যেই এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাচ্ছেন না, তাঁরা পাশের দেশেও যাচ্ছেন৷ এই বাস্তুচ্যুতির কারণে উপকূলীয় বেশ কিছু জনপদের জনসংখ্যার ঘনত্ব কমে গেছে৷''

তিনি বলেন, ‘‘এই জলবায়ু উদ্বাস্তুদের দেখার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক তেমন কোনো উদ্যোগও নেই৷ তাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাঁরা অতি কষ্টে জীবনযাপন করছেন৷''

এদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় ২০১০ সাল থেকে ‘বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ড' বা বিসিসিটিএফ কাজ শুরু করেছে৷ পরিকল্পনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ এখন বছরে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ করছে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও ঝুঁকি মোকাবেলায়, যা জিডিপি-র শতকরা ১ ভাগ৷

২০১৪-১৫ অর্থবছর পর্যন্ত ২,৯০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল এই খাতে৷ তবে ২০১২-১৩ অর্থবছর থেকে এই বরাদ্দ কমেছে৷ ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতা থেকে জানা যায় যে, আসছে অর্থবছরে এই খাতে বরাদ্দ ১০০ কোটি টাকা হ্রাস পাবে৷

Zyklon Aila wütet in Indien und Bangladesch

কোথায় যাবে এই মানুষগুলো?

এ পর্যন্ত যে ২,৯০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, তার মধ্যে শতকরা ৬৬ ভাগ অর্থ বিভিন্ন প্রকল্প এবং ৩৪ ভাগ অর্থ জরুরি দুর্যোগ মোকাবেলায় কাজে লাগানো হয়েছে৷ ২,০০০ কোটি টাকায় ২১৮টি সরকারি এবং ৬৩টি বেসরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে৷ এছাড়া সরকারি ৫৬টি প্রকল্প এরই মধ্যে বাস্তবায়ন হয়েছে বলেও জানা গেছে৷

প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়ে জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের জন্য ৬,৭৬০টি ঘর, ৭৪০টি গভীর নলকূপ, ১৪২ কিমি. বাধ, ১২,৮৭২টি পরিবারের জন্য সৌর বিদ্যুৎ এবং ১৪৩.৩৫ মিলিয়ন গাছ লাগানো হবে৷

সরকারের এই উদ্যোগ সম্পর্কে বাপা-র ড. মতিন বলেন, ‘‘এখানে অর্থের অপচয় হচ্ছে৷ তেমন কাজ হচ্ছে না৷ তাই সরকারের উচিত হবে সঠিকভাবে অর্থ কাজে লাগানো৷''

‘ইন্টারনাল ডিসপ্লেসমেন্ট মনিটরিং সেন্টার' ও ‘নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল'-এর ২০১৫ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, বাস্তুচ্যুত হওয়া মানুষের সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান ষষ্ঠ৷ এ তালিকায় শীর্ষে রয়েছে চীন৷ এরপর পর্যায়ক্রমে রয়েছে ভারত, ফিলিপাইনস, পাকিস্তান ও নাইজেরিয়া৷ প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায় যে, ২০১৪ সালে বিশ্বের ১ কোটি ৯৩ লাখ মানুষ নতুন করে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন৷ আর গত ছয় বছরে মোট বাস্তুহারা মানুষের সংখ্যা ২ কোটি ৬৪ লাখ৷ প্রতি সেকেন্ডেই একজন করে মানুষ তাঁর বসতভিটা থেকে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন বলেও জানিয়েছে প্রতিবেদনটি৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

Albanian Shqip

Amharic አማርኛ

Arabic العربية

Bengali বাংলা

Bosnian B/H/S

Bulgarian Български

Chinese (Simplified) 简

Chinese (Traditional) 繁

Croatian Hrvatski

Dari دری

English English

French Français

German Deutsch

Greek Ελληνικά

Hausa Hausa

Hindi हिन्दी

Indonesian Bahasa Indonesia

Kiswahili Kiswahili

Macedonian Македонски

Pashto پښتو

Persian فارسی

Polish Polski

Portuguese Português para África

Portuguese Português do Brasil

Romanian Română

Russian Русский

Serbian Српски/Srpski

Spanish Español

Turkish Türkçe

Ukrainian Українська

Urdu اردو