বাংলাদেশ

বাংলাদেশে আসছে কার্বন ট্যাক্স

বাংলাদেশের আগামী অর্থ বছরের বাজেটে কার্বন ট্যাক্স আরোপ করা হতে পারে৷ গত মার্চে অর্থমন্ত্রী এমন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন৷ এবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর চেয়ারম্যান সরাসরি এই ট্যাক্স বা কর আরোপের কথা বললেন৷

Abwracken von Schiffen in Geddani Pakistan (Roberto Schmidt/AFP/GettyImages)

মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান বলেন, ‘‘এই কর ‘গ্রিন’ প্রকল্পের একটি অংশ৷ চলতি বছরের বাজেটে এটি যোগ করা হতে পারে৷’’ এবার বাজেটে এই কর প্রচলন হলে এ বছরের ১ জুলাই থেকে তা কার্যকর হবে৷ তবে এটা কীভাবে এবং কী হারে আরোপ করা হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়৷ তবে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের ওপর এই কর আরোপ করা হবে বলে জানা গেছে৷

বিশ্বব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশ জনপ্রতি ০ দশমিক ৪৪ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন করে৷ যুক্তরাষ্ট্রে এর পরিমাণ ১৬ দশমিক ৪ টন, অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ দশমিক ৩ টন ও কাতারের ৪০ দশমিক ৫ টন৷

ব্যবসায়ী এবং পরিবেশবাদীদের স্বাগত

জানালেও এর মধ্যে ফাঁক আছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-এর সাধারণ সম্পাদক এম এ মতিন৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এতে কার্বন নিঃসরণ কতটুকু কমবে তা নিয়ে আমি সন্দিহান, কারণ, ব্যবসায়ী বা শিল্প মালিকরা এই ট্যাক্স ক্রেতা বা সাধারণ মানুষের ওপর চাপিয়ে দেবেন৷ যতটুকু কর আরোপ করা হবে তা শিল্প মালিকরা তাদের উৎপাদন খরচের মধ্যে ধরে পন্যের দাম নির্ধারণ করবে৷ ফলে তাদের ওপর কোনো চাপ পড়বে বলে মনে হয় না৷’’

অডিও শুনুন 03:20

এতে কার্বন নি:সরণ কতটুকু কমবে তা নিয়ে আমি সন্দিহান: এম এ মতিন

তিনি বলেন, ‘‘যদি এমন হতো একটি নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিয়ে বলত যে, প্রথম বছর কতটুকু কার্বন নিঃসরণ কমাতে হবে, দ্বিতীয় বছরে কত৷ এভাবে হয়ত পঞ্চম বছরে মাত্রা অনুযায়ী নিঃস্বরণ বন্ধ না হলে কারখানা বন্ধ করে দেয়া হবে৷ তা হলে হয়ত কাজে দিত৷ আর একই সঙ্গে করও আরোপ করা যেত৷’’

পরিবেশবাদীরা মনে করেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমাতে প্যারিস চুক্তির লক্ষ্য বাস্তবায়নে হয়তো নতুন এই কর খুব বেশি ভূমিকা রাখবে না৷

বাংলাদেশ ফেডারেশন চেম্বার্স অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআিই) প্রেসিডেন্ট আব্দুল মাতলুব আহমাদ রয়টার্সকে বলেন, ‘‘আমাদের যতটা সম্ভব কার্বন নিঃসরণ কমাতে হবে৷ কর আরোপই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ৷ কর আরোপে শুধু জ্বালানির দামই বাড়বে না, বরং নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে সবাইকে উৎসাহিত করবে৷’’ তিনি বলেন, ‘‘সরকার যদি পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য জ্বালানি আমদানি করতে চায় তবে দূষণকারীদের উপর কর আরোপ করতে হবে৷’’

আর পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা)-এর চেয়ারম্যান আবু নাসের খান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘গ্রীন ট্যাক্স প্যাকেজের আওতায় এই কার্বন ট্যাক্স আরোপের সিদ্ধান্তকে আমরা ইতিবাচকভাবেই দেখি৷ তবে দেখতে হবে এই ট্যাক্স কোন খাতে খরচ হয়৷ এটা যদি সরকারের রাজস্ব আদায় বাড়ানোর কোনো কৌশল হয়, তাহলে খুব বেশি কাজে আসবে না৷ এটা পরিবেশ রক্ষার কাজে ব্যয় করতে হবে৷’’

অডিও শুনুন 01:01

কার্বন ট্যাক্স আরোপের সিদ্ধান্তকে আমরা ইতিবাচকভাবেই দেখি: আবু নাসের খান

তিনি আরো বলেন, ‘‘এই ট্যাক্স হতে হবে উচ্চহারে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে উৎসাহ দিতে হবে৷’’

বিশেষজ্ঞরা রয়টার্স বলেন, ‘‘কার্বন করের কারণে জীবাশ্ম জ্বালানির দাম বেড়ে যাবে৷ এটাই জলবায়ু মোকাবেলায় সবচেয়ে সহজ পদক্ষেপ হতে পারে৷ কিন্তু কখনো কখনো এটি রাজনৈতিকভাবে অন্যরকম ফল বয়ে নিয়ে আসে৷ শুধুমাত্র অনুন্নত দেশগুলোতে জ্বালানির দাম বেড়ে যায়, যেটা রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ৷’’

পেনসিলভিনিয়ায় লক হ্যাভেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি অধ্যাপক মো. খালেকুজ্জামান রয়টার্সকে বলেন, ‘‘আমার মনে হয়, কার্বন নিঃসরণের ফলে যারা লাভবান হচ্ছে তাদেরই কর্পোরেট দায়বদ্ধতার আওতায় এই কর দেওয়া উচিত৷ সাধারণ মানুষদের উপর এই চাপ দেওয়া ঠিক হবে না৷’’

তিনি মনে করেন, কার্বন কর আরোপের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের বিষয়টিও আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত সরকারের৷

চলতি মাসের প্রথম দিকে ঢাকায় অনুষ্ঠিত জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী এম এ মুহিত বলেন, ‘‘জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় আমাদের অবদান হয়তো খুবই সামান্য৷ কিন্তু আমরাই সবচেয়ে ভুক্তভোগী দেশগুলোর একটি৷ আর এই সমস্যার কারণে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় বিশ্বের সবচেয়ে কার্যকরী প্রকল্প রয়েছে আমাদের৷ অন্য কোথাও এমন প্রকল্প দেখা যায়নি৷’’

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় বৈশ্বিক সহায়তা চাওয়ার পাশাপাশি নিজস্ব অর্থায়নে বেশকিছু প্রকল্প চালু রেখেছে বাংলাদেশ৷ নিচু অঞ্চলে অবস্থান করা বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকিই সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি৷ এতে করে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরাসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হতে হয় বাংলাদেশকে৷ জলবায়ু মোকাবেলায় উদ্ভাবনী দক্ষতার জন্য বাংলাদেশ এখন বিশ্বে নেতৃস্থানীয় পর্যায়ে রয়েছে৷

প্রিয় পাঠক, আপনি কিছু বলতে চাইলে লিখুন নীচে মন্তব্যের ঘরে...

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

Albanian Shqip

Amharic አማርኛ

Arabic العربية

Bengali বাংলা

Bosnian B/H/S

Bulgarian Български

Chinese (Simplified) 简

Chinese (Traditional) 繁

Croatian Hrvatski

Dari دری

English English

French Français

German Deutsch

Greek Ελληνικά

Hausa Hausa

Hindi हिन्दी

Indonesian Bahasa Indonesia

Kiswahili Kiswahili

Macedonian Македонски

Pashto پښتو

Persian فارسی

Polish Polski

Portuguese Português para África

Portuguese Português do Brasil

Romanian Română

Russian Русский

Serbian Српски/Srpski

Spanish Español

Turkish Türkçe

Ukrainian Українська

Urdu اردو