‘বার্লিনে বামপন্থি ও কট্টরপন্থিরা বেশি ভোট পাবেন'

আঙ্গেলা ম্যার্কেল চতুর্থবারের মতো জার্মানির চ্যান্সেলর হতে যাচ্ছেন বলে নির্বাচনের আগের নানা জরিপে দেখা যাচ্ছে৷ তবে বার্লিনে বরাবরের মতো বিরোধীদল এসপিডির সাথে বড় ব্যবধানে তার দল পিছিয়ে থাকবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা৷ 

পাশাপাশি বার্লিনে বামপন্থি ও কট্টরপন্থিরা এবার আগের চেয়ে বেশি ভোট পাবেন বলেও ধারণা করছেন অনেকে৷ এতবছর ধরে ক্ষমতায় থাকার পরও ম্যার্কেল কেন এখনও এতটা জনপ্রিয় জানতে চাইলে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জার্মান ভোটার মোনাজ হক ডয়চে ভেলেকে সোজাসাপ্টা বললেন, ‘‘তাঁর মধ্যে কিছু ক্যারিশমাটিক ব্যাপার আছে৷ এদেশের অর্থনীতিকে সবল ও স্থিতিশীল রাখতে তিনি যে ভূমিকা রেখেছেন তা মনে করেই এবারও এদেশের মানুষ তাঁকে ভোট দেবে৷''

আপনি কী ভাবছেন?

এখানে ক্লিক করুন ও আলোচনায় যোগ দিন

দীর্ঘদিন ধরে লেখালেখির সাথে জড়িত মোনাজের বিশ্লেষণ হলো, ‘‘যখন সিডিইউ এর দায়িত্ব নিতে কোন নেতা প্রস্তুত ছিলেন না সেরকম একটা সময়ে তিনি দলের হাল ধরেন৷ মাত্র ৪৪ বছর বয়সে দলের নেতা হন তিনি৷ এরপর ধীরে ধীরে সফলতাও দেখিয়েছেন৷ ম্যার্কেল যেটা চান, সেটা তিনি করতে পারেন-এটি এখন বিশ্বাস করে এখানকার মানুষ৷''  তাঁর মতে, ‘‘ম্যার্কেল সহনশীল, সবার কথা শোনেন৷ তারপর সিদ্ধান্ত নেন৷ এমনও হয়েছে যে, বিরোধীদের প্রস্তাব তিনি বিনা বাক্য ব্যয়ে মেনে নিয়ে জনস্বার্থ বিবেচনা করে তাদের পক্ষে সায় দিয়েছেন৷ এইসব মানুষ খেয়াল করে৷ সে কারণেই তিনি এখনও জনপ্রিয়৷''

শুক্রবার ডয়েচে ভেলের সাথে ফেইসবুক লাইভেও অংশ নেন তিনি৷ পরে আরও বিস্তারিত কথা হয় তাঁর সঙ্গে৷ বার্লিনে তারঁ দলের জনপ্রিয়তা কম কেন জানতে চাইলে মোনাজ হক বলেন, ‘‘এদেশের রাজনীতি রাজধানীকেন্দ্রীক নয়৷ বিকেন্দ্রীকরণ নীতি আছে বলেই সব দল সমানভাবে কাজ করে যাচ্ছে৷ ভিন্নমতের জায়গা এখানে প্রতিষ্ঠিত৷ কাজেই রাজধানীতে কেউ একজন জিতল আর তা নিয়েই বাকিদের মাথা নষ্ট হয়ে গেলো সেটি হয় না এখানে৷''

মোনাজ হকের কথার প্রমাণ মিললো আরেক ভোটারের সাথে কথা বলেই৷ এবারই প্রথম ভোটার হওয়া রাফিউ আহমেদ জানালেন, তার পছন্দ এসপিডি৷ বার্লিনে সব সময়ই জনপ্রিয় এই দল৷ রাফিউ বলেন, ‘‘তার মতো অনেক তরুণ প্রকাশ্যে পছন্দের প্রার্থী নিয়ে কথা না বললেও তারা এই দলকে যে পছন্দ করেন সেটি বোঝা যায়৷'' তবে ম্যার্কেলও বেশ জনপ্রিয় বলে জানালেন তিনি৷ 

তবে একতরফা জনপ্রিয়তার বাইরে বামদলসহ কট্টপন্থিরা আঙ্গেলা ম্যার্কেলের বেশ কিছু সমালোচনাও তুলে ধরেন৷ ভারতের কলকাতার মিতালী মুখোপাধ্যায় তাদেরই একজন৷ ২২ বছর ধরে এই দেশে তিনি৷ শিক্ষকতা করছেন৷ তাঁর মতে, ‘‘প্রদীপের নিচে যেমন কিছু অন্ধকার থাকে তেমনি ম্যার্কেলেরও যে কেবল সবই প্রশংসা করার মতো তা নয়৷ এদেশে এখন একশ্রেণির মানুষ খুব ধনী আর এক শ্রেণির মানুষ একেবারে সাধারণ অর্থনীতির৷ যারা সরকারের অনেক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল৷ বিশেষত শিক্ষা ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে৷ এই পরিস্থিতি এদেশে তৈরি হয়েছে এই ম্যার্কেলের আমলে৷ ধনীদের তিনি প্রাইভেট নানা সুবিধা পেতে সাহায্য করেছেন৷ ফলে তারা চাইলেই প্রাইভেট পাস দেখিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে ডাক্তার দেখাতে পারেন৷ অন্যদের যেখানে লাগে তিন মাস৷''

মিতালী যোগ করেন, ‘‘এসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়া এবং একইসাথে অভিবাসীদের ম্যার্কেলের অনেক দেখভাল করার কারণে অনেক জার্মান নাগরিক মনে মনে তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ৷ তারা হয়ত নীরব বিপ্লব করে তাকে ভোটে হারিয়ে দিতে পারবে না, তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে তাঁর জনপ্রিয়তা তো অবশ্যই কমেছে৷''

সমাজ-সংস্কৃতি

একেবারে সবুজ

গ্রিন পার্টি বা সবুজ দল জার্মানির পরিবেশবাদী দল হিসেবে পরিচিত৷ সুতরাং পরিবেশভিত্তিক কাজ করবেন এই দলের প্রার্থীরা, এটাই স্বাভাবিক৷ কিন্তু তাই বলে নির্বাচনের প্রার্থীরা সাইকেলে চড়ে প্রচারণা চালাবেন! এমন ঘটনাই ঘটেছে ওস্টেরড শহরে৷ ২৪ হাজার বাসিন্দার এ শহরটিতে দলের প্রার্থী ফিওলা ফন ক্রামন একটি পরিবেশবান্ধব ই-বাইকে চড়ে চেষ্টা করছেন ভোটারদের আকৃষ্ট করার৷

সমাজ-সংস্কৃতি

ফ্রি খাবার

অনেক দেশে ভোটারদের ফ্রি খাবার দিয়ে আকৃষ্ট করায় বিধিনিষেধ থাকলেও জার্মানিতে এমন নিষেধাজ্ঞা নেই৷ অবশ্যই খাবারের বিনিময় হিসেবে ভোট চাওয়া যাবে না৷ কোলনের কোরভাইলার এলাকার ৭৫ শতাংশ ভোটারই অভিবাসী পরিবারের৷ সেখানে বাম দল আয়োজন করেছে ক্যাম্পেইন পিকনিকের৷ বারবিকিউ, নানা রকমের পানীয়, টেবিল সকার এবং শিশুদের জন্য বেলুনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে৷ উদ্দেশ্য একটাই– কেউ এসে বসলে তার সাথে রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করা৷

সমাজ-সংস্কৃতি

বিয়ার নয়, ক্লাবহাউজ

জার্মানরা বিয়ার বিশেষভাবে পছন্দ করে৷ তাই বিয়ারগার্ডেনেই সাধারণত আয়োজন হয় নানা অনুষ্ঠানের৷ কিন্তু বাভেরিয়ার কুল্মবাখ শহরে খ্রিষ্টীয় গণতন্ত্রী দল সিডিইয়ের সহযোগী দল খ্রিষ্টীয় সামাজিক ইউনিয়ন -সিএসইউ বেছে নিয়েছে নতুন আইডিয়া৷ দলের প্রার্থী এমি সয়েলনার এবং সিডিইউয়ের বক্তা ভ্যোলফগাং বসবাখ আলোচনার আয়োজন করেছেন এক সকার ক্লাব হাউসে৷

সমাজ-সংস্কৃতি

ঘণ্টা আর বাঁশি

সামাজিক গণতন্ত্রী দল এসপিডির তরুণরা বাঁশি ও ঘণ্টা নিয়ে নেমেছেন মাঠে৷ হইহুল্লোড়ে দলের চ্যান্সেলর প্রার্থী মার্টিন শুলৎসকে স্বাগত জানানোই লক্ষ্য৷ একই সাথে দলের উপস্থিতি যতটা সশব্দে জানান দেয়া যায়৷ ও হ্যাঁ, সবার হাতে হাতে সাবানের বুদবুদও ছিল৷

সমাজ-সংস্কৃতি

শিশা বারে নির্বাচনি প্রচারণা

এত কিছু থাকতে শিশা বার! এমন অদ্ভুত ভেন্যু বেছে নিয়েছে বিদ্রুপাত্মক দল ‘দি পার্টি’৷ ফ্রাংকফুর্টের এক শিশা বা হুক্কা বারে রীতিমতো আনুষ্ঠানিক পোশাকে দলের ব্যানার হাতে ভোটারদের স্বাগত জানান নেতারা৷ দেখে বোঝার উপায় নেই, এটা সত্যিকারের নির্বাচন প্রচারণা না৷

সমাজ-সংস্কৃতি

সবার জন্য সর্বনিম্ন বুদ্ধি

অনেক দলই মাথা ঘামাচ্ছে সর্বনিম্ন মজুরি নিয়ে৷ তবে দি পার্টির মূল চিন্তা মানুষের সর্বনিম্ন বুদ্ধি নিয়ে৷ মানুষ হওয়ার জন্য একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ বুদ্ধি অবশ্যই থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন দলের নেতারা৷ কিছু দল পরিচয় দিচ্ছে কট্টর বাম, কেউ আবার চরম ডান, কিন্তু দি পার্টি নিজের পরিচয় দেয় কট্টর মধ্যপন্থি হিসেবে৷ প্রহসন, মজা আর কৌতুকই আসল, নিজেদের কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক অংশের সাথে যুক্ত করতে চান না তাঁরা৷

এ বিষয়ে আপনার কোনো মন্তব্য থাকলে লিখুন নীচে মন্তব্যের ঘরে৷