‘বিদেশ যাচ্ছে নারীরা, কুটির শিল্প হারাচ্ছে দক্ষ কর্মী'

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার হিসেবে বাংলাদেশের বেশ কিছু জায়গায় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প নিয়ে কাজ করেন তাজিমা হোসেন মজুমদার৷ এই সাক্ষাৎকারে তাই উঠে এসেছে তাঁর অভিজ্ঞতালব্ধ অনেক গুরুত্বপূর্ণ কথা৷

‘‘যারা এই কাজ করে, তাদের প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশে নিয়ে যাচ্ছে দালালরা৷ বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলে যাচ্ছে অনেকেই৷ বাইরে যাওয়ার জন্য এরা যেন লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে৷ ফলে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে বহু দক্ষ কর্মী আমরা ইতোমধ্যে হারিয়ে ফেলেছি৷''

আপনি কী ভাবছেন?

এখানে ক্লিক করুন ও আলোচনায় যোগ দিন

ডয়চে ভেলের সঙ্গে আলাপকালে কথাগুলো বলছিলেন ‘নিডল ক্রাফট' নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার তাজিমা হোসেন মজুমদার৷ জয়পুরহাট, বগুড়া, জামালপুর, সাভারসহ বেশ কিছু জায়গায় নারীদের দিয়ে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের কাজ করান তিনি৷ দুই থেকে তিনশ' নারী কাজ করেন তাঁর তত্ত্বাবধানে৷ এছাড়া তিনি নিজে কাজ করেন স্বেচ্ছাশ্রমে৷ বঞ্চিত নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যই তিনি এই কাজে এসেছেন৷ এই নারীদের ন্যায্যমূল্য পাইয়ে দেয়াই তাঁর প্রধান লক্ষ্য৷

ডয়চে ভেলে: বাংলাদেশে তো অনেক ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প৷ এগুলোর হিসাব সেভাবে নেই৷ মানে এই সেক্টরে একটা বিশৃঙ্খলা আছে৷ তা সেটা আপনি কীভাবে দেখেন?

তাজিমা হোসেন মজুমদার: হ্যাঁ, এই সেক্টরে একটা বিশৃঙ্খলা আছে৷ তবে সেটাকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনা সম্ভব৷ এখানে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প নিয়ে যারা কাজ করে, তাদের অধিকাংশই নারী৷ যার যেটাতে দক্ষতা সে সেটা নিয়ে কাজ করে৷ এটা দেশের প্রত্যেক এলাকাতেই হয়৷ তবে এদের অধিকাংশই কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ করে না৷ নিজে একটা জিনিস তৈরি করে সেটা বিক্রি করে, যেমন বগুড়ার টুপি খুবই বিখ্যাত৷

অডিও শুনুন 10:47
এখন লাইভ
10:47 মিনিট
বিষয় | 05.01.2017

Interview Of Tajima Hossain Mojumdar - MP3-Stereo

আপনারা যে কাজটা করেন, সেটা কীভাবে করেন?

আমার আসলে এ বিষয়ে আগে কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না৷ বিদেশ থেকে দেশে ফিরে আমি ‘হাঙ্গার প্রজেক্টের' সঙ্গে যুক্ত হই৷ আমার স্বামী এই প্রজেক্টের বাংলাদেশের কো-অর্ডিনেটর৷ একসঙ্গে আমরা কাজ শুরু করি৷ তখনই অনেক নারী আমার কাছে আসে৷ তারা যে জিনিসগুলো নিয়ে কাজ করে আমি সেগুলোর মান উন্নয়নে কিছু পরামর্শ দিই৷ তাদের ট্রেনিং করাই, কাপড় দেই, সুতা দেই যেন কাজটা ভালো হয়৷ একেবারে প্রাথমিক পর্যায় থেকে শুরু করি আমি৷ তাদের প্রোডাক্টগুলোর মার্কেটিং শুরু করি৷ এক সময় বিদেশি বায়াররা ছিল, বিদেশে যেত তাদের প্রোডাক্ট৷ এখন অবশ্য বাইরে যায় না৷ দেশের মার্কেটেই এগুলো বিক্রি করা হয়৷ আগে তারা যেটা তৈরি করত, সেটা পরিশীলিত ছিল না৷ এখন তাদের তৈরি প্রোডাক্টগুলো অনেক ভালো মানের হয়৷

আপনার প্রোজেক্ট কোন এলাকায়?

রাজধানীর রায়েরবাজার বস্তিতে কাজ হয়৷ তারা সেখানে ‘ওয়াল হ্যাঙ্গার' তৈরি করে৷ তবে আমাদের সব কাজই দেশি প্রোডাক্ট৷ জয়পুরহাট, জামালপুর, বগুড়া, সাভারে আমাদের নারীরা কাজ করে৷ এই কাজগুলোর সঙ্গে অনেক নারী জড়িত৷

গ্রামের ঐ নারীরা যে প্রোডাক্টটা তৈরি করে, সেটা তারা কীভাবে বিক্রি করে? আপনার মাধ্যমে, নাকি নিজেদের উদ্যোগে?

আমার সঙ্গে যুক্ত নারীরা আমার মাধ্যমেই তাদের তৈরি করা জিনিস বিক্রি করে, কারণ, আমি তাদের কাপড় দেই, সুতা দেই, ডিজাইন দেই৷ তবে এই কাজগুলো যারা করে, তাদের অধিকাংশই কিন্তু নিজ গৃহে কাজ শেষ করার পরে এই কাজ করে৷ তাদের কারো কিন্তু এটাই প্রধান কাজ না৷ তারা বাড়ির কাজ করার পর সন্তানদের দেখাশোনা করে৷ এরপর যদি কিছু সময় থাকে, তবে সেটা এই কাজে ব্যবহার করে৷ তাই তাদের একটা ‘প্রোডাক্ট' তৈরি করতে অনেক সময় লেগে যায়৷

সমাজ

যেভাবে এলো জামদানি

জনশ্রুতি আছে অতীতে সোনারগাঁও সংলগ্ন এ এলাকার মানুষরা বিশ্বখ্যাত মসলিনের কারিগর ছিলেন৷ ইংরেজরা এ শিল্পকে ধ্বংস করে দেয়ার পর, এ সব এলাকার মানুষেরা ফিরে যান কৃষি পেশায়৷ ইংরেজদের শাসনের অবসানের পর মসলিন শিল্পীদের বংশধররা আবারও শুরু করেন মসলিন তৈরি৷ কিন্তু তাঁরা ব্যর্থ হন৷ মসলিনের আদলেই তাঁরা তৈরি করেন নতুন এক কাপড়, যা পরিচিত পায় জামদানি হিসেবে৷

সমাজ

ঘরে ঘরে জামদানি

নারায়ণগঞ্জে মূল জামদানিপল্লি আসলে বিসিক শিল্প এলাকায়৷ তবে এর বাইরেও নোয়াপাড়ার বাড়িতে বাড়িতে আছে বেশ কিছু জামদানির কারখানা৷ সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি এ সব কারখানায় চলে জামদানি তৈরির কাজ৷

সমাজ

জামদানি শিল্পী

একেকটি জামদানি কারখানায় চার থেকে ২৪ জন পর্যন্ত শ্রমিক কাজ করেন৷

সমাজ

যত শাড়ি তত মজুরি

জামদানি কারখানাগুলোর সার্বক্ষণিক দেখভাল করেন মহাজন৷ বেশিরভাগ জামদানি শ্রমিক মজুরি পান শাড়ি প্রতি চুক্তি হিসেবে৷

সমাজ

শিশুশ্রম

সাধারণত একটি শাড়ি তৈরি করতে দু’জন শ্রমিকের প্রয়োজন হয়৷ একজন কারিগর ও অন্যজন তাঁর সাহায্যকারী৷ সাহায্যকারীর ভূমিকায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় শিশুরাদের৷

সমাজ

৮০ হাজার টাকা মজুরি

একটি জামদানি শাড়ি তৈরিতে ন্যূনতম তিন দিন সময় লাগে৷ নকশা আর কারুকাজভেদে কোনো কোনো শাড়িতে তিন মাসও লেগে যায়৷ একটি শাড়ি তৈরি করে দু’জন শ্রমিক দুই হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত মজুরি পান৷

সমাজ

নারীদের দক্ষতা

জামদানি তৈরিতে নারিরাও বেশ দক্ষ৷ বেশিরভাগ কারখানাতেই নারী শ্রমিকের উপস্থিতি দেখা যায়৷

সমাজ

পরিবারের সবাই মিলে..

বিভিন্ন মহাজনী কারখানা ছাড়াও বিসিক শিল্প নগরী ও এর আশপাশের এলাকার বিভিন্ন বাড়িতে দু-একটি করে তাঁত আছে৷ পরিবারের সবাই মিলে এ সব তাঁতে জামদানি তৈরি করেন৷

সমাজ

তাঁত চালু থাকে সারাক্ষণ

জামদানি পল্লীর তাঁতগুলো সপ্তাহের সাত দিনই সকাল থেকে রাত অবধি চালু থাকে৷ তবে শুক্রবার বাজারের দিন এ পল্লীতে কাজ কম হয়৷

সমাজ

প্রাচীন জামদানি হাট

সারা সপ্তাহের বোনা জামদানি নিয়ে মহাজন ও কারিগররা জড়ো হন শীতলক্ষ্যার পশ্চিম তীরের প্রাচীন জামদানি হাটে৷ প্রতি শুক্রবার সকাল সাতটা থেকে নয়টার মধ্যেই হাটের কেনাবেচা শেষ হয়ে যায়৷ এ হাটে সাধারণত সারা দেশের পাইকাররাই আসেন৷

সমাজ

শিল্পনগরীতেও হাট

জামদানি শিল্পীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন বিসিক জামদানি শিল্পনগরীতেও একটি হাট স্থাপন করে দিয়েছে৷ এ হাটটিও প্রতি শুক্রবার একই সময়ে বসে, তবে দুই ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যায়৷

সমাজ

বিক্রয়কেন্দ্র

জামদানি হাট ছাড়াও নোয়াপাড়ার বিসিক জামদানি শিল্পনগরীতে আছে বেশ কিছু ছোট বড় বিক্রয় কেন্দ্র৷ এ সব দোকান থেকেও পাইকারি ও খুচরা মূল্যে জামদানি বিক্রি হয়৷

সমাজ

ইউনেস্কোর স্বীকৃতি

বয়নের অতুলনীয় পদ্ধতি আর শিল্পমানের কারণে জামদানি ইউনেস্কো কর্তৃক ‘ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেইজ’ হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে৷

সমাজ

হরেক রূপে জামদানি

জামদানি বলতে সবাই সাধারণত শাড়ি বুঝলেও বর্তমান সময়ে জামদানি দিয়ে পাঞ্জাবি, সালোয়ার কামিজ এমন কি সোফার কভার, কুশন কভার, ঘরের পর্দা ইত্যাদিও তৈরি হচ্ছে৷

এতে কি তারা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন?

আমার সঙ্গে যারা কাজ করে তারা অবশ্যই ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে৷ এটা আমি বলতে পারি, কারণ, আমার প্রতিষ্ঠানের স্লোগান হলো ‘নট ফর প্রোফিট'৷ আমরা যে দামে প্রোডাক্টগুলো বিক্রি করি, আড়ং কিন্তু তার থেকে অন্তত তিনগুণ দামে বিক্রি করে৷ অথচ আমরা যে মূল্য দেই, আড়ং কিন্তু তার চেয়ে অনেক কম টাকা দেয়৷ এছাড়া আমার সঙ্গে যারা কাজ করে তারা সাত দিনের মধ্যে টাকা পেয়ে যায়, তা আমার কাছে দেয়া ‘প্রোডাক্ট' বিক্রি হোক আর না হোক৷ আমি নিজে স্বেচ্ছাশ্রম দিই৷ শুধু অবহেলিত মানুষগুলোর উপকার করতে চাই আমি৷ নিজে জয়পুরহাটে গিয়ে দেখেছি, যারা কাজ করে তাদের সন্তানদের স্বাস্থ্য ভালো, তারা লেখাপড়া করছে৷ তাছাড়া এই কাজের সঙ্গে যারা যুক্ত, তাদের উপার্জনও ভালো৷

আপনার মাধ্যমে কাজ করা নারীদের সংখ্যা কেমন হবে?

আমি যাদের মাধ্যমে কাজ করি, তাদের সংখ্যা দুই থেকে তিনশ'র বেশি হবে না৷ তবে একটা সমস্যা হলো, যারা এই কাজগুলো করে তাদের দালালরা প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশে নিয়ে যাচ্ছে৷ বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলে যাচ্ছে নারীরা৷ বাইরে যাওয়ার জন্য এই নারীরা যেন লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে৷ ফলে আমরা ভালো কিছু কর্মী ইতিমধ্যেই হারিয়ে ফেলেছি৷

আপনি শুরুতে বলছিলেন, এগুলোকে এক ছাতার নীচে নিয়ে আসা সম্ভব৷ তা সেটা কীভাবে সম্ভব?

অনেক মেয়ে এ ধরনের কাজ করে, কিন্তু তাদের ‘প্রোডাক্ট' বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারে না৷ তাছাড়া আমাদের মেয়েরা শুধু সেলাইয়ের কাজ করতে চায়৷ অন্য কাজে তারা খুব একটা আগ্রহ দেখায় না৷ যেমন ধরুন, যশোরে আমাদের মেয়েরা ভালো কাজ করে৷ আমি সরকারকে বলবো, তাদের জন্য কিছু জমি দেয়া হলে তারা স্বল্পমূল্যে বা কিস্তিতে সেখানে দোকান করে তাদের তৈরি প্রোডাক্টগুলো বিক্রি করতে পারত৷ এতে তাদের অনেক উপকারও হতো৷ কুষ্টিয়ার মেয়েরাও ভালো কাজ করে৷ কিন্তু তাদের পরিশ্রমের ফল দালালরা খেয়ে যাচ্ছে৷ তাই আমার পরামর্শ হলো, সেটা এলাকাভিত্তিক বা জেলা বা বিভাগীয় হতে পারে.... যারা এই ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের কাজ করে তাদের একটা জায়গার মধ্যে নিয়ে আসা৷ তাহলে তারা যেমন ন্যায্যমূল্য পাবে, তেমনি সরকারের একটা হিসাব থাকবে৷

সংস্কৃতি

বাঁকুড়ার ঘোড়া

বাংলার হস্ত শিল্প মানেই বাঁকুড়ার পোড়ামাটির ঘোড়া, হাতি, মনসার পট৷ আজকাল আধুনিক শিল্পভাবনাও দেখা যায় এই সৃষ্টিতে৷

সংস্কৃতি

কারুশিল্প

প্রথম দর্শনে আফ্রিকা মহাদেশের কাঠখোদাই শিল্পের বিভ্রম তৈরি হতে পারে, কিন্তু এই দারুশিল্পও আদতে বাংলারই আরেক শিল্পরীতির নমুনা৷

সংস্কৃতি

ঘরোয়া টেরাকোটা

শুধু ঘর সাজানোর সামগ্রী নয়, টেরাকোটা শিল্পীরা এখন তৈরি করছেন গেরস্থালির নানা সরঞ্জাম৷ চায়ের কাপ-প্লেট, মোমবাতিদান, গয়নার কৌটো৷

সংস্কৃতি

নবীন উৎসাহ

যাঁরা ভাবেন হস্তশিল্পে আধুনিক প্রজন্মের উৎসাহ নেই, তাঁরা ভুল ভাবেন৷ হস্তশিল্প মেলার ক্রেতাদের এক বড় অংশ কিন্তু নবীন প্রজন্ম৷

সংস্কৃতি

মাদুর, আসন

হস্তশিল্প মেলার পশরার একটা বড় অংশ জুড়ে থাকে হাতে বোনা মাদুর, নকশা করা কাপড়ের আসন, যা নিত্য ব্যবহারের কাজে লাগে৷

সংস্কৃতি

সূক্ষ্ম সূচিশিল্প

হাতে বোনা কার্পেটের আসন ছাড়াও এখন ক্রেতাদের আকর্ষণ করে দেওয়াল চিত্র, যা অনুপম সূচিশিল্পের সেরা নমুনা৷ এসবের বিক্রি বেশ ওপরের দিকে৷

সংস্কৃতি

নকল ফুল

নকল হলেও প্রকৃতির সমস্ত রঙ, রূপ আর উচ্ছ্বাস ধরা পড়ে এই ফুলের সম্ভারে৷ উপকরণ হলো বাংলার চিরন্তন শোলা এবং শুকনো খেজুরপাতা৷

সংস্কৃতি

পাটের বাহার

পণ্যের বস্তা, থলে ইত্যাদিতে পাটের ব্যবহার আজ আর প্রায় নেই৷ পাটশিল্প যেটুকু টিকে আছে, তা এই বাহারি ব্যাগ, বটুয়া, টেবিলম্যাট আর টুপিতে৷

সংস্কৃতি

উত্তুরে হাওয়া

কাঠ আর বেতের কাজ মানেই উত্তরবঙ্গ৷ দৃষ্টিনন্দন কাঠখোদাই ভাস্কর্য থেকে বেতের বাতিদান, বাঁশের কোঁড় দিয়ে তৈরি চায়ের কাপ, পানীয়ের গেলাস, এক বিপুল সম্ভার৷

সংস্কৃতি

বেতের বাহার

চিরকালীন চুবড়ি, ধামা, কুলো৷ কিন্তু ক্রেতার মন পেতে তাতেও লেগেছে রঙের ছোঁয়া৷ এর কারিগররা আসেন মূলত দক্ষিণবঙ্গ থেকে৷

সংস্কৃতি

মিশ্র শিল্প

বাংলায় পটের আঁকা আছে, আর পাকিস্তান, আফগানিস্তান, বা আরও পশ্চিমে আছে রঙবাহারি নকশা করা কেটলি৷ দুইয়ের মিলমিশ ঘটেছে দিব্যি৷

সংস্কৃতি

মহিলা শিল্পী

এই একটি ব্যাপারে এখনও মেয়েরাই এগিয়ে৷ অলঙ্করণ থেকে শুরু করে হস্তশিল্পের সব কাজেই এখনও মহিলা শিল্পীদেরই কদর বেশি৷

অনেকেরই তো দোকান নেয়া বা কোনো ধরনের বিনিয়োগ করার সামর্থ্য নেই, তারা কী করবে?

জমি বা দোকান তো খুবই স্বল্পমূল্যে দিতে হবে৷ হ্যাঁ, অনেকের সেই টাকাও না থাকতে পারে৷ তাহলে তাকে বিশেষ ব্যবস্থায়, যেমন কিস্তিতে টাকা দেয়া যেতে পারে৷ আমি যখন মেলা করি, তখন অনেক মেয়ে আমার কাছে আসে৷ তারা বলে, জমি বা দোকান পেলে তারা উঠে দাঁড়াতে পারবে৷ তাই সরকারের উচিত তাদের সেই সুযোগ করে দেয়া৷

আপনি বলছিলেন বিপুল সংখ্যক নারী এই কাজের সঙ্গে জড়িত৷ তাঁদের এই কাজ আমাদের জিডিপিতে কতটা ভূমিকা রাখছে?

নিশ্চয়ই যোগ হচ্ছে৷ আমাদের এই নারীরা কিন্তু প্রচুর পরিশ্রম করছে৷ কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, তারা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না৷ আড়ং বা মেলা'র মতো প্রতিষ্ঠান তাদের ঠিকমতো টাকা দিচ্ছে না৷ যারা কাজ করে তাদের যে চেক দিচ্ছে, সেটাও ‘বাউন্স' হচ্ছে৷ মেয়েরা বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করার কারণে তাদের অবদানটা জিডিপিতে যোগ হচ্ছে, কিন্তু সবাই সেটা ঠিকমতো জানতে পারছে না৷ এটা যদি জেলা বা বিভাগীয় পর্যায় থেকে ‘মনিটরিং' করে পরিচালনা করা যেত, তাহলে পুরো জিনিসটা পরিষ্কার হতো এবং নারীরাও ঠকতো না৷ আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ইন্ডিয়ান ও পাকিস্তানি কাপড়ে বাজার ভরে গেছে৷ একই দামে মানুষ ইন্ডিয়ান বা পাকিস্তানি কাপড় কিনছে, কিন্তু দেশি কাপড় কিনছে না৷ ফলে এখানে যারা কাজ করছে তারাও অনেকটা চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়ছে৷

এ বিষয়ে আপনার কিছু বলার থাকলে লিখুন নীচে, মন্তব্যের ঘরে৷