বাংলাদেশ

বিমানের মামলার বাদীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটির ঘটনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৯ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর তাঁদের আটক করা হয়েছে৷ তবে প্রশ্ন উঠেছে মামলার বাদীকে নিয়ে৷

প্রতীকী ছবি

পুলিশের ‘কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট' সিটিটিসি বুধবার রাতে সাত জনকে আটক করেছে৷ বাকি দু’জন বৃহস্পতিবার আদালতে আত্মসমর্পণ করেন৷ আটক সাতজন হলেন: বিমানের প্রধান প্রকৌশলী (প্রোডাকশন) দেবেশ চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী (কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স) এস এ সিদ্দিক, প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার (মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড সিস্টেম কন্ট্রোল) বিল্লাল হোসেন, সামিউল হক, লুৎফর রহমান, মিলন চন্দ্র বিশ্বাস ও জাকির হোসাইন৷

প্রকৌশল কর্মকর্তা এস এম রোকনুজ্জামান ও টেকনিশিয়ান সিদ্দিকুর রহমান বৃহস্পতিবার সকালে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন৷

মঙ্গলবার রাতে দায়ের করা মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ‘‘প্রধানমন্ত্রীর বুদাপেস্ট সফরের জন্য বিমানের বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর, উড়োজাহাজটিকে নিযুক্ত করা হয়৷ যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ২৬ নভেম্বর উড়োজাহাজটি বিমানের নিজস্ব হ্যাঙ্গারে নিয়ে যাওয়া হয়৷ উড়োজাহাজটির অয়েল প্রেসার সেন্সর মেরামত করা হয়৷ অয়েল প্রেসার সেন্সর ও বি-নাট এর অবস্থান কাছাকাছি৷ মেরামতে নিয়োজিত ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে ওয়েল প্রেসার সেন্সরের পাশে অবস্থিত বি-নাট ঢিলা করা হয়েছে৷ ওই কারণ ছাড়াও মেরামতের সময় ধাক্কা দেয়ার ফলে বি-নাট ঢিলা হতে পারে৷ উভয় কর্মকাণ্ড নাশকতা হতে পারে৷''

বাদীকে নিয়ে প্রশ্ন

প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানের রক্ষণাবেক্ষণ কাজে যাঁরা নিয়োজিত ছিলেন এজাহারে তাঁদের সবাইকে আসামি করা হয়েছে৷ কিন্তু মামলার বাদীকে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে৷ কারণ বাদী বিমানের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ম্যাটারিয়াল ম্যানেজমেন্ট) উইং কমান্ডার (অব.) এমএম আসাদুজ্জামান যে বিভাগ ত্রুটির জন্য দায়ী সেই বিভাগেরই প্রধান৷

সাধারণ নিয়মে বিমানের সব মামলা দায়ের করে আইন শাখা৷ কিন্তু তা না করে ত্রুটির জন্য দায়ী বিভাগের প্রধান মামলা করায় প্রশ্ন উঠেছে৷ একাধিক সূত্র দাবি করেছে, নিজেকে বাঁচাতে নিজেই বাদী হয়ে মামলা করেছেন আসাদুজ্জামান৷

এ বিষয়ে বিমানের দায়িত্বশীল কেউ কথা বলতে রাজি হননি৷ বিমানের জনসংযোগ বিভাগের প্রধান শাকিল মেরাজ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এই বিষয়ে এখন আমি কোনো মন্তব্য করতে পারব না৷''

‘বাদী জড়িত হলে তাঁকেও আটক করা হবে'

অডিও শুনুন 01:58

‘তদন্তে যদি দেখা যায় বাদীও ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাহলে তাঁকেও আইনের আওতায় আনা হবে’

ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘কাউন্টার টেররিজম ইউনিট মামলার তদন্ত শুরু করেছে মাত্র৷ আটক সাত জনকে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে৷ এখন তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদে স্পষ্ট হবে তাঁদের বাইরে আরো কেউ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত আছে কিনা৷''

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘কে বাদী আর কে বাদী নয় সেটা মুখ্য নয়৷ তদন্তে যদি দেখা যায় বাদীও ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাহলে তাঁকেও গ্রেপ্তার বা আইনের আওতায় আনতে কোনো বাধা নেই৷''

প্রসঙ্গত, গত ২৭ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশের একটি ফ্লাইট বুদাপেস্ট যাওয়ার সময় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে তুর্কমেনিস্তানে জরুরি অবতরণে বাধ্য হয়৷ দীর্ঘ চার ঘণ্টা লাগে ত্রুটি সারাতে৷

বিমানে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীসহ ৯৯ জন যাত্রী এবং ২৯ জন ক্রু ছিলেন৷ ‘রাঙা প্রভাত' নামের বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর বিমানটির ফুয়েল ট্যাংকারের নাট-বল্টু ঢিলা থাকায় ফুয়েল প্রেসার কমে যাওয়ায় ঐ বিপত্তি ঘটেছিল৷

এ বিষয়ে আপনার কি কিছু বলার আছে? তাহলে লিখুন নীচে, মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

Albanian Shqip

Amharic አማርኛ

Arabic العربية

Bengali বাংলা

Bosnian B/H/S

Bulgarian Български

Chinese (Simplified) 简

Chinese (Traditional) 繁

Croatian Hrvatski

Dari دری

English English

French Français

German Deutsch

Greek Ελληνικά

Hausa Hausa

Hindi हिन्दी

Indonesian Bahasa Indonesia

Kiswahili Kiswahili

Macedonian Македонски

Pashto پښتو

Persian فارسی

Polish Polski

Portuguese Português para África

Portuguese Português do Brasil

Romanian Română

Russian Русский

Serbian Српски/Srpski

Spanish Español

Turkish Türkçe

Ukrainian Українська

Urdu اردو