বাংলাদেশ

বিরোধী কর্মীদের পায়ে গুলি ও ‘ভুয়া ক্রসফায়ারের' অভিযোগ

বাংলাদেশে ‘ভুয়া ক্রসফায়ারের' মাধ্যমে বন্দিদের হত্যা করা হচ্ছে বলে দাবি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-এর৷ তাদের কথায়, ‘আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের পায়ে গুলি করছে৷'

Rapid Action Battalion (RAB) in Bangladesh (DW)

‘বাঁচার অধিকার নেই: বাংলাদেশের নিরাপত্তাবাহিনী কর্তৃক কারাবন্দিদের হাঁটুতে গুলি ও অঙ্গচ্ছেদ' শীর্ষক ৪৫ পৃষ্ঠার এক প্রতিবেদনে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বা এইচআরডাব্লিউ এ সব তথ্য জানিয়ে বাংলাদেশ সরকারকে এ ধরনের ঘটনা দ্রুততার সঙ্গে নিরপেক্ষ ও স্বতন্ত্র তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে৷

বাংলাদেশের মানবাধিকার নেতারা এ বিষয়ে ডয়চে ভেলেকে বলেন, দাবিকৃত অর্থ না পেয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পায়ে গুলি করে থাকে, এমন অভিযোগও আছে৷ অভিযোগ আছে টাকার বিনিময়ে ক্রসফায়ারের৷ নাগরিকরা এ সব ঘটনার বিচার না পেলে জাতিসংঘের কাছে বিচার চাইতে পারেন৷

প্রতিবেদনে এইচআরডাব্লিউ ২৫ জন ভুক্তভোগীর বক্তব্য প্রকাশ করে, যার মধ্যে বেশিরভাগই বিএনপি এবং জামায়াতের কর্মী বা সমর্থক৷ তাঁদের অভিযোগ, নিরাপত্তাবাহিনী বেশ কয়েকজনের পায়ে গুলি করেছে৷ আবার ‘গুলি করার আগে তাঁদের পেটানো হয়' – এমন কথাও বলেছেন অনেকে৷ বেশিরভাগ ভুক্তভোগী নিজেদের পরিচয় প্রকাশে ভয় পান বলেও উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে৷

অডিও শুনুন 02:17

‘টাকার বিনিময়ে ক্রসফয়ারেরও অভিযোগ আছে’

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-এর এশিয়া বিষয়ক পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস অভিযোগ করেন, ‘‘বাংলাদেশের নিরাপত্তাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে ‘ভুয়া ক্রসফায়ারে'বন্দিদের হত্যা করছে৷ অথচ প্রতিবারই দাবি করা হয়, কোনো ভুক্তভোগীকে অপরাধ সংঘটনের স্থানে নেওয়ার পর তাঁকে তাঁর সহযোগীরা আক্রমণ করলে আত্মরক্ষার্থে নিরাপত্তাবাহিনীও গুলি চালায়৷ আর তাতেই ঐ ব্যক্তি নিহত হন৷''

ব্র্যাড অ্যাডামস বলেন, ‘‘২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার আগে বর্তমান সরকারের প্রতিশ্রুতি ছিল, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ করা হবে৷ কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর সে পরিস্থিতির কোনো অগ্রগতি হয়নি৷''

এইচআরডাব্লিউ মনে করে, নিরাপত্তাবাহিনী কর্তৃক বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, পায়ে গুলি করা এবং নিরাপত্তা হেফাজতে অন্যান্য নির্যাতনের অভিযোগ তদন্তে বাংলাদেশ সরকারের উচিত জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থাকে আমন্ত্রণ জানানো৷ ন্যায়বিচার, দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে নিরাপত্তাবাহিনী পুনর্গঠনেরও আহ্বান জানিয়েছে এইচআরডাব্লিউ৷

বাংলাদেশের মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক নূর খান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে পায়ে গুলি করার ঘটনার অনেক অভিযোগ আছে৷ অভিযোগ আছে টাকার বিনিময়ে ক্রসফয়ারের৷ এমনকি এমন অভিযোগও আছে যে, টাকা না পেয়ে পায়ে গুলি করা হয়৷ আবার কত টাকা দেয়া হলো তার ওপর নির্ভর করে গুলি এক পায়ে না দু'পায়ে করা হবে৷''

অডিও শুনুন 02:05

‘এ সব ঘটনার তদন্ত সরকারই করতে হবে’

তিনি বলেন, ‘‘এ সব ঘটনার স্বাধীন তদন্ত হওয়া প্রয়োজন৷ নয়ত প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে না৷ অনেক ঘটনা আড়াল হয়ে যাবে৷''

এদিকে বাংলাদেশ মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী অ্যাডভোকেট এলিনা খান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘শুধু বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী নয়, সাধারণ মানুষও বিচারবহির্ভূত হত্যাসহ পায়ের গুলির মতো ঘটনার শিকার হচ্ছেন৷ সাধারণ মানুষের জন্য কথা বলার তো কেউ নেই৷''

তাঁর কথায়, ‘‘এইসব ঘটনার তদন্ত বাংলাদেশের সরকারই করতে পারে৷ কিন্তু প্রশ্ন হলো, তারা করবেন কিনা৷ আর করলেও তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনৈ৷''

অন্যদিকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং নিরাপত্তা হেফাজতে নির্যাতনের বিষয়গুলো বন্ধে উদ্যোগ নেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এইচআরডাব্লিউ-র এশিয়া বিষয়ক পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস৷ তিনি বলেন, ‘‘কেবল একটি ভিন্ন রাজনৈতিক দলকে সমর্থনের জন্য নাগরিকদের হত্যা এবং বিকলাঙ্গ করার পর যেন নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যরা পার না পায়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে প্রধানমন্ত্রীকেই৷''

আন্তর্জাতিক বিশ্বের চাপ সত্ত্বেও কেন বাংলাদেশ সরকার এ সমস্ত বিচারবহির্ভূত হত্যা বন্ধ করতে পারে না? লিখুন মন্তব্যের ঘরে৷

হারুন উর রশীদ স্বপন, ঢাকা

দেবারতি গুহ

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

Albanian Shqip

Amharic አማርኛ

Arabic العربية

Bengali বাংলা

Bosnian B/H/S

Bulgarian Български

Chinese (Simplified) 简

Chinese (Traditional) 繁

Croatian Hrvatski

Dari دری

English English

French Français

German Deutsch

Greek Ελληνικά

Hausa Hausa

Hindi हिन्दी

Indonesian Bahasa Indonesia

Kiswahili Kiswahili

Macedonian Македонски

Pashto پښتو

Persian فارسی

Polish Polski

Portuguese Português para África

Portuguese Português do Brasil

Romanian Română

Russian Русский

Serbian Српски/Srpski

Spanish Español

Turkish Türkçe

Ukrainian Українська

Urdu اردو