‌ভারতে সরকারি শিক্ষা কি উপযুক্ত?‌

বেসরকারি স্কুলে পঠনপাঠনের মান উন্নত করতে চায় ভারতের কেন্দ্র সরকার৷ কিন্তু তার জন্য যে সরকারি প্রশিক্ষণ, তার মান ঠিক আছে তো?‌

সম্প্রতি ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে সরকারি-বেসরকারি স্কুলে শিক্ষার মান যাচাইয়ের একটা সরকারি উদ্যোগ শুরু হয়েছে৷ সেই সুবাদে মধ্যপ্রদেশ, বিহার, ইত্যাদি রাজ্যে শিক্ষকদের পরীক্ষায় বসতে হচ্ছে এবং তার শোচনীয় ফল সামনে আসছে৷ ইংরেজি, ভূগোল, ইত্যাদি বিষয়ে তো বটেই, সাধারণ জ্ঞানের পরীক্ষাতেও অনেক সময় অসাধারণ জ্ঞানের অভাব প্রকট হয়ে পড়ছে৷ এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক সম্প্রতি একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে৷ এই রিপোর্ট থেকে জানা যাচ্ছে, প্রাথমিক স্কুল শিক্ষায়, শিক্ষকদের মানে সবচেয়ে পিছিয়ে আছে বিহার এবং তার পরেই পশ্চিমবঙ্গ৷ এই রাজ্যের প্রায় ১৩ লক্ষ প্রাথমিক শিক্ষক-শিক্ষিকার পড়ানোর কোনও প্রশিক্ষণই নেই৷ এবং এই তালিম না পাওয়া শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বেশিরভাগই পড়ান বেসরকারি স্কুলে৷ অবশ্য এই রিপোর্ট নেহাতই সরকারি এবং সে নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ, বিতর্কের অবকাশ আছে৷ তবে মুক্ত বিদ্যালয়ের জাতীয় প্রতিষ্ঠানটি জানাচ্ছে, সম্প্রতি তারা অপ্রশিক্ষিত প্রাইমারি শিক্ষকদের একটি ডিসট্যান্ট লার্নিংয়ের ডিপ্লোমা কোর্স চালু করেছে৷ স্কুলে প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াতে গেলে একজন শিক্ষক বা শিক্ষিকার এই ডিপ্লোমা থাকা বাধ্যতামূলক করছে সরকার৷ পশ্চিমবঙ্গ থেকে অপ্রশিক্ষিত প্রাথমিক শিক্ষকদের ১২ দশমিক ‌৭ লক্ষ আবেদনপত্র জমা পড়েছে এই কোর্সে নাম নথিভুক্ত করতে চেয়ে৷ এর মধ্যে ৯ দশমিক ‌২৫ লক্ষ শিক্ষক-শিক্ষিকাই বেসরকারি স্কুলের, আর বাকি ৩ দশমিক ‌৫ লক্ষ সরকারি স্কুলে পড়ান৷

অডিও শুনুন 02:11
এখন লাইভ
02:11 মিনিট
বিষয় | 04.10.2017

‘আধুনিক পঠনপাঠনের ক্ষেত্রে বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা...

কিন্তু বেসরকারি স্কুলে শিক্ষক এবং তাঁদের পড়ানোর মান কি এতটাই খারাপ?‌ সত্যিই কি বাস্তব ছবিটা এরকম?‌ এই প্রশ্ন রাখা হয়েছিল কলকাতার এক প্রথম সারির বেসরকারি স্কুলের শিক্ষিকা তমালী বসুর কাছে৷ তিনি একেবারে অন্য কথা বললেন৷ তাঁর দাবি, সরকারি প্রশিক্ষণ না পেলেও ভালো বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা প্রতিনিয়তই নানা ধরনের কার্যক্রম, কর্মশালার মধ্যে দিয়ে যান, যা তাঁদের আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে আরও সম্পৃক্ত করে৷ আধুনিক শিক্ষা পদ্ধতির সঙ্গে তাঁরা অনেক বেশি পরিচিত, যা সম্ভবত সরকারি স্কুলের শিক্ষকরা নন৷ এ কারণে অভিভাবকরা সরকারি স্কুলের তুলনায় বেসরকারি স্কুলের ওপরেই বেশি ভরসা রাখেন, নিজেদের সন্তানের ভবিষ্যতের প্রশ্নে৷ সেই কারণেই সম্ভবত সরকারি রিপোর্টেই স্বীকার করা হয়েছে যে, সরকারি স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীদের ড্রপ আউট করা, অর্থাৎ স্কুলছুটের হার বেশি৷ তমালী বসু ডয়চে ভেলেকে বললেন, আধুনিক এবং আন্তর্জাতিক পঠনপাঠনের ক্ষেত্রে বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারাই এগিয়ে আছেন৷

তাহলে সরকারি প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক হওয়ার ফরমান বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকরা কীভাবে নিচ্ছেন?‌ তাঁদের প্রতিক্রিয়া কী?‌ তমালী বসু জানালেন, বিশেষ করে বর্ষীয়ান শিক্ষক-শিক্ষিকারা ক্ষুব্ধ৷ কারণ, তাঁদের ক্ষেত্রে অর্জিত দক্ষতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অনেক বছরের অভিজ্ঞতা৷ যাঁরা কোনও সরকারি প্রশিক্ষণ ছাড়াই বছরের পর বছর অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে পড়াচ্ছেন৷ আর তমালী বসুর প্রশ্ন, সরকারি তালিমে যদি ভালো শিক্ষকই তৈরি হবেন, তাহলে যেসব সরকারি স্কুলে তাঁরা পড়ান, সেসব স্কুলের পরীক্ষার ফলাফল যথেষ্ট ভালো হয় না কেন?

সমাজ

নবম: জাপান (৫.৬)

সাহিত্য, বিজ্ঞান ও গণিত চর্চার ক্ষেত্রে ওইসিডি দেশগুলোর মধ্যে জাপানের বেশ নামডাক আছে৷ সেখানকার শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ে ছয় বছর৷ তারপর তিন বছর জুনিয়র হাইস্কুলে পড়ালেখা শেষ করে আরও তিনবছর হাইস্কুলে যায়৷ এরপর আসে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সময়৷

সমাজ

নবম: বার্বাডোজ (৫.৬)

সরকারের বিপুল বিনিয়োগের কারণে সেদেশে স্বাক্ষরতার হার প্রায় ৯৮ শতাংশ৷ বার্বাডোজের বেশিরভাগ স্কুলই সরকারি৷

সমাজ

নবম: নিউজিল্যান্ড (৫.৬)

তিন ধরনের মাধ্যমিক বিদ্যালয় আছে সেখানে৷ এর মধ্যে সরকারি স্কুলগুলোতে পড়ে প্রায় ৮৫ শতাংশ শিক্ষার্থী৷ আর সরকারিকৃত (বেসরকারিভাবে পরিচালিত) স্কুলে পড়ে ১২ শতাংশ৷ বাকি তিন শতাংশ যায় বেসরকারি স্কুলে৷

সমাজ

অষ্টম: এস্তোনিয়া (৫.৭)

২০১৫ সালে জিডিপির প্রায় চার শতাংশ শিক্ষাখাতে ব্যয় করেছিল দেশটি৷

সমাজ

ষষ্ঠ: আয়ারল্যান্ড (৫.৮)

দেশটির মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর বেশিরভাগই ব্যক্তিমালিকানায় পরিচালিত হলেও অর্থ দিয়ে থাকে সরকার৷ এছাড়া আছে সরকারি কারিগরী বিদ্যালয়৷

সমাজ

ষষ্ঠ: কাতার (৫.৮)

‘ভিশন ২০৩০’-এর আওতায় প্রাথমিক থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে শিক্ষার মান উন্নয়নে বিপুল বিনিয়োগ করছে দেশটি৷ সরকারি স্কুলগুলোতে কাতারের নাগরিকদের সন্তানরা বিনামূল্যে পড়ালেখা করতে পারে৷ আর বিদেশিরা তাঁদের সন্তানদের পাঠান বেসরকারি স্কুলে৷

সমাজ

পঞ্চম: নেদারল্যান্ডস (৫.৯)

২০১৩ সালে ইউনিসেফ-এর এক প্রতিবেদন বলছে, নেদারল্যান্ডসের শিশুরা সবচেয়ে বেশি সুখি জীবন কাটায়৷ মাধ্যমিক পর্যায়ের আগে স্কুলে শিশুদের কোনো বাড়ির কাজ দেয়া হয় না৷ তাছাড়া লেখাপড়া করতে শিশুদের উপর বেশি চাপ প্রয়োগ করা হয় না৷

সমাজ

চতুর্থ: সিঙ্গাপুর (৬.১)

বিজ্ঞান, রিডিং ও গণিত বিষয়ে বিভিন্ন দেশের ১৫ বছর বয়সি শিক্ষার্থীদের মান যাচাইয়ের পদ্ধতি হচ্ছে ‘পিসা’৷ এই তালিকায় সিঙ্গাপুরের শিক্ষার্থীরা সবসময় ভালো করে থাকে৷ তবে সে দেশে শিক্ষার্থীদের বেশ চাপে রাখা হয়৷

সমাজ

দ্বিতীয়: বেলজিয়াম (৬.২)

মাধ্যমিক পর্যায়ে চার ধরনের স্কুল আছে – সাধারণ স্কুল, কারিগরি শিক্ষা বিষয়ক স্কুল, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ ও আর্ট স্কুল৷ ছবিতে স্কুলের শিক্ষার্থীদের আঁকা ছবি দেখা যাচ্ছে৷

সমাজ

দ্বিতীয়: সুইজারল্যান্ড (৬.২)

প্রাথমিক পর্যায়ের পর শিশুদের দক্ষতা অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের স্কুলে পাঠানো হয়৷ অঞ্চলভেদে জার্মান, ফ্রেঞ্চ ও ইটালীয় ভাষায় শিক্ষা দেয়া হয়৷

সমাজ

প্রথম: ফিনল্যান্ড (৬.৭)

বিশ্বের সেরা শিক্ষা ব্যবস্থার এই দেশে শিক্ষার্থীদের খুব বেশি হোমওয়ার্ক করতে হয় না৷ ১৬ বছর বয়সে গিয়ে মাত্র একটি বাধ্যতামূলক পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়৷ আরও জানতে উপরের (+) চিহ্নে ক্লিক করুন৷