অন্বেষণ

ভ্যাকুয়াম ক্লিনারের শব্দ কমানোর উদ্যোগ

শব্দ দূষণ যে কী, ঢাকা-কলকাতার মতো শহরের মানুষকে তা নতুন করে বলে দিতে হবে না৷ কিন্তু শব্দের দৈত্যকে কাবু করে মানুষের কানকে কিছুটা রেহাই দেওয়া তেমন কঠিন কাজ নয়৷ জার্মান বিজ্ঞানীরা সেই চেষ্টাই চালাচ্ছেন৷

default

ইলেকট্রিক সাফাইয়ের গাড়ি রাতে চলে, তবে আগেই প্র্যাকটিস শুরু করেছে৷ তবে বিকট শব্দ করে৷ দুই অ্যাকুস্টিক গবেষক সেটা বদলাতে চান৷ ড্রেসডেন শহরের আবর্জনা সাফাই বিভাগের সঙ্গে তাঁরা এ বিষয়ে সহযোগিতা করতে চান৷ সাফাই বিভাগের প্রতিনিধি ক্যার্স্টিন ট্রাউডেভিশ বলেন, ‘‘ইলেকট্রিক ক্লিনার এমনিতে রাস্তায় বেশি শব্দ করে না৷ কিন্তু সমস্যা হলো, সেই শব্দও বাকিদের ছাপিয়ে যায়৷ আমাদের আশা, অ্যাকুস্টিক গবেষকরা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে শব্দের উৎস আরও ভালোভাবে পরীক্ষা করবেন৷''

পরীক্ষার জন্য গবেষকরা চালকের সিটে এক ধরনের গতি মাপার সেন্সর লাগিয়েছেন৷ এই অ্যাকসিরেলোমিটার সিটের মধ্যে সব রকম ভাইব্রেশন বা কম্পন পরিমাপ করে৷ তারপর ল্যাবে তা বিশ্লেষণ করে কম্পনের চরিত্র বোঝা যায়৷ ভাইব্রেশন যত তীব্র হয়, বিকট শব্দের মাত্রাও তত বাড়ে৷ সেটাই কমানোর চেষ্টা চলছে৷ চালক গাড়ি চালানোর সময় অ্যাকসিরেলোমিটার ভাইব্রেশন রেকর্ড করে৷ ল্যাবে তা বিশ্লেষণ করে জানা যায়, কোন প্রক্রিয়ার সময় সবচেয়ে বেশি শব্দ হয়৷

এক স্বেচ্ছাসেবীকে সেই রেকর্ডিং শোনানো হয়৷ সে বলে দেয়, কোন শব্দ তার সবচেয়ে বেশি কানে লাগছে৷ শুধু ডেসিবেল নয়, শব্দ সম্পর্কে মানুষের অনুভূতির বিষয়টিই হলো আসল কথা৷ এই সব পরীক্ষার ফলে জানা যায়, কোথায়, কোন ক্ষেত্রে উন্নতি করতে হবে৷ পরীক্ষার ফলে স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে, যে ব্রাশ চলার সময় তীব্র শব্দ হয়৷ বাতাসের বেগের কারণে কম্পনের শব্দ তো রয়েছেই৷ আর আবর্জনার আধার লাউডস্পিকারের মতো কাজ করে, ফলে সব শব্দ মিলে আরও বিকট শব্দের সৃষ্টি করে৷ তবে সবচেয়ে বড় উৎস হলো বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দ৷ এই সব বিরক্তিকর শব্দ বন্ধ করতে হলে এবং কম্পন কমাতে গবেষকদের ফ্যানের আশেপাশে বিশেষ ধরনের ইনসুলেশন মেটিরিয়াল লাগাতে হবে৷

এরকান আলটিনসয় ও ইয়ুর্গেন লান্ডগ্রাফ – দুই গবেষকই পরীক্ষা নিয়ে সন্তুষ্ট৷ কী ভাবে শব্দ কমানো যায়, তা বোঝা গেছে৷ তাঁদের আশা, যদি ফ্যানের শব্দের কিছুটা কমানো যায়, চাপ নির্ধারিত কমিয়ে আনা যায়, তাহলে কাজ হবে৷ এই সব কম শব্দের গাড়ি নিয়ে ড্রেসডেন শহরে ভবিষ্যতে রাতেও সাফাই চালানো সম্ভব হবে৷ ফলে বিশাল সুবিধা হবে৷

কিন্তু ঘর পরিষ্কার করার ভ্যাকুয়াম ক্লিনারের শব্দও কি কমানো সম্ভব?

এমনই একটি সাধারণ ক্লিনার পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে৷ এক গৃহিণী বললেন, এই ভ্যাকুয়াম ক্লিনার বড্ড বেশি শব্দ করে৷ জঘন্য, বিরক্তিকর, একটানা শিষের শব্দ মেজাজ খারাপ করে দেয়৷

এরকান আলটিনসয় ভ্যাকুয়াম ক্লিনারের শব্দ কমাতে চান৷ সাউন্ড-প্রুফ একটি ঘরে তিনি এক সহকর্মীকে নিয়ে প্রথমটির সঙ্গে একটি অপটিমাইজড মডেলের শব্দের তুলনা করছেন৷ তিনি বললেন, ‘‘আমি এবার দুটি ক্লিনারই চালু করবো৷ প্রথমে একটার শব্দ শুনবো, তারপর অন্যটার৷ কোনটা বেশি বিরক্তিকর তা সহজেই বলা যায়৷ কে শুনছে, তাতে কিছুই এসে যায় না৷ সবার কাছেই একটা বিরক্তিকর, অন্যটা অনেক অনেক শান্ত৷'' অপটিমাইজড মডেলের তুলনায় অন্যটি অনেক বেশি শব্দ করে৷ এই পর্যায়ের আওয়াজের মুখে মানুষের কান অত্যন্ত সংবেদনশীল৷ মাত্রায় বেশ তফাত রয়েছে৷ দুটির মাত্রা এক করে দিলে দেখা যাক কী হয়৷

কোনো ভ্যাকুয়াম ক্লিনারের শব্দ কী ভাবে বদলানো যায়, খেলনার এক ঘড়ি দিয়ে পরীক্ষা করলেই তা বোঝা যাবে৷ যেখানে মোটর থাকে, সেখানে ঘড়িটি চালালে মনে হয় যেন লাউডস্পিকার চলছে৷ শব্দের তীব্রতা কমাতে ইনসুলেশন নিয়ে কাজ চলছে৷ চেম্বারে পশম জাতীয় উপাদান বসিয়ে তার উপর ঢাকনা দিলে বাইরে প্রায় কোনো শব্দ শোনা যায় না৷

এই নীতি প্রয়োগ করেই এই ভ্যাকুয়াম ক্লিনারের শব্দ কমানো হচ্ছে৷ বিভিন্ন জায়গায় পশম জাতীয় উপাদানের স্তর বসিয়ে সত্যি ভালো ফল পাওয়া যাচ্ছে৷ শব্দের মাত্রা অপটিমাইজড মডেলটির মতোই কমে গেছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

Albanian Shqip

Amharic አማርኛ

Arabic العربية

Bengali বাংলা

Bosnian B/H/S

Bulgarian Български

Chinese (Simplified) 简

Chinese (Traditional) 繁

Croatian Hrvatski

Dari دری

English English

French Français

German Deutsch

Greek Ελληνικά

Hausa Hausa

Hindi हिन्दी

Indonesian Bahasa Indonesia

Kiswahili Kiswahili

Macedonian Македонски

Pashto پښتو

Persian فارسی

Polish Polski

Portuguese Português para África

Portuguese Português do Brasil

Romanian Română

Russian Русский

Serbian Српски/Srpski

Spanish Español

Turkish Türkçe

Ukrainian Українська

Urdu اردو