বিশ্ব

মাজিদ যেভাবে সিরিয়া থেকে ইউরোপ পৌঁছালেন

শিরোনামে থাকা নামটা কিন্তু আসল নয়৷ গৃহযুদ্ধ থেকে বাঁচতে সিরিয়ার হাজারো নাগরিকের মতো লিবিয়া হয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়েছিলেন তিনি৷ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পৌঁছান ইউরোপে৷ সে কাহিনি বলার জন্যই এই কাল্পনিক নামের ব্যবহার৷

Türkei Flüchtlinge aus Syrien

সিরিয়া থেকে জার্মানিতে আসা সেই তরুণ, মাজিদ আল-ইউসুফ, সম্প্রতি ডয়চে ভেলের সঙ্গে কথা বলেন৷ জানান যে তিনি দামাস্কাসে তথ্য-প্রযুক্তি নিয়ে ষষ্ঠ সেমিস্টারে পড়ছিলেন৷ কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা গৃহযুদ্ধ তাঁর কাছে অসহ্য মনে হওয়ায়, তিনি ও তাঁর ছোট ভাই ইউরোপ পাড়ি দেয়ার পরিকল্পনা করেন৷ এমনকি এর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ জোগান দিতে তাঁরা দু'জন মিলে বাবাকে গাড়ি বিক্রি করতেও বাধ্য করেন৷ এছাড়া ছোটচাচার কাছ থেকেও কিছু টাকা ধার নেন৷ এভাবেই মোট আট হাজার ডলার জোগাড় হয়৷ এরপর সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম থেকে ইতিমধ্যে যাঁরা ইউরোপে পৌঁছে গেছে, তাঁদের অভিজ্ঞতা জেনে নেন তাঁরা৷ বেছে নেন ইউরোপে পৌঁছানোর সবচেয়ে ভালো রুটটিও৷ তারপর শুরু হয় যাত্রা৷

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা সোশ্যাল মিডিয়া থেকে তথ্য নিয়েই তাঁরা আলজেরিয়ার একটি পাচারকারী গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন৷ এরপর প্রথমে তুরস্ক থেকে বিমানে আলজেরিয়া পৌঁছান মাজিদ ও তাঁর ভাই৷ সিরীয়দের জন্য আলজেরিয়া সীমান্ত উন্মুক্ত হওয়ায় সহজেই তাঁরা সে দেশে ঢুকে পড়েন৷ সেখান থেকে আরেকদল পাচারকারী তাঁদের লিবিয়া সীমান্তে নিয়ে যায়৷ সেসময় তাঁদের সঙ্গে ১২ জন সিরীয় নাগরিক ছিল বলে জানান মজিদ৷ বিমানবন্দর থেকে লিবিয়া সীমান্তে যেতে একেকজনের তিনশ' ডলার করে খরচ হয়৷

এরপরই শুরু...

লিবিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের জুওয়ারা উপকূল থেকে ইটালির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছিলেন মাজিদরা৷ পাচারকারীরা তাঁদের প্রথমে একটি ডিঙ্গি নৌকায় করে সাগরে একটু দূরে দাঁড়িয়ে থাকা বড় একটা নৌকায় তুলে দেয়৷ লিবিয়া থেকে ইটালি যাওয়ার ছয় ঘণ্টার এই যাত্রার জন্য পাচারকারীরা একেকজনের কাছ থেকে ৬০০ ডলার করে নেয়৷ তবে তাঁরা পাচারকারীদের ১১০০ ডলার করে দিয়েছিলেন বলে জানান মাজিদ৷ বিনিময়ে মাজিদ ও তাঁর ভাই যাত্রার সময় নৌকায় একটু ভালো জায়গা এবং খাবার ও পানির ব্যবস্থা চেয়েছিলেন৷ কিন্তু নৌকায় ওঠার পর মাজিদদের মতো তরুণদের নৌকার নীচের অংশে থাকা ‘ইঞ্জিন রুমে' যেতে বলা হয়৷ নৌকার ওপরের অংশে রাখা হয় নারী ও শিশুদের৷

মাজিদ জানান, ইঞ্জিনের অংশটিতে বেশ গরম ছিল৷ বাতাস চলাচল না থাকায় সেখানে থাকার মতো পরিবেশ ছিল না৷ কিন্তু তারপরও গাদাগাদি করে সেখানে তাঁদের থাকতে হয়৷ মাজিদদের নৌকায় এভাবে প্রায় তিনশ'র মতো মানুষকে তোলা হয়েছিল৷ বেশি মানুষ যেন নৌকায় উঠতে পারেন, সেজন্য মাজিদদের কাছে থাকা ‘লাগেজ' বা বাক্স-প্যাটরা পাচারকারীরা কেড়ে নিয়েছিল৷ ইঞ্জিন রুমে গাদাগাদি করে থাকার কারণে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন৷ এমনকি কেউ কেউ অচেতনও হয়ে যান বলে জানান মজিদ৷ তিনি জানান, ছয় ঘণ্টার এই যাত্রার সময় পাওয়া কষ্ট তাঁর কাছে অসহনীয় মনে হয়েছিল৷

নৌকার কাণ্ডারিও একজন শরণার্থী!

নৌকা উপকূলে পৌঁছানোর আগেই ইটালির নৌ-বাহিনীর একটি জাহাজ মাজিদদের নৌকা ঘিরে ফেলে৷ এরপর তাঁদের একটি শরণার্থী শিবিরে নিয়ে যাওয়া হয়৷ সেখানে তাঁদের খাবার ও পানি দেয়া হয়৷ নৌকায় থাকা কয়েকজন শরণার্থী মনে করেন, নৌকাটি কোনো পাচারকারী চালাচ্ছিল না৷ তাঁদের মতোই একজন শরণার্থী, যাঁর ‘নেভিগেশন' সম্পর্কে সামান্য ধারণা আছে, সে-ই নৌকাটি চালাচ্ছিল৷ পাচারকারীরা শুধু ঐ শরণার্থী চালকের হাতে একটি ‘জিপিএস ডিভাইস' ও একটি ‘স্যাটেলাইট ফোন' দিয়েছিল, যাতে কোনো হলে ইটালির নৌ-বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়!

নির্বাচিত প্রতিবেদন

Albanian Shqip

Amharic አማርኛ

Arabic العربية

Bengali বাংলা

Bosnian B/H/S

Bulgarian Български

Chinese (Simplified) 简

Chinese (Traditional) 繁

Croatian Hrvatski

Dari دری

English English

French Français

German Deutsch

Greek Ελληνικά

Hausa Hausa

Hindi हिन्दी

Indonesian Bahasa Indonesia

Kiswahili Kiswahili

Macedonian Македонски

Pashto پښتو

Persian فارسی

Polish Polski

Portuguese Português para África

Portuguese Português do Brasil

Romanian Română

Russian Русский

Serbian Српски/Srpski

Spanish Español

Turkish Türkçe

Ukrainian Українська

Urdu اردو