মাদাগাস্কারের বানর লেমুর

ভিডিও দেখুন 03:55
এখন লাইভ
03:55 মিনিট
22.06.2016

মাদাগাস্কারের লেমুর বানর

মাদাগাস্কার দ্বীপটিতে এমন সব জীবের দর্শন পাওয়া যায়, যারা বিশ্বের আর কোথাও নেই – যেমন লেমুর বানরেরা৷ সেজন্য জার্মানির গ্যোটিঙেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা মাদাগাস্কারের জঙ্গলে একটি ফিল্ড স্টেশন খুলেছেন৷

কিরিন্ডির জঙ্গলে হেমন্ত৷ বর্ষাশেষে সব কিছু এখনও সবুজ, যদিও শীতে পাতা ঝরে৷ জায়গাটা শুকনো৷ লেমুর নামের ছোট ছোট বানরগুলোকে শুধু মাদাগাস্কারেই পাওয়া যায়৷ গবেষকরা রয়েছেন একটি সিফাকা-র খোঁজে৷ সিফাকা হল এই জঙ্গলের সবচেয়ে বড় লেমুরটির নাম৷

তীর লেগেছে! এখন শুধু সিফাকা-টির গাছ থেকে পড়া বাকি৷ তবে চোট পেলে চলবে না...৷

ধরা গেছে! এখন সব কিছু তাড়াতাড়ি হওয়া চাই৷ লেমুর-টাকে মেপে, ওজন করে, গলায় ট্রান্সমিটার বেঁধে আবার ছেড়ে দিতে হবে৷

যাত্রা শুরুর অপেক্ষায়

‘কাওয়শগর’ ক্যাপসুলটি একটি অপরিচিত স্থানে ভ্রাম্যমাণ লঞ্চ-প্যাডে দাঁড়িয়ে, যাত্রা শুরুর অপেক্ষায়৷ যাত্রী হিসেবে একটি বানরের ভিতরে থাকার কথা৷

চুপচাপ বসো...

যাত্রা শুরুর আগে বানরযাত্রীর ছবি৷ তার নাম রাখা হয়েছে আফতাব বা সূর্য৷

এবার সামলে

নভোচারীর পোশাকে আফতাব৷ বেঁধেছেদে রাখায় তাকে খুব খুশি দেখানোর কথা নয়৷ ডান চোখের উপর আঁচিল কিংবা জরুলটা খেয়াল করবেন৷

বানরযাত্রীর কি অবস্থা?

২৮শে জানুয়ারি ইরানের সংবাদ সংস্থাগুলি মহাকাশযানের সফল যাত্রা শুরুর খবর দেয়৷

বানর নভোচারীর ধরায় প্রত্যাবর্তন

মহাশূন্যে ১৬ মিনিটের যাত্রার পর আফতাব বহাল তবিয়তে ধরাধামে প্রত্যাবর্তন করেছে, বলে ইরানি সংবাদ সংস্থাগুলি জানায়৷ ইরানের মহাকাশ অভিযান কর্তৃপক্ষ একটি সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করেন, যেখানে আফতাব নাকি সাংবাদিকদের হাসির খোরাক জুটিয়েছে, বলে সরকারি ইসনা সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে৷

ধকলের কোনো লক্ষণ নেই আফতাবের

অতো বড় মহাকাশযাত্রার পরেও আফতাব টপ ফর্মে, সেটা কি করে সম্ভব? বানর নভোচারীকে একটু ভালো করে দেখা দরকার...

বদলে গেছে আফতাব!

সত্যিই, মহাকাশযাত্রার ফলে যেন আফতাবের বয়স কমে গেছে৷ ডানচোখের ওপর জরুলটা উধাও হয়েছে৷ গোঁফদাড়ি আগে সাদাটে ছিল, এখন ঘন বাদামি হয়ে দাঁড়িয়েছে৷

এমন একটি ‘আশ্চর্য’ সাফল্য

ইরানের মহাকাশযাত্রা সংক্রান্ত গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রধান মোহাম্মেদ ইব্রাহিমি (ডানদিকে; বাঁয়ে রয়েছেন হামিদ ফাজেলি, মহাকাশযাত্রা কর্তৃপক্ষের প্রধান) যেন নিজেই সেটা পুরোপুরি বিশ্বাস করে উঠতে পারছেন না...

জার্মান প্রাইমেট সেন্টার এম-১-এর প্রধান পেটার কাপেলার জীবটিকে চেনেন৷ তিনি জানালেন, ‘‘ওর নাম হল মোরিৎস৷ পুরুষ লেমুর৷ ওর জন্ম থেকে আমরা ওর খোঁজ রাখি৷ যে দলে ওর জন্ম, তা ছাড়বার পর থেকে ও কী করেছে, ওর কত বয়স, সব কিছু আমরা জানি৷ প্রতিটি লেমুরকে আলাদা করে ট্র্যাক করার এটাই সুবিধা৷ প্রত্যেকের সম্বন্ধে বিশদ তথ্য পাওয়া যায়৷''

কিরিন্ডির লেমুর

পেটার কাপেলার গ্যোটিঙেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্মান প্রাইমেট সেন্টারের অধ্যাপক৷ গত ২০ বছর ধরে তিনি কিরিন্ডির লেমুরদের নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছেন, এখানে একটি ফিল্ড স্টেশনও চালান৷ এই জঙ্গলে আট ধরনের লেমুর থাকে – তাদের মধ্যে অতি বিরল ডোরাকাটা বেজিরাও আছে৷

বিভিন্ন ধরনের লেমুররা পরস্পরের সঙ্গে থাকে কী করে? পরিবেশের সঙ্গে কীভাবে মানিয়ে নেয় তারা? কেউ যদি তাদের পর্যবেক্ষণ করে, তাতে তাদের আপত্তি নেই৷ কিছু ছাত্রছাত্রী এখানে তাদের স্নাতকোত্তর গবেষণার জন্য তথ্য সংগ্রহ করছেন৷ আলেসিও আনানিয়া লেমুরদের ডাক নিয়ে পিএইচডি করছেন৷ কাটিয়া রুডল্ফ লেমুরদের আচার-ব্যবহার আর স্বাস্থ্য সম্পর্কে আগ্রহী৷ তবে ডাটা সংগ্রহ করতে গেলে ধৈর্য আর দম লাগে৷ কাটিয়া শোনালেন, ‘‘সকালে তিন-চার ঘণ্টা এদের পর্যবেক্ষণ করি, দুপুরে আরো তিন-চার ঘণ্টা৷ মোট চারটে লেমুরের ওপর নজর রাখি৷ ওরা যখন ঘুমোয়, তখনও ওদের ঘণ্টা খানেক দেখি – নিজে ঘুমিয়ে না পড়ে!''

লেমুরদের স্বভাব-চরিত্র সম্পর্কে এখনও অনেক কিছু জানা নেই৷ কিন্তু আরো জানার সময় আছে কি? জঙ্গল আর তার বাসিন্দা, সকলেই তো বিপন্ন৷ প্রফেসর কাপেলার আক্ষেপ করলেন, ‘‘এই সুন্দর জঙ্গল, যেখানে সব কিছু এখনো স্বাভাবিক, অবিকৃত, সেখানে আমরা সহজেই সে কথা ভুলে যাই৷ কিন্তু যে কোনো দিকে দশ কিলোমিটার গেলেই আর জঙ্গল বলে কিছু নেই৷ তখন বোঝা যায়, এ সব ঠিক কতটা বিপন্ন৷''

দশ কিলোমিটার দূরে বলতে এখানে, একটা রাস্তার মোড়ে৷ কাছের গ্রামের বাসিন্দারা এখানে তাদের ভুট্টা বা তরমুজ বেচছে৷ জঙ্গলের কল্যাণেই বেঁচে আছে তারা,যদিও সে জঙ্গল তাদের হাতেই ধীরে ধীরে বিনষ্ট হচ্ছে৷

সাহিত্যে বনমানুষ

বিভিন্ন সময় নানা ধরনের শিল্পে স্থান পেয়েছে গোরিলা বা বানর৷ ই.টি.এ হফমান, ভিলহেল্ম হাউফ এবং ফ্রানৎস কাফকার মতো লেখকরা বনমানুষদের সাহিত্যে স্থান দিয়েছেন৷ সত্তরের দশকে নারী ‘টকিং গোরিলা’ কোকো বেশ সাড়া জাগিয়েছিল৷

সুন্দরীর সঙ্গে শিম্পাঞ্জির প্রেম

বার্লিনের একটি মিউজিয়াম ‘হাউস ডেয়ার কুলটুরেন ডেয়ার ভেল্ট’ শিল্পকলায় বনমানুষদের অবস্থান নিয়ে গবেষণা করছে৷ এখানে একজন কূটনীতিকের স্ত্রী একটি শিম্পাঞ্জিকে বেছে নিয়েছেন প্রেমিক হিসেবে৷ ১৯৮৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত কমেডি ছবি ‘মাক্স, মন আমোর’ বা ‘মাক্স, আমার প্রেমিক’-এর দৃশ্য এটি৷

বিশিষ্ট ভাবুক?

২০০৮ সালে শিল্পি ক্লাউস ভেবারের তৈরি এই ফটো কোলাজে একটি প্লাস্টিকের তৈরি বনমানুষকে ‘ভাবুক’ হিসেবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে৷ আর তার চারপাশে কমিক বাবলসের মতো রয়েছে বিভিন্ন বিখ্যাত ব্যক্তির মুখাবয়ব৷

বানর এবং তার ক্ষমতা

ইন্দোনেশিয়ায় জাভার সংস্কৃতিতে ভগবান হনুমান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র৷ ২০১৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘দ্য মাস্কড মাংকিস’ ছবিতে জাভার বানর ও তাদের মালিকদের মধ্যকার ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং কর্মপরিবেশের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে৷

মানুষের মুখোশ

নিজের স্বল্প দৈর্ঘ্যের ছবিটি তৈরির ক্ষেত্রে ইউটিউব-এর একটি ভিডিও ছিল ফরাসি শিল্পী পিয়ের উইঘের প্রেরণা৷ ভিডিও-র ‘ফুকু-চান মাংকি ইন উইগ, মাস্ক, ওয়ার্কস রেস্টুরেন্ট’ ক্লিপে একটি পুরুষ বানরকে দেখানো হয়েছে, যে কিনা মুখোশ এবং পরচুলা পরে ছোট একটি মেয়ের রূপ নিয়ে একটা রেস্তোরাঁয় থাকে৷ এই ক্লিপটি দেখেই সেই বানরটি খুঁজে বের করেন উইঘ এবং তৈরি করেন ১৯-মিনিট দৈর্ঘ্যের ছবি ‘হিউম্যান মাস্ক৷’

আমার মধ্যে বানর

এরিক স্টাইনব্রেশার ‘মাল্টিলেয়ার্ড ইমেজ’ বা বিভিন্ন ধরনের, নানা স্তরের ছবি ও ‘স্যাটায়ার’ বা ব্যঙ্গরচনা, তথা হাস্যরস নিয়ে কাজ করেন৷ তাঁর তৈরি ইনস্টলেশন আর্ট ‘এএফএফই’ বিভিন্ন প্রাকৃতিক এবং অজৈব উপাদান দিয়ে তৈরি৷ এই শিল্পবস্তুটির অর্থ নানারকম হতে পারে, অর্থাৎ দর্শকের চোখে তা ধরা পড়তে পারে ভিন্ন ভিন্নভাবে৷ বার্লিনে এই প্রদর্শনীটি চলবে আগামী ৬ জুলাই পর্যন্ত৷

কিরিন্ডির জঙ্গলে হেমন্ত৷ বর্ষাশেষে সব কিছু এখনও সবুজ, যদিও শীতে পাতা ঝরে৷ জায়গাটা শুকনো৷ লেমুর নামের ছোট ছোট বানরগুলোকে শুধু মাদাগাস্কারেই পাওয়া যায়৷ গবেষকরা রয়েছেন একটি সিফাকা-র খোঁজে৷ সিফাকা হল এই জঙ্গলের সবচেয়ে বড় লেমুরটির নাম৷

সংশ্লিষ্ট বিষয়