অন্বেষণ

মাদাগাস্কারের বানর লেমুর

মাদাগাস্কার দ্বীপটিতে এমন সব জীবের দর্শন পাওয়া যায়, যারা বিশ্বের আর কোথাও নেই – যেমন লেমুর বানরেরা৷ সেজন্য জার্মানির গ্যোটিঙেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা মাদাগাস্কারের জঙ্গলে একটি ফিল্ড স্টেশন খুলেছেন৷

ভিডিও দেখুন 03:55

লেমুর নামের এই বানরগুলোকে শুধু মাদাগাস্কারেই পাওয়া যায়

কিরিন্ডির জঙ্গলে হেমন্ত৷ বর্ষাশেষে সব কিছু এখনও সবুজ, যদিও শীতে পাতা ঝরে৷ জায়গাটা শুকনো৷ লেমুর নামের ছোট ছোট বানরগুলোকে শুধু মাদাগাস্কারেই পাওয়া যায়৷ গবেষকরা রয়েছেন একটি সিফাকা-র খোঁজে৷ সিফাকা হল এই জঙ্গলের সবচেয়ে বড় লেমুরটির নাম৷

তীর লেগেছে! এখন শুধু সিফাকা-টির গাছ থেকে পড়া বাকি৷ তবে চোট পেলে চলবে না...৷

ধরা গেছে! এখন সব কিছু তাড়াতাড়ি হওয়া চাই৷ লেমুর-টাকে মেপে, ওজন করে, গলায় ট্রান্সমিটার বেঁধে আবার ছেড়ে দিতে হবে৷

জার্মান প্রাইমেট সেন্টার এম-১-এর প্রধান পেটার কাপেলার জীবটিকে চেনেন৷ তিনি জানালেন, ‘‘ওর নাম হল মোরিৎস৷ পুরুষ লেমুর৷ ওর জন্ম থেকে আমরা ওর খোঁজ রাখি৷ যে দলে ওর জন্ম, তা ছাড়বার পর থেকে ও কী করেছে, ওর কত বয়স, সব কিছু আমরা জানি৷ প্রতিটি লেমুরকে আলাদা করে ট্র্যাক করার এটাই সুবিধা৷ প্রত্যেকের সম্বন্ধে বিশদ তথ্য পাওয়া যায়৷''

কিরিন্ডির লেমুর

পেটার কাপেলার গ্যোটিঙেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্মান প্রাইমেট সেন্টারের অধ্যাপক৷ গত ২০ বছর ধরে তিনি কিরিন্ডির লেমুরদের নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছেন, এখানে একটি ফিল্ড স্টেশনও চালান৷ এই জঙ্গলে আট ধরনের লেমুর থাকে – তাদের মধ্যে অতি বিরল ডোরাকাটা বেজিরাও আছে৷

বিভিন্ন ধরনের লেমুররা পরস্পরের সঙ্গে থাকে কী করে? পরিবেশের সঙ্গে কীভাবে মানিয়ে নেয় তারা? কেউ যদি তাদের পর্যবেক্ষণ করে, তাতে তাদের আপত্তি নেই৷ কিছু ছাত্রছাত্রী এখানে তাদের স্নাতকোত্তর গবেষণার জন্য তথ্য সংগ্রহ করছেন৷ আলেসিও আনানিয়া লেমুরদের ডাক নিয়ে পিএইচডি করছেন৷ কাটিয়া রুডল্ফ লেমুরদের আচার-ব্যবহার আর স্বাস্থ্য সম্পর্কে আগ্রহী৷ তবে ডাটা সংগ্রহ করতে গেলে ধৈর্য আর দম লাগে৷ কাটিয়া শোনালেন, ‘‘সকালে তিন-চার ঘণ্টা এদের পর্যবেক্ষণ করি, দুপুরে আরো তিন-চার ঘণ্টা৷ মোট চারটে লেমুরের ওপর নজর রাখি৷ ওরা যখন ঘুমোয়, তখনও ওদের ঘণ্টা খানেক দেখি – নিজে ঘুমিয়ে না পড়ে!''

লেমুরদের স্বভাব-চরিত্র সম্পর্কে এখনও অনেক কিছু জানা নেই৷ কিন্তু আরো জানার সময় আছে কি? জঙ্গল আর তার বাসিন্দা, সকলেই তো বিপন্ন৷ প্রফেসর কাপেলার আক্ষেপ করলেন, ‘‘এই সুন্দর জঙ্গল, যেখানে সব কিছু এখনো স্বাভাবিক, অবিকৃত, সেখানে আমরা সহজেই সে কথা ভুলে যাই৷ কিন্তু যে কোনো দিকে দশ কিলোমিটার গেলেই আর জঙ্গল বলে কিছু নেই৷ তখন বোঝা যায়, এ সব ঠিক কতটা বিপন্ন৷''

দশ কিলোমিটার দূরে বলতে এখানে, একটা রাস্তার মোড়ে৷ কাছের গ্রামের বাসিন্দারা এখানে তাদের ভুট্টা বা তরমুজ বেচছে৷ জঙ্গলের কল্যাণেই বেঁচে আছে তারা,যদিও সে জঙ্গল তাদের হাতেই ধীরে ধীরে বিনষ্ট হচ্ছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

Albanian Shqip

Amharic አማርኛ

Arabic العربية

Bengali বাংলা

Bosnian B/H/S

Bulgarian Български

Chinese (Simplified) 简

Chinese (Traditional) 繁

Croatian Hrvatski

Dari دری

English English

French Français

German Deutsch

Greek Ελληνικά

Hausa Hausa

Hindi हिन्दी

Indonesian Bahasa Indonesia

Kiswahili Kiswahili

Macedonian Македонски

Pashto پښتو

Persian فارسی

Polish Polski

Portuguese Português para África

Portuguese Português do Brasil

Romanian Română

Russian Русский

Serbian Српски/Srpski

Spanish Español

Turkish Türkçe

Ukrainian Українська

Urdu اردو