বিশ্ব

মানবাঙ্গ বেচাকেনার জমজমাট অবৈধ ব্যবসা ভারতে

ভারতে মানবদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ব্যবসা জাঁকিয়ে বসেছে, চলেছে খোলাখুলি বিজ্ঞাপনও৷ হালে কিডনি পাচার চক্র দিল্লি পুলিশের জালে ধরা পড়ে৷ জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায, এর পেছনে রয়েছে কিছু নাম করা বেসরকারি হাসপাতালের ডাক্তার-কর্মীও৷

অঙ্গ প্রতিস্থাপন চলছে....

সমাজে যে দেহ ব্যবসা চালু আছে, সেটা সবারই জানা৷ কিন্তু মানবদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিয়ে মোটা টাকার বিনিময়ে বেআইনি বেচাকেনা একটা লাভজনক ব্যবসা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইদানীং৷ এবং সেটা ছড়িয়ে পড়েছে ভারতের বিভিন্ন শহরে৷ তাই বড় বড় বেসরকারি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালগুলোতে আকছারই অঙ্গ প্রতিস্থাপনের জন্য অস্ত্রোপচার করা হয়৷ দেখানো হয়, দাতা ও গ্রহীতার সম্পর্কের নকল কাগজপত্র৷ তবে গ্রহীতা, মানে যাঁর দেহে প্রতিস্থাপন করা হবে, তাঁর দেহ যেন দাতার সেই অঙ্গ নিতে পারে৷ সমস্যাটা এখানেই৷ ব্যবসায় চাহিদা ও জোগানের ওপর নির্ভর করে দাম৷ ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের রিপোর্ট বলছে, ভারতে বছরে এক লাখ থেকে দু'লাখ কিডনির দরকার হয়, প্রতিস্থাপনের জন্য পাওয়া যায় মাত্র পাঁচ হাজার৷ কারণ এমন দাতা খুঁজে পেতে হবে, যার অঙ্গ গ্রহীতা রোগীর শরীরের সঙ্গে মানানসই হবে৷

এই সুযোগটাই কিডনি বা অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পাচার চক্রের টাকা কামানোর পথ খুলে দিয়েছে৷ খদ্দের শাঁসালো হলে একটা কিডনির বাজার দাম ওঠে প্রায় ৭০-৭৫ লাখ টাকা পর্যন্ত, বিশেষ করে ধনী দেশগুলি থেকে আসা মেডিক্যাল টুরিস্টদের কাছে এটা মোটা অঙ্ক নয় মোটেই৷ বেশি লাভের আশা পাচারকারীরা বাণিজ্যিক পন্থায় খোলাখুলি বিজ্ঞাপন দেয়, ইন্টারনেটে বিশেষ সাইট খোলে৷ বিজ্ঞাপনকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার জন্য দেওয়া থাকে আ্যপোলোর মতো নাম করা হায়পাতালের ঠিকানা৷

পাচারকারীরা সাধারণত নিশানা করে বিশেষ করে গরিব বা নিম্নবিত্তদের কিংবা আর্থিক সংকটে রয়েছে এমন ব্যক্তিদের৷ তাঁদের শহরের হাসপাতালে আনা-নেওয়া এবং অন্যান্য খরচখরচা বাদ দিয়ে ২০-২২ লাখ টাকা দিলে তাঁরা সহজেই রাজি হয়ে যায়৷ বলা হয়, তিন দিনেকের মতো তাঁদের হাসপাতালে থাকতে হবে৷

ব্যাপারটা আরও সহজ হয়ে যায় সংশ্লিষ্ট ডাক্তার ও তাঁদের বিভাগীয় কর্মীদের যোগসাজসে, এমনটাই অভিযোগ৷ সেই অভিযোগের ভিত্তিতে সম্প্রতি দিল্লি পুলিশ কলকাতা থেকে গ্রেপ্তার করে কিডনি পাচারচক্রের এক চাঁইকে৷ তাঁকে জেরা করলে ওঠে আসে, দিল্লির নাম করা অ্যাপোলো হাসপাতালের কথা৷ অ্যাপোলো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অবশ্য সরাসরি এইসব অভিযোগ নাকচ করে দেন৷ বলেন, আইন অনুসারে প্রতিস্থাপন অপারেশনের জন্য যেসব কাগজপত্র বা সম্মতিপত্র লাগে, তা দেখেই অপারেশন করা হয়৷ সেইসব কাগজপত্র আসল না নকল সেটা যাচাই করা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাজ নয়৷ কথাটা আপাত মেনে নিলেও প্রশ্ন তোলা যায় যে, সংশ্লিষ্ট বিভাগ মানে নেফ্রোলজি, ইউরোলজির মতো বিভাগের কিছু অসাধু কর্মীদের হাত নেই, সেটা কি জোর দিয়ে বলা যায়? পুলিশেরও সন্দেহ সেইখানেই৷

এবার দেখা যাক, দেশের আইন কি বলছে? আইন বলছে, ব্রেন-ডেড রোগীর অঙ্গ তাঁর পরিবারের সম্মতিতে উদ্ধার করে অন্য কোনো জীবিত রোগীকে দান করে তাঁর দেহে প্রতিস্থাপন করা যায়৷ নিকট আত্মীয় হবে কারা? বাবা-মা, স্বামী বা স্ত্রী, পুত্র-কন্যা, নাতি-নাতনি অথবা বিশেষ স্নেহ বা ভালোবাসার কারণেও অঙ্গদান বৈধ৷ তবে কোনোভাবেই তা আর্থিক কারণ হবে না৷

এমনও হতে পারে, স্বামীর অঙ্গ স্ত্রীর দেহ গ্রহণ করতে পারছে না, বা স্ত্রীর অঙ্গ স্বামীর৷ সেক্ষেত্রে অন্য রোগেকে দিয়ে সেই রোগীর কোনো আত্মীয়ের সঙ্গে তা বদল করা বেআইনি নয়৷ অপারেশনের আগে পেশ করতে হবে দাতা ও গ্রহীতার সম্পর্কের সচিত্র পরিচয়পত্র, মেডিক্যাল সার্টিফিকেট ইত্যাদি সেটা যাচাই করবেন একজন ম্যাজিস্ট্রেট৷ আত্মীয় ও অনাত্মীয় দাতা গ্রহীতাদের কাগজপত্র ও মেডিক্যাল রিপোর্ট পরীক্ষ করবেন হাসপাতালের এক বিশেষ কমিটি৷ কথা হচ্ছে, তাহলে কি এই ব্যবসা বন্ধ করা যাবে না? এক কথায়, না৷ যতদিন চাহিদা ও জোগানের মধ্যে ফারাক থাকবে, ততদিন এইসব দালাল থাকবে৷ বিজ্ঞাপন থাকবে, ওয়েবসাইটও থাকবে৷

মানবাঙ্গ বেচাকেনা নিয়ে বাংলাদেশের আইন কী বলছে? জানান আমাদের, লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

Albanian Shqip

Amharic አማርኛ

Arabic العربية

Bengali বাংলা

Bosnian B/H/S

Bulgarian Български

Chinese (Simplified) 简

Chinese (Traditional) 繁

Croatian Hrvatski

Dari دری

English English

French Français

German Deutsch

Greek Ελληνικά

Hausa Hausa

Hindi हिन्दी

Indonesian Bahasa Indonesia

Kiswahili Kiswahili

Macedonian Македонски

Pashto پښتو

Persian فارسی

Polish Polski

Portuguese Português para África

Portuguese Português do Brasil

Romanian Română

Russian Русский

Serbian Српски/Srpski

Spanish Español

Turkish Türkçe

Ukrainian Українська

Urdu اردو