মানবাঙ্গ বেচাকেনার জমজমাট অবৈধ ব্যবসা ভারতে

ভারতে মানবদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ব্যবসা জাঁকিয়ে বসেছে, চলেছে খোলাখুলি বিজ্ঞাপনও৷ হালে কিডনি পাচার চক্র দিল্লি পুলিশের জালে ধরা পড়ে৷ জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায, এর পেছনে রয়েছে কিছু নাম করা বেসরকারি হাসপাতালের ডাক্তার-কর্মীও৷

আপনি কী ভাবছেন?

এখানে ক্লিক করুন ও আলোচনায় যোগ দিন

সমাজে যে দেহ ব্যবসা চালু আছে, সেটা সবারই জানা৷ কিন্তু মানবদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিয়ে মোটা টাকার বিনিময়ে বেআইনি বেচাকেনা একটা লাভজনক ব্যবসা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইদানীং৷ এবং সেটা ছড়িয়ে পড়েছে ভারতের বিভিন্ন শহরে৷ তাই বড় বড় বেসরকারি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালগুলোতে আকছারই অঙ্গ প্রতিস্থাপনের জন্য অস্ত্রোপচার করা হয়৷ দেখানো হয়, দাতা ও গ্রহীতার সম্পর্কের নকল কাগজপত্র৷ তবে গ্রহীতা, মানে যাঁর দেহে প্রতিস্থাপন করা হবে, তাঁর দেহ যেন দাতার সেই অঙ্গ নিতে পারে৷ সমস্যাটা এখানেই৷ ব্যবসায় চাহিদা ও জোগানের ওপর নির্ভর করে দাম৷ ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের রিপোর্ট বলছে, ভারতে বছরে এক লাখ থেকে দু'লাখ কিডনির দরকার হয়, প্রতিস্থাপনের জন্য পাওয়া যায় মাত্র পাঁচ হাজার৷ কারণ এমন দাতা খুঁজে পেতে হবে, যার অঙ্গ গ্রহীতা রোগীর শরীরের সঙ্গে মানানসই হবে৷

লিঙ্গ প্রতিস্থাপন

চিকিৎসা শাস্ত্রের অগ্রগতির ফলে এখন শরীরের অনেক অঙ্গই প্রতিস্থাপন, অর্থাৎ অন্যের দেহ থেকে এনে লাগিয়ে দেয়া যায়৷ পুরুষাঙ্গও যে এভাবে অন্যের কাছ থেকে নিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করা যাবে ১১ বছর আগেও তা ভাবা যেত না৷ ২০০৫ সালে প্রথমবারে মতো একজনের দেহ থেকে পুরুষাঙ্গ এনে আরেকজনের দেহে লাগিয়ে দেয়ার পর বোঝা যায় এমনও সম্ভব৷

প্রথম দৃষ্টান্ত চীনে

সারা বিশ্বে এ পর্যন্ত মাত্র তিনজনের দেহে সফলভাবে পুরুষাঙ্গ প্রতিস্থাপন সম্ভব হয়েছে৷ পুরুষাঙ্গ প্রতিস্থাপনের প্রথম দৃষ্টান্তটি দেখা যায় চীনে৷ ২০০৫ সালে চীনের এক ব্যক্তির দেহে অস্ত্রোপচার করে লাগানো হয়েছিল নতুন পুরুষাঙ্গ৷ কিন্তু ওই পুরুষাঙ্গ নিয়ে ভদ্রলোক স্বচ্ছন্দ বোধ না করায় কয়েক সপ্তাহ পরেই আবার অস্ত্রোপচার করে ফেলে দেয়া হয় সেই পুরুষাঙ্গ৷

অন্যের পুরুষাঙ্গ নিয়ে প্রথম সুস্থ ব্যক্তি

২০১৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার এক ব্যক্তির দেহে পুরুষাঙ্গ প্রতিস্থাপন করা হয়৷ সেই ব্যক্তি এখনো সুস্থ আছেন৷ লিঙ্গ প্রতিস্থাপনের পর সন্তানের জন্মও দিয়েছিলেন৷ তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগেই মারা যায়৷

এবার যুক্তরাষ্ট্রে

যুক্তরাষ্ট্রের থমাস ম্যানিং একদিন অফিসে কাজ করার সময় পড়ে গিয়ে খুব ব্যথা পেয়েছিলেন৷ ব্যথার চিকিৎসা করাতে গিয়ে জানা যায় তাঁর পুরুষাঙ্গে ক্যানসার হয়েছে৷ ক্যানসার থেকে বাঁচতে পুরুষাঙ্গটাই ফেলে দিতে হয়৷ সেই থেকে হতাশার জীবন কাটাচ্ছিলেন৷ গত সপ্তাহে ৬৭ বছর বয়সি থমাস ম্যানিংকেও অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে দেয়া হয়েছে নতুন পুরুষাঙ্গ৷

নতুন জীবন

এক ব্যক্তি মৃত্যুর আগে নিজে লিঙ্গ দান করে যাওয়ায় ১৫ ঘণ্টা ধরে অস্ত্রোপচার করে সেই লিঙ্গ ম্যানিংয়ের দেহে জুড়ে দেয়া সম্ভব হয়েছে৷ অস্ত্রোপচার হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বস্টনের ম্যাসেচুসেটস জেনারেল হাসপাতালে৷ সপ্তাহ খানেক পরও ভালোই আছেন থমাস ম্যানিং৷ জানিয়েছেন, ধীরে ধীরে টের পাচ্ছেন তিনি আবার পূর্ণাঙ্গ পুরুষ হয়ে উঠেছেন৷

এই সুযোগটাই কিডনি বা অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পাচার চক্রের টাকা কামানোর পথ খুলে দিয়েছে৷ খদ্দের শাঁসালো হলে একটা কিডনির বাজার দাম ওঠে প্রায় ৭০-৭৫ লাখ টাকা পর্যন্ত, বিশেষ করে ধনী দেশগুলি থেকে আসা মেডিক্যাল টুরিস্টদের কাছে এটা মোটা অঙ্ক নয় মোটেই৷ বেশি লাভের আশা পাচারকারীরা বাণিজ্যিক পন্থায় খোলাখুলি বিজ্ঞাপন দেয়, ইন্টারনেটে বিশেষ সাইট খোলে৷ বিজ্ঞাপনকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার জন্য দেওয়া থাকে আ্যপোলোর মতো নাম করা হায়পাতালের ঠিকানা৷

১৪ বছর আগে আল্লাহ বক্স তাঁর ছেলে, ভাই আর ভাগ্নেকে নিয়ে ব্যাঙ্গালোরের এই বাসস্টপটির কাছে তাঁদের ‘ডেন্টাল ক্লিনিক’ চালু করেন৷ এখানে দিনে ২০ জন পর্যন্ত রোগীর চিকিৎসা করা হয়৷

নানা ধরনের দাঁতের পাটি অথবা একক দাঁত পাওয়া যায়৷ এ রকম একটি দাঁতের দাম এক ইউরোর চেয়ে কম৷ তবে নতুন দিল্লির মতো বড় শহরে সমৃদ্ধশালী মধ্যবিত্ত শ্রেণি আজ দাঁতের চিকিৎসা করাতে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ চায়৷

নতুন দাঁত লাগানোর পর শক্ত কিছু একটা কামড়ে দেখতে হয়, দাঁত ঠিকমতো বসেছে কিনা!

অন্বেষণ | 10.02.2015

সমাজে যে দেহ ব্যবসা চালু আছে, সেটা সবারই জানা৷ কিন্তু মানবদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিয়ে মোটা টাকার বিনিময়ে বেআইনি বেচাকেনা একটা লাভজনক ব্যবসা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইদানীং৷ এবং সেটা ছড়িয়ে পড়েছে ভারতের বিভিন্ন শহরে৷ তাই বড় বড় বেসরকারি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালগুলোতে আকছারই অঙ্গ প্রতিস্থাপনের জন্য অস্ত্রোপচার করা হয়৷ দেখানো হয়, দাতা ও গ্রহীতার সম্পর্কের নকল কাগজপত্র৷ তবে গ্রহীতা, মানে যাঁর দেহে প্রতিস্থাপন করা হবে, তাঁর দেহ যেন দাতার সেই অঙ্গ নিতে পারে৷ সমস্যাটা এখানেই৷ ব্যবসায় চাহিদা ও জোগানের ওপর নির্ভর করে দাম৷ ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের রিপোর্ট বলছে, ভারতে বছরে এক লাখ থেকে দু'লাখ কিডনির দরকার হয়, প্রতিস্থাপনের জন্য পাওয়া যায় মাত্র পাঁচ হাজার৷ কারণ এমন দাতা খুঁজে পেতে হবে, যার অঙ্গ গ্রহীতা রোগীর শরীরের সঙ্গে মানানসই হবে৷

লিঙ্গ প্রতিস্থাপন

চিকিৎসা শাস্ত্রের অগ্রগতির ফলে এখন শরীরের অনেক অঙ্গই প্রতিস্থাপন, অর্থাৎ অন্যের দেহ থেকে এনে লাগিয়ে দেয়া যায়৷ পুরুষাঙ্গও যে এভাবে অন্যের কাছ থেকে নিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করা যাবে ১১ বছর আগেও তা ভাবা যেত না৷ ২০০৫ সালে প্রথমবারে মতো একজনের দেহ থেকে পুরুষাঙ্গ এনে আরেকজনের দেহে লাগিয়ে দেয়ার পর বোঝা যায় এমনও সম্ভব৷

প্রথম দৃষ্টান্ত চীনে

সারা বিশ্বে এ পর্যন্ত মাত্র তিনজনের দেহে সফলভাবে পুরুষাঙ্গ প্রতিস্থাপন সম্ভব হয়েছে৷ পুরুষাঙ্গ প্রতিস্থাপনের প্রথম দৃষ্টান্তটি দেখা যায় চীনে৷ ২০০৫ সালে চীনের এক ব্যক্তির দেহে অস্ত্রোপচার করে লাগানো হয়েছিল নতুন পুরুষাঙ্গ৷ কিন্তু ওই পুরুষাঙ্গ নিয়ে ভদ্রলোক স্বচ্ছন্দ বোধ না করায় কয়েক সপ্তাহ পরেই আবার অস্ত্রোপচার করে ফেলে দেয়া হয় সেই পুরুষাঙ্গ৷

অন্যের পুরুষাঙ্গ নিয়ে প্রথম সুস্থ ব্যক্তি

২০১৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার এক ব্যক্তির দেহে পুরুষাঙ্গ প্রতিস্থাপন করা হয়৷ সেই ব্যক্তি এখনো সুস্থ আছেন৷ লিঙ্গ প্রতিস্থাপনের পর সন্তানের জন্মও দিয়েছিলেন৷ তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগেই মারা যায়৷

এবার যুক্তরাষ্ট্রে

যুক্তরাষ্ট্রের থমাস ম্যানিং একদিন অফিসে কাজ করার সময় পড়ে গিয়ে খুব ব্যথা পেয়েছিলেন৷ ব্যথার চিকিৎসা করাতে গিয়ে জানা যায় তাঁর পুরুষাঙ্গে ক্যানসার হয়েছে৷ ক্যানসার থেকে বাঁচতে পুরুষাঙ্গটাই ফেলে দিতে হয়৷ সেই থেকে হতাশার জীবন কাটাচ্ছিলেন৷ গত সপ্তাহে ৬৭ বছর বয়সি থমাস ম্যানিংকেও অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে দেয়া হয়েছে নতুন পুরুষাঙ্গ৷

নতুন জীবন

এক ব্যক্তি মৃত্যুর আগে নিজে লিঙ্গ দান করে যাওয়ায় ১৫ ঘণ্টা ধরে অস্ত্রোপচার করে সেই লিঙ্গ ম্যানিংয়ের দেহে জুড়ে দেয়া সম্ভব হয়েছে৷ অস্ত্রোপচার হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বস্টনের ম্যাসেচুসেটস জেনারেল হাসপাতালে৷ সপ্তাহ খানেক পরও ভালোই আছেন থমাস ম্যানিং৷ জানিয়েছেন, ধীরে ধীরে টের পাচ্ছেন তিনি আবার পূর্ণাঙ্গ পুরুষ হয়ে উঠেছেন৷

এই সুযোগটাই কিডনি বা অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পাচার চক্রের টাকা কামানোর পথ খুলে দিয়েছে৷ খদ্দের শাঁসালো হলে একটা কিডনির বাজার দাম ওঠে প্রায় ৭০-৭৫ লাখ টাকা পর্যন্ত, বিশেষ করে ধনী দেশগুলি থেকে আসা মেডিক্যাল টুরিস্টদের কাছে এটা মোটা অঙ্ক নয় মোটেই৷ বেশি লাভের আশা পাচারকারীরা বাণিজ্যিক পন্থায় খোলাখুলি বিজ্ঞাপন দেয়, ইন্টারনেটে বিশেষ সাইট খোলে৷ বিজ্ঞাপনকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার জন্য দেওয়া থাকে আ্যপোলোর মতো নাম করা হায়পাতালের ঠিকানা৷

পাচারকারীরা সাধারণত নিশানা করে বিশেষ করে গরিব বা নিম্নবিত্তদের কিংবা আর্থিক সংকটে রয়েছে এমন ব্যক্তিদের৷ তাঁদের শহরের হাসপাতালে আনা-নেওয়া এবং অন্যান্য খরচখরচা বাদ দিয়ে ২০-২২ লাখ টাকা দিলে তাঁরা সহজেই রাজি হয়ে যায়৷ বলা হয়, তিন দিনেকের মতো তাঁদের হাসপাতালে থাকতে হবে৷

ব্যাপারটা আরও সহজ হয়ে যায় সংশ্লিষ্ট ডাক্তার ও তাঁদের বিভাগীয় কর্মীদের যোগসাজসে, এমনটাই অভিযোগ৷ সেই অভিযোগের ভিত্তিতে সম্প্রতি দিল্লি পুলিশ কলকাতা থেকে গ্রেপ্তার করে কিডনি পাচারচক্রের এক চাঁইকে৷ তাঁকে জেরা করলে ওঠে আসে, দিল্লির নাম করা অ্যাপোলো হাসপাতালের কথা৷ অ্যাপোলো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অবশ্য সরাসরি এইসব অভিযোগ নাকচ করে দেন৷ বলেন, আইন অনুসারে প্রতিস্থাপন অপারেশনের জন্য যেসব কাগজপত্র বা সম্মতিপত্র লাগে, তা দেখেই অপারেশন করা হয়৷ সেইসব কাগজপত্র আসল না নকল সেটা যাচাই করা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাজ নয়৷ কথাটা আপাত মেনে নিলেও প্রশ্ন তোলা যায় যে, সংশ্লিষ্ট বিভাগ মানে নেফ্রোলজি, ইউরোলজির মতো বিভাগের কিছু অসাধু কর্মীদের হাত নেই, সেটা কি জোর দিয়ে বলা যায়? পুলিশেরও সন্দেহ সেইখানেই৷

বাসস্টপের দাঁতের ‘ক্লিনিক’

১৪ বছর আগে আল্লাহ বক্স তাঁর ছেলে, ভাই আর ভাগ্নেকে নিয়ে ব্যাঙ্গালোরের এই বাসস্টপটির কাছে তাঁদের ‘ডেন্টাল ক্লিনিক’ চালু করেন৷ এখানে দিনে ২০ জন পর্যন্ত রোগীর চিকিৎসা করা হয়৷

‘হাঁ করুন!’

‘গরীব মানুষদেরও ভালো দাঁত চাই,’ বলেন আল্লাহ বক্স৷ তবে ডিগ্রিধারী ডেন্টিস্টদের সমিতির বক্তব্য হলো, লাইসেন্সপ্রাপ্ত দাঁতের ডাক্তাররা গরীব রোগীদের কাছ থেকে অনেক কম ‘ফি’ নিয়ে থাকেন৷ কাজেই ফুটপাথের ডাক্তারদের বস্তুত কোনো প্রয়োজন নেই৷

হাসতে গেলে দাঁত চাই

ডেন্টাল সিমেন্ট দিয়ে তৈরি এই ধরনের দাঁতের পাটি ভারত এবং চীনে তৈরি করা হয়৷ এক সেট দাঁতের দাম ইউরোর মাপে মাত্র দশ ইউরো, কাজ দেয় অন্তত চার বছর৷

দাঁতের রকমফের

নানা ধরনের দাঁতের পাটি অথবা একক দাঁত পাওয়া যায়৷ এ রকম একটি দাঁতের দাম এক ইউরোর চেয়ে কম৷ তবে নতুন দিল্লির মতো বড় শহরে সমৃদ্ধশালী মধ্যবিত্ত শ্রেণি আজ দাঁতের চিকিৎসা করাতে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ চায়৷

পটু হাত, কিন্তু সরঞ্জামের অভাব

আল্লাহ বক্সের সুযোগ্য পুত্র ইমরান পাশা একটি দাঁতের পাটি বসাতে চলেছেন৷ বাবার মতোই তাঁর দাঁতের ডাক্তার হিসেবে কোনো অনুমোদিত প্রশিক্ষণ নেই৷ দাঁতের ডাক্তারি সংক্রান্ত ১৯৪৮ সালের একটি আইনের কল্যাণে আল্লাহ বক্সের মতো মানুষেরা তাঁদের পেশা চালাতে পারছেন৷

রাস্তার ক্লিনিকের দিন ফুরোয়নি

ভারতে প্রতিবছর ৩০ হাজার দাঁতের ডাক্তার ডিগ্রি নিয়ে বেরোন, কিন্তু শহরাঞ্চলে প্রতি দশহাজার অধিবাসীর জন্য থাকেন মাত্র একজন দাঁতের ডাক্তার; গ্রামাঞ্চলে প্রতি আড়াই লাখ মানুষের জন্য একজন! কাজেই আল্লাহ বক্সের মতো ‘ডেন্টাল ওয়ার্কার’-দের দিন এখনও ফুরায়নি৷

দাঁত থাকলে দাঁতের মূল্য বোঝা যায়

নতুন দাঁত লাগানোর পর শক্ত কিছু একটা কামড়ে দেখতে হয়, দাঁত ঠিকমতো বসেছে কিনা!

এবার দেখা যাক, দেশের আইন কি বলছে? আইন বলছে, ব্রেন-ডেড রোগীর অঙ্গ তাঁর পরিবারের সম্মতিতে উদ্ধার করে অন্য কোনো জীবিত রোগীকে দান করে তাঁর দেহে প্রতিস্থাপন করা যায়৷ নিকট আত্মীয় হবে কারা? বাবা-মা, স্বামী বা স্ত্রী, পুত্র-কন্যা, নাতি-নাতনি অথবা বিশেষ স্নেহ বা ভালোবাসার কারণেও অঙ্গদান বৈধ৷ তবে কোনোভাবেই তা আর্থিক কারণ হবে না৷

এমনও হতে পারে, স্বামীর অঙ্গ স্ত্রীর দেহ গ্রহণ করতে পারছে না, বা স্ত্রীর অঙ্গ স্বামীর৷ সেক্ষেত্রে অন্য রোগেকে দিয়ে সেই রোগীর কোনো আত্মীয়ের সঙ্গে তা বদল করা বেআইনি নয়৷ অপারেশনের আগে পেশ করতে হবে দাতা ও গ্রহীতার সম্পর্কের সচিত্র পরিচয়পত্র, মেডিক্যাল সার্টিফিকেট ইত্যাদি সেটা যাচাই করবেন একজন ম্যাজিস্ট্রেট৷ আত্মীয় ও অনাত্মীয় দাতা গ্রহীতাদের কাগজপত্র ও মেডিক্যাল রিপোর্ট পরীক্ষ করবেন হাসপাতালের এক বিশেষ কমিটি৷ কথা হচ্ছে, তাহলে কি এই ব্যবসা বন্ধ করা যাবে না? এক কথায়, না৷ যতদিন চাহিদা ও জোগানের মধ্যে ফারাক থাকবে, ততদিন এইসব দালাল থাকবে৷ বিজ্ঞাপন থাকবে, ওয়েবসাইটও থাকবে৷

কিডনির পাথর

কিডনির রোগগুলোর মধ্যে পাথরজনিত রোগই সবচেয়ে বেশি৷ তাই কিডনিতে পাথর হওয়া বা হলে সেই কষ্টের কথা শোনেননি, এমন মানুষের সংখ্যা বোধহয় কম৷ খনিজলবণ এবং অ্যামিনো অ্যাসিড দিয়ে কিডনির পাথর তৈরি হয়৷ তবে পাথর হয়ে থাকে নানা কারণে৷ প্রস্রাব ঘন বা গাঢ় হলে খনিজগুলোকে দানা বাঁধতে সহায়তা করে বিভিন্ন উপাদান৷

বোঝার উপায়

কিডনির মধ্যে পাথর খানিকটা বড় হয়ে যখন বিচরণ করতে থাকে তখনই ব্যথা বাড়ে৷ তবে এমন পাথরও আছে যেগুলো চুপচাপ বসে থাকে৷ তাই শুধুমাত্র এক্সরে এবং আলট্রাসাউন্ডের মাধ্যমেই ধরা পড়ে এগুলি৷ এক্ষেত্রে ডাক্তাদের পরামর্শ, ব্যথা না করা পর্যন্ত নিয়মিত চেকআপ করানোর৷

পেটে ব্যথা

কিডনিতে জমে থাকা পাথর যখন আস্তে আস্তে মূত্রনালিতে চলে আসে, তখনই ব্যথা এবং অন্যান্য সমস্যা শুরু হয়৷ সাধারণত প্রস্রাব করার সময় হালকা ব্যথা হয়ে থাকে, এমনকি ছোট ছোট পাথরগুলো বের হয়েও আসতে পারে৷ তবে বড় পাথর মূত্রের রাস্তায় আটকে গিয়ে ‘রেনাল কলিক’ হতে পারে৷ এতে পেটে অসম্ভব ব্যথা হয়৷ সাথে বমি, ঘেমে যাওয়া, জ্বর ইত্যাদি হতে পারে৷ এমন হলে অবশ্যই ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে৷

পানি পান ও শরীরচর্চা

রোগী যদি বুঝতে পারেন যে তাঁর প্রস্রাবের সময় ব্যথা বা খোঁচা লাগছে, তাহলে ইউরোলজিস্ট-এর কাছে যেতে হবে৷ তিনি রক্ত, প্রস্রাব পরীক্ষা এবং আলট্রাসাউন্ড করার পর আপনাকে জানাবেন, কোন ধরনের পাথর হয়েছে এবং কী চিকিৎসা হওয়া প্রয়োজন৷ তবে চার মিলিমিটারের চেয়ে ছোট আকারের পাথর হলে, তা নিজে থেকে চলে যেতে পারে৷ অবশ্য এর জন্য রোগীকে নিয়মিত যথেষ্ট পরিমাণে পানি পান ও শরীরচর্চা করতে হবে৷

বড় পাথর

কিডনির পাথরে সাইজ যদি সাত মিলিমিটারের বেশি হয়, তাহলে সেটা নিজে থেকে বের হতে পারে না৷ সেক্ষেত্রে লেজার, এন্ডোসকোপি বা বিশেষ যন্ত্রের মাধ্যমে পাথর গুড়ো বা ভেঙে ফেলা সম্ভব৷ এছাড়া খাবার-দাবারে পরিবর্তন এবং নানা রকম ওষুধের সাহায্যেও পাথর গলানো যায়, তবে সেটা সময়সাপেক্ষ৷ বলা বাহুল্য সব পাথর একই পদার্থের হয় না৷ তাই পাথরভেদে ওষুধ বা চিকিৎসার আশ্রয় নিতে হয়৷

সচেতনতা

কিডনিতে যাতে পাথর না হয় এবং যাঁদের পাথর বের করে ফেলা হয়েছে তাঁদের আবার যেন নতুন করে তেমনটা না হয়, সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে৷ শুধু তাই নয়, তাঁদের জীবনযাত্রার মানেও পরিবর্তন আনতে হবে৷ সমীক্ষায় দেখা গেছে, শহরবাসীদের কিডনিতে পাথর বেশি হয়ে থাকে, বিশেষ করে যাঁরা সারাদিন বসে কাজ করেন৷ তাই হাঁটাচলা খুবই জরুরি৷

পরামর্শ

ইউরোলজিস্ট-এর পারামর্শ, অতিরিক্ত লবণ, লাল মাংস এবং চর্বিজাতীয় খাবার কম খেয়ে শাক-সবজি, ফলমূল ও আঁশযুক্ত খাবার বেশি খাওয়া দরকার৷ পাশাপাশি প্রয়োজন হাঁটাচলা এবং শরীরচর্চা৷ তাছাড়া কিডনিতে কোনো সমস্যা মানেই প্রচুর পানি পান করতে হবে৷ একমাত্র তবেই কিডনিতে পাথর হওয়ার কোনো সুযোগ থাকবে না৷

মানবাঙ্গ বেচাকেনা নিয়ে বাংলাদেশের আইন কী বলছে? জানান আমাদের, লিখুন নীচের ঘরে৷

অন্বেষণ | 19.01.2015

সমাজে যে দেহ ব্যবসা চালু আছে, সেটা সবারই জানা৷ কিন্তু মানবদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিয়ে মোটা টাকার বিনিময়ে বেআইনি বেচাকেনা একটা লাভজনক ব্যবসা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইদানীং৷ এবং সেটা ছড়িয়ে পড়েছে ভারতের বিভিন্ন শহরে৷ তাই বড় বড় বেসরকারি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালগুলোতে আকছারই অঙ্গ প্রতিস্থাপনের জন্য অস্ত্রোপচার করা হয়৷ দেখানো হয়, দাতা ও গ্রহীতার সম্পর্কের নকল কাগজপত্র৷ তবে গ্রহীতা, মানে যাঁর দেহে প্রতিস্থাপন করা হবে, তাঁর দেহ যেন দাতার সেই অঙ্গ নিতে পারে৷ সমস্যাটা এখানেই৷ ব্যবসায় চাহিদা ও জোগানের ওপর নির্ভর করে দাম৷ ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের রিপোর্ট বলছে, ভারতে বছরে এক লাখ থেকে দু'লাখ কিডনির দরকার হয়, প্রতিস্থাপনের জন্য পাওয়া যায় মাত্র পাঁচ হাজার৷ কারণ এমন দাতা খুঁজে পেতে হবে, যার অঙ্গ গ্রহীতা রোগীর শরীরের সঙ্গে মানানসই হবে৷

লিঙ্গ প্রতিস্থাপন

চিকিৎসা শাস্ত্রের অগ্রগতির ফলে এখন শরীরের অনেক অঙ্গই প্রতিস্থাপন, অর্থাৎ অন্যের দেহ থেকে এনে লাগিয়ে দেয়া যায়৷ পুরুষাঙ্গও যে এভাবে অন্যের কাছ থেকে নিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করা যাবে ১১ বছর আগেও তা ভাবা যেত না৷ ২০০৫ সালে প্রথমবারে মতো একজনের দেহ থেকে পুরুষাঙ্গ এনে আরেকজনের দেহে লাগিয়ে দেয়ার পর বোঝা যায় এমনও সম্ভব৷

প্রথম দৃষ্টান্ত চীনে

সারা বিশ্বে এ পর্যন্ত মাত্র তিনজনের দেহে সফলভাবে পুরুষাঙ্গ প্রতিস্থাপন সম্ভব হয়েছে৷ পুরুষাঙ্গ প্রতিস্থাপনের প্রথম দৃষ্টান্তটি দেখা যায় চীনে৷ ২০০৫ সালে চীনের এক ব্যক্তির দেহে অস্ত্রোপচার করে লাগানো হয়েছিল নতুন পুরুষাঙ্গ৷ কিন্তু ওই পুরুষাঙ্গ নিয়ে ভদ্রলোক স্বচ্ছন্দ বোধ না করায় কয়েক সপ্তাহ পরেই আবার অস্ত্রোপচার করে ফেলে দেয়া হয় সেই পুরুষাঙ্গ৷

অন্যের পুরুষাঙ্গ নিয়ে প্রথম সুস্থ ব্যক্তি

২০১৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার এক ব্যক্তির দেহে পুরুষাঙ্গ প্রতিস্থাপন করা হয়৷ সেই ব্যক্তি এখনো সুস্থ আছেন৷ লিঙ্গ প্রতিস্থাপনের পর সন্তানের জন্মও দিয়েছিলেন৷ তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগেই মারা যায়৷

এবার যুক্তরাষ্ট্রে

যুক্তরাষ্ট্রের থমাস ম্যানিং একদিন অফিসে কাজ করার সময় পড়ে গিয়ে খুব ব্যথা পেয়েছিলেন৷ ব্যথার চিকিৎসা করাতে গিয়ে জানা যায় তাঁর পুরুষাঙ্গে ক্যানসার হয়েছে৷ ক্যানসার থেকে বাঁচতে পুরুষাঙ্গটাই ফেলে দিতে হয়৷ সেই থেকে হতাশার জীবন কাটাচ্ছিলেন৷ গত সপ্তাহে ৬৭ বছর বয়সি থমাস ম্যানিংকেও অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে দেয়া হয়েছে নতুন পুরুষাঙ্গ৷

নতুন জীবন

এক ব্যক্তি মৃত্যুর আগে নিজে লিঙ্গ দান করে যাওয়ায় ১৫ ঘণ্টা ধরে অস্ত্রোপচার করে সেই লিঙ্গ ম্যানিংয়ের দেহে জুড়ে দেয়া সম্ভব হয়েছে৷ অস্ত্রোপচার হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বস্টনের ম্যাসেচুসেটস জেনারেল হাসপাতালে৷ সপ্তাহ খানেক পরও ভালোই আছেন থমাস ম্যানিং৷ জানিয়েছেন, ধীরে ধীরে টের পাচ্ছেন তিনি আবার পূর্ণাঙ্গ পুরুষ হয়ে উঠেছেন৷