1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

মেসি কি কর ফাঁকি দিয়েছেন?

১৪ জুন ২০১৩

বিশ্বের সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসিকে লাজুক, মুখচোরা মানুষ বলেই দুনিয়া জানে৷ অন্যদিকে তাঁর প্রতিভার নগদ মূল্য কতটা, তাও অজানা থাকার কথা নয়৷ কিন্তু মেসি কর ফাঁকি দেবেন, এ যেন ভাবাই যায় না৷

https://p.dw.com/p/18owS
ছবি: Reuters

মেসির সপক্ষে কিংবা বিপক্ষে কিছু বলার আগে এটা মনে রাখা দরকার যে, তাঁর বয়স সবে ২৫৷ পেশাদারি ফুটবলারদের ক্যারিয়ারের খবরাখবর যাঁরা রাখেন, তাঁরা জানেন, ফুটবল খেলে যা এবং যতটা আয় করে নেবার, ফুটবলারদের সেটা ঐ ১৭-১৮ থেকে ৩৩-৩৪ বয়সের মধ্যেই করে নিতে হয়৷

তার পরে যে তাঁদের কোনো অর্থকরী জীবিকা থাকে না, এমন নয়৷ কিন্তু যে জীবনযাত্রায় তাঁরা অভ্যস্ত, সেই মান বজায় রাখতে গেলে তাঁদের ফুটবলার জীবনে অর্জিত অর্থ ও নিজের চতুর ও সুপরিকল্পিত বিনিয়োগের উপরেই নির্ভর করতে হয়৷ মুশকিল এই যে, যে বয়সে একজন খেলোয়াড় তাঁর প্রতিভা, ক্ষমতা, দক্ষতা, যশ ও উপার্জনের তুঙ্গে থাকে, সে বয়সে তাঁর পক্ষে ঐ বিপুল পরিমাণ অর্থের উপর করপ্রদান কিংবা বাকি অর্থের জামানত অথবা বিনিয়োগ সম্পর্কে কোনো সঠিক ধারণাই থাকে না৷ সেই সঙ্গে আবার এই আর্থিক ব্যাপার-স্যাপার যদি দুই মহাদেশের দুই দেশে, কিংবা আরো ব্যাপ্ত হয়ে ‘আন্তর্জাতিক' হয়!

Champions League 2013 Halbfinal Rückspiel FC Barcelona FC Bayern München
মেসি কি কর ফাঁকি দিয়েছেন?ছবি: picture-alliance/dpa

থাকবেই বা কি করে? ২২-২৩-২৪ বছরের তরুণটি তো তখন ফুটবল খেলতে ব্যস্ত৷ কাজেই তাঁকে নির্ভর করতে হয় অভিভাবক স্থানীয় কিংবা গোত্রীয় প্রবীণদের উপর – মেসির ক্ষেত্রে যা ছিলেন, এবং আছেন, তাঁর বাবা, খর্খে ওরাসিও মেসি৷ খর্খে অবশ্য বলেছেন, তিনি মেসির আর্থিক ব্যাপার-স্যাপার দেখেন না, কেননা তিনি থাকেন আর্জেন্টিনায়৷ কিন্তু স্পেনের কর্তৃপক্ষের কাছে খবর আলাদা৷

মেসির টাকা নাকি গেছে ‘ট্যাক্স হ্যাভেনে'

মেসির বিরুদ্ধে অভিযোগ তাঁর ২০০৭ থেকে ২০০৯ সালের ট্যাক্স রিটার্ন নিয়ে৷ মেসি এই সব রিটার্নে যা দেখাননি, সেটা হলো তাঁর ‘ইমেজ', অর্থাৎ অ্যাডভার্টাইজিং থেকে আয়৷ পদ্ধতিটা নাকি বার হয় মেসির বাবা খর্খের উর্বর মস্তিষ্ক থেকে: মেসির অ্যাডভার্টাইজিং ডিলগুলি স্বাক্ষর করা হয় ব্রিটেন ও সুইজারল্যান্ডে; সেখান থেকে প্রাপ্ত অর্থ সোজা চলে যায় বেলিজ কিংবা উরুগুয়ের মতো ‘ট্যাক্স হ্যাভেনে'৷ এভাবে মেসি ২০০৭, ২০০৮ ও ২০০৯ সালে প্রতিবছর দশ লাখ থেকে প্রায় ১৫ লাখ ইউরো অবধি কর বাঁচাতে সক্ষম হন৷

মজার কথা, খর্খে ওরাসিও মেসি যখন তাঁর কর বাঁচানোর ‘স্কিম' চালু করেন, তখন লিওনেল মেসির ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত হয়নি৷ মেসি নাকি ‘পরে' বাবার পরিকল্পনায় সম্মত হন৷ কিন্তু সেই ‘পরে' মানে মেসির তখন এফসি বার্সেলোনা, বাংকো সাবাদেল, ডানোনে, আডিডাস, পেপসি-কোলা, প্রক্টার অ্যান্ড গ্যাম্বল, কুয়েত ফুড কোম্পানি ইত্যাদি বড় বড় আন্তর্জাতিক সংস্থাদের সঙ্গে লেনদেন চলেছে৷ স্পেনের আদালতে দাখিল করা অভিযোগ অনুযায়ী ২০০৭ থেকে ২০০৯, এই তিন সালে মেসির অ্যাডভার্টাইজিং থেকে আমদানি ছিল প্রতিবছর ২৫ লাখ ইউরো থেকে ৩৮ লাখ ইউরোর মতো৷

Champions League 2012/13 Halbfinale FC Bayern München FC Barcelona
মেসি ব্যস্ত খেলা নিয়েছবি: PIERRE-PHILIPPE MARCOU/AFP/Getty Images

‘বেচারা' মেসি

আর আজ? ফর্বস'-র লিস্ট অনুযায়ী শুধু এনডোর্সমেন্ট থেকেই মেসির বাৎসরিক আয় নাকি দু'কোটি ডলারের বেশি৷ কাজেই স্পেনে কর দিতে গেলে মেসি যে ফতুর হয়ে যেতেন, এমন নয়, তা সে কর যতই বেশি হোক না কেন৷ অন্তত এখন যে তাঁর ছ'বছরের জেল হবার সম্ভাবনার কথা শোনা যাচ্ছে – সেই সঙ্গে বিপুল অর্থদণ্ড – তার চেয়ে সেই বিকল্পটাই বোধহয় ভালো হতো৷

অবশ্য এ পর্যন্ত যা আছে এবং যা নিয়ে মিডিয়ায় ঝড় উঠছে, তা হলো শুধু সরকারি কৌঁসুলির দায়ের করা অভিযোগ৷ মেসি ও তাঁর বাবা সে অভিযোগ স্বীকার করেননি, বরং খবর পেয়ে আশ্চর্য হয়েছেন বলে জানিয়েছেন৷ পুরো ব্যাপারটা একটা ভ্রান্তি, খর্খে স্পেনের একটি স্পোর্টস দৈনিককে বলেছেন৷ কিন্তু বিশ্বের সেরা ফুটবল খেলোয়াড়ের সেই ইমেজ, যার দাম বাজারে লাখ লাখ ইউরো কিংবা ডলার, তার যে কতটা ক্ষতি হলো কিংবা হচ্ছে, তার হিসেব কে রাখে?

এসি/ডিজি (এএফপি)

স্কিপ নেক্সট সেকশন এই বিষয়ে আরো তথ্য

এই বিষয়ে আরো তথ্য