ম্যার্কেলই সম্ভবত জার্মানির চ্যান্সেলর থাকছেন

এক্সিট পোলের প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী সম্ভবত চতুর্থবারের মতো জার্মানির চ্যান্সেলর হতে চলেছেন আঙ্গেলা ম্যার্কেল৷ তবে জোট গড়তে তাঁকে একাধিক দলের সমর্থন আদায় করতে হবে বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে৷

সন্ধ্যা ৬টায় ভোটগ্রহণ পর্ব শেষ হবার পর এক্সিট পোল বা বুথ ফেরত সমীক্ষার প্রথমিক ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে৷ সেই তালিকায় প্রত্যাশা অনুযায়ী ভালো ফল করেছে চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের ইউনিয়ন শিবির৷ তবে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে এবারেও জোট গঠন করতে হবে৷ কিন্তু ম্যার্কেল-শিবিরের সবচেয়ে সম্ভাব্য সহযোগী উদারপন্থি এফডিপি দল যথেষ্ট আসন না পাওয়ায় সবুজ দলকেও সেই জোটে শামিল করার চেষ্টা করা হবে বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে৷ সেক্ষেত্রে ম্যার্কেল-এর নেতৃত্বে তিন দলের জোট সরকার গঠিত হতে পারে৷

আপনি কী ভাবছেন?

এখানে ক্লিক করুন ও আলোচনায় যোগ দিন

পূর্বাভাষ অনুযায়ী নির্বাচনি ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ ফল করেছে সামাজিক গণতন্ত্রী এসপিডি দল৷ ম্যার্কেল-এর প্রতিদ্বন্দ্বী মার্টিন শুলৎস দলের জন্য ভোটারদের যথেষ্ট আস্থা অর্জন করতে পারেননি৷ তবে আসনের বিচারে দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে এসপিডি প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকা পেতে পারে৷

অঙ্কের বিচারে দুই বড় দলের মহাজোট সরকার সম্ভব হলেও এসপিডি খুব সম্ভবত সেই পথ বেছে নেবে না৷ দুই দলই ফেডারেল জার্মানির ইতিহাসে অন্যতম খারাপ ফলাফল করেছে৷

রাজনীতি

আঙ্গেলা ম্যার্কেল

বার্লিনের একটি কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন বর্তমান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল৷ ধরেই নেয়া যায়, খ্রিষ্টীয় গণতন্ত্রী দল – সিডিইউ-এর এই নেতা ভোটটা নিজেকেই দিয়েছেন৷

রাজনীতি

মার্টিন শুলৎস

ম্যার্কেলের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ধরা হচ্ছে সামাজিক গণতন্ত্রী দল – এসপিডি-র নেতা মার্টিন শুলৎসকে৷ বর্তমান সরকারে সিডিইউ-এসপিডি জোটে থাকলেও নির্বাচনে কোন ছাড় নেই৷ স্ত্রী ইঙ্গেকে নিয়ে আখেনের পাশে ভ্যুরসেলেনে ভোট দিয়েছেন শুলৎস৷

রাজনীতি

চেম ও্যজদেমির

গ্রিন পার্টি বা সবুজ দলের নেতা চেম ও্যজদেমির ভোট দিয়েছেন বার্লিনে৷ পর্যাপ্ত ভোট পেলে জোট সরকার গঠনের আলোচনায় অংশ নেয়ার সম্ভাবনা থাকছে ও্যজদেমিরের দলের৷

রাজনীতি

বার্লিনে ভোটারদের সারি

এমন চিত্র খুব একটা দেখা যায় না জার্মান নির্বাচনে৷ তবে দিনের শুরুর অংশে এমন দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়েই ভোট দিয়েছেন জার্মানরা৷ তবে দুপুরের দিকে একেবারেই কমে যায় ভোটারদের আনাগোনা৷

রাজনীতি

অভিবাসী জার্মান ভোটার

মাথায় স্কার্ফ পড়া এক নারী ভোট দিচ্ছেন বার্লিনের ক্রয়েসবার্গের একটি কেন্দ্রে৷ জার্মানিতে প্রতি দশ জন ভোটারের একজন অভিবাসী পরিবার থেকে আসা৷ অর্থাৎ তাঁরা অথবা তাঁদের বাবা-মায়ের জন্ম জার্মানির বাইরে৷

রাজনীতি

বহুসংস্কৃতির জার্মানি

বার্লিনে ভোট দেয়ার পর ডয়চে ভেলের সাথে কথা বলছে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক জার্মান পরিবার৷ জার্মান পার্লামেন্টে ৬৩১ জন প্রতিনিধির ৩৭ জনই নিজেরা অভিবাসী অথবা অভিবাসী পরিবারের সন্তান৷

যে দলকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি উৎকণ্ঠা ছিল, সেই চরম দক্ষিণপন্থি এএফডি দল ৫ শতাংশের বেড়া পেরিয়ে জার্মান সংসদের নিম্ন কক্ষ বুন্ডেসটাগ-এ প্রবেশ করতে চলেছে৷ তবে ম্যার্কেল আবার চ্যান্সেলর হলে এবং এসপিডি দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হওয়ার ফলে এএফডি তৃতীয় বৃহত্তম শক্তি হয়েও প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা পাবে না৷

আগামী ২৪শে অক্টোবর নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন বসার কথা৷ সেদিনই স্পিকার নির্বাচন করা হবে৷ এরপর কোয়ালিশন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হলে সেই জোটের সংসদ সদস্যরা আঙ্গেলা ম্যার্কেল-কে নির্বাচিত করবেন৷

এসবি/ডিজি

ম্যার্কেলের নাপিত উডো ভালৎস

২০১৫ সালে ফোর্বস ম্যাগাজিনের বিবেচনায় বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর নারী আঙ্গেলা ম্যার্কেল৷ উডো ভালৎস (ছবিতে মাঝখানে) গত দশ বছর ধরে ম্যার্কেলের চুল কাটেন৷ তাঁর কথায়, ‘‘চ্যান্সেলার হওয়ার আগেও তিনি যেমন সেলুনে অন্যদের সাথে বসতেন, এখনও তাই করেন৷ তাঁকে কোনো বিশেষ ছাড় দেওয়া হয় না৷ অর্থাৎ তিনিও অন্যদের মতো ৬৫ ইউরো দেন৷ একদম আগের মতো আছেন তিনি৷’’

নিজেদের বাড়িতেই থাকেন

বার্লিনের ‘মিউজিয়াম আইল্যান্ড’-এর একটি জাদুঘরের কাছে নিজস্ব, কিন্তু পুরানো একটা ফ্ল্যাটে থাকেন আঙ্গেলা ম্যার্কেল ও তাঁর স্বামী ইওয়াখিম সাউয়ার৷ শুধু নিরাপত্তার জন্য দু’জন পুলিশ বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকে৷ এছাড়া কিন্তু সব কিছু আগের মতো আছে৷ এই যেমন, ছুটি পেলে আজও কাছের উকারমার্ক নামের ছোট্ট শহরে চলে যান দু’জনে৷ সেখানেই তিনি বড় হয়েছেন!

নিজেই বাজার করেন

চ্যান্সেলার ম্যার্কেল সাধারণ সুপার মার্কেটেই বাজার করতে যান, বিশেষ করে যেগুলো একটু বেশি সময় খোলা থাকে৷ বাজার করা সম্পর্কে আঙ্গেলা ম্যার্কেল একবার এক দোকানিকে বলেছিলেন, ‘‘আমার এই অল্প অবসর সময়ে বাজার করার মতো সব কাজই করার চেষ্টা করি, যেমনটা আগে করতাম৷ অবশ্য যখন নিজে পারি না, তখন বাজারের লিস্ট তৈরি করে স্বামীর হাতে তুলে দেই৷’’

তিনিই ‘চ্যান্সেলার’

দোকানের একজন নারী কর্মী জানান, ‘‘চ্যান্সেলার ম্যার্কেল অন্যান্য ক্রেতার মতোই কিছু খুঁজে না পেলে কোথায় কী রাখা আছে, তা সাধারণ গৃহিনীদের মতোই জানতে চান৷ তাঁর নিরাপত্তার জন্য দেহরক্ষী সাথে না থাকলে কেউ হয়ত বুঝবেই না যে তিনিই আমাদের ‘অ্যাঞ্জি’৷’’ কর্মীটি আরো জানান, ‘‘শত ব্যস্ততার মধ্যেও কিন্তু চ্যান্সেলারের মুখে হাসিটুকু লেগে থাকে, যা ভীষণ ভালো লাগে৷’’

চ্যান্সেলারের পছন্দ ফ্রেঞ্চ চিজ

জার্মান চ্যান্সেলার আঙ্গেলা ম্যার্কেলের ভীষণ পছন্দ ফ্রেঞ্চ চিজ বা পনির, যা তিনি নিজেই কিনতে ভালোবাসেন৷ আর সে’কথাই গর্ব করে জানান ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের একজন কর্মী৷

ভোজন রসিক ম্যার্কেল

হাতে দামি ব্যাগ নেওয়ার চেয়ে ভালো খাওয়া-দাওয়া ম্যার্কেলের কাছে বেশি গুরত্বপূর্ণ৷ যখন তিনি রান্না করার সময় পান না, তখন স্বামী ইওয়াখিম সাউয়ারকে নিয়ে বার্লিনের ‘কাসামবালিস’ নামের একটি রেস্তোরাঁয় খেতে যান৷ দামি খাবারের চেয়ে অবশ্য ‘গ্রিক মিটবল’-এর মতো সাধারণ খাবারই বেশি পছন্দ বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর এই নারীর৷

বিলাসিতা পছন্দ নয়

অন্যান্য রাজনীতিকদের মতো বিলাসিতা আঙ্গেলা ম্যার্কেলের তেমন পছন্দ নয়৷ বরং সাধারণ জীবনযাপনই তাঁর বেশি ভালো লাগে৷ তাই তিনি যতটা সম্ভব সেভাবেই চলার চেষ্টা করেন স্বামীকে নিয়ে৷

চাই মুক্ত হাওয়া আর হাঁটা-চলা

আঙ্গেলা ম্যার্কেল সময় সুযোগ পেলে স্বামীকে সাথে নিয়ে হাঁটতে বের হন৷ শারীরিক এবং মানসিকভাবে ‘ফিট’ থাকতে মুক্ত বাতাসে হাঁটা-চলা যে ভীষণ জরুরি – সেটা তিনি যেন সকলে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন৷ এই না হলে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর নারী!