ব্লগ

যে কারণে স্বাধীন বিচার বিভাগ চাই

বাংলাদেশের বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনা দীর্ঘদিনের৷ আইন বিশেষজ্ঞরা এই নিয়ে নানাবিধ মতামত প্রকাশ করছেন৷ পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধান বিচারপতি, প্রধানমন্ত্রী৷ কিন্তু একজন সাধারণ মানুষের কাছে বিষয়টি কেমন?

বাংলাদেশের বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার উপায় কী?

১.

বাংলাদেশে জনসাধারণের মধ্যে রাজনৈতিক পরিচয় এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়৷ বর্তমানে ছাত্রলীগের পাতি নেতা থেকে আওয়ামী লীগের বড় নেতা অবধি সবার বিশেষ কদর রয়েছে৷ কোথাও কোনো স্থাপনা নির্মাণ থেকে শুরু করে রাস্তার মুদি দোকানদারদের পর্যন্ত চাঁদা দিতে হয় স্থানীয় নেতাদের৷ অন্যদিকে বিরোধী দলীয়, মানে বিএনপি এবং জামায়াত-শিবিরের পাতি নেতা বা বড় নেতা অবধি সবাই মোটামুটি আছেন দৌঁড়ের উপর, কার্যত এলাকা ছাড়া৷ 

রাজনৈতিক পরিচয়ে পরিচিত এই মানুষদের বাইরেও একটা বড় অংশ রয়ে গেছে৷ তাঁরা সাধারণ জনতা, যাঁদের অনেকেই কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ে পরিচত হতে চান না৷ বরং চান সুস্থভাবে, স্বাভাবিকভাবে নিজের উপার্জন দিয়ে বেঁচে থাকতে৷ কিন্তু মাঝে মাঝেই দেখা যায়, রাজনৈতিক পরিচয়ে পরিচিতদের হেনস্থার শিকার হন তাঁরা৷

এই তো সর্বশেষ বনানী ধর্ষণকাণ্ডে ভুক্তভোগী দুই তরুণী, যাঁদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় জানা যায়নি, আওয়ামী লীগের নেতাদের কাছের হিসেবে পরিচিত কয়েক যুবকের কাছে নির্যাতিত হয়েও মুখ খোলার সাহস করেননি কয়েক সপ্তাহ৷ যখন মুখ খুলেছেন, তখন সন্দেহভাজন ধর্ষকদের রাজনৈতিক, আর্থিক শক্তির প্রকাশ দেখা গেছে৷ পুলিশ শুরুতে মামলা নিতে চায়নি৷ আর মামলা নেয়ার পর যাদের বিরুদ্ধে মামলা তাদের সমর্থনে কাজ করেছে রাজনৈতিক শক্তিও৷ ইতোমধ্যে এক সন্দেহভাজন ধর্ষকের রাজনৈতিক পরিচয়ও প্রকাশ হতে শুরু করেছে, যিনি নাম বদলে ঢাকার ‘এলিট সোসাইটি'-তে জায়গা করে নিয়েছেন রাজনীতিকে কাজে লাগিয়ে৷

বলছি না, রাজনীতি করা খারাপ কিছু৷ বরং রাজনীতি মানুষের অধিকার৷ কিন্তু বিপত্তি ঘটে যখন রাজনীতি থেকে প্রাপ্ত ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়৷ আর তখন সাধারণ মানুষের আদালতের মুখাপেক্ষী হওয়া ছাড়া উপায় থাকে না৷ বিচার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রিতা আছে বটে, কিন্তু রাজনীতি বা আর্থিক প্রভাবের কারণে ন্যায়বিচার না পাওয়ার আশঙ্কা সেখানে অনেক কম৷

২.

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আরেকটি অশুভ চর্চা আছে৷ আর তা হচ্ছে কোনো একজন মানুষকে হেনস্থা করার জন্য তার বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা করে যাওয়া৷ গতবছরের কথাই ধরুন৷ ডেইলি স্টার পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম এক টেলিভিশন টকশোতে আত্মসমালোচনা করতে গিয়ে তাঁর সম্পাদকীয় নীতিমালার এক ভুলের কথা স্বীকার করেছেন৷ তা ছিল এমন এক ভুল যা সেসময় অনেক পত্রিকার সম্পাদকই করতে বাধ্য হয়েছিলেন৷ যদিও তাঁরা কেউই তা কখনো প্রকাশ্যে স্বীকার করেননি৷

মাহফুজ আনাম স্বীকার করার পর খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর কড়া সমালোচনা করলেন৷ আর তাতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা উৎসাহ পেয়ে দেশব্যাপী ৮৪টি ক্ষতিপূরণ এবং মানহানী মামলা দায়ের করেন মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে৷ বিচার বিভাগও যদি প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উৎসাহ পেতেন, তাহলে হয়ত এতদিনে নির্ঘাত কারাগারে কাটাতে হতো আনামকে৷ বরং হাইকোর্ট ঢালাওভাবে করা সেসব মামলার উপর স্থগিতাদেশ দিয়েছে

শুধু সাংবাদিক মাহফুজ আনাম নয়, অনেক রাজনীতিবিদও এরকম ঢালাও মামলার শিকার৷ কখনও কখনও দেখা যায় যে, এক মামলায় জামিন পেলেও আরেক মামলায় আটকে থাকতে হয় তাঁদের৷ তখন একসঙ্গে অনেক মামলার জামিন না পেলে জেলমুক্তির আর উপায় থাকে না তাঁদের৷ মানুষের বাকস্বাধীনতা হরণের এটা এক মাধ্যম বটে৷ তবে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা থাকায় এখনো কিছুটা হলেও রেহাই মিলছে৷

Arafatul Islam Kommentarbild App

আরাফাতুল ইসলাম, ডয়চে ভেলে

৩.

এবার বাংলাদেশের সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনের কথাই ধরি৷ বিএনপি পরিস্থিতি মনোঃপুত না হওয়ায় নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালো, ফলে কিছু আসনে নামমাত্র নির্বাচণের পাশাপাশি ১৫৩টি আসনে কোনোরকম ভোটাভুটি ছাড়াই নির্বাচিত হলেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা৷ সংসদে বিরোধী দলের কার্যত কোনো অস্তিত্ব নেই৷ এরকম এক পরিবেশে আইনপ্রণেতারা চাইলে যে কোনো কিছুই অনুমোদন করিয়ে নিতে পারেন৷ সেটা দৃশ্যত বৈধ উপায়েই৷ এখন যদি কোনো বিচারপতির সিদ্ধান্ত ক্ষমতাসীনদের বিপক্ষে যায়, তাহলে সেই বিচারপতিকে কি চাইলে এমন সংসদ সহজেই অপসারণ করতে পারেন না?

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জবাবদিহিতা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ৷ রাষ্ট্রের আইনপ্রণেতারা যাতে স্বেচ্ছাচারী হয়ে না পড়েন, ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকারা যাতে একনায়কতান্ত্রিক মানসিকতা প্রদর্শন করতে না পারেন, সেজন্য বিচারবিভাগের সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ থাকা জরুরি৷ তাঁরা যাতে সাংসদদের হাতে হেনস্থার শিকার না হন, তাঁদের যাতে কারো ভয়ে ভীত হয়ে রায় দিতে না হয়, তা নিশ্চিত করা জরুরি৷ একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে এটাই আমার অনুরোধ৷

আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন মন্তব্যে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

Albanian Shqip

Amharic አማርኛ

Arabic العربية

Bengali বাংলা

Bosnian B/H/S

Bulgarian Български

Chinese (Simplified) 简

Chinese (Traditional) 繁

Croatian Hrvatski

Dari دری

English English

French Français

German Deutsch

Greek Ελληνικά

Hausa Hausa

Hindi हिन्दी

Indonesian Bahasa Indonesia

Kiswahili Kiswahili

Macedonian Македонски

Pashto پښتو

Persian فارسی

Polish Polski

Portuguese Português para África

Portuguese Português do Brasil

Romanian Română

Russian Русский

Serbian Српски/Srpski

Spanish Español

Turkish Türkçe

Ukrainian Українська

Urdu اردو