অন্বেষণ

যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিপ্লব আনছে মিক্সড রিয়ালিটি

কল্পবিজ্ঞান নয়, আজ ভার্চুয়াল রিয়ালিটি মানুষের হাতের মুঠোয় এসে গেছে৷ টেলিফোন আর ভিডিও কলের পর থ্রিডি প্রযুক্তির দৌলতে নিজের ভার্চুয়াল প্রতিচ্ছবিও অন্যের সঙ্গে সংলাপে অংশ নিতে পারছে৷

Symbolbild Cyber Mobbing (Sylvie Bouchard - Fotolia.com)

ভাইমার শহরের বাউহাউস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারে বিজ্ঞানীরা নতুন ধরনের এক যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছেন৷ এই প্রচেষ্টা সফল হলে সংলাপের সময় সবার মনে হবে, যে তারা একই ঘরে রয়েছেন৷ মিডিয়া সিস্টেম ডেভেলপার স্টেফান বেক বলেন, ‘‘যেমন আমার বাবা-মা কিছুটা দূরে থাকেন৷ কিন্তু তাঁরা আমাকে আরও ঘনঘন দেখতে চান৷ সেটা সম্ভব হলে ব্যক্তিগতভাবে আমার খুব ভালো লাগবে৷ এই প্রযুক্তি সেটা সম্ভব করতে পারে৷ তখন আমার বাবা-মা ভারচুয়াল পদ্ধতিতে আমার সঙ্গে এখানে দেখা করতে আসতে পারেন৷ আমি তাঁদের সঙ্গে এখানকার জীবনযাত্রা ও আমার কাজ সম্পর্কে কথা বলতে পারবো৷''

এই প্রযুক্তির কল্যাণে বেশ কয়েকজন একই সময়ে ত্রিমাত্রিক জগতে পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন৷ এর জন্য তাঁদের এক ভার্চুয়াল স্পেসে মিলিত হতে হবে৷ বিশেষ চশমার সাহায্যে প্রত্যেকে তার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ঘরের প্রোজেকশন দেখতে পারবেন৷ তথ্য-প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ আলেক্সান্ডার কুলিক মনে করেন, ‘‘এমন যোগাযোগের ক্ষেত্রে নিজের শরীর ও অন্যের অস্তিত্বের প্রেক্ষাপটে ভার্চুয়াল কনটেন্ট অত্যন্ত বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠে৷''

এই সিস্টেমের দৌলতে যোগাযোগের মান নতুন মাত্রা অর্জন করে৷ ভার্চুয়াল আর বাস্তব জগত মিলেমিশে যায়৷ একে বলে ‘মিক্সড রিয়ালিটি'৷ ভবিষ্যতে যোগাযোগের ক্ষেত্রে এর বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে৷

ভিডিও দেখুন 04:16

থ্রিডি প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি করুন নিজের ভার্চুয়াল প্রতিচ্ছবি

মাইক্রোসফট কোম্পানিও তার হলোলেন্স-এর মাধ্যমে মিক্সড রিয়ালিটির পথে চলেছে৷ তাতে চশমার মধ্যেই পর্দা রয়েছে৷ কোম্পানির এক ভিডিওর মাধ্যমে এর  হলোলেন্স’ সম্পর্কে আরও তথ্যসম্ভাবনা তুলে ধরছে৷ ভার্চুয়াল ব্যক্তিকে কতটা বাস্তব দেখা যাচ্ছে, তার উপর তার গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করছে৷ আলেক্সান্ডার কুলিক বলেন, ‘‘সাধারণ দ্বিমাত্রিক ভিডিওতে আজ আমরা যে উচ্চ মান দেখতে পাই, থ্রিডির ক্ষেত্রেও তা আসতে বেশি দিন লাগবে না৷ আমার মনে হয়, সেদিকেই আমরা এগোতে চাই৷''

হলোলেন্সের এই প্রয়োগ এবং ভাইমারে পরীক্ষামূলক ল্যাবের প্রযুক্তি এক ধরনের থ্রিডি ভিডিও টেলিফোন সংলাপ৷ কোনো ব্যক্তির ছবি তুলে অন্য কোনো জায়গায় তা প্রজেক্ট করা হচ্ছে৷ তার ভার্চুয়াল প্রতিচ্ছবি অনেকটা মূল ব্যক্তির মতোই৷

আরেকটি প্রযুক্তির মাধ্যমে  ভার্চুয়াল ইমেজ একেবারে মৌলিকভাবে সৃষ্টি করা হচ্ছে৷ ট্যুবিঙেন শহরে মাক্স প্লাংক ইনস্টিটিউট ফর ইন্টেলিজেন্ট সিস্টেমে এমন মডেল দেখা যায়৷ একটি স্ক্যানারের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা অনেক মানুষের ছবি তুলে কম্পিউটারে বিশ্লেষণ করেছেন৷

জটিল অ্যালগোরিদমের সাহায্যে তাঁরা নতুন অবতার সৃষ্টি করতে পারেন৷ রেকর্ডিং-এর উপর তাদের নড়াচড়া নির্ভর করে না৷ কম্পিউটার থেকে সেই অবতার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা যায়৷ মিডিয়া বিজ্ঞানী স্টেফান বেক বলেন, ‘‘সশরীরে উপস্থিত না হয়েও নিজের ভার্চুয়াল রূপ অন্য জায়গায় বিম করা যায়৷ আমার ভার্চুয়াল প্রতিচ্ছবি আমার ইচ্ছামতো কোনো ভূমিকা পালন করতে পারে৷ ভবিষ্যতে হয়ত ভার্চুয়াল ব্যক্তিরাই পরস্পরের সঙ্গে কথা বলবে৷ কেউ আসল না নকল, তা বোঝা যাবে না৷''

নিজের ভার্চুয়াল কপি সৃষ্টি করে একই সময়ে একাধিক জায়গায় উপস্থিত থাকার মতো স্বপ্নের সব সম্ভাবনা আজই অনুমান করা সম্ভব নয়৷

ইয়েন্স হানে/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

Albanian Shqip

Amharic አማርኛ

Arabic العربية

Bengali বাংলা

Bosnian B/H/S

Bulgarian Български

Chinese (Simplified) 简

Chinese (Traditional) 繁

Croatian Hrvatski

Dari دری

English English

French Français

German Deutsch

Greek Ελληνικά

Hausa Hausa

Hindi हिन्दी

Indonesian Bahasa Indonesia

Kiswahili Kiswahili

Macedonian Македонски

Pashto پښتو

Persian فارسی

Polish Polski

Portuguese Português para África

Portuguese Português do Brasil

Romanian Română

Russian Русский

Serbian Српски/Srpski

Spanish Español

Turkish Türkçe

Ukrainian Українська

Urdu اردو