যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিপ্লব আনছে মিক্সড রিয়ালিটি

কল্পবিজ্ঞান নয়, আজ ভার্চুয়াল রিয়ালিটি মানুষের হাতের মুঠোয় এসে গেছে৷ টেলিফোন আর ভিডিও কলের পর থ্রিডি প্রযুক্তির দৌলতে নিজের ভার্চুয়াল প্রতিচ্ছবিও অন্যের সঙ্গে সংলাপে অংশ নিতে পারছে৷

ভাইমার শহরের বাউহাউস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারে বিজ্ঞানীরা নতুন ধরনের এক যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছেন৷ এই প্রচেষ্টা সফল হলে সংলাপের সময় সবার মনে হবে, যে তারা একই ঘরে রয়েছেন৷ মিডিয়া সিস্টেম ডেভেলপার স্টেফান বেক বলেন, ‘‘যেমন আমার বাবা-মা কিছুটা দূরে থাকেন৷ কিন্তু তাঁরা আমাকে আরও ঘনঘন দেখতে চান৷ সেটা সম্ভব হলে ব্যক্তিগতভাবে আমার খুব ভালো লাগবে৷ এই প্রযুক্তি সেটা সম্ভব করতে পারে৷ তখন আমার বাবা-মা ভারচুয়াল পদ্ধতিতে আমার সঙ্গে এখানে দেখা করতে আসতে পারেন৷ আমি তাঁদের সঙ্গে এখানকার জীবনযাত্রা ও আমার কাজ সম্পর্কে কথা বলতে পারবো৷''

এই প্রযুক্তির কল্যাণে বেশ কয়েকজন একই সময়ে ত্রিমাত্রিক জগতে পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন৷ এর জন্য তাঁদের এক ভার্চুয়াল স্পেসে মিলিত হতে হবে৷ বিশেষ চশমার সাহায্যে প্রত্যেকে তার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ঘরের প্রোজেকশন দেখতে পারবেন৷ তথ্য-প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ আলেক্সান্ডার কুলিক মনে করেন, ‘‘এমন যোগাযোগের ক্ষেত্রে নিজের শরীর ও অন্যের অস্তিত্বের প্রেক্ষাপটে ভার্চুয়াল কনটেন্ট অত্যন্ত বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠে৷''

এই সিস্টেমের দৌলতে যোগাযোগের মান নতুন মাত্রা অর্জন করে৷ ভার্চুয়াল আর বাস্তব জগত মিলেমিশে যায়৷ একে বলে ‘মিক্সড রিয়ালিটি'৷ ভবিষ্যতে যোগাযোগের ক্ষেত্রে এর বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে৷

ভিডিও দেখুন 04:16
এখন লাইভ
04:16 মিনিট
মিডিয়া সেন্টার | 04.09.2017

থ্রিডি প্রযুক্তি দিয়ে ভার্চুয়াল প্রতিচ্ছবি

মাইক্রোসফট কোম্পানিও তার হলোলেন্স-এর মাধ্যমে মিক্সড রিয়ালিটির পথে চলেছে৷ তাতে চশমার মধ্যেই পর্দা রয়েছে৷ কোম্পানির এক ভিডিওর মাধ্যমে এর  হলোলেন্স’ সম্পর্কে আরও তথ্যসম্ভাবনা তুলে ধরছে৷ ভার্চুয়াল ব্যক্তিকে কতটা বাস্তব দেখা যাচ্ছে, তার উপর তার গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করছে৷ আলেক্সান্ডার কুলিক বলেন, ‘‘সাধারণ দ্বিমাত্রিক ভিডিওতে আজ আমরা যে উচ্চ মান দেখতে পাই, থ্রিডির ক্ষেত্রেও তা আসতে বেশি দিন লাগবে না৷ আমার মনে হয়, সেদিকেই আমরা এগোতে চাই৷''

হলোলেন্সের এই প্রয়োগ এবং ভাইমারে পরীক্ষামূলক ল্যাবের প্রযুক্তি এক ধরনের থ্রিডি ভিডিও টেলিফোন সংলাপ৷ কোনো ব্যক্তির ছবি তুলে অন্য কোনো জায়গায় তা প্রজেক্ট করা হচ্ছে৷ তার ভার্চুয়াল প্রতিচ্ছবি অনেকটা মূল ব্যক্তির মতোই৷

আরেকটি প্রযুক্তির মাধ্যমে  ভার্চুয়াল ইমেজ একেবারে মৌলিকভাবে সৃষ্টি করা হচ্ছে৷ ট্যুবিঙেন শহরে মাক্স প্লাংক ইনস্টিটিউট ফর ইন্টেলিজেন্ট সিস্টেমে এমন মডেল দেখা যায়৷ একটি স্ক্যানারের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা অনেক মানুষের ছবি তুলে কম্পিউটারে বিশ্লেষণ করেছেন৷

জটিল অ্যালগোরিদমের সাহায্যে তাঁরা নতুন অবতার সৃষ্টি করতে পারেন৷ রেকর্ডিং-এর উপর তাদের নড়াচড়া নির্ভর করে না৷ কম্পিউটার থেকে সেই অবতার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা যায়৷ মিডিয়া বিজ্ঞানী স্টেফান বেক বলেন, ‘‘সশরীরে উপস্থিত না হয়েও নিজের ভার্চুয়াল রূপ অন্য জায়গায় বিম করা যায়৷ আমার ভার্চুয়াল প্রতিচ্ছবি আমার ইচ্ছামতো কোনো ভূমিকা পালন করতে পারে৷ ভবিষ্যতে হয়ত ভার্চুয়াল ব্যক্তিরাই পরস্পরের সঙ্গে কথা বলবে৷ কেউ আসল না নকল, তা বোঝা যাবে না৷''

নিজের ভার্চুয়াল কপি সৃষ্টি করে একই সময়ে একাধিক জায়গায় উপস্থিত থাকার মতো স্বপ্নের সব সম্ভাবনা আজই অনুমান করা সম্ভব নয়৷

ইয়েন্স হানে/এসবি

আজব দর্শক!

সাজগোজে দর্শকরা কিছু কম যাননি, সংখ্যাতেও নয়৷ একা কোলোনের বাণিজ্যমেলা কেন্দ্রেই এসেছিলেন প্রায় সাড়ে তিন লাখ, বাকি নানা ছোটখাট ইভেন্টে মিলিয়ে আরো লাখ খানেক অথবা তার কিছু বেশি৷

পোকেমন

কসপ্লেয়াররা প্রেরণা পান তাদের ভিডিও গেম হিরোদের কাছ থেকে৷ এই দলটি পোকেমন-এর অনুরাগী৷ ‘পোকেমন গো’ নামধারী অগমেন্টেড রিয়্যালিটি গেমটি মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে বাজারে বেরিয়েই দুনিয়া জয় করে ফেলেছে, যার ফলে নিন্টেন্ডোর শেয়ার আকাশে চড়েছে৷

‘ওভারওয়াচ’ স্ট্যান্ড

৯৭টি দেশ থেকে হাজার হাজার দর্শক এসেছিলেন পাঁচ দিনের ইভেন্টটিতে৷ তাদের মধ্যে অনেকেই এ-বছরের হিট মাল্টিপ্লেয়ার গেম ‘ওভারওয়াচ’ খেলে দেখতে চান৷

স্মার্টফোনের দুনিয়া

জার্মানিতে এ-বছর প্রায় ৩৫ লাখ ইউরো মূল্যের ভিডিও গেমস বিক্রি হবে বলে বাজারে খবর৷ তার একটি বড় অংশ যাবে স্মার্টফোন আর ট্যাবলেটে খেলার উপযোগী গেমে৷ সাবেক কম্পিউটার বা কনসোলের জন্য ভিডিও গেমের চাহিদা কমেই চলেছে৷

নীলপরী

লিগ অফ লিজেন্ডস গেমের মর্গানা নামধারী চরিত্রটিকেও কোলোনে দেখা গেছে৷ গেমটিকে সংক্ষেপে ‘লল’ (এলওএল) বলা হয়ে থাকে৷ খুবই জনপ্রিয় গেম৷ কাজেই বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়রা মোটা নগদ পুরস্কার জেতার আশায় নিয়মিত প্রতিযোগিতায় নেমে থাকেন৷

ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি

গেমসকমে নতুন নতুন ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি ডিভাইস (অর্থাৎ যন্ত্রপাতি বা সাজসরঞ্জাম) পরখ করে দেখার সুযোগ পেয়েছেন গেমাররা৷ এই ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি নাকি গেমিং-এর ভবিষ্যৎ৷ অকুলাস রিফ্ট, এইচটিসি ভাইভ, স্যামসাং-এর গিয়ার ভিআর, এগুলো ধীরে ধীরে গেমারদের হাতে, নাকে, কানে উঠছে৷ ছবিতে এক গেমার সোনি-র ভিআর হেডসেটটি পরীক্ষা করে দেখছেন৷ সেটটি আগামী অক্টোবর বাজারে আসবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে৷

গেমার-এর চেয়ে গেমের বয়স বেশি!

যেমন সুপার মারিও ব্রস. বা ব্রাদার্স, যা চিরকালের সবচেয়ে জনপ্রিয় ভিডিও গেমসগুলির মধ্যে পড়ে৷ কিশোর গেমাররা নিন্টেন্ডোর ১৯৮৫ সালের এই ক্ল্যাসিক গেমটি খেলে দেখতে পারে, এটা বোঝার চেষ্টায় যে, বাবা-মা আজ অবধি সুপার মারিও খেলে এত মজা পান কেন...৷