বিজ্ঞান পরিবেশ

যৌথ জলাধার নির্মাণে রাজি বাংলাদেশ, ভারত ও নেপাল

শুকনো মৌসুমে পানি পেতে নেপালে বিশেষ জলাধার নির্মাণে রাজি হয়েছে বাংলাদেশ ভারত এবং নেপাল৷ বাংলাদেশের পানি সম্পদ মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন ডয়চে ভেলেকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এই তথ্য জানিয়েছেন৷

default

রমেশ চন্দ্র বলেছেন, যৌথ নদী কমিশনের আগামী সভায় এই বিষয়ে চূড়ান্ত আলাপ আলোচনা হবে৷ এর আগেই নেপাল জানিয়েছিল, তারা পানির এই রির্জাভোয়া তৈরি এবং ব্যবহার করতে দিতে রাজি আছে৷ কেবল অপেক্ষা ছিল ভারতের সম্মতির৷

পানি সম্পদ মন্ত্রী জানান, তিন দেশ মিলে এই রিজার্ভোয়া তৈরি করবো৷ নেপালের এই রিজার্ভোয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ এবং ভারত উপকৃত হবে৷ তিনি বিস্তারিত কোন তথ্য প্রকাশ না করে বলেন, যৌথ নদী কমিশনের সভায় আলোচনার পরই সব প্রকাশ করা হবে৷ তিনি জানান, এ বিষয়টি নিয়ে তিনি বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে কথা বলেছেন৷ তাঁর ফলাফল ভাল হয়েছে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন৷ তিনি এক প্রশ্নের জবাবে জানান, বাংলাদেশের শুকিয়ে যাওয়া নদীগুলোর জীবন ফিরিয়ে আনতেই এই সব পদক্ষেপ৷ এ ছাড়া বাংলাদেশ আগামী দুই বছরের মধ্যে গঙ্গা ব্যারাজ তৈরির ফিজিবিলিটি স্টাডি সম্পন্ন করবে৷ এরপরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই বাঁধ প্রকল্পের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করবেন৷ তিনি আরও জানান, যৌথ নদী কমিশনের সভায় ভারতের সঙ্গে গঙ্গা নদীর পানি বন্টন চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়েও সিদ্ধান্ত হবে৷

বাংলাদেশের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এর আগেই ভারত নেপালে অন্যত্র দুটি জলাধার নির্মাণের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে৷ এ দুটি জলাধার হচ্ছে-পঞ্চেশ্বরী ও সপ্তকোষিতে৷

বাংলাদেশের নদ-নদীর নাব্যতা রক্ষায় সাতটি পানি সংরক্ষণাগার নির্মাণের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব বাংলাদেশই প্রথম নেপালকে দিয়েছিল৷ বাংলাদেশের এ সাতটি পানি সংরক্ষণাগারের স্থান ছিল-পঞ্চেশ্বর, সপ্তকোষি, কর্ণালী, কালিগন্ধকী -১, কালিগন্ধকী-২, শ্বেতী ও ত্রিশূর গঙ্গা৷

বাংলাদেশের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছিল-নেপালে সাতটি পানি সংরক্ষণাগার স্বাভাবিক উচ্চতায় নির্মাণ করতে পারলে ফারাক্কায় বর্তমানে শুষ্ক মৌসুমে যে পরিমাণ পানি পাওয়া যাচ্ছে তার চেয়ে অতিরিক্ত আরও ৪৫ হাজার কিউসেক পানি বেশি পাওয়া যেত৷ আর যদি সাতটি পানি সংরক্ষণাগারের মধ্যে অন্য চারটি সংরক্ষণাগার নির্মাণ করা যায় তাহলে অতিরিক্ত আরও ১ লাখ ৮০ হাজার কিউসেক পানি বেশি পাওয়া যাবে৷

নেপাল থেকে উৎপন্ন কোশি, কর্ণালী ও গন্ধকীর মত গঙ্গা নদীর এইসব গুরুত্বপূর্ণ উপ নদী ফারাক্কায় শুকনো মৌসুমে গঙ্গায় লব্ধ মোট প্রবাহের ৭১ শতাংশ যোগান দেয়৷ বাংলাদেশের এক তৃতীয়াংশ মানুষ অর্থাৎ প্রায় ৪ কোটি লোক গঙ্গার পানির উপর নির্ভরশীল৷

জানা যায়, বাংলাদেশে ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যার পর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ ও নেপালের রাজার মধ্যে অনুষ্ঠিত এক শীর্ষ বৈঠকে বন্যার প্রকোপ নিরসনে এবং পানি সম্পদের বহুমুখি ব্যাবহার নিশ্চিত করণের লক্ষ্যে দু'দেশের মধ্যে একটি যৌথ সমীক্ষা দল গঠন করা হয়৷ এই দলটি যৌথ সমীক্ষা পরিচালনার পর '৮৯ এর ডিসেম্বরে বেশ কিছু সুপারিশ সম্বলিত একটি রিপোর্ট পেশ করে৷ রিপোর্টে বলা হয়, এই অঞ্চলের পানি সম্পদের বহুমুখীকরণ ও সর্বোচ্চ ব্যাবহারের লক্ষ্যে গঙ্গার উজানে পানি সংরক্ষণাগার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা অপরিহার্য৷ এই পানি সংরক্ষণাগার নির্মাণের ফলে বিশেষ করে ভাটি অঞ্চল বাংলাদেশের বন্যার গভীরতা, স্থায়িত্ব ও তীব্রতা বহুলাংশে হ্রাস পাবে৷ একই সাথে এই পানি সংরক্ষণাগারের পানি দ্বারা শুষ্ক মৌসুমে গঙ্গার পানি প্রবাহেরও বৃদ্ধি ঘটানো সম্ভব বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়৷

লেখক: সাগর সরওয়ার, সম্পাদক: আব্দুল্লাহ আল-ফারুক

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

Albanian Shqip

Amharic አማርኛ

Arabic العربية

Bengali বাংলা

Bosnian B/H/S

Bulgarian Български

Chinese (Simplified) 简

Chinese (Traditional) 繁

Croatian Hrvatski

Dari دری

English English

French Français

German Deutsch

Greek Ελληνικά

Hausa Hausa

Hindi हिन्दी

Indonesian Bahasa Indonesia

Kiswahili Kiswahili

Macedonian Македонски

Pashto پښتو

Persian فارسی

Polish Polski

Portuguese Português para África

Portuguese Português do Brasil

Romanian Română

Russian Русский

Serbian Српски/Srpski

Spanish Español

Turkish Türkçe

Ukrainian Українська

Urdu اردو