আলাপ

রামপাল তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পে ভারতের বিতর্কিত ভূমিকা

বাংলাদেশের পরিবেশকামী জনগণের বিরোধীতার মুখে রামপাল তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে ভারতের সরে আসা উচিত বলে মনে করছে ভারতের পরিবেশবাদীরাও৷ এতে সুন্দরবনের সংবেদনশীল পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি হবে, অভিঘাত পড়বে জনজীবনেও৷

সুন্দরবন

ভারতের জাতীয় তাপবিদ্যুৎ কর্পোরেশন এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন পর্ষদের যৌথ উদ্যোগে কয়লা-ভিত্তিক এই তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নিয়ে এখন দেখা দিয়েছে ঘোর বিতর্ক৷ ভারতের পরিবেশবিদ শায়ন চৌধুরির অভিমত, বাংলাদেশের সুন্দরবনের মতো সংবেদনশীল এলাকায় প্রস্তাবিত ১৩২০ মেগাওয়াটের তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মিত হলে বিশ্ব হারাবে পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ অরণ্য৷ শুধু রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের একমাত্র আবাসভূমিই নয়, সুন্দরবনে রয়েছে অসংখ্য দুর্লভ প্রজাতির জৈব-চেন, যা পরস্পরের সঙ্গে শৃঙ্খলাবদ্ধ৷ সেই চেন বা শৃঙ্খল যদি একবার নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে সব জৈববৈচিত্র্যই বিপন্ন হয়ে পড়বে৷ ইকো-সিস্টেম সুরক্ষিত রাখতে গ্রিন হাউজ গ্যাস নির্গমন নিয়ন্ত্রণ আজ একটা আন্তর্জাতিক ইস্যু৷ উন্নয়ন বা দেশের আর্থিক বিকাশের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই৷ এটা হলো জীবনের প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গী বা সংবেদনশীলতার প্রশ্ন৷ মানুষের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বাড়ছে৷ শুধু বাংলাদেশেই নয়, ভবিষ্যত জীবনের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে ভারতেও চলছে কয়লা-ভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ নির্মাণের বিরুদ্ধে আন্দোলন৷ এর বিকল্প হিসেবে জোর দেওয়া উচিত সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুবিদ্যুৎ এবং নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ শক্তির ওপর৷

ভারতের মধ্যপ্রদেশের গজামারা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে জাতীয় তাপবিদ্যুৎ কর্পোরেশনকে স্থানীয় অধিবাসীদের বিরোধিতায় অনুমতি দেয়নি রাজ্য সরকার৷ তাঁদের আশঙ্কা, কয়লা-ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে নির্গত উড়ন্ত ছাই, কয়লা গুঁড়ো, বিষাক্ত গ্যাসে আশেপাশের কৃষিজমির একটা বড় অংশ দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে৷ একই বিতর্ক ছত্তিশগড় রাজ্যেও৷ ঝাড়শুকুদা জেলার লখনপুরে প্রস্তাবিত চার হাজার মেগাওয়াটের অতিকায় তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প বন্ধ করার দাবি উঠেছে৷ তাঁদের আশঙ্কা, মহানদীর জল নেওয়া হলে দেখা দেবে জলাভাব৷ স্থানীয় জনজীবনে দেখা দেবে বিপর্যয়৷

শুধু তাপবিদ্যুতের প্রল্পই নয়, ভারতে পরামাণু বিদ্যুৎ নিয়েও একই সমস্যা৷ স্থানীয় বাসিন্দারা এবং পরিবেশ সংস্থাগুলির আন্দোলন ক্রমশই জোরদার হয়ে উঠছে৷ বছর দুই আগে ফরাসি সহযোগিতায় মহারাষ্ট্রের জাইতাপুরে প্রস্তাবিত প্রায় ১০ হাজার মেগাওয়াটের পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ বিক্ষোভ সহিংস হোয়ে উঠলে পুলিশকে গুলি চালাতে হয়৷ পশ্চিমবঙ্গের হরিপুরে একই কারণ দেখিয়ে রাজ্য সরকার পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের অনুমতি দিতে অস্বীকার করে৷ জাপানের ফুকুশিমা পরমাণু কেন্দ্রের বিপর্যয়ের প্রেক্ষিতে জনজীবনের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে অসামরিক পরমাণু বিদ্যুৎ দপ্তরের বিরুদ্ধে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয় সুপ্রিম কোর্টে৷ তাপবিদ্যুৎ বা পরমাণু বিদ্যুৎ সংক্রান্ত সরকারের পরিবেশ রিপোর্টের নিরপেক্ষতার দিকেও আঙুল উঠেছে৷

বাংলাদেশের রামপাল যৌথ বিদ্যুৎ প্রকল্পের মতো শ্রীলঙ্কাতেও ভারতীয় সহযোগিতায় তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের পক্ষে-বিপক্ষে শুরু হয়েছে বিতর্ক৷ কারণটা একই, সেই পরিবেশ-দূষণ৷ এ বিষয়ে শ্রীলঙ্কা সরকার দ্বিধাবিভক্ত৷ প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, পরিবেশগত দিক থেকে তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প বাঞ্ছনীয় না হলেও দেশের আশু প্রয়োজনে তা বাতিল করা যায় না৷ বিপক্ষবাদীদের বক্তব্য, কয়লার বদলে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ব্যবহার করা হচ্ছে না কেন? সরকারের যুক্তি, সেটা অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে পড়বে৷ ফলে সরকারকে দিতে হবে বিরাট ভরতুকি সেটা বহন করা কঠিন হবে৷

ভারতের নাগরিক সমাজ কী বলছে? পরিবেশ সচেতন অনেকেই মনে করছেন ঘরে-বাইরে যখন এই নিয়ে এত গণঅসন্তোষ, তখন বিদেশের তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে ভারত সরে আসছে না কেন? ভৌগলিক দিক থেকে সুন্দরবনের একটা অংশ ভারতের৷ বাংলাদেশের সুন্দরবনে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপিত হলে তার অভিঘাত অবধারিতভাবে সুন্দরবনের ভারতীয় অংশে এসে পড়বে৷ তা সত্ত্বেও ভারত এই প্রকল্পে এত আগ্রহী কেন? তাহলে কি বুঝতে হবে যে অন্য কোনো স্ট্র্যাটিজিক কারণ আছে? বৈদেশিক সুসম্পর্কের ভিতটা তাহলে কি আলগা হয়ে যাবে? যদি তাই হয়, তাহলে ইকো-সিস্টেমের নির্দেশিকা মেনে তা করা হচ্ছে না কেন? সুন্দরবন থেকে ২৫ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে তা করা এমন কোনো কঠিন কাজ নয় বলেই মনে করছে ভারতের পরিবেশবাদীরা৷

সুন্দরবনের গায়ে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি হলে আরও অনেক ক্ষতিকর দিক আছে৷ ১০ লাখেরও বেশি গরিব পরিবারের জীবন ও জীবিকা নির্ভরশীল সুন্দরবনের ওপর, যাঁদের একটা বড় অংশ মত্সজীবি এবং বনসম্পদ আহরণকারী৷ যেমন মধু, ঘাস, পাতা ইত্যাদি৷ সুন্দরবনের বাদাবন, সামুদ্রিক তুফান এবং জলোচ্ছ্বাস রোধে এক প্রাকৃতিক বর্মের কাজ করে৷ শুধু তাই নয়, সুন্দরবনের খাঁড়িগুলি বিভিন্ন প্রজাতির মাছ এবং জলজ প্রাণীর আঁতুড় ঘর, যা বিলুপ্ত হবার আশংকা অমূলক নয়৷

আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

Albanian Shqip

Amharic አማርኛ

Arabic العربية

Bengali বাংলা

Bosnian B/H/S

Bulgarian Български

Chinese (Simplified) 简

Chinese (Traditional) 繁

Croatian Hrvatski

Dari دری

English English

French Français

German Deutsch

Greek Ελληνικά

Hausa Hausa

Hindi हिन्दी

Indonesian Bahasa Indonesia

Kiswahili Kiswahili

Macedonian Македонски

Pashto پښتو

Persian فارسی

Polish Polski

Portuguese Português para África

Portuguese Português do Brasil

Romanian Română

Russian Русский

Serbian Српски/Srpski

Spanish Español

Turkish Türkçe

Ukrainian Українська

Urdu اردو