রায়ের আগেই হরতাল, থেকে গেল রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম

সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলামকে অন্তর্ভুক্তির বিধান নিয়ে জারি করা রুল খারিজ করে দিলো হাইকোর্ট৷ ফলে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বৈধ ও বহাল থাকলো বাংলাদেশে৷ সোমবার রায়ের আগেই অবশ্য দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডাকে জামাত৷

তবে জামায়াতে ইসলামির হরতাল ডাকার আগে, এমনকি শুনানি শুরুর আগেই উচ্চ আদালতে গিয়ে প্রধান বিচারপতিকে স্মারকলিপি দিয়েছিল ধর্মভিত্তিক উগ্র দল হেফাজতে ইসলাম৷ তাই রিট খারিজের পর হেফাজতে ইসলামের দাবি যে, তাদের দাবির প্রেক্ষিতেই রিটটি খারিজ হয়ে গেছে৷

আপনি কী ভাবছেন?

এখানে ক্লিক করুন ও আলোচনায় যোগ দিন

বিচারপতি নাঈমা হায়দারের নেতৃত্বে এবং বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চ সোমবার রিট খারিজ করার রায় দেয়৷ ২৮ বছর আগে ১৫ জন বিশিষ্ট মানুষের করা একটি রিট আবেদনের ২৩ বছর পর, রুলটি জারি করা হয়৷ সেই রুল জারির প্রায় ৫ বছর পরে গত ২৯শে ফেব্রুয়ারি রুল শুনানির দিন ধার্য হয় ২৭শে মার্চ৷ পরে রুল শুনানির জন্য ২৮শে মার্চের কার্যতালিকায় আসে রিট আবেদনটি৷

অডিও শুনুন 01:42
এখন লাইভ
01:42 মিনিট
বিষয় | 28.03.2016

অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী

সোমবার শুরুতেই রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা আদালতকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘‘এটা অনেক আগের মামলা৷ এতে দু'টি রুল হয়েছে৷ ১৯৮৮ সালের রিট এবং পরে দু'টি সম্পূরক আবেদনের রুল৷....আদালত বলে, আগে আবেদনকারীর আইনজীবীকে শুনবো৷ এরপর সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী বিচারপতি টিএইচ খান, এবিএম নুরুল ইসলামসহ কয়েকজন আইনজীবী রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলাম ধর্ম বহাল রাখার পক্ষে পক্ষভুক্ত হওয়ার আবেদন নিয়ে দাঁড়ান৷ কিন্তু আদালত বলে, আপনারা এখন বসেন৷ এখনো শুনানি শুরু হয়নি৷''

এ সময় আদালত আবেদনকারীদের আইনজীবী সুব্রত চৌধুরীকে বলেন, ‘‘আপনাকে আমরা দেখে আসতে বলেছিলাম ‘স্বৈরাচার ও সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধ কমিটির' পক্ষে এ রিটটি দায়েরের লোকাস স্ট্যান্ডি (রিট করার এখতিয়ার) ছিল কি?'' জবাবে সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘‘সংগঠন ছাড়াও রিটটি আলাদা, আলাদাভাবে প্রত্যেকে আবেদনকারী করেছেন৷'' আদালত বলে, ‘‘আমারা দেখছি, ওই সংগঠনটির পক্ষে রিট আবেদন করা হয়েছে৷'' তখন সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘‘শুনানির সময় আমরা বিস্তারিত বলবো৷ সন্তোষজনক জবাব দেবো৷ আমাদের শুনানি করার সুযোগ দিন৷'' তখন আদালত বলেন, ‘‘ওই সংগঠনের লোকাস স্ট্যান্ডি নাই৷ তাই রিট খারিজ, রুল ডিসচার্জ৷''

অডিও শুনুন 01:53
এখন লাইভ
01:53 মিনিট
বিষয় | 28.03.2016

জুনায়েদ আল হাবিব

রিট খারিজের পর আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমরা পূর্ণাঙ্গ রায়ে দেখবো যে, কেন এটি খারিজ হয়েছে৷ তারপর আপিল করবো৷ আমাদের দুঃখ, আদালত আমাদের কথা শুনলোই না৷ আমরা পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিলাম৷ এখন দেখতে হবে কী কারণে আমাদের রিটটি খারিজ করা হলো৷ এরপর বাকি সিদ্ধান্ত নেবো৷''

রিটটি খারিজ হওয়ার আগে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বহালের দাবিতে প্রধান বিচারপতি কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছিল হেফাজতে ইসলাম৷ বেলা পৌনে ১১টার দিকে হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগরের যুগ্ম সদস্য সচিব মাওলানা ফজলুল করিম কাশেমীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্টারের একান্ত সচিব আতিকুস সামাদের কাছে এই স্মারকলিপি দেন৷ এ সময় হেফাজত নেতা মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, মুফতি ফখরুল ইসলাম সেখানে উপস্থিত ছিলেন৷

হেফাজতে ইসলামের ঢাকা মহানগরীর সদস্য সচিব ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব জুনায়েদ আল-হাবিব ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমাদের দাবির প্রেক্ষিতেই আদালত রিটটি খারিজ করে দিয়েছে৷ তবে ভবিষ্যতে যাতে কেউ এই ধরনের মামলা করতে না পারে, সেদিকে সরকারকে নজর দিতে হবে৷ ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটুক্তি করলে শাস্তির ব্যবস্থাও রাখতে হবে৷ এমন কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে কেউ ইসলাম ধর্ম নিয়ে কোনো ধরনের কটুক্তি করার সাহস না করে৷ জামায়াতের এই হরতাল যৌক্তিক নয় বলেও দাবি করেন হেফাজতের এই নেতা৷ এদিকে রিট খারিজের পর বিকেল ৩টার দিকে জামায়াতে ইসলামী এক বিবৃতি দিয়ে হরতাল প্রত্যাহার করে নেয়৷

অস্ট্রেলিয়া

কমনওয়েলথ দেশটির সংবিধানে কোনো ধর্ম প্রতিষ্ঠা বা সরকারি পদ গ্রহণের জন্য কোনো ধর্ম পরীক্ষা নিষেধ করা আছে৷ অপরদিকে যে কোনো ধর্ম মুক্তভাবে পালন করার অধিকার দেওয়া হয়েছে৷ (ছবিতে সিডনির সংসদ ভবনের উপর অস্ট্রেলিয়ার লোগো)৷

ব্রাজিল

ব্রাজিলের বর্তমান সংবিধানে ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে; কোনো রাষ্ট্রীয় গির্জা প্রতিষ্ঠা নিষিদ্ধ করা হয়েছে৷ সরকারি কর্মকর্তাদের ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে কোনো ধরনের ‘‘জোট গঠন বা নির্ভরতা’’ নিষিদ্ধ৷ (ছবিতে ব্রাজিলের কনগ্রেসো নাসিওনাল বা জাতীয় কংগ্রেস, যার দুই কক্ষ হলো সেনেট এবং চেম্বার অফ ডেপুটিজ)৷

চীন

গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের সংবিধানে বলা হয়েছে, ‘‘কোনো সরকারি বিভাগ, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি নাগরিকদের কোনো ধর্মে বিশ্বাস করতে বা না করতে বাধ্য করতে পারবে না; এছাড়া যে সব নাগরিক কোনো ধর্মে বিশ্বাস করেন অথবা করেন না, তাদের বিরুদ্ধে বৈষম্য করা চলবে না৷’’ (ছবিতে বেইজিং-এর গ্রেট হল অফ দ্য পিপল, যেখানে প্রতিবছর ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়)৷

ফ্রান্স

ধর্ম ও রাষ্ট্রের বিচ্ছেদকে ফরাসিতে বলা হয় ‘লাইসিতে’৷ ফ্রান্সে ধর্ম ও রাজনৈতিক ক্ষমতাকে পরস্পরের থেকে আলাদা রাখার চেষ্টা করা হয়েছে৷ একদিকে যেমন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলিকে রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ থেকে সুরক্ষিত করার চেষ্টা করা হয়েছে, অপরদিকে সরকারি ক্ষমতাকে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলির প্রভাবমুক্ত রাখার চেষ্টা করা হয়েছে৷ (ছবিতে প্যারিসের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি বা জাতীয় সম্মেলন)৷

জার্মানি

জার্মান সংবিধানে ধর্মের স্বাধীনতার গ্যারান্টি দেওয়া হয়েছে, যদিও জার্মানিতে গির্জা ও রাষ্ট্রের মধ্যে পুরোপুরি বিচ্ছেদ নেই৷ সরকারিভাবে স্বীকৃত গির্জাগুলিকে পাবলিক কর্পোরেশনের মর্যাদা দেওয়া হয়, তাদের প্রাপ্য কিছু কিছু কর সরকার আদায় করে দেন – তবে বিনামূল্যে নয়৷ ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক পাঠ্য বিষয় নয়৷ (ছবিতে বার্লিনের বুন্ডেসটাগ বা জার্মান সংসদ)৷

জাপান

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মার্কিন দখলদারির সময় ধর্ম ও রাষ্ট্রের বিচ্ছেদ সংক্রান্ত মার্কিন ধ্যানধারণা জাপানে আরোপিত হয়৷ জাপানের সংবিধানে ধর্মপালনের স্বাধীনতা সুরক্ষিত করা হয়েছে, অপরদিকে সরকার ধর্মপালনের জন্য কোনোরকম চাপ দিতে পারবেন না, অথবা কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কল্যাণে সরকারি অর্থ ব্যয় করতে পারবেন না৷ (ছবিতে টোকিও-র সংসদভবন)৷

সুইজারল্যান্ড

সুইশ কনফেডারেশনের ফেডারাল সংবিধানে ‘‘ধর্ম ও বিবেকের স্বাধীনতা’’-র গ্যারান্টি দেওয়া হয়েছে৷ বিশেষভাবে বলা হয়েছে যে, ‘‘কোনো ব্যক্তিকে একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ে যোগ দিতে বা অঙ্গ হতে, কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে বা ধর্মীয় নির্দেশ অনুসরণ করতে বাধ্য করা চলবে না’’৷ (ছবিতে বার্ন শহরের বুন্ডেসহাউস বা ফেডারাল প্যালেস, যেখানে ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির অধিবেশন বসে)৷

যুক্তরাজ্য

যুক্তরাজ্যের চার্চ অফ ইংল্যান্ডের প্রধান হলেন ব্রিটিশ নৃপতি স্বয়ং, তিনিই গির্জার উচ্চপদস্থ কর্মচারীদের নিয়োগ করেন৷ হাউস অফ লর্ডস-এও ২৬ জন বিশপের আসন আছে৷ সব সত্ত্বেও যুক্তরাজ্যে গির্জা ও রাষ্ট্রের মধ্যে যোগাযোগ সীমিত, যুক্তরাজ্যে সরকারি শাসনও অপেক্ষাকৃতভাবে ধর্মনিরপেক্ষ৷ ব্রিটেনের অলিখিত সংবিধান অনুযায়ী অপরাপর ধর্মীয় গোষ্ঠীও ব্যাপক স্বাধীনতা উপভোগ করে৷ (ছবিতে প্যালেস অফ ওয়েস্টমিনস্টার)৷

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

গির্জা ও রাষ্ট্রের বিচ্ছেদ সম্পর্কে জেফারসনের প্রখ্যাত উক্তি মার্কিন সংবিধানে উল্লিখিত নেই৷ ফার্স্ট অ্যামেন্ডমেন্টে বলা হয়েছে যে, ‘‘(মার্কিন) কংগ্রেস কোনো ধর্ম প্রতিষ্ঠা সম্পর্কে, বা মুক্তভাবে ধর্মপালন নিষিদ্ধ করে কোনো আইন প্রণয়ন করবে না’’৷ (ছবিতে ক্যাপিটল হিল-এ মার্কিন কংগ্রেসের আসন)৷

গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের সংবিধানে বলা হয়েছে, ‘‘কোনো সরকারি বিভাগ, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি নাগরিকদের কোনো ধর্মে বিশ্বাস করতে বা না করতে বাধ্য করতে পারবে না; এছাড়া যে সব নাগরিক কোনো ধর্মে বিশ্বাস করেন অথবা করেন না, তাদের বিরুদ্ধে বৈষম্য করা চলবে না৷’’ (ছবিতে বেইজিং-এর গ্রেট হল অফ দ্য পিপল, যেখানে প্রতিবছর ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়)৷

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মার্কিন দখলদারির সময় ধর্ম ও রাষ্ট্রের বিচ্ছেদ সংক্রান্ত মার্কিন ধ্যানধারণা জাপানে আরোপিত হয়৷ জাপানের সংবিধানে ধর্মপালনের স্বাধীনতা সুরক্ষিত করা হয়েছে, অপরদিকে সরকার ধর্মপালনের জন্য কোনোরকম চাপ দিতে পারবেন না, অথবা কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কল্যাণে সরকারি অর্থ ব্যয় করতে পারবেন না৷ (ছবিতে টোকিও-র সংসদভবন)৷

গির্জা ও রাষ্ট্রের বিচ্ছেদ সম্পর্কে জেফারসনের প্রখ্যাত উক্তি মার্কিন সংবিধানে উল্লিখিত নেই৷ ফার্স্ট অ্যামেন্ডমেন্টে বলা হয়েছে যে, ‘‘(মার্কিন) কংগ্রেস কোনো ধর্ম প্রতিষ্ঠা সম্পর্কে, বা মুক্তভাবে ধর্মপালন নিষিদ্ধ করে কোনো আইন প্রণয়ন করবে না’’৷ (ছবিতে ক্যাপিটল হিল-এ মার্কিন কংগ্রেসের আসন)৷

তবে জামায়াতে ইসলামির হরতাল ডাকার আগে, এমনকি শুনানি শুরুর আগেই উচ্চ আদালতে গিয়ে প্রধান বিচারপতিকে স্মারকলিপি দিয়েছিল ধর্মভিত্তিক উগ্র দল হেফাজতে ইসলাম৷ তাই রিট খারিজের পর হেফাজতে ইসলামের দাবি যে, তাদের দাবির প্রেক্ষিতেই রিটটি খারিজ হয়ে গেছে৷

বিচারপতি নাঈমা হায়দারের নেতৃত্বে এবং বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চ সোমবার রিট খারিজ করার রায় দেয়৷ ২৮ বছর আগে ১৫ জন বিশিষ্ট মানুষের করা একটি রিট আবেদনের ২৩ বছর পর, রুলটি জারি করা হয়৷ সেই রুল জারির প্রায় ৫ বছর পরে গত ২৯শে ফেব্রুয়ারি রুল শুনানির দিন ধার্য হয় ২৭শে মার্চ৷ পরে রুল শুনানির জন্য ২৮শে মার্চের কার্যতালিকায় আসে রিট আবেদনটি৷

অডিও শুনুন 01:42
এখন লাইভ
01:42 মিনিট
বিষয় | 28.03.2016

অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী

সোমবার শুরুতেই রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা আদালতকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘‘এটা অনেক আগের মামলা৷ এতে দু'টি রুল হয়েছে৷ ১৯৮৮ সালের রিট এবং পরে দু'টি সম্পূরক আবেদনের রুল৷....আদালত বলে, আগে আবেদনকারীর আইনজীবীকে শুনবো৷ এরপর সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী বিচারপতি টিএইচ খান, এবিএম নুরুল ইসলামসহ কয়েকজন আইনজীবী রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলাম ধর্ম বহাল রাখার পক্ষে পক্ষভুক্ত হওয়ার আবেদন নিয়ে দাঁড়ান৷ কিন্তু আদালত বলে, আপনারা এখন বসেন৷ এখনো শুনানি শুরু হয়নি৷''

এ সময় আদালত আবেদনকারীদের আইনজীবী সুব্রত চৌধুরীকে বলেন, ‘‘আপনাকে আমরা দেখে আসতে বলেছিলাম ‘স্বৈরাচার ও সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধ কমিটির' পক্ষে এ রিটটি দায়েরের লোকাস স্ট্যান্ডি (রিট করার এখতিয়ার) ছিল কি?'' জবাবে সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘‘সংগঠন ছাড়াও রিটটি আলাদা, আলাদাভাবে প্রত্যেকে আবেদনকারী করেছেন৷'' আদালত বলে, ‘‘আমারা দেখছি, ওই সংগঠনটির পক্ষে রিট আবেদন করা হয়েছে৷'' তখন সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘‘শুনানির সময় আমরা বিস্তারিত বলবো৷ সন্তোষজনক জবাব দেবো৷ আমাদের শুনানি করার সুযোগ দিন৷'' তখন আদালত বলেন, ‘‘ওই সংগঠনের লোকাস স্ট্যান্ডি নাই৷ তাই রিট খারিজ, রুল ডিসচার্জ৷''

অডিও শুনুন 01:53
এখন লাইভ
01:53 মিনিট
বিষয় | 28.03.2016

জুনায়েদ আল হাবিব

রিট খারিজের পর আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমরা পূর্ণাঙ্গ রায়ে দেখবো যে, কেন এটি খারিজ হয়েছে৷ তারপর আপিল করবো৷ আমাদের দুঃখ, আদালত আমাদের কথা শুনলোই না৷ আমরা পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিলাম৷ এখন দেখতে হবে কী কারণে আমাদের রিটটি খারিজ করা হলো৷ এরপর বাকি সিদ্ধান্ত নেবো৷''

রিটটি খারিজ হওয়ার আগে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বহালের দাবিতে প্রধান বিচারপতি কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছিল হেফাজতে ইসলাম৷ বেলা পৌনে ১১টার দিকে হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগরের যুগ্ম সদস্য সচিব মাওলানা ফজলুল করিম কাশেমীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্টারের একান্ত সচিব আতিকুস সামাদের কাছে এই স্মারকলিপি দেন৷ এ সময় হেফাজত নেতা মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, মুফতি ফখরুল ইসলাম সেখানে উপস্থিত ছিলেন৷

হেফাজতে ইসলামের ঢাকা মহানগরীর সদস্য সচিব ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব জুনায়েদ আল-হাবিব ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমাদের দাবির প্রেক্ষিতেই আদালত রিটটি খারিজ করে দিয়েছে৷ তবে ভবিষ্যতে যাতে কেউ এই ধরনের মামলা করতে না পারে, সেদিকে সরকারকে নজর দিতে হবে৷ ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটুক্তি করলে শাস্তির ব্যবস্থাও রাখতে হবে৷ এমন কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে কেউ ইসলাম ধর্ম নিয়ে কোনো ধরনের কটুক্তি করার সাহস না করে৷ জামায়াতের এই হরতাল যৌক্তিক নয় বলেও দাবি করেন হেফাজতের এই নেতা৷ এদিকে রিট খারিজের পর বিকেল ৩টার দিকে জামায়াতে ইসলামী এক বিবৃতি দিয়ে হরতাল প্রত্যাহার করে নেয়৷

অস্ট্রেলিয়া

কমনওয়েলথ দেশটির সংবিধানে কোনো ধর্ম প্রতিষ্ঠা বা সরকারি পদ গ্রহণের জন্য কোনো ধর্ম পরীক্ষা নিষেধ করা আছে৷ অপরদিকে যে কোনো ধর্ম মুক্তভাবে পালন করার অধিকার দেওয়া হয়েছে৷ (ছবিতে সিডনির সংসদ ভবনের উপর অস্ট্রেলিয়ার লোগো)৷

ব্রাজিল

ব্রাজিলের বর্তমান সংবিধানে ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে; কোনো রাষ্ট্রীয় গির্জা প্রতিষ্ঠা নিষিদ্ধ করা হয়েছে৷ সরকারি কর্মকর্তাদের ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে কোনো ধরনের ‘‘জোট গঠন বা নির্ভরতা’’ নিষিদ্ধ৷ (ছবিতে ব্রাজিলের কনগ্রেসো নাসিওনাল বা জাতীয় কংগ্রেস, যার দুই কক্ষ হলো সেনেট এবং চেম্বার অফ ডেপুটিজ)৷

চীন

গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের সংবিধানে বলা হয়েছে, ‘‘কোনো সরকারি বিভাগ, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি নাগরিকদের কোনো ধর্মে বিশ্বাস করতে বা না করতে বাধ্য করতে পারবে না; এছাড়া যে সব নাগরিক কোনো ধর্মে বিশ্বাস করেন অথবা করেন না, তাদের বিরুদ্ধে বৈষম্য করা চলবে না৷’’ (ছবিতে বেইজিং-এর গ্রেট হল অফ দ্য পিপল, যেখানে প্রতিবছর ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়)৷

ফ্রান্স

ধর্ম ও রাষ্ট্রের বিচ্ছেদকে ফরাসিতে বলা হয় ‘লাইসিতে’৷ ফ্রান্সে ধর্ম ও রাজনৈতিক ক্ষমতাকে পরস্পরের থেকে আলাদা রাখার চেষ্টা করা হয়েছে৷ একদিকে যেমন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলিকে রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ থেকে সুরক্ষিত করার চেষ্টা করা হয়েছে, অপরদিকে সরকারি ক্ষমতাকে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলির প্রভাবমুক্ত রাখার চেষ্টা করা হয়েছে৷ (ছবিতে প্যারিসের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি বা জাতীয় সম্মেলন)৷

জার্মানি

জার্মান সংবিধানে ধর্মের স্বাধীনতার গ্যারান্টি দেওয়া হয়েছে, যদিও জার্মানিতে গির্জা ও রাষ্ট্রের মধ্যে পুরোপুরি বিচ্ছেদ নেই৷ সরকারিভাবে স্বীকৃত গির্জাগুলিকে পাবলিক কর্পোরেশনের মর্যাদা দেওয়া হয়, তাদের প্রাপ্য কিছু কিছু কর সরকার আদায় করে দেন – তবে বিনামূল্যে নয়৷ ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক পাঠ্য বিষয় নয়৷ (ছবিতে বার্লিনের বুন্ডেসটাগ বা জার্মান সংসদ)৷

জাপান

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মার্কিন দখলদারির সময় ধর্ম ও রাষ্ট্রের বিচ্ছেদ সংক্রান্ত মার্কিন ধ্যানধারণা জাপানে আরোপিত হয়৷ জাপানের সংবিধানে ধর্মপালনের স্বাধীনতা সুরক্ষিত করা হয়েছে, অপরদিকে সরকার ধর্মপালনের জন্য কোনোরকম চাপ দিতে পারবেন না, অথবা কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কল্যাণে সরকারি অর্থ ব্যয় করতে পারবেন না৷ (ছবিতে টোকিও-র সংসদভবন)৷

সুইজারল্যান্ড

সুইশ কনফেডারেশনের ফেডারাল সংবিধানে ‘‘ধর্ম ও বিবেকের স্বাধীনতা’’-র গ্যারান্টি দেওয়া হয়েছে৷ বিশেষভাবে বলা হয়েছে যে, ‘‘কোনো ব্যক্তিকে একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ে যোগ দিতে বা অঙ্গ হতে, কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে বা ধর্মীয় নির্দেশ অনুসরণ করতে বাধ্য করা চলবে না’’৷ (ছবিতে বার্ন শহরের বুন্ডেসহাউস বা ফেডারাল প্যালেস, যেখানে ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির অধিবেশন বসে)৷

যুক্তরাজ্য

যুক্তরাজ্যের চার্চ অফ ইংল্যান্ডের প্রধান হলেন ব্রিটিশ নৃপতি স্বয়ং, তিনিই গির্জার উচ্চপদস্থ কর্মচারীদের নিয়োগ করেন৷ হাউস অফ লর্ডস-এও ২৬ জন বিশপের আসন আছে৷ সব সত্ত্বেও যুক্তরাজ্যে গির্জা ও রাষ্ট্রের মধ্যে যোগাযোগ সীমিত, যুক্তরাজ্যে সরকারি শাসনও অপেক্ষাকৃতভাবে ধর্মনিরপেক্ষ৷ ব্রিটেনের অলিখিত সংবিধান অনুযায়ী অপরাপর ধর্মীয় গোষ্ঠীও ব্যাপক স্বাধীনতা উপভোগ করে৷ (ছবিতে প্যালেস অফ ওয়েস্টমিনস্টার)৷

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

গির্জা ও রাষ্ট্রের বিচ্ছেদ সম্পর্কে জেফারসনের প্রখ্যাত উক্তি মার্কিন সংবিধানে উল্লিখিত নেই৷ ফার্স্ট অ্যামেন্ডমেন্টে বলা হয়েছে যে, ‘‘(মার্কিন) কংগ্রেস কোনো ধর্ম প্রতিষ্ঠা সম্পর্কে, বা মুক্তভাবে ধর্মপালন নিষিদ্ধ করে কোনো আইন প্রণয়ন করবে না’’৷ (ছবিতে ক্যাপিটল হিল-এ মার্কিন কংগ্রেসের আসন)৷

প্রসঙ্গত, ১৯৮৮ সালের ৫ই জুন সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলে জাতীয় সংসদে অষ্টম সংশোধনী অনুমোদন হয়৷ একই বছরের ৯ই জুন এতে অনুমোদন দেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি এরশাদ৷ এর মাধ্যমে সংবিধানে অনুচ্ছেদ ২-এর পর ২(ক) যুক্ত করা হয়৷ তাতে বলা হয়, ‘প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম হবে ইসলাম, তবে অন্যান্য ধর্মও প্রজাতন্ত্রে শান্তিতে পালন করা যাইবে'৷ এ বিধানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ১৯৮৮ সালে ‘স্বৈরাচার ও সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধ কমিটি'-র পক্ষে রিটটি দায়ের করেন বরেণ্য ১৫ জন ব্যক্তি৷ দীর্ঘ ২৩ বছর পর ২০১১ সালের ৮ই জুন একটি সম্পূরক আবেদন করা হয়৷ আর সেই দিনই হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলটি জারি করেন৷

রাষ্ট্রধর্মের কি সত্যিই প্রয়োজন আছে বাংলাদেশে? জানান নীচের ঘরে৷