রোহিঙ্গাদের পাশে কেউ নেই

বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’র আঘাতে ক্ষতিগ্রস্থ রোহিঙ্গা শরণার্থী পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর যেন কেউ নেই৷ ঝড়ের আগে তাঁদের আশ্রয় কেন্দ্রে নেয়া হয়নি৷ ঝড়ের পরেও তাঁদের জন্য নেই কোনো ত্রাণ সহায়তা৷ জেলা প্রশাসনের নেই কোনো উদ্যোগ৷

ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’র আঘাতে বাংলাদেশে অন্তত আট জন নিহত হয়েছে৷ আট জনের মধ্যে কক্সবাজারের পাঁচ জন, রাঙামাটির দুই জন এবং ভোলার একজন৷ তবে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলা কক্সবাজার৷ এই জেলার অনেক এলাকা লন্ডভন্ড হয়ে গেছে৷

আপনি কী ভাবছেন?

এখানে ক্লিক করুন ও আলোচনায় যোগ দিন

এই কক্সবাজারে দু’টি নিবন্ধিত রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পসহ আরো কয়েকটি অনিবন্ধিত ক্যাম্প রয়েছে৷ বাংলাদেশ সরকারের সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, এখন এখানে মোট রোহিঙ্গা শরণার্থী সাড়ে তিন লাখ৷ তবে নিবন্ধিত রোহিঙ্গা শরণার্থী ৩০ হাজার৷ শরণার্থীদের ঘরগুলো হাল্কা বাঁশ-কাঠ, টিন এবং পলিথিনের তৈরি বলে মঙ্গলবারভোরের ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’র আঘাতে অধিকাংশই টিকে থাকতে পারেনি৷

অডিও শুনুন 01:13
এখন লাইভ
01:13 মিনিট
বিষয় | 31.05.2017

আমরা এখন পলিথিনের ছাউনি দিয়ে কোনোভাবে আছি: শরণার্থী ক্যাম্পের...

কক্সবাজারের কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের চেয়ারম্যান আবু  সিদ্দিক মাঝি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমাদের অবস্থা এখন খুবই খারাপ৷ আমাদের ক্যাম্পে ১৩ হাজার ৭ শ'র মতো ঘর ছিল৷ বলতে গেলে সব ঘরই কোনো-না-কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে৷ আমরা এখন পলিথিনের ছাউনি দিয়ে কোনোভাবে আছি৷’’

তিনি জানান, ‘‘ঝড়ের আগেও আমাদের কোনো আশ্রয় কেন্দ্রে নেয়ার ব্যবস্থা করা হয়নি৷ ঝড়ের পরেও আমাদের সহায়তা করতে কেউ আসেনি৷ স্থানীয় প্রশাসন বা জনপ্রতিনিধি কেউ না৷’’

একই ক্যাম্পের মোহাম্মদ ইউনূস আরমান জানান, ‘‘ঝড়ে নারী ও শিশুসহ অনেকে আহত হয়েছে৷ তাদের মধ্যে ১৫-২০ জনকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে৷ তাদের ঠিকমতো চিকিৎসাও হচ্ছে না৷  কুতুপালং এবং অনিবন্ধিত বালু ক্যাম্পের অবস্থা খুবই খারাপ৷ নোয়াপাড়া ক্যাম্পে ক্ষতি কিছুটা কম হয়েছে৷’’

অডিও শুনুন 03:17
এখন লাইভ
03:17 মিনিট
বিষয় | 31.05.2017

যারা নতুন শরণার্থী হিসেবে এসেছে তাদের অবস্থা খুবই খারাপ: ইউনূ...

মোহাম্মদ ইউনূস আরমান জানান, ‘‘ঝড়ে প্রায় দুই হাজার ঘর উড়ে গেছে৷ আর প্রত্যেকটি পরিবারই কোনো-না-কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে৷ আর যারা শরণার্থী হিসেবে নতুন এসেছে, তাদের অবস্থা খুবই খারাপ৷ কারণ, তারা কোনোভাবে চালা তুলে বালু ক্যাম্পে ছিলেন৷ তাদের সব কিছু উড়ে গেছে৷’’

ডয়চে ভেলেকে তিনি আরো বলেন, ‘‘ঝড় শুরুর আগে তাদের  কিছু পলিথিন পেপার দেয়া হয়েছিল৷ কিন্তু তাতে কাজ হয়নি৷ পলিথিন পেপার দিয়ে কি আর ঝড় মোকাবেলা করা যায়?’’

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার সুযোগ নেই৷ সে সুযোগ তাদের দেয়া হয়নি৷ তাদের স্থানীয় স্কুল ঘরে আশ্রয় নিতে বলা হয়েছিল৷ কিন্তু স্কুল ঘরগুলো দুর্বল৷ সেগুলো আগেই ভেঙ্গে যায়, উড়ে যায়৷’’

ইউনূস আরমান দাবি করেন, ‘‘কোথাও থেকে আমরা কোনো সহায়তা পাচ্ছি না৷ আমি আমার ফেসবুকের মাধ্যমে কিছু ছবি, ভিডিও এবং তথ্য তুলে ধরছি, সহায়তার আশায়৷’’

অডিও শুনুন 00:57
এখন লাইভ
00:57 মিনিট
বিষয় | 31.05.2017

জেলা প্রশাসক আমাকে বলেছেন রোহিঙ্গাদের বিষয় আন্তর্জাতিক সংস্থা...

এদিকে কথা বলার জন্য বারবার টেলিফোন করেও কক্সবাজরের জেলা প্রশাসক আলী হোসেনের কাছ থেকে সময় আদায় করা যায়নি৷ তিনি মিটিংয়ের ব্যস্ততার কথা বলে অপারগতা প্রকাশ করেন৷ তবে স্থানীয় সাংবাদিক আব্দুল আজিজ জানান, জেলা প্রশাসক তাঁকে বলেছেন , ‘‘রোহিঙ্গাদের বিষয়টি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো দেখবে৷’’ আব্দুল আজিজ ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘কক্সবাজারের কুতুপালং, নোয়াপাড়া, লেদা উখিয়া, টেকনাফ শরণার্থী ক্যাম্পগুলোর কোনো ঘরই বলতে গেলে আর দাঁড়িয়ে নেই৷ তাঁরা এখন মানবেতর জীবন যাপন করছেন৷ কোনো এনজিও বা স্থানীয় প্রশাসন এখনো তাঁদের সহায়তায় এগিয়ে যায়নি৷ জেলা প্রশাসক আমাকে বলেছেন, রোহিঙ্গাদের বিষয় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো দেখবে৷’’

প্রিয় পাঠক, আপনি কিছু বলতে চাইলে লিখুন নীচে মন্তব্যের ঘরে...

‘মোরা’ নিয়ে আমাদের মঙ্গলবারের ছবিঘরটি দেখুন...

সমাজ-সংস্কৃতি

আশ্রয়ের খোঁজে মানুষ

নদীমাতৃক বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে নদী ও সাগরের মাঝে বহু জনপদ রয়েছে, যেগুলো কার্যত মূল ভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন৷ নদীতে একটু পানি বাড়লেই ডুবে যায় এ সব এলাকার নিম্নাঞ্চল৷ ঝড়-বন্যায় নিরাপদে থাকার মতো ঘর নেই অধিকাংশ অধিবাসীর৷ তাই ঝড়ের দিনে ছুটতে হয় আশ্রয় কেন্দ্রের খোঁজে৷

সমাজ-সংস্কৃতি

গবাদি পশু কোথায় যাবে

বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে বন্যা-জলোচ্ছ্বাস একটি স্বাভাবিক চিত্র৷ গত কয়েক দশকে এ রকম দূর্যোগে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে৷ তবে এখন দক্ষিণাঞ্চলে প্রচুর আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে উঠেছে৷ অনেক ক্ষেত্রে দক্ষিণের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকেই আশ্রয়কেন্দ্র হিসাবে ব্যবহার করা হয়৷ সেভাবেই এগুলোকে তৈরি করা হয়েছে৷ তবে গবাদি পশুর আশ্রয়ের জন্য এখনো সুব্যবস্থা নেই৷

সমাজ-সংস্কৃতি

উত্তাল সাগর

ঘূর্ণিঝড় মোরার প্রভাবে উত্তাল সাগর৷ এটি ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে এটি বাংলাদেশ অতিক্রম করেছে৷ ঘূর্ণিঝড়ের সময় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে ১০ নম্বর এবং পায়রা ও মোংলা বন্দরকে ৮ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর৷

সমাজ-সংস্কৃতি

চলেছে তাণ্ডব

কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম উপকূলে কয়েক হাজার ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে৷ গাছপালারও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে৷ অনেক জায়গায় রাস্তায় গাছ পড়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন৷

সমাজ-সংস্কৃতি

আসছে মৃত্যুর খবর

ব্যাপক প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হলেও বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন এলাকা থেকে মৃত্যুর খবর আসতে শুরু করেছে৷ কক্সবাজারের চকোরিয়ায় গাছের নীচে পড়ে দুই জনসহ মোট ছয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে৷

সমাজ-সংস্কৃতি

আশ্রয়কেন্দ্রে আপাত স্বস্তি

এই দূর্যোগে হাতিয়াসহ বিভিন্ন দ্বীপের বিচ্ছিন্ন কিছু চরে হাজার হাজার মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে আসতে পারেনি বলে ঢাকার বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে৷ উদ্বেগ-আশঙ্কায় কেটেছে তাঁদের সময়৷ তাঁদের তুলনায় আপাত স্বস্তিতে রয়েছেন আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারা মানুষেরা৷

সমাজ-সংস্কৃতি

স্বাভাবিক হচ্ছে জনজীবন

যে রকম আশঙ্কা করা হচ্ছিল, শেষ পর্যন্ত তার চেয়ে দুর্বল হয়ে বাংলাদেশের উপর দিয়ে অতিক্রম করেছে ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’৷ মূল শঙ্কা কেটে যাওয়ায় গুটিয়ে নেওয়া অনেকেই ফিরছেন ঘরে৷ ঝড়-বৃষ্টি থাকলেও পুরনো ছন্দে ফিরছে মানুষ৷

আরো প্রতিবেদন...