রোহিঙ্গা সংকট

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের প্রস্তাব

বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে দিতে একটি ‘জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ’ গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার৷ মিয়ানমারের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে৷

default

প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনা শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, ‘‘বাংলাদেশে যেসব রোহিঙ্গা শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে, তাদের প্রত্যাবাসনে মিয়ানমার ও বাংলাদেশ একসাথে কাজ করবে৷’’ এই সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে তারা কাজ করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি৷ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার সার্বিক তত্ত্বাবধানে দুই দেশ একটি ‘জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ’ গঠনের প্রস্তাবে সম্মত হয়েছে জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘এই জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের কম্পোজিশন কী হবে- সেটা দুই দেশ মিলে ঠিক করবে৷’’

মিয়ানমারের গণতন্ত্রকামী নেত্রী অং সান সু চি রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার ক্ষেত্রে সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন বলেও জানান তিনি৷ তবে কীভাবে সেটা সম্ভব, সে ব্যাপারে বিস্তারিত জানাননি পররাষ্ট্রমন্ত্রী৷ শুধু জানিয়েছেন, ‘‘সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা হয়েছে এবং মিয়ানমারই রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার প্রস্তাবটি তুলেছে৷’’ দু'দেশই শরণার্থীদের চিহ্নিত করতে কাজ করবে, তবে এক্ষেত্রে জাতিসংঘের কোনো মধ্যস্থতা থাকবে না বলেও জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী৷

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় দেড় ঘণ্টার এই বৈঠকে মিয়ানমার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সেদেশের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চির দপ্তরের মন্ত্রী কিউ টিন্ট সোয়ে৷ বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী ও পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক৷

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘‘প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার জন্য বৈঠকে একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তির প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ৷ মিয়ানমারের প্রতিনিধি দলকে ওই চুক্তির খসড়াও হস্তান্তর করা হয়েছে৷’’ বাংলাদেশ সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স নীতি’ পুনর্ব্যক্ত করেছে বলে মাহমুদ আলী জানিয়েছেন৷ এ বিষয়ে আরও আলোচনার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল শিগগিরই মিয়ানমার সফরে যাবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি৷

রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া কবে শুরু হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘একটা বৈঠক দিয়ে তো সব সমাধান হবে না৷ জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপটা তৈরি করতে হবে৷’’ যে বিষয়গুলো বাকি রয়েছে, আলোচনার মাধ্যমে সেগুলোর সমাধান করা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী৷ জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ কবে নাগাদ গঠন হবে জানতে চাইলে তিনি শুধু বলেন, ‘‘খুব শিগগিরই হবে৷’’ আনান কমিশনের সুপারিশের বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী৷

মিয়ানমারের মন্ত্রী আজ (সোমবার) রাতেই মিয়ানমারে ফিরে যাবেন৷

গত ২৫শে আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালায় সেনাবাহিনী৷ তখন থেকে এ পর্যন্ত পাঁচ লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে৷ জাতিসংঘ একে চিহ্নিত করেছে ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান' হিসেবে৷

এপিবি/এসিবি (এপি, এএফপি, রয়টার্স, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)

প্রিয় পাঠক, আপনি কিছু বলতে চাইলে লিখুন নীচে মন্তব্যের ঘরে...

নির্বাচিত প্রতিবেদন

Albanian Shqip

Amharic አማርኛ

Arabic العربية

Bengali বাংলা

Bosnian B/H/S

Bulgarian Български

Chinese (Simplified) 简

Chinese (Traditional) 繁

Croatian Hrvatski

Dari دری

English English

French Français

German Deutsch

Greek Ελληνικά

Hausa Hausa

Hindi हिन्दी

Indonesian Bahasa Indonesia

Kiswahili Kiswahili

Macedonian Македонски

Pashto پښتو

Persian فارسی

Polish Polski

Portuguese Português para África

Portuguese Português do Brasil

Romanian Română

Russian Русский

Serbian Српски/Srpski

Spanish Español

Turkish Türkçe

Ukrainian Українська

Urdu اردو