শততম টেস্ট কি শুধুই একটি সংখ্যা?

অবিশ্বাস্য লাগে, যখন ২০০০ সালের ১০ নভেম্বরে ফিরে যাই৷ এই তো সেদিন সৌরভ গাঙ্গুলি, নাঈমুর রহমান টস করতে নামলেন, হাবিবুল বাশার স্ট্রোকের ঝুলি মেলে ধরছেন, আমিনুলের ব্যাটে অবিশ্বাস্য স্থৈর্য৷ ১ থেকে ১০০ – এত তাড়াতাড়ি হয়ে যায়!

আবার অন্য এক হিসাবে অবাক হয়েই ভাবতে হয়, ১০০টি টেস্ট খেলতে ১৭ বছর লাগল! গড়ে প্রতিবছর ছয়টিরও কম টেস্ট৷ ১৭ বছর পরও যে টেস্টে মাঝেমধ্যে মনে হয়, আমাদের শৈশবই কাটেনি, তার কারণও মিলে যায় এই তথ্যে৷ বছরে গড়ে মাত্র ছয়টি টেস্ট খেললে, ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টির হাওয়ায় মজে গিয়ে টেস্টকে দূরে সরিয়ে রাখলে যা হওয়ার তা-ই তো হচ্ছে!

আপনি কী ভাবছেন?

এখানে ক্লিক করুন ও আলোচনায় যোগ দিন

আবার অতীতে ফিরি৷ ২০০০ সালে টেস্ট স্ট্যাটাস যখন দেওয়া হয়, তখন বাংলাদেশ যোগ্য কিনা, সেই প্রশ্ন উঠেছিল৷ যৌক্তিক প্রশ্ন, সত্যি বললে তখনকার পারফরম্যান্সে বাংলাদেশের চেয়ে কেনিয়াই এগিয়ে ছিল অনেকের কাছে৷ তবু তাদের টপকে যে বাংলাদেশ টেস্ট স্ট্যাটাস পেল, সেটা এক অর্থে বাংলাদেশের প্রতি পক্ষপাতিত্ব৷ কারো কারো কাছে দীর্ঘদিনের শিষ্য আশরাফুল হককে জগমোহন ডালমিয়ার উপহার৷ কথাটায় কিছু সত্যতা আছে, কিন্তু ডালমিয়া বা ক্রিকেট দুনিয়ার কাছে সেটা বাংলাদেশপ্রীতি ছিল না৷ ছিল নিজেদের স্বার্থ৷ নতুন ধরনের বাণিজ্যিক হাওয়া তৈরি হয়েছে টেলিভিশন সূত্রে, এখন এই টাকা ধরার জন্যই খেলার বিস্তার দরকার৷ আর সেখানে পাওয়া গেল বাংলাদেশের মতো উর্বর ক্ষেত্রকে, যারা ক্রিকেটের জন্য সব সঁপে দিতে তৈরি৷ কেনিয়া-আয়ারল্যান্ড-স্কটল্যান্ডে ওসব নেই৷ তাই ওরা বাদ৷

খেলাধুলা

কম টেস্ট খেলা

বিশ্বের ক্রিকেট পরাশক্তি হিসেবে বিবেচিত ভারত এবং ইংল্যান্ড যেখানে বছরে ২০টির মতো টেস্ট ম্যাচ খেলে, বাংলাদেশ সেখানে গড়ে ছয়টি টেস্ট খেলার সুযোগ পায়৷ মোটের উপর বড় দলগুলোর বিরুদ্ধে খেলার সুযোগ আরো সীমিত৷ গত ১৭ বছরের মধ্যে ভারতের মাটিতে একবারই টেস্ট খেলার সুযোগ পেয়েছে টাইগাররা, তাও গতমাসে৷ ফলে টেস্ট খেলার সুযোগ কম থাকায় খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতায় ঘাটতি থেকে যাচ্ছে৷

খেলাধুলা

সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা

গত জুলাইয়ের ঢাকায় সন্ত্রাসী হামলার পরও ইংল্যান্ড বাংলাদেশ সফর করেছিল, যা টাইগারদের জন্য এক ইতিবাচক ব্যাপার৷ সেই সফর না হলে বাংলাদেশের অবস্থা পাকিস্তানের মতো হওয়ার আশঙ্কা করা হয়েছিল৷ ২০০৯ সালে পাকিস্তানে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট টিমের উপর হামলার পর সেদেশ সফর করেনি কোনো বিদেশি ক্রিকেট দল৷ তবে ইংল্যান্ড ঢাকা সফর করলেও নিরাপত্তার শঙ্কায় আগের বছর অস্ট্রেলিয়া সেদেশ সফর করেনি৷ আরো কয়েকটি দল সফর সীমিত করেছে৷

খেলাধুলা

খেলার মাঠের সংখ্যা কম

৫৫ হাজার বর্গ মাইল দেশের বাসিন্দা ১৬ কোটি মানুষ৷ আর শুধু ঢাকাতেই থাকেন প্রায় দেড় কোটি মানুষ৷ দেশটিতে খেলার মাঠের সংখ্যা ক্রমশ কমে যাচ্ছে৷ বিশেষ করে ঢাকাতে সাধারণ মানুষের খেলার মাঠ পাওয়া মুশকিল৷ ফলে তৈরি হচ্ছে না খেলোয়াড়৷ অবস্থা এমন যে, বর্তমান টেস্ট টিমে ঢাকার খেলোয়াড় শুধু একজন, তাসকিন আহমেদ৷

খেলাধুলা

ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচ আয়োজনে দুর্বলতা

যদিও বাংলাদেশে চারদিনের দু’টি ক্রিকেট প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়, কিন্তু সেগুলো বেশ দুর্বল পর্যায়ের৷ নির্দিষ্ট সময়ের ঠিক নেই, নেই প্রফেশনালিজমের ছোঁয়া৷ ফলে সেসব প্রতিযোগিতা আন্তর্জাতিক মানেরতো হয়ই না, অনেকক্ষেত্রে হয়ে পড়ে একপাক্ষিক৷ দেখা যায়, সেসব টুর্নামেন্টে ডাবল সেঞ্চুরি করা ব্যাটসম্যানও পরের সপ্তাহে আন্তর্জাতিক ম্যাচে বোল্ড আউট হন দ্রুত৷ টেস্টের মান বাড়াতে গেলে এসব আয়োজনের মানও বাড়াতে হবে৷

খেলাধুলা

স্পিনার থাকলেও পেসারের অভাব

বাংলাদেশ দলে আন্তর্জাতিক মানের স্পিনার থাকলেও টেস্ট জিততে ভালো মানের পেসারও প্রয়োজন৷ কিন্তু টিমে পেসারের ঘাটতি রয়ে গেছে৷ যারা সম্ভাবনা তৈরি করেছেন, যেমন মাশরাফি বিন মোর্তুজা, তারা ইনজুরির কবলে পড়েছেন৷ বর্তমানে দলে থাকা দুই পেসার মুস্তাফিজুর রহমান এবং তাসকিন আহমেদও ইনজুরির কবলে পড়েছেন একাধিকবার৷ ক্রিকেট বোর্ড অবশ্য টেস্টের জন্য পেসার তৈরিতে চেষ্টা করছে৷ তবে সেই চেষ্টার ফল এখনও পাওয়া যায়নি৷

যে কোনো কিছু পাওয়ার যোগ্য না হলেও পেতে ভালো লাগে৷ টেস্ট স্ট্যাটাসটা পেয়ে পুরো দেশ উদ্বেল ছিল৷ আবার পাওয়ার যোগ্য হয়ে ওঠার আগে কিছু পেলে সেটা সামাল দিতে কষ্ট হয়৷ সেই কষ্টটাও হতে শুরু করল কিছু দিন পরই৷ আর তাতে হৈ-চৈও উঠল৷ বাংলাদেশের একেকটা ব্যর্থতাতেই বিদেশি মিডিয়ার গেল গেল রব৷ আমরা আগেই বলেছিলাম না...। সেটা যে সামাল দেওয়া গেছে তারও কারণ দেশের মানুষ৷ সেই সূত্রে বাজার আর বাণিজ্যিক সম্ভাবনা৷ আফসোস এটাই যে এই মানুষ, বাজার, সম্ভাবনা৷এসবের শক্তি দিয়ে ক্রিকেটের নাক উঁচু অংশকে সামাল দেওয়ার কাজেই ব্যবহার করেছি শুধু৷ এই উর্বর ক্ষেত্রে টেস্টটাকে একটু পরিচর্যা করলে ৯৯তম টেস্টে শোচনীয় হারের লজ্জা নিয়ে শততম টেস্টে নামতে হয় না৷ মাহমুদ উল্লাহদের নিয়ে অত নাটক হয় না৷

বাংলাদেশ সরকারের তখনকার এক উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ক্রীড়া কর্তা টেস্ট ব্যাপারটা ঠিক বুঝতে পারছিলেন না৷ তবে রাজনীতিক যেহেতু, এবং রাজনীতিকরা না বোঝা বিষয় নিয়েই বেশি কথা বলতে পছন্দ করেন, তাই টেস্টের প্রসঙ্গ উঠলেই বলতেন, ‘‘টেস্ট মানে হচ্ছে সাগর৷ বিশাল সাগর৷''

প্রায় প্রতি বক্তৃতাই শেষ হতো টেস্ট নামের সাগরে গিয়ে৷ এবং সাংবাদিকদের হাসাহাসিতে৷ তা হাসাহাসি বাদ দিয়ে সাংবাদিকরা একদিন তাঁকে বাজিয়ে দেখতে জানতে চাইলেন, ‘‘আপনি টেস্টকে সব সময় সাগর বলেন কেন?''

‘‘আরে টেস্ট তো সাগরই৷ বিশাল সাগর৷''

‘‘আর ওয়ানডে?''

রাজনীতিক তো৷ ঝটপট জবাব, ‘‘নদী৷ নদীর মতো৷''

‘‘তাহলে ক্রিকেটের পুকুর কোনটা?''

তখন তো আর টি-টোয়েন্টি ছিল না, থাকলে উত্তর দিতে সমস্যা হতো না৷ তাঁর খুব সমস্যা হলো৷ আমতা-আমতা শুরু করলেন৷

Bangladesh Journalist Mostofa Mamun

মোস্তফা মামুন, উপ-সম্পাদক, দৈনিক কালের কণ্ঠ

গল্পটা বললাম এ জন্য যে, তখন আমাদের ক্রিকেট-সংস্কৃতিতে আসলে টেস্ট সম্পর্কে ‘সাগর', ‘সমুদ্র' – এই জাতীয় অস্বচ্ছ ধারণার বেশি কিছু ছিল না৷ তুলনায় ওয়ানডে অনেক পরিচিত৷ তার ধরনের সঙ্গে অনেক বেশি সখ্য৷ আর সত্যি বললে এটাই ছিল সমস্যা৷

ওয়ানডেকেন্দ্রিক কাঠামো দিয়ে টেস্ট খেলতে গিয়ে আর টেস্টের দল হয়ে ওঠা হয়নি৷ জাতীয় লিগ নামে চার দিনের প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হলো৷ সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টাও ছিল৷ কিন্তু অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, খেলোয়াড়দের মধ্যেও দেখেছি বড় দৈর্ঘ্যের খেলাটাকে খুব সিরিয়াসলি না নিতে৷ বরং শেষ দিনে যে ওয়ানডে হতো, তার দিকেই বেশি মনোযোগ, কারণ, এই দিন মানুষ বেশি আসে৷ হাততালি বেশি পাওয়া যায়৷ আর তাতে বিভ্রান্ত হয়ে নির্বাচনি বিবেচনাতেও বিস্তর ভুল৷ প্রাক টেস্ট যুগে জাভেদ ওমরের নামের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল ‘টেস্ট ব্যাটসম্যান'-এর লেবেল৷ অথচ যখন সত্যিকারের টেস্ট, তখন দলে নেই তিনি৷ তিন ওপেনারকে খেলানো হলো, কিন্তু তাঁদের কারো নামই জাভেদ নয়৷ সাবেক ক্রিকেটাররা সব দেশে ক্রিকেট-সংস্কৃতির অভিভাবক হিসেবে কাজ করেন৷ কিন্তু এখানেও সমস্যা৷ আমাদের সাবেকরা যেহেতু শুধুই ওয়ানডে খেলেছেন, তাই তাঁদের অভিভাবকত্বেও থাকল গোলমাল৷ আর সবশেষ টি-টোয়েন্টি এসে এমন একটা ঝোড়ো হাওয়া বইয়ে দিল যে, তারপর বাংলাদেশের মতো হুজুগে দেশে যে টেস্ট টিকে আছে সেটাই একটা বিরাট ব্যাপার৷ এবং অবশ্যই বিরাট ব্যাপার সেই দেশের শততম টেস্ট খেলতে যাওয়া৷

শ্রীলঙ্কা, শততম টেস্টের ভেন্যু পি সারা মাঠে টেস্ট কভারের অভিজ্ঞতা আছে৷ ২০০২ সালে৷ যত দূর মনে পড়ে, তখনকার রীতি অনুযায়ী ইনিংস হারই হয়েছিল৷ তখন আসলে সবখানে এটাই নিয়ম ছিল যে বিপক্ষ বিশাল একটা রানের পাহাড় গড়বে, বাংলাদেশ তাতে গড়াগড়ি খাবে৷ তিন বা সাড়ে তিন দিনে খেলা শেষ হবে অনিবার্য নিয়তি নিয়ে৷ আর সেই চোখে দেখলে উন্নতি কিন্তু মন্দ হয়নি৷ এখন যত যা-ই ঘটুক, বাংলাদেশের টেস্ট মানেই তিন দিনের মামলা নয়৷ বিপক্ষ বিরাট রান করে যে এক ইনিংসেই খেলা শেষ করে দেবে এমনও নয়৷ এই নিউজিল্যান্ডেই সাকিব-মুশফিকের ব্যাটে লিড নেওয়া গেছে৷ ভারতেও বাংলাদেশ রানচাপা না পড়ে পাল্টা গর্জন করেছে মুশফিকের অনন্য সেঞ্চুরিতে৷

তামিম ইকবাল

ডয়চে ভেলের ফেসবুক পাতায় জমা পড়া নামের তালিকায় সবাই যাকে রেখেছেন, তিনি হচ্ছেন ওপেনার তামিম ইকবাল৷ চট্টগ্রামের এই বাহাতি ব্যাটসম্যান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর দেশের পক্ষে সর্বোচ্চ রান করছেন৷ ডয়চে ভেলের পাঠক মেহেদী হাসানের মতে, টি-টোয়েন্টি, ওয়ানডে, টেস্ট – সব দলেই মানানসই তামিম৷

সৌম্য সরকার

সাতক্ষীরার ছেলে সৌম্য সরকার জাতীয় দলের সঙ্গে যাত্রা শুরু করেন ২০১৪ সালে৷ বাহাতি এই ব্যাটসম্যানের ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ স্কোর ১০৭৷ আমাদের পাঠকদের কেউ কেউ অবশ্য তাঁকে আপাতত দলের বাইরে রাখার পক্ষে৷ আর মেহেদী হাসানের মতে, টেস্টে তামিমের সঙ্গে থাকা উচিত ইমরুল কায়েসের৷

সাব্বির রহমান

জাতীয় দলের তৃতীয় ব্যাটসম্যানের জায়গা নিয়ে একটু বিভ্রান্তি রয়েছে৷ আমাদের পাঠকদের অনেকে এই জায়গায় সাব্বির রহমানকে রাখতে চান৷ তবে কেউ কেউ এখানে খেলার ধরনের ভিত্তিতে ইমরুল কায়েস বা লিটন দাসকেও রাখতে আগ্রহী৷

সাকিব আল হাসান

সাবিক আল হাসানের খ্যাতি বিশ্বজোড়া৷ মাগুরার এই অলরাউন্ডারকে সবাই দলে চান৷ ২০১৫ সালে সাকিব বিশ্বের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে আইসিসি-র সব ব়্যাংকে প্রথম অবস্থান অর্জন করেন৷

মুশফিকুর রহিম

মাঠে উইকেটের পেছনে এক বিশ্বস্ত নাম মুশফিকুর রহিম৷ আমাদের প্রায় সব পাঠক তাঁকে দলে রেখেছেন৷ তবে টি-টোয়েন্টিতে তাঁকে কিপিংয়ে রাখতে রাজি নন পাঠক মেহেদী হাসান৷

মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ

মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে দলে রাখা নিয়ে আমাদের পাঠকদের কারো আপত্তি নেই৷ তবে তাঁর কোন অবস্থানে ব্যাট করা উচিত, সেটা নিয়ে মতামত ভিন্ন৷ মেহেদী হাসানের মতে, টি-টোয়েন্টি এবং টেস্টে ষষ্ঠ আর ওয়ানডে তৃতীয় অবস্থানে খেলা উচিত তাঁর৷

নাসির হোসেন

সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ কার্যত সাইড বেঞ্চে কাটিয়েছেন নাসির হোসেন৷ রংপুরের এই অলরাউন্ডারকে মূল একাদশে দেখতে আগ্রহী ডয়চে ভেলের পাঠকরা৷

মাশরাফি বিন মোর্তোজা

জাতীয় দলের টি-টোয়েন্টি এবং ওয়ানডে দলে অধিনায়ক হিসেবে মাশরাফি বিন মোর্তোজাকেই চান পাঠক মেহেদী হাসান৷ আর টেস্টে তাঁর পছন্দের অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ৷

তাসকিন আহমেদ

ডানহাতি ফাস্ট বোলার তাসকিন আহমেদ ব্যাটিংয়ে আবার বামহাতি৷ বর্তমানে ‘অবৈধ বোলিং অ্যাকশনের’ দায়ে আইসিসি-র নিষেধাজ্ঞায় আছেন তিনি৷ তবে আমাদের পাঠকরা তাঁকে ফেরত চান দ্রুত৷

মুস্তাফিজুর রহমান

ক্রিকেটের বিস্ময় বালক মুস্তাফিজুর রহমানকে টি-টোয়েন্টি, ওয়ানডে এবং টেস্ট সবক্ষেত্রেই মূল দলে চান ডয়চে ভেলের পাঠকরা৷ ভারতের আইপিএল-এও খেলছেন মুস্তাফিজ৷

লিটন দাস/শুভাগত হোম/নুরুল হাসান

এই তিনজনই সম্ভাবনাময় ক্রিকেটার৷ আসলে জাতীয় দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে খেলার ধরন, ভেন্যু, পরিবেশসহ অনেক কিছু বিবেচনায় আনতে হয়৷ তাই চূড়ান্ত একাদশ কী হবে তা নির্ধারণ সহজ নয়৷ আমাদের ক্রিকেটপাগল পাঠকদের মতামতের ভিত্তিতে তৈরি এই গ্যালারিটিতে তাদের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে মাত্র৷

এর আগে ইংল্যান্ডের সঙ্গে তো আরেকটু হলে সিরিজটা ২-০-তেই জেতা যেত৷ আর এসবই হয়েছে সঠিক কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই৷ সত্যি বললে, ওয়ানডে ক্রিকেটে সাফল্যের সূত্রে যে বিশ্বাস এসেছে, সেটাই বাংলাদেশ টেনে নিয়ে গেছে টেস্টে৷ তা ছাড়া টি-টোয়েন্টি আর ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট সূত্রে অন্য দেশেও টেস্ট ক্রিকেটের মান নামছে, রাহুল দ্রাবিড় কিংবা সাঙ্গাকারারা আর তৈরি হচ্ছেন না৷ আর এভাবে নিজেদের বিশ্বাসজনিত অগ্রগতি, অন্যদের নেমে আসা মিলিয়ে মাঝেমধ্যে টেস্টেও হয়ে যাচ্ছে৷

কিন্তু এই এক-আধটু বাতাসে স্বস্তি মেলে না যখন দেখি টেস্ট পর্যায়ে একেবারে হাস্যকর রকম ভুলে আউট হন ব্যাটসম্যান৷ টেস্ট শুধু ফলের বিষয় নয়, এই খেলার ধরনও একটা পরিণতবোধ দাবি করে৷ হয়ত বাংলাদেশ অনেক রান করছে কখনো কখনো, হয়ত জিতছেও, কিন্তু আমাদের শীর্ষ ব্যাটসম্যানরা যখন পরিস্থিতির সঙ্গে বেমানান শট নেন, তখন ক্রিকেট বিশ্ব এ জন্য হাসে যে এরা আসলে টেস্টের মানেটাই ঠিক বোঝে না! শততম টেস্টের সময় আসলে হার-জিত, পারা-না পারা নয়, টেস্টবোধের সামগ্রিক ঘাটতিটাই সবচেয়ে বেশি কষ্টের৷

এবং যতই ১০০ টেস্ট খেলি, এই কষ্ট খুব সম্ভব অদূর ভবিষ্যতে দূর হওয়ার নয়৷ কারণ, এখনো ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টি হলে আমরা যতটা ঝাঁপিয়ে পড়ি, টেস্ট এলে ততটাই নিরাসক্ত৷ এখনো সামান্য অজুহাত পেলেই টেস্টের জায়গায় তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলার চেষ্টা করি৷ টেস্ট খারাপ করার পর বড় দৈর্ঘ্যরে ম্যাচ খেলা, প্রথম শ্রেণির কাঠামো ইত্যাদি নিয়ে যেসব কথা হয় সেগুলো আসলে স্রেফ পিঠ বাঁচানোর স্বার্থেই৷

খেলাধুলা

জানুয়ারি ৬-১০, ২০০৫, প্রতিপক্ষ জিম্বাবোয়ে: বাংলাদেশ ২২৬ রানে জয়ী

টাইগাররা প্রথমবারের মতো টেস্ট জয়ের স্বাদ পায় চট্টগ্রামে৷ ২০০৫ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে প্রথম ইনিংসে ৪৮৮ রান তোলে স্বাগতিকরা৷ আর দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে ৯ উইকেটে ২০৪ রান করে৷ প্রথম ইনিংসে জিম্বাবোয়ের স্কোর ছিল ৩১২ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ১৫৪ রান৷

খেলাধুলা

জুলাই ৯-১৩, ২০০৯, প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ: বাংলাদেশ ৯৫ রানে জয়ী

দেশের বাইরে বাংলাদেশ প্রথম টেস্ট জয়ের দেখা পায় ২০০৯ সালের ১৩ জুলাই৷ কিংসটাউনে সেই টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৯৫ রানে হারায় টাইগাররা৷

খেলাধুলা

জুলাই ১৭-২০, ২০০৯, প্রতিপক্ষ ওয়েস্টইন্ডিজ: বাংলাদেশ চার উইকেটে জয়ী

সেবার ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর ছিল সাফল্যে ঠাসা৷ দ্বিতীয় টেস্টে সেন্ট জর্জেসে স্বাগতিকদের হারায় টাইগাররা, সেবার জিতেছিল চার উইকেটে৷

খেলাধুলা

এপ্রিল ২৫-২৯, ২০১৩, প্রতিপক্ষ জিম্বাবোয়ে: বাংলাদেশ ১৪৩ রানে জয়ী

জিম্বাবোয়ের হারারেতে স্বাগতিকদের আবার ‘বধ’ করে টাইগাররা৷ প্রথম ইনিংসে ৩৯১ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৯ উইকেটে ২৯১ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ৷ জবাবে প্রথম ইনিংসে ২৮২ আর দ্বিতীয় ইনিংসে ২৫৭ রানেই গুটিয়ে যায় জিম্বাবোয়ে৷

খেলাধুলা

অক্টোবর ২৫-২৭, ২০১৪, প্রতিপক্ষ জিম্বাবোয়ে: বাংলাদেশ তিন উইকেটে জয়ী

ঢাকায় বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়৷ তিন দিনে শেষ হওয়া সেই টেস্টে শুরুতে ব্যাট করতে গিয়ে প্রথম ইনিংসে ২৪০ রান করে জিম্বাবোয়ে৷ আর দ্বিতীয় ইনিংসে তাদের সংগ্রহ ছিল ১১৪৷ অন্যদিকে, প্রথম ইনিংসে ২৫৪ আর দ্বিতীয় ইনংসে ৭ উইকেটে ১০৭ রান তুলে জিতে যায় স্বাগতিকরা৷

খেলাধুলা

নভেম্বর ৩-৭, ২০১৪, প্রতিপক্ষ জিম্বাবোয়ে: বাংলাদেশ ১৬২ রানে জয়ী

খুলনায় জিম্বাবোয়েকে হারায় বাংলাদেশ৷ সেই টেস্ট পাঁচ দিন পর্যন্ত গড়ালেও শেষমেশ তেমন একটা সুবিধা করতে পারেনি জিম্বাবোয়ে৷ ফলাফল স্বাগতিকদের ১৬২ রানের জয়৷

খেলাধুলা

নভেম্বর ১২-১৬, ২০১৪, প্রতিপক্ষ জিম্বাবোয়ে: বাংলাদেশ ১৮৬ রানে জয়ী

আবারো চট্টগ্রামে জিম্বাবোয়েকে হারায় টাইগাররা৷ সেবার ব্যবধান ছিল ১৮৬ রানের৷

খেলাধুলা

অক্টোবর ২৮-৩০, ২০১৬, প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড: বাংলাদেশ ১০৮ রানে জয়ী

এখন পর্যন্ত বড় কোনো ক্রিকেট শক্তির বিরুদ্ধে বাংলাদেশের একমাত্র টেস্ট জয় এটি৷ ঢাকায় ইংল্যান্ডকে নাস্তানাবুদ করে টাইগাররা৷

খেলাধুলা

মার্চ ১৫-১৯, ২০১৭, প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা: বাংলাদেশ ৪ উইকেটে জয়ী

একদিকে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের শততম ম্যাচে জয়, অন্যদিকে প্রথমবারের মত শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে জয়-দুই দিক দিয়েই ঐতিহাসিক বাংলাদেশের এই টেস্ট ম্যাচটি৷ পঞ্চম দিনে ৪ উইকেটে জয় নিশ্চিত করে টাইগাররা৷ ম্যাচ সেরা হয়েছেন তামিম ইকবাল৷

খেলাধুলা

আগস্ট ২৭-৩০, ২০১৭, প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া: বাংলাদেশ ২০ রানে জয়ী

প্রথমবারের মত অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বাংলাদেশ ইতিহাস গড়ে৷ এটা ছিল সাকিব ও তামিমের ৫০তম টেস্ট। সাকিব মোট ১০ উইকেট নিয়ে এবং তামিম দুই ইনিংসেই অর্ধশত করে স্মরণীয় করে রাখলেন এই টেস্টকে৷ ম্যাচ সেরা সাকিব আল হাসান৷ দ্রষ্টব্য: ইএসপিএন ক্রিকইনফো থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ছবিঘরটি তৈরি করা হয়েছে৷

আর এ সব দেখে দেখে ভারাক্রান্ত মনে মনে হয়, শততম টেস্ট আসলে স্রেফ একটা সংখ্যা৷ এর বেশি কিছু নয়৷ বাহারি আয়োজনের আবহ সংগীতটার মধ্যেও চাপা দুঃখের সুর৷ টেস্টকে তো আমরা ভালোই বাসিনি!

মোস্তফা মামুন, উপ-সম্পাদক, দৈনিক কালের কণ্ঠ

বন্ধু, মোস্তফা মামুনের এই লেখাটা কেমন লাগলো? জানান আমাদের, লিখুন নীচের ঘরে৷