1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

শপথগ্রহণের দিনই মধ্যরাত পর্যন্ত বৈঠক করলেন মমতা

২১ মে ২০১১

শপথগ্রহণের দিনই মহাকরণে মধ্যরাত পর্যন্ত বৈঠক করলেন পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ ঘোষিত হল নতুন মন্ত্রিসভা৷

https://p.dw.com/p/11Kk0
ছবি: AP

রাজভবন থেকে মহাকরণ৷ সামান্য এই পথ পার হতেই তাঁর লেগে গেল ১৮ বছর৷ একদিন এই মহাকরণ থেকেই ধর্নারত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চুলের মুঠি ধরে টেনে হিঁচড়ে সরিয়ে দিয়েছিল পুলিশ৷ সেদিনই প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, একদিন মাথা উঁচু করে ফিরে আসবেন৷ শুক্রবার বিকেলে সেই ঐতিহাসিক ফিরে আসাই প্রত্যক্ষ করলেন হাজার হাজার মানুষ, যাঁরা ভিড় জমিয়েছিলেন রাস্তার দুপাশে৷ উচ্ছ্বাসে আত্মহারা সেই জনজোয়ারের চাপে এক সময় ব্যারিকেড ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল৷ শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের পর রীতিমাফিক আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে চা চক্রের পর রাজ্যপাল এম কে নারায়ণনের সঙ্গে একান্তে দীর্ঘ বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তার পরই দলীয় কর্মী-সমর্থকদের ভিড় ঠেলে পায়ে হেঁটে মহাকরণে৷ এসেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিধান চন্দ্র রায়ের মূর্তিতে মালা দেন৷ মহাকরণের বারান্দায় দাঁড়িয়ে হাসি মুখে হাত নাড়েন বাইরে অপেক্ষমান জনতার উদ্দেশে৷ এরপর এক সাংবাদিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী৷ সেখানে তিনি জানান, নতুন সরকার পাহাড় এবং জঙ্গল মহলের সমস্যার সমাধান করবে তিন মাসের মধ্যে৷ দুই এলাকার জন্যই বিশেষ অর্থনৈতিক প্যাকেজ তৈরি হবে৷ উত্তরবঙ্গের জন্য আলাদা সচিবালয় থাকবে৷

সিঙ্গুরে অনিচ্ছুক কৃষকদের ৪০০ একর জমি আইন অনুযায়ী ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্তও এদিনই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী৷ বলেন, বাকি ৬০০ একরে টাটা শিল্পগোষ্ঠী চাইলে কারখানা গড়তে পারে৷

রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দেওয়ার কথাও এদিন আরও একবার ঘোষণা করেন তিনি৷ জানান. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম সার্ধ শতবর্ষ পালনে বিশেষ কমিটি তৈরি হবে৷ এছাড়া তাঁর ইচ্ছে প্রতিবেশী বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথ ভাবে সার্ধ শতবর্ষ উৎসব উদযাপনের৷

NO FLASH Indien Wahlen Mamata Banerjee
ছবি: AP

সাংবাদিক বৈঠকের পরই নতুন মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে বৈঠকে ব্যস্ত হয়ে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী৷ মধ্যরাত পর্যন্ত বৈঠক চলে৷ শেষ পর্যন্ত নতুন মন্ত্রীদের যে তালিকা সংবাদমাধ্যমের হাতে এসেছে, তা এই রকম -

স্বরাষ্ট্র, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ, ভূমি ও ভূমি সংস্কার, কৃষি, তথ্য-সংস্কৃতি, বিদ্যুৎ,পার্বত্য পরিষদ, সংখ্যালঘু উন্নয়ন, কর্মী নিয়োগ ও প্রশাসনিক সংস্কার দপ্তর মুখ্যমন্ত্রী রাখছেন নিজের হাতে৷ অর্থ ও আবগারি মন্ত্রক পেলেন অমিত মিত্র৷ শিল্প-বানিজ্য, তথ্য-প্রযুক্তি ও পরিষদীয় মন্ত্রকের দায়িত্ব পেলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়৷ মনীশ গুপ্তকে দেওয়া হল উন্নয়ন ও পরিকল্পনা দপ্তর৷ পরিবহণ ও পূর্ত দপ্তরের ভার পেলেন সুব্রত বক্সি৷ এছাড়া কারিগরি ও জনস্বাস্থ্য মন্ত্রক পেলেন সুব্রত মুখোপাধ্যায়, জাভেদ খান হলেন অসামরিক প্রতিরক্ষা ও দমকল মন্ত্রী৷ পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের ভার দেওয়া হল ফিরহাদ হাকিমকে৷ উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী হলেন ব্রাত্য বসু, স্কুলশিক্ষা মন্ত্রকের দায়িত্ব পেলেন রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য, পর্যটন মন্ত্রী হলেন রচপাল সিং, যুবকল্যাণ দপ্তরের দায়িত্ব পেলেন ঊজ্জ্বল বিশ্বাস, মহিলা ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী হলেন সাবিত্রী মিত্র৷ পূর্ণেন্দু বসু পেলেন শ্রম মন্ত্রক, পরিবেশ মন্ত্রক পেলেন ডাঃ সুদর্শন ঘোষ দস্তিদার৷ ক্রীড়া-প্রতিমন্ত্রীর স্বাধীন দায়িত্ব পেলেন মদন মিত্র৷ কংগ্রেসের মানস ভুঁইঞা পেলেন কৃষি মন্ত্রক এবং আবু হেনাকে দেওয়া হল মৎস্য দপ্তর৷ বিধানসভার স্পিকার হিসেবে বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ডেপুটি স্পিকার পদে সোনালী গুহ-র নাম মনোনীত হয়েছে তৃণমূল পরিষদীয় দলের পক্ষ থেকে৷

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন জানিয়ে দিয়েছেন, রাজ্য প্রশাসনের কাজকর্ম বুঝে নিতে তাঁর সাত দিন সময় লাগবে৷ আগামী সাত দিন তিনি সেই কাজই করবেন৷ এই সাত দিনে বহিরাগত দর্শনার্থীদের তিনি সময় দিতে পারবেন না৷ আর মন্ত্রিসভার সদস্যদের এবং সচিবালয়ের অফিসারদের আপাতত শনিবারের ছুটির দিনেও অফিসে আসতে হবে৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝিয়ে দিয়েছেন, তাঁর পূর্বসূরির ‘ডু ইট নাউ' নির্দেশনামাটি তিনি প্রথম দিন থেকেই রপ্ত করিয়ে দেবেন সহকর্মীদের৷

প্রতিবেদন: শীর্ষ বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা

সম্পাদনা: রিয়াজুল ইসলাম