শরণার্থীদের জন্য ইউরোপের সুযোগ-সুবিধা অপ্রতুল

পূর্ব আফ্রিকা বা মধ্যপ্রাচ্য থেকে ভূমধ্যসাগর হয়ে শরণার্থীদের যে স্রোত ইউরোপে আসছে, কয়েকটি দেশে তা বড় রকমের চাপ তৈরি করছে৷ গ্রেহেম লুকাস মনে করেন, ইউরোপে শরণার্থীরা যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা পান, তা যথেষ্ট নয়৷

ভূমধ্যসাগর থেকে কোনো বিপর্যয়ের খবর আসে না এমন দিন আজকাল কমই পাই৷ এ বছর ইটালি হয়ে ইউরোপে ঢুকতে গিয়ে ইতিমধ্যে কয়েক হাজার মানুষ সাগরে ডুবেছে৷ কয়েক হাজার এমন ভাগ্যবানও আছেন, যাঁদের ইউরোপীয় ইউনিয়নের গড়ে তোলা নৌ-টহল বাহিনী উদ্ধার করেছে৷ তাঁরা রাজনৈতিক আশ্রয় চাইতে পারছেন৷ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় রোহিঙ্গাদের সঙ্গে যেমনটি হচ্ছে, এই শরণার্থীদের সঙ্গে ইউরোপ সেরকম করছে না, অর্থাৎ, তাঁদের ফিরিয়ে দিচ্ছে না বা জাহাজগুলো টেনে সাগরের মাঝখানে ছেড়ে দিয়ে আসছে না৷ সমস্যাটিকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেই দেখছে ইউরোপ, যা নিশ্চয়ই ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য৷ তবে এ কথাও মনে রাখতে হবে যে, ইউরোপ কিন্তু এ সব নিজের স্বার্থেই করছে৷

Lucas Grahame Kommentarbild App

গ্রেহেম লুকাস, ডয়চে ভেলে

ইউরোপের বেশির ভাগ দেশেই জন্মহার ক্রমাগত কমছে৷ এ কারণে কোথাও কোথাও জনসংখ্যা কমেও যাচ্ছে৷ অথচ ইউরোপের কাঙ্খিত উন্নয়ন কিন্তু আমাদের সার্বিক আর্থিক অবস্থার ওপর নির্ভরশীল৷ কর্মক্ষম বয়সের দক্ষ কর্মী যথেষ্ট থাকলেই কেবল আমরা যে মানের জীবনযাপনে অভ্যস্থ, তার উপযোগী সম্পদ ইউরোপের অর্থনীতি জোগান দিতে পারবে৷ এ কারণেই আমাদের অভিবাসী দরকার৷

ইউরোপের রাজনীতিবিদরা এ বাস্তবতা বুঝতে শুরু করেছেন৷ সম্প্রতি জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল বলেছেন, জার্মানি অভিবাসীদের দেশ৷ প্রচলিত ধারণা কতটা বদলাচ্ছে তাঁর এ কথা থেকেই তা বোঝা যায়৷ কয়েক বছর আগে জার্মানির কোনো নেতার মুখে এমন মন্তব্য একেবারে অকল্পনীয় ছিল৷ ম্যার্কেল আসলে জানেন যে, তাঁর নিজের মধ্য-ডান খ্রিষ্টীয় গণতন্ত্রী দলের ভেতরে এ বিষয়ে কিছুটা মতবিরোধ থাকলেও দেশের বেশির ভাগ মানুষ তাঁর পাশে আছে৷ তবে বিরুদ্ধবাদীরা সংখ্যায় কম হলেও সরব৷ কম বেতনের চাকরি করছেন এমন অনেকেই অভিবাসীদের নিজেদের জন্য হুমকি মনে করেছেন৷

ইউরোপের আরো কিছু দেশেও এখন প্রায় একই অবস্থা৷ সেসব দেশে ভূমধ্যসাগর থেকে ধেয়ে আসা শরণার্থীদের বিষয়ে উদ্বেগ, অসন্তোষ দেখা দিচ্ছে৷ উগ্র-ডানপন্থি দলগুলো এই অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের ভিত শক্ত করছে৷ ম্যার্কেল অভিবাসীদের প্রসঙ্গে কিছু বৈপ্লবিক মন্তব্যও করেছেন৷

প্রাণে বাঁচা

২০শে এপ্রিল, ২০১৫: একটি ছোট পালের নৌকা গ্রিসের রোডোস দ্বীপের কাছে চড়ায় আটকালে সীমান্তরক্ষী আর স্থানীয় মানুষেরা বেশ কিছু উদ্বাস্তুকে উদ্ধার করেন৷ তা সত্ত্বেও এই দুর্ঘটনায় তিনজন উদ্বাস্তু জলে ডুবে মারা যান৷

সীমান্তরক্ষীদের ডিঙিতে

১৩ই এপ্রিল, ২০১৫: উদ্বাস্তুরা কোস্ট গার্ডের ইনফ্ল্যাটেবল বোটে চড়ে সিসিলি-র একটি বন্দরে পৌঁছচ্ছে৷ সীমান্তরক্ষীরা লিবিয়ার উপকূলে একটি ডোবা নৌকা দেখতে পেয়ে ১৪৪ জন উদ্বাস্তুকে উদ্ধার করেন – এবং যুগপৎ ন’টি মৃতদেহকে সাগরের জলে ভাসতে দেখেন৷ আবহাওয়া ভালো থাকায় এপ্রিলের শুরু থেকে উদ্বাস্তুরা আরো বেশি সংখ্যায় আফ্রিকা থেকে ভূমধ্যসাগর পার হয়ে ইউরোপে আসার চেষ্টা করছে৷

বাহন

১২ই এপ্রিল, ২০১৫: ওপিয়েলক অফশোর ক্যারিয়ার কোম্পানির ‘জাগুয়ার’ নামধারী মালবাহী জাহাজের অতি কাছে ডুবে যায় একটি উদ্বাস্তু বোট৷ এই কোম্পানির জাহাজগুলি গত ডিসেম্বর মাস যাবৎ দেড় হাজারের বেশি উদ্বাস্তুকে সমুদ্রবক্ষ থেকে উদ্ধার করেছে৷

হাঁটাপথে

২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৫: পশ্চিম আফ্রিকা থেকে আসা উদ্বাস্তুরা ম্যাসিডোনিয়া সীমান্তের দিকে হেঁটে চলেছেন৷ আশা, এইভাবে ‘খিড়কির দরজা’ দিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রবেশ – যদিও সে প্রচেষ্টা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হয়৷

ব্রিটেন যাওয়ার শেষ পন্থা

১৭ই ডিসেম্বর, ২০১৪: ফ্রান্সের ক্যালে বন্দর-শহরের কাছের হাইওয়েতে ব্রিটেনগামী লরিতে ওঠার সুযোগের অপেক্ষায় উদ্বাস্তুরা৷ সে আমলে ক্যালে-র পাঁচ-পাঁচটি বেআইনি ক্যাম্পে প্লাস্টিকের ঝুপড়িতে বাস করছিল তিন থেকে পাঁচ হাজার উদ্বাস্তু, শুধুমাত্র ইংল্যান্ড যাবার আশায়৷

‘সেভ আওয়ার সোলস’

২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৪: ভূমধ্যসাগরে সাইপ্রাসের কাছে একটি শরণার্থী নৌকা বিপদ সঙ্কেত পাঠানোর পর সাগরে ভাসতে থাকে – ৩০০ উদ্বাস্তু নিয়ে৷

যারা কোনো বাধা মানে না

১৭ই মে, ২০১৪: আফ্রিকান উদ্বাস্তুরা মরক্কোর উপকূলে স্পেনের এক্সক্লেভ মেলিলা-র চারপাশের উঁচু তারের বেড়া পার হওয়ার চেষ্টা করছে৷ প্রায় ৫০০ মানুষ সীমান্ত পার হবার চেষ্টা করে, তাদের মধ্যে জনা ত্রিশেক সফলও হয়, কিন্তু পরে তাদের আবার মরক্কোয় ফেরৎ পাঠিয়ে দেওয়া হয়৷

তিনি এও বলেছেন, যেসব অভিবাসন প্রত্যাশীর বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা এবং কম্পিউটার বিষয়ক কাজে দক্ষতা আছে, তাঁদের রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনার কোনো দরকার নেই, জার্মানি তাদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত – এ বিষয়ে তাঁরা নিশ্চিত থাকতে পারেন৷ কথাটি অবশ্য ম্যার্কেল জার্মানির পূর্বাঞ্চলে দানা বেঁধে ওঠা ছোট অথচ সোচ্চার এক বিদেশি-বিরোধী আন্দোলনের জবাবে বলেছিলেন৷

১২ই এপ্রিল, ২০১৫: ওপিয়েলক অফশোর ক্যারিয়ার কোম্পানির ‘জাগুয়ার’ নামধারী মালবাহী জাহাজের অতি কাছে ডুবে যায় একটি উদ্বাস্তু বোট৷ এই কোম্পানির জাহাজগুলি গত ডিসেম্বর মাস যাবৎ দেড় হাজারের বেশি উদ্বাস্তুকে সমুদ্রবক্ষ থেকে উদ্ধার করেছে৷

২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৪: ভূমধ্যসাগরে সাইপ্রাসের কাছে একটি শরণার্থী নৌকা বিপদ সঙ্কেত পাঠানোর পর সাগরে ভাসতে থাকে – ৩০০ উদ্বাস্তু নিয়ে৷

ভূমধ্যসাগর থেকে কোনো বিপর্যয়ের খবর আসে না এমন দিন আজকাল কমই পাই৷ এ বছর ইটালি হয়ে ইউরোপে ঢুকতে গিয়ে ইতিমধ্যে কয়েক হাজার মানুষ সাগরে ডুবেছে৷ কয়েক হাজার এমন ভাগ্যবানও আছেন, যাঁদের ইউরোপীয় ইউনিয়নের গড়ে তোলা নৌ-টহল বাহিনী উদ্ধার করেছে৷ তাঁরা রাজনৈতিক আশ্রয় চাইতে পারছেন৷ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় রোহিঙ্গাদের সঙ্গে যেমনটি হচ্ছে, এই শরণার্থীদের সঙ্গে ইউরোপ সেরকম করছে না, অর্থাৎ, তাঁদের ফিরিয়ে দিচ্ছে না বা জাহাজগুলো টেনে সাগরের মাঝখানে ছেড়ে দিয়ে আসছে না৷ সমস্যাটিকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেই দেখছে ইউরোপ, যা নিশ্চয়ই ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য৷ তবে এ কথাও মনে রাখতে হবে যে, ইউরোপ কিন্তু এ সব নিজের স্বার্থেই করছে৷

Lucas Grahame Kommentarbild App

গ্রেহেম লুকাস, ডয়চে ভেলে

ইউরোপের বেশির ভাগ দেশেই জন্মহার ক্রমাগত কমছে৷ এ কারণে কোথাও কোথাও জনসংখ্যা কমেও যাচ্ছে৷ অথচ ইউরোপের কাঙ্খিত উন্নয়ন কিন্তু আমাদের সার্বিক আর্থিক অবস্থার ওপর নির্ভরশীল৷ কর্মক্ষম বয়সের দক্ষ কর্মী যথেষ্ট থাকলেই কেবল আমরা যে মানের জীবনযাপনে অভ্যস্থ, তার উপযোগী সম্পদ ইউরোপের অর্থনীতি জোগান দিতে পারবে৷ এ কারণেই আমাদের অভিবাসী দরকার৷

ইউরোপের রাজনীতিবিদরা এ বাস্তবতা বুঝতে শুরু করেছেন৷ সম্প্রতি জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল বলেছেন, জার্মানি অভিবাসীদের দেশ৷ প্রচলিত ধারণা কতটা বদলাচ্ছে তাঁর এ কথা থেকেই তা বোঝা যায়৷ কয়েক বছর আগে জার্মানির কোনো নেতার মুখে এমন মন্তব্য একেবারে অকল্পনীয় ছিল৷ ম্যার্কেল আসলে জানেন যে, তাঁর নিজের মধ্য-ডান খ্রিষ্টীয় গণতন্ত্রী দলের ভেতরে এ বিষয়ে কিছুটা মতবিরোধ থাকলেও দেশের বেশির ভাগ মানুষ তাঁর পাশে আছে৷ তবে বিরুদ্ধবাদীরা সংখ্যায় কম হলেও সরব৷ কম বেতনের চাকরি করছেন এমন অনেকেই অভিবাসীদের নিজেদের জন্য হুমকি মনে করেছেন৷

ইউরোপের আরো কিছু দেশেও এখন প্রায় একই অবস্থা৷ সেসব দেশে ভূমধ্যসাগর থেকে ধেয়ে আসা শরণার্থীদের বিষয়ে উদ্বেগ, অসন্তোষ দেখা দিচ্ছে৷ উগ্র-ডানপন্থি দলগুলো এই অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের ভিত শক্ত করছে৷ ম্যার্কেল অভিবাসীদের প্রসঙ্গে কিছু বৈপ্লবিক মন্তব্যও করেছেন৷

প্রাণে বাঁচা

২০শে এপ্রিল, ২০১৫: একটি ছোট পালের নৌকা গ্রিসের রোডোস দ্বীপের কাছে চড়ায় আটকালে সীমান্তরক্ষী আর স্থানীয় মানুষেরা বেশ কিছু উদ্বাস্তুকে উদ্ধার করেন৷ তা সত্ত্বেও এই দুর্ঘটনায় তিনজন উদ্বাস্তু জলে ডুবে মারা যান৷

সীমান্তরক্ষীদের ডিঙিতে

১৩ই এপ্রিল, ২০১৫: উদ্বাস্তুরা কোস্ট গার্ডের ইনফ্ল্যাটেবল বোটে চড়ে সিসিলি-র একটি বন্দরে পৌঁছচ্ছে৷ সীমান্তরক্ষীরা লিবিয়ার উপকূলে একটি ডোবা নৌকা দেখতে পেয়ে ১৪৪ জন উদ্বাস্তুকে উদ্ধার করেন – এবং যুগপৎ ন’টি মৃতদেহকে সাগরের জলে ভাসতে দেখেন৷ আবহাওয়া ভালো থাকায় এপ্রিলের শুরু থেকে উদ্বাস্তুরা আরো বেশি সংখ্যায় আফ্রিকা থেকে ভূমধ্যসাগর পার হয়ে ইউরোপে আসার চেষ্টা করছে৷

বাহন

১২ই এপ্রিল, ২০১৫: ওপিয়েলক অফশোর ক্যারিয়ার কোম্পানির ‘জাগুয়ার’ নামধারী মালবাহী জাহাজের অতি কাছে ডুবে যায় একটি উদ্বাস্তু বোট৷ এই কোম্পানির জাহাজগুলি গত ডিসেম্বর মাস যাবৎ দেড় হাজারের বেশি উদ্বাস্তুকে সমুদ্রবক্ষ থেকে উদ্ধার করেছে৷

হাঁটাপথে

২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৫: পশ্চিম আফ্রিকা থেকে আসা উদ্বাস্তুরা ম্যাসিডোনিয়া সীমান্তের দিকে হেঁটে চলেছেন৷ আশা, এইভাবে ‘খিড়কির দরজা’ দিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রবেশ – যদিও সে প্রচেষ্টা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হয়৷

ব্রিটেন যাওয়ার শেষ পন্থা

১৭ই ডিসেম্বর, ২০১৪: ফ্রান্সের ক্যালে বন্দর-শহরের কাছের হাইওয়েতে ব্রিটেনগামী লরিতে ওঠার সুযোগের অপেক্ষায় উদ্বাস্তুরা৷ সে আমলে ক্যালে-র পাঁচ-পাঁচটি বেআইনি ক্যাম্পে প্লাস্টিকের ঝুপড়িতে বাস করছিল তিন থেকে পাঁচ হাজার উদ্বাস্তু, শুধুমাত্র ইংল্যান্ড যাবার আশায়৷

‘সেভ আওয়ার সোলস’

২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৪: ভূমধ্যসাগরে সাইপ্রাসের কাছে একটি শরণার্থী নৌকা বিপদ সঙ্কেত পাঠানোর পর সাগরে ভাসতে থাকে – ৩০০ উদ্বাস্তু নিয়ে৷

যারা কোনো বাধা মানে না

১৭ই মে, ২০১৪: আফ্রিকান উদ্বাস্তুরা মরক্কোর উপকূলে স্পেনের এক্সক্লেভ মেলিলা-র চারপাশের উঁচু তারের বেড়া পার হওয়ার চেষ্টা করছে৷ প্রায় ৫০০ মানুষ সীমান্ত পার হবার চেষ্টা করে, তাদের মধ্যে জনা ত্রিশেক সফলও হয়, কিন্তু পরে তাদের আবার মরক্কোয় ফেরৎ পাঠিয়ে দেওয়া হয়৷

তিনি এও বলেছেন, যেসব অভিবাসন প্রত্যাশীর বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা এবং কম্পিউটার বিষয়ক কাজে দক্ষতা আছে, তাঁদের রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনার কোনো দরকার নেই, জার্মানি তাদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত – এ বিষয়ে তাঁরা নিশ্চিত থাকতে পারেন৷ কথাটি অবশ্য ম্যার্কেল জার্মানির পূর্বাঞ্চলে দানা বেঁধে ওঠা ছোট অথচ সোচ্চার এক বিদেশি-বিরোধী আন্দোলনের জবাবে বলেছিলেন৷

ফ্রান্স, জার্মানি, হল্যান্ড এবং ব্রিটেনের মতো কয়েকটি দেশের রাজনীতিতে উগ্রতা বাড়ছে৷ উগ্র-ডানপন্থিরা উঠে আসছে৷ বেশ চিন্তার বিষয়৷ ইউরোপীয় ইউনিয়নের মাধ্যমে ইউরোপে অভিবাসীদের জন্য অবিলম্বে একটি সুসংবদ্ধ নীতিমালা প্রণয়ন করা দরকার৷ ইউরোপ এখনো তা করে উঠতে পারেনি৷

ফলে নিরাপদ আশ্রয় এবং ভালো কাজের আশায় দক্ষিণ ইউরোপে যে অভিবাসন প্রত্যাশীরা আসছেন, অনেক সময়ই তাঁরা এমন জায়গায় এসে পড়ছে যেখানে তেমন একটা সুযোগ নেই এবং যেখানে তারা অনাহূত৷ কালাইসের আফ্রিকান অভিবাসনপ্রত্যাশীরা নৌকায় করে লুকিয়ে ব্রিটেনে ঢোকার চেষ্টা করছে৷ প্যারিসে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে অনেক গৃহহীন মানুষ৷ তাই, একটি বিষয় খুব পরিষ্কার যে, ইউরোপ অভিবাসনের সমস্যাটিকে যথাযথভাবে সামাল দিচ্ছে না৷ এটা খুবই উদ্বেগের৷ ইউরোপীয় পর্যায়ে শিগগিরই বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করা দরকার৷ ইউরোপের অভিবাসীর দরকার আছে৷ তবে উগ্র-ডানপন্থিদের দৌরাত্ম্য আরো বেড়ে যাওয়ার বিপদ নিয়ন্ত্রণের কথা মাথায় রেখেই সব কাজ করতে হবে৷ মনে রাখা দরকার, ইউরোপীয় গণতন্ত্রে সংখ্যাগুরুর মেধা ও মননের লড়াইয়ে জয়লাভ এখনো অনেক বাকি৷