‘শরণার্থীদের প্রবেশের ঊর্দ্ধসীমা মানছি না'

সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি খুব বেশি আদানপ্রদান দেখা যায় না৷ তাই জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল যখন গ্রীষ্মকালীন বিরতি ও সাধারণ নির্বাচনের আগে লম্বা এক সাক্ষাৎকার দিলেন, তখন তাঁর বক্তব্য বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে৷

শরণার্থী নীতির মতো কিছু বিষয়ে ঘরে-বাইরে কিছুটা কোণঠাসা ম্যার্কেল৷ তাই তিনি চ্যান্সেলর হিসেবে সরে দাঁড়াতে পারেন, এমন জল্পনাকল্পনার শেষ নেই৷ জার্মানির এআরডি নেটওয়ার্কের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে তিনি বললেন, সেপ্টেম্বরের নির্বাচনে জিতে ক্ষমতা ধরে রাখতে পারলে তিনি অবশ্যই ৪ বছর চ্যান্সেলর থাকবেন৷ তার আগে সরে যাবার কোনো ইচ্ছা তাঁর নেই৷ সে ক্ষেত্রে তিনি তাঁর প্রয়াত পূর্বসূরি হেলমুট কোলের রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলবেন৷

উদার শরণার্থী নীতির কারণে নিজের ইউনিয়ন শিবিরের মধ্যে চাপের মুখে রয়েছেন আঙ্গেলা ম্যার্কেল৷ বিশেষ করে বাভেরিয়ায় সহযোগী সিএসইউ দল শরণার্থীদের সংখ্যার ক্ষেত্রে ঊর্দ্ধসীমা বেঁধে দিতে বদ্ধপরিকর৷ এমনকি আগামী সরকারের অংশ হতে পারলে তারা এই শর্তে জোটসঙ্গী হতে প্রস্তুত বলে জানিয়ে দিয়েছে৷ চ্যান্সেলর ম্যার্কেল স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, যে তিনি এমন ঊর্দ্ধসীমার বিরোধী৷ তবে শরণার্থীদের সংখ্যা কমানো, তাদের দেশ ছাড়ার কারণ দূর করার প্রচেষ্টার মতো বিষয়ের ক্ষেত্রে তিনি আরও তৎপর হবেন বলে জানিয়েছেন৷

নেতা হিসেবে ম্যার্কেল নিজের দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে প্রস্তুত নন৷ এমনকি নির্বাচনের প্রচার জমে ওঠার আগে প্রতিদ্বন্দ্বী এসপিডি দলকে কোণঠাসা করার এক সুবর্ণ সুযোগও হাতছাড়া করলেন তিনি৷ জি-টোয়েন্টি শীর্ষ সম্মেলনের সময় মাত্রাহীন হিংসা দমন করতে না পেরে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েছেন হামবুর্গ শহরের মেয়র ও এসপিডি দলের নেতা ওলাফ শলৎস৷ শহরে ম্যার্কেলের সিডিইউ দলের শাখা তাঁর পদত্যাগও দাবি করছে৷ কিন্তু এআরডি নেটওয়ার্কের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে ম্যার্কেল এই প্রশ্নে পুরোপুরি হামবুর্গের মেয়রের পাশে দাঁড়ালেন৷ সেখানে যা ঘটেছে, তার দায় সহ-আয়োজক হিসেবে তাঁর কাঁধেও পড়ে – বলেন ম্যার্কেল৷ সিডিইউ নেত্রী হিসেবে তিনি তাই মেয়রের পদত্যাগের দাবিকে সমর্থন করেন না৷

আগামী নির্বাচনে এসপিডি দলের নেতা ও প্রতিদ্বন্দ্বী মার্টিন শুলৎস সরকারি বিনিয়োগ বাধ্যতামূলক করে তোলার যে অঙ্গীকার করেছেন, তার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ম্যার্কেল৷

ম্যার্কেল বলেন, সরকারি বিনিয়োগের জন্য এখনো অর্থের অভাব নেই৷ কিন্তু সেই অর্থ ব্যয়ের পরিকল্পনার প্রক্রিয়া এত দীর্ঘ, যার ফলে সমস্যা রয়েছে৷ তাই তিনি দলীয় ইস্তেহারে এক্ষেত্রে ব্যাপক রদবদলের প্রস্তাব রেখেছেন৷

সুবিখ্যাত ম্যার্কেল মুদ্রা

ব্রীড়া থেকেই হোক, বা ঝানু রাজনীতিকের পরিশীলিত ভঙ্গিই হোক, ম্যার্কেল যে হাতের আঙুলগুলো জোড়া দিয়ে কী বলতে চাইছেন, তা তিনি নিজেই জানেন...

ইউরোপীয় রাজনীতিক

সার্বভৌম, উৎসাহী অথচ নিরুদ্বেগ অভিব্যক্তি নিয়ে ইউরোপীয় রাজনীতির মঞ্চে চলাফেরা করেন জার্মান চ্যান্সেলর৷ ছবিতে তিনি ব্রাতিস্লাভায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাম্প্রতিক শীর্ষবৈঠকে৷

চ্যান্সেলরের সঙ্গে সেলফি

উদ্বাস্তু সংকট ম্যার্কেলের রাজনৈতিক জীবনে একটা বড় প্রসঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ তবুও গতবছর বার্লিনের মারৎসান এলাকার একটি উদ্বাস্তু শিবিরে সিরিয়া থেকে আগত এক রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীকে তাঁর সঙ্গে সেলফি তোলার সুযোগ দেন ম্যার্কেল৷

সরকারপ্রধান

চ্যান্সেলর হিসেবে ম্যার্কেলকে দেখা যায় তাঁর স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিমা ও ভূমিকায়৷ সঙ্গে ভাইস চ্যান্সেলর সিগমার গাব্রিয়েল৷

নারীসুলভ

হঠাৎ কিছুটা অন্তরঙ্গতা ও একটি হাসি৷ ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রঁসোয়া ওলঁদকেও পার্ফেক্ট জেন্টলম্যান বলা চলে৷

জোট সরকার

ম্যার্কেলের দুই জোট সহযোগী, এসপিডি প্রধান সিগমার গাব্রিয়েল ও সিএসইউ প্রধান হর্স্ট জেহোফারকে দেখলে বোঝা যায়, ‘অ্যাঞ্জি’ মাথা ঠান্ডা না রাখলে বিপদ ঘটতে কতক্ষণ?

বৈজ্ঞানিক মনোবৃত্তি

পদার্থবিদ্যায় ডক্টরেট ডিগ্রির অধিকারিনী ম্যার্কেলের ইন্টারনেট বা ডিজিটাল মিডিয়াগুলোর জন্যে খুব একটা সময় থাকে না৷ তবে টুইট করতে ভালোবাসেন৷ ২০১৫ সালে জাতিসংঘের একটি ফোরামে ফেসবুক প্রতিষ্ঠাতা মার্ক সাকারবার্গের সঙ্গে আগ্রহ নিয়েই আলোচনা করছেন!

যাজক তনয়া

২০১৬ সালে পোপ ফ্রান্সিসের সঙ্গে ব্যক্তিগত সাক্ষাৎ প্রটেস্টান্ট যাজকের কন্যা ম্যার্কেলের পক্ষে একটি বিশেষ মুহূর্ত৷

শ্যাম্পেন পান করার মতো উপলক্ষ্য চাই

যেমন জার্মানি ও ফ্রান্সের মধ্যে এলিসি চুক্তির ৫০ বছর পূর্তি৷

ক্ষমতার নেশা চেনেন ম্যার্কেল

২০১১ সালে ডয়চে ব্যাংকের প্রধান ইয়োসেফ আকারমান-এর সঙ্গে বৈঠকে সম্ভবত চলতি আর্থিক সংকট নিয়েই কথা হয়েছিল৷

ছুটিছাটায়

চ্যান্সেলরও মানুষ, তাঁরও ছুটি লাগে৷ তবে ছুটিতেও পাপারাৎসিদের হাত থেকে মুক্তি নেই আঙ্গেলা ম্যার্কেলের৷ ছবিতে তাঁর স্বামী ইওয়াখিম সাওয়ারকে দেখা যাচ্ছে (বাঁয়ে)৷

সে অনেকদিন আগের কথা

তরুণ সিডিইউ রাজনীতিক আঙ্গেলা ম্যার্কেল দলীয় সতীর্থ আনেট শাভান ও প্রবীণ সিডিইউ রাজনীতিক এর্ভিন টয়ফেল-এর সঙ্গে দক্ষিণ জার্মানিতে সাইকেল টুরে৷ তখনও তাঁর মুখে অভিজ্ঞতা ও ক্ষমতার ছাপ পড়েনি৷

এসবি/ডিজি (ডিপিএ, রয়টার্স)