শরণার্থীদের স্বাগত জানাতে শীর্ষে চীনা ও জার্মানরা

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশানালের এক সমীক্ষা অনুযায়ী বিশ্বের সংখ্যাগুরু মানুষই শরণার্থীদের সাহায্য করার পক্ষে৷ কিন্তু বেশিরভাগ দেশের সরকার সেই মনোভাবের প্রতিফলন ঘটাচ্ছে না৷

গত বছর শরণার্থীদের ঢল প্রায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কথা মনে করিয়ে দেয়৷ সিরিয়া সহ একাধিক দেশের মানুষ ইউরোপের দ্বারে এসে আশ্রয় খুঁজছে৷ রাষ্ট্রজোট হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন দীর্ঘ সময় ধরে সংঘবদ্ধভাবে কোনো একক শরণার্থী নীতি গ্রহণ করতে পারেনি৷ শেষ পর্যন্ত তুরস্কের সঙ্গে এক বিতর্কিত চুক্তির মাধ্যমে ইউরোপের দ্বার প্রায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে৷

Infografik Refugees Welcome Barometer Englisch (Sperrfrist!!)

এরই মধ্যে চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের নেতৃত্বে জার্মানির সরকার ও সাধারণ মানুষের একটা বড় অংশ উদার হাতে শরণার্থীদের গ্রহণ করতে এগিয়ে এসেছে৷ দেশ-বিদেশের কিছু মহল থেকে প্রবল চাপ সত্ত্বেও জার্মানি তার লক্ষ্যে অবিচল থেকেছে৷ মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল-এর এক রিপোর্ট অনুযায়ী গোটা বিশ্বে যথাক্রমে চীন, জার্মানি ও ব্রিটেনের নাগরিকরা শরণার্থীদের গ্রহণ করতে সবচেয়ে বেশি প্রস্তুত৷ অন্যদিকে তালিকার সবচেয়ে নীচে রয়েছে যথাক্রমে রাশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ড৷

২৭টি দেশে প্রায় ২৭,০০০ মানুষের সঙ্গে কথা বলে এই প্রথম শরণার্থী বিষায়ক এক জনমত সমীক্ষা চালিয়েছিল অ্যামনেস্টি৷ আশার কথা, প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ তাদের শহরে, এলাকায় অথবা নিজেদের বাড়িতে শরণার্থীদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত৷ প্রায় তিন-চতুর্থাংশ মানুষ মনে করেন, যে সব মানুষ যুদ্ধ বা নিপীড়ন থেকে পালিয়ে যাচ্ছে, তাদের অন্যান্য দেশে রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়া উচিত৷ প্রতি ১০ জনের মধ্যে একজন নিজের বাড়ির দরজা শরণার্থীদের জন্য খুলে দিতে প্রস্তুত৷

এমন ইতিবাচক মনোভাবের আলোকে অ্যামনেস্টি বলেছে, বেশিরভাগ দেশের সরকারের কড়া নীতি জনমতের প্রতিফলন ঘটাচ্ছে না৷ এ ক্ষেত্রে আঙ্গেলা ম্যার্কেলের ভূমিকার প্রশংসা করেছে এই প্রতিষ্ঠান৷

এই জনমত সমীক্ষায় চীনের প্রায় ৮৬ শতাংশ মানুষ মনে করেন, শরণার্থীদের সাহায্য করতে সরকারের আরও সক্রিয় হওয়া উচিত৷ উল্লেখ্য, চীনের সরকার শরণার্থীদের পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে কোনো উদ্যোগ দেখাচ্ছে না৷

আগামী সপ্তাহে তুরস্কের ইস্তানবুল শহরে প্রথম বারের মতো বিশ্ব মানবিক সাহায্য শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে৷ শরণার্থীদের অভূতপূর্ব সংখ্যার পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন দেশের সরকারের উপর আরও পদক্ষেপের জন্য চাপ দেওয়া হবে৷

আলেপ্পোয় সুখি সংসার

২০১৬ সালে তোলা কোটা পরিবারের ছবি৷ খলিল, তাঁর স্ত্রী হামিদা, সন্তান মান্নান, ডোলোভান, আয়াজ এবং নের্ভানা৷ তখন সিরিয়ায় কোনো গৃহযুদ্ধ ছিল না, ছিল না ধ্বংসলীলা৷

দেশত্যাগের সিদ্ধান্ত

সিরিয়ায় ২০১১ সালে গৃহযুদ্ধ শুরুর সময় খলিল কোটো সেদেশের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের একটি শাখার প্রধান ছিলেন৷ গৃহযুদ্ধ শুরুর পর চাকুরি হারান এই ইলেক্ট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ার৷ একসময় খাদ্য এবং পানির অভাব প্রকট হতে থাকে৷ ২০১৪ সালের এপ্রিলে পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে, তারা তুরস্ক চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, যেখানে খলিলের মা বাস করতেন৷

ধাপে ধাপে আগানো

খলিল তুরস্কে কোনো কাজ খুঁজে পাননি৷ তাই ২০১৪ সালের জুলাইয়ে তাঁর পরিবার জার্মানিতে আসার সিদ্ধান্ত নেন৷ খলিলের ভাই ইউরোপে বাস করেন৷ তিনিই পরিবারটিকে জার্মানিতে আসতে উৎসাহ যোগান৷ শরণার্থী হিসেবে জার্মানিতে আসার পথে বুলগেরিয়ায় একটি শরণার্থী শিবিরে ছয় মাস কাটান কোটো পরিবার৷ এই চামচটি সেই শিবিরের এক স্মৃতিচিহ্ন৷

জার্মানিতে স্বাগতম

অবশেষে জার্মানিতে কোটো পরিবার৷ জার্মানির উত্তরের শহর ব্রেমেনে তাদের রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে৷ সেখানকার এক নারী খলিলকে এই জিন্সের প্যান্টটি দিয়েছেন, জার্মানিতে পাওয়া তাঁর প্রথম পোশাক এটি৷

অনিশ্চিত ভবিষ্যত

খলিলের সন্তানরা এখন জার্মান স্কুলে যাচ্ছেন৷ আর খলিল এবং তাঁর স্ত্রী হামিদা শিখছেন জার্মান৷ ইলেক্ট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ার জার্মানিতে একটি চাকরি পাবেন বলে আশা করছেন৷ সিরিয়ায় ফেলে আসা অতীত মাঝে মাঝে মনে করে আনন্দ খোঁজেন তারা৷ আয়াজের সিরিয়ার স্কুলের আইডি কার্ড এটি৷

খলিল তুরস্কে কোনো কাজ খুঁজে পাননি৷ তাই ২০১৪ সালের জুলাইয়ে তাঁর পরিবার জার্মানিতে আসার সিদ্ধান্ত নেন৷ খলিলের ভাই ইউরোপে বাস করেন৷ তিনিই পরিবারটিকে জার্মানিতে আসতে উৎসাহ যোগান৷ শরণার্থী হিসেবে জার্মানিতে আসার পথে বুলগেরিয়ায় একটি শরণার্থী শিবিরে ছয় মাস কাটান কোটো পরিবার৷ এই চামচটি সেই শিবিরের এক স্মৃতিচিহ্ন৷

গত বছর শরণার্থীদের ঢল প্রায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কথা মনে করিয়ে দেয়৷ সিরিয়া সহ একাধিক দেশের মানুষ ইউরোপের দ্বারে এসে আশ্রয় খুঁজছে৷ রাষ্ট্রজোট হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন দীর্ঘ সময় ধরে সংঘবদ্ধভাবে কোনো একক শরণার্থী নীতি গ্রহণ করতে পারেনি৷ শেষ পর্যন্ত তুরস্কের সঙ্গে এক বিতর্কিত চুক্তির মাধ্যমে ইউরোপের দ্বার প্রায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে৷

Infografik Refugees Welcome Barometer Englisch (Sperrfrist!!)

এরই মধ্যে চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের নেতৃত্বে জার্মানির সরকার ও সাধারণ মানুষের একটা বড় অংশ উদার হাতে শরণার্থীদের গ্রহণ করতে এগিয়ে এসেছে৷ দেশ-বিদেশের কিছু মহল থেকে প্রবল চাপ সত্ত্বেও জার্মানি তার লক্ষ্যে অবিচল থেকেছে৷ মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল-এর এক রিপোর্ট অনুযায়ী গোটা বিশ্বে যথাক্রমে চীন, জার্মানি ও ব্রিটেনের নাগরিকরা শরণার্থীদের গ্রহণ করতে সবচেয়ে বেশি প্রস্তুত৷ অন্যদিকে তালিকার সবচেয়ে নীচে রয়েছে যথাক্রমে রাশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ড৷

২৭টি দেশে প্রায় ২৭,০০০ মানুষের সঙ্গে কথা বলে এই প্রথম শরণার্থী বিষায়ক এক জনমত সমীক্ষা চালিয়েছিল অ্যামনেস্টি৷ আশার কথা, প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ তাদের শহরে, এলাকায় অথবা নিজেদের বাড়িতে শরণার্থীদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত৷ প্রায় তিন-চতুর্থাংশ মানুষ মনে করেন, যে সব মানুষ যুদ্ধ বা নিপীড়ন থেকে পালিয়ে যাচ্ছে, তাদের অন্যান্য দেশে রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়া উচিত৷ প্রতি ১০ জনের মধ্যে একজন নিজের বাড়ির দরজা শরণার্থীদের জন্য খুলে দিতে প্রস্তুত৷

এমন ইতিবাচক মনোভাবের আলোকে অ্যামনেস্টি বলেছে, বেশিরভাগ দেশের সরকারের কড়া নীতি জনমতের প্রতিফলন ঘটাচ্ছে না৷ এ ক্ষেত্রে আঙ্গেলা ম্যার্কেলের ভূমিকার প্রশংসা করেছে এই প্রতিষ্ঠান৷

এই জনমত সমীক্ষায় চীনের প্রায় ৮৬ শতাংশ মানুষ মনে করেন, শরণার্থীদের সাহায্য করতে সরকারের আরও সক্রিয় হওয়া উচিত৷ উল্লেখ্য, চীনের সরকার শরণার্থীদের পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে কোনো উদ্যোগ দেখাচ্ছে না৷

আগামী সপ্তাহে তুরস্কের ইস্তানবুল শহরে প্রথম বারের মতো বিশ্ব মানবিক সাহায্য শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে৷ শরণার্থীদের অভূতপূর্ব সংখ্যার পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন দেশের সরকারের উপর আরও পদক্ষেপের জন্য চাপ দেওয়া হবে৷

আলেপ্পোয় সুখি সংসার

২০১৬ সালে তোলা কোটা পরিবারের ছবি৷ খলিল, তাঁর স্ত্রী হামিদা, সন্তান মান্নান, ডোলোভান, আয়াজ এবং নের্ভানা৷ তখন সিরিয়ায় কোনো গৃহযুদ্ধ ছিল না, ছিল না ধ্বংসলীলা৷

দেশত্যাগের সিদ্ধান্ত

সিরিয়ায় ২০১১ সালে গৃহযুদ্ধ শুরুর সময় খলিল কোটো সেদেশের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের একটি শাখার প্রধান ছিলেন৷ গৃহযুদ্ধ শুরুর পর চাকুরি হারান এই ইলেক্ট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ার৷ একসময় খাদ্য এবং পানির অভাব প্রকট হতে থাকে৷ ২০১৪ সালের এপ্রিলে পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে, তারা তুরস্ক চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, যেখানে খলিলের মা বাস করতেন৷

ধাপে ধাপে আগানো

খলিল তুরস্কে কোনো কাজ খুঁজে পাননি৷ তাই ২০১৪ সালের জুলাইয়ে তাঁর পরিবার জার্মানিতে আসার সিদ্ধান্ত নেন৷ খলিলের ভাই ইউরোপে বাস করেন৷ তিনিই পরিবারটিকে জার্মানিতে আসতে উৎসাহ যোগান৷ শরণার্থী হিসেবে জার্মানিতে আসার পথে বুলগেরিয়ায় একটি শরণার্থী শিবিরে ছয় মাস কাটান কোটো পরিবার৷ এই চামচটি সেই শিবিরের এক স্মৃতিচিহ্ন৷

জার্মানিতে স্বাগতম

অবশেষে জার্মানিতে কোটো পরিবার৷ জার্মানির উত্তরের শহর ব্রেমেনে তাদের রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে৷ সেখানকার এক নারী খলিলকে এই জিন্সের প্যান্টটি দিয়েছেন, জার্মানিতে পাওয়া তাঁর প্রথম পোশাক এটি৷

অনিশ্চিত ভবিষ্যত

খলিলের সন্তানরা এখন জার্মান স্কুলে যাচ্ছেন৷ আর খলিল এবং তাঁর স্ত্রী হামিদা শিখছেন জার্মান৷ ইলেক্ট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ার জার্মানিতে একটি চাকরি পাবেন বলে আশা করছেন৷ সিরিয়ায় ফেলে আসা অতীত মাঝে মাঝে মনে করে আনন্দ খোঁজেন তারা৷ আয়াজের সিরিয়ার স্কুলের আইডি কার্ড এটি৷

এসবি/ডিজি (রয়টার্স, এএফপি)