শরণার্থী কোটা নিয়ে জরুরি বৈঠকে ইইউ

জার্মানির স্বস্তি

অনেক শরণার্থী এসেছে জার্মানিতে৷ অথচ ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেশির ভাগ দেশ শরণার্থী নিতে নারাজ৷ এ অবস্থায় ইইউ-র সব সদস্য দেশকে কোটা অনুযায়ী শরণার্থী নিতে হবে – এমন দাবি জানিয়েছিল জার্মানি৷ মঙ্গলবারের বৈঠকে দাবি পূরণ হয়েছে৷ সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটে সিদ্ধান্ত হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার শরণার্থীকে ভাগ করে দেয়া হবে৷ জার্মানি নেবে ৩১ হাজার ৪৪৩ জন৷ বছর শেষে জার্মানিতে আগত মোট শরণার্থী ৮ লাখে হয়ে যেতে পারে৷

জার্মানির পরই ফ্রান্স

কোটা অনুযায়ী শরণার্থী বণ্টনের দাবিতে ফ্রান্সও ছিল জার্মানির সঙ্গে৷ মঙ্গলবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শরণার্থীর চাপটা তাদের ওপরও খুব কম পড়বে না৷ এই দফায় ২৪ হাজার ৩১ জন শরণার্থী নেবে ফ্রান্স৷ছবিতে হাঙ্গেরি সীমান্তের এক শরণার্থী শিশু৷

চারটি দেশের ঘোর আপত্তি

পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো শুরু থেকেই শরণার্থী নেয়ার বিপক্ষে৷ মঙ্গলবার হাঙ্গেরি, রোমানিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র ও স্লোভাকিয়া শরণার্থী নেয়ার বিপক্ষে ভোট দেয়৷ ভোটের পর চেক প্রজাতন্ত্রের প্রধানমন্ত্রী বহুস্লাভ সবটকা বলেন, ‘‘এটা খুবই খারাপ সিদ্ধান্ত৷’’ সরাসরি আপত্তি জানালেও এখন রোমানিয়া ৪ হাজার ৬৪৬ জন, চেক প্রজাতন্ত্র ২ হাজার ৯৭৮ জন এবং স্লোভাকিয়া ১ হাজার ৫০২ জন শরণার্থী নেবে৷

দায়িত্ব মনে করে শরণার্থী নেবে লুক্সেমবুর্গ

৫ লক্ষ ৬২ হাজার জনসংখ্যার দেশ লুক্সেমবুর্গও শরণার্থী নেবে৷ ছোট দেশ তাই মাত্র ৪৪০ জন নেবে তারা৷ তবে দেশটির সরকার মনে করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ঐক্য ধরে রাখতে সব সদস্য দেশের শরণার্থী নেয়াটা এখন কর্তব্যের পর্যায়ে পড়ে৷ এমনিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নে ছোট দেশটির এখন বড় ভূমিকা পালন করাই স্বাভাবিক, কেননা, এ মুহূর্তে ইইউর সভাপতি দেশও লুক্সেমবুর্গ৷

সবচেয়ে কম শরণার্থী নেবে মাল্টা

ইইউ অঞ্চলের আরেক ছোট দেশ মাল্টা৷ আয়তন মাত্র ৩১৬ বর্গ কিলোমিটার আর জনসংখ্যা ৪৪ হাজারের একটু বেশি৷ এমন ছোট দেশটিও ১৩৩ জন শরণার্থী নেবে৷

আর যেসব দেশ শরণার্থী নেবে

ইইউ-র আরো কয়েকটি দেশও শরণার্থী নেবে৷ স্পেন নেবে ১৪ হাজার ৯৩১ জন, পোল্যান্ড ৯ হাজার ২৮৭ জন, নেদারল্যান্ডস ৭ হাজার ২১৪ জন, বেলজিয়াম ৪ হাজার ৫৬৪ জন, সুইডেন ৪ হাজার ৪৬৮ জন, অস্ট্রিয়া ৩ হাজার ৬৪০ জন, পর্তুগাল ৩ হাজার ৭৪ জন, ফিনল্যান্ড ২ হাজার ৩৮৮ জন, বুলগেরিয়া ১৬০০ জন, ক্রোয়েশিয়া ১ হাজার ৬৪ জন, লিথুয়ানিয়া ৭৮০ জন, স্লোভেনিয়া ৬৩১ জন, লাটভিয়া ৫২৬ জন, এস্তোনিয়া ৩৭৩ এবং সাইপ্রাস নেবে ২৭৪ জন শরণার্থী৷

শরণার্থী সংকট সংক্রান্ত এ বৈঠকে ইইউ-র বহিঃসীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে৷ এছাড়াও তুরস্ক, জর্ডান, লেবানন ও সেই সঙ্গে ত্রান সংস্থাগুলোকে আরো বেশি সহায়তা দেয়ার বিষয়টিও আলোচিত হবে৷

মঙ্গলবারও অবশ্য ইইউ-র আরেকটি গুরুত্বপূ্র্ণ বৈঠক হয়৷ আরো ১ লাখ ২০ হাজার শরণার্থী নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে সেই সভায়৷ সিদ্ধান্তটি হয়েছে ভোটের মাধ্যমে৷

আসলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে কোটা অনুযায়ী শরণার্থী বণ্টনের প্রস্তাব নিয়ে বেশ কিছু দিন ধরেই বিতর্ক চলছিল৷ সেই বিতর্কের মীমাংসা হলো মঙ্গলবারের সভায়৷

Infografik Asylerstanträge nach Herkunft Q2 2015 Englisch

সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে কোটা পদ্ধতি মেনে শরণার্থী বণ্টনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্তভাবে গৃহীত হয়েছে৷

এসিবি/ডিজি