জার্মানি

শরণার্থী সেজে হামলার ষড়যন্ত্রে ‘ছদ্মবেশি’ জার্মান সৈন্য

এক উগ্র দক্ষিণপন্থি জার্মান সেনা অফিসার সিরীয় শরণার্থী সেজে সম্ভবত সন্ত্রাসী হামলার ষড়যন্ত্র করছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে৷ জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী সেনাবাহিনীর দুর্বলতার কথা স্বীকার করে কড়া সমালোচনা করেছেন৷

Frankreich Illkirch-Graffenstaden Bundeswehr Soldaten vom Jägerbataillon 291 (Getty Images/AFP/F. Florin)

জার্মান সেনাবাহিনীর অফিসার ছিলেন ফ্রাংকো৷ চরম দক্ষিণপন্থি ভাবধারা ও বিদেশি বিদ্বেষের মনোভাব তাঁর সতীর্থ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অজানা ছিল না বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে৷ এমনকি উচ্চশিক্ষার সময় তিনি এমনই একটি বিতর্কিত বিষয় বেছে নিয়েছিলেন৷ কিছুকাল আগেও জার্মানির সীমান্তে ফ্রান্সের অ্যালসেস অঞ্চলে ফরাসি-জার্মান যৌথ বাহিনীর লেফটেন্যান্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি৷

তারপরের ঘটনা সত্যি বিস্ময়কর৷ সমান্তরাল এক দ্বিতীয় জীবন শুরু করেন ২৮ বছর বয়স্ক ফ্রাংকো৷ ২০১৫ সালের শেষে নিজেকে সিরীয় খ্রীষ্টান শরণার্থী হিসেবে তুলে ধরে বাভেরিয়ায় নথিভুক্ত হন তিনি৷ তারপর জার্মানিতে রাজনৈতিক আশ্রয়ের দরখাস্তও করেন ফ্রাংকো৷ ভাঙা ভাঙা আরবি ভাষা বলে সে যাত্রায় তিনি নিজেকে বিদেশি হিসেবে সফলভাবে তুলে ধরতে পেরেছিলেন৷ মরক্কোর দোভাষী তাঁকে আরবি ভাষায় প্রশ্ন করার বদলে ফরাসিতে কথা বলেন৷ এমনকি জার্মান সেনাবাহিনীরই এক সদস্য তাঁকে জেরা করেছিলেন৷ তিনি ঘুনাক্ষরেও ভাবতে পারেননি, সামনের ব্যক্তিটি একজন জার্মান লেফটেন্যান্ট৷ মোটকথা গোটা প্রক্রিয়ায় অনেক দুর্বলতা ধরা পড়েছে৷ জার্মান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই গাফিলতির পূর্ণাঙ্গ তদন্তের অঙ্গীকার করেছেন৷

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ধারণা, ফ্রাংকো বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসী হামলার ষড়যন্ত্র করছিলেন৷ তাঁর কাছে লক্ষ্যবস্তুর একটা তালিকাও পাওয়া গেছে৷ চরম দক্ষিণপন্থি সন্ত্রাসবাদী হিসেবে তিনি বামপন্থি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলির উপর হামলা চালাতে চেয়েছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে৷ ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনার বিমানবন্দরের শৌচাগারে একটি পিস্তল লুকিয়ে রাখতে গিয়ে ধরা পড়েন ফ্রাংকো৷

বলা বাহুল্য, এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনার ফলে জার্মান সেনাবাহিনী বিশাল চাপের মুখে পড়েছে৷ জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী উরসুলা ফন ডেয়ার লাইয়েন চরম বিরক্তি প্রকাশ করেছেন৷ রবিবার তিনি এক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর মধ্যে কাঠামোগত ত্রুটির কথা খোলাখুলি স্বীকার করেন৷ তাছাড়া ফ্রাংকোর মতো উচ্চপদস্থ অফিসারের উগ্র দক্ষিণপন্থি ভাবধারা সম্পর্কে জানা সত্ত্বেও বাহিনীর সতীর্থ ও কর্মকর্তারা হাত গুটিয়ে বসে থেকে যে ‘ভুল’ সংহতির পরিচয় দিয়েছেন, তা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মনে করেন জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী৷ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন স্তরে নেতৃত্বের দুর্বলতার কড়া সমালোচনা করেন তিনি৷ এর সম্ভাব্য পরিণাম সম্পর্কে তিনি অবশ্য কোনো মন্তব্য করেননি৷ তবে এমন প্রবণতা বরদাস্ত করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন উরসুলা ফন ডেয়ার লাইয়েন৷

এসবি/এসিবি (ডিপিএ, এএফপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

Albanian Shqip

Amharic አማርኛ

Arabic العربية

Bengali বাংলা

Bosnian B/H/S

Bulgarian Български

Chinese (Simplified) 简

Chinese (Traditional) 繁

Croatian Hrvatski

Dari دری

English English

French Français

German Deutsch

Greek Ελληνικά

Hausa Hausa

Hindi हिन्दी

Indonesian Bahasa Indonesia

Kiswahili Kiswahili

Macedonian Македонски

Pashto پښتو

Persian فارسی

Polish Polski

Portuguese Português para África

Portuguese Português do Brasil

Romanian Română

Russian Русский

Serbian Српски/Srpski

Spanish Español

Turkish Türkçe

Ukrainian Українська

Urdu اردو