শুধু বাংলাদেশ নয়, হিজাবের দেখা মেলে সর্বত্র

শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নারীদের হিজাব করার প্রবণতা দিনদিন বেড়েই চলেছে৷ এমনকি বিদেশে বসবাসকারী বাঙালিদের মধ্যেও দ্রুত ছড়িয়ে পরছে হিজাব আর বোরকার ব্যবহার৷ অবাক করার মতো ঘটনা হলেও, এটাই সত্য!

আপনি কী ভাবছেন?

এখানে ক্লিক করুন ও আলোচনায় যোগ দিন

বর্তমানে হিজাব প্রসঙ্গটি সারা বিশ্বেই আলোচিত৷ যেমন বাংলাদেশে, তেমনি ইউরোপ-অ্যামেরিকা বা অন্যান্য দেশে৷ ৮০ বা ৯০-এর দশকেও বাংলাদেশে অল্প সংখ্যক মহিলাদের সাধারণ বোরকা পরতে দেখেছি৷ তবে তারপর যখনই বাংলাদেশে গেছি, তখনই নারীদের পর্দা করার ক্ষেত্রে বেশ কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করেছি৷ আর আজকাল তো হিজাব পরা নারীদের সংখ্যা এতটাই বেড়ে গেছে যে, রাস্তায়, অফিত-আদালতে বা সামাজিক অনুষ্ঠানে হিজাব পরা নারীর সংখ্যাই বেশি বলে মনে হচ্ছে৷ অথচ আমাদের মা, চাচিদের দেখেছি তাঁরা বাড়ির বাইরে গেলে কিংবা মুরুব্বিদের দেখলে মাথায় ঘোমটা বা শাড়ির আচল তুলে দিতেন৷ আমি বলছি সেই সত্তর দশকের কথা৷ আসলে মাঝে মাঝে জানতে ইচ্ছে করে, মহিলাদের মধ্যে এই পরিবর্তন কি তাঁদের ধর্মীয় অনুভূতি থেকে এসেছে? নাকি পুরুষতান্ত্রিক সমাজে পরিবার এবং পুরুষদের ধর্মীয় মূল্যবোধকে অগ্রাধিকার দিতেই নারীদের হিজাব করার প্রবণতা বাড়ছে?

হিজাব

দেশ এবং সংস্কৃতিভেদে অনেক মুসলমান নারী হিজাব পরিধান করেন৷ মূলত মাথা, চুল এবং গলা এবং ঘাড়ের খোলা অংশ ঢাকা হয় এই পোশাক দিয়ে৷ বিভিন্ন ডিজাইনের এবং রঙের হিজাব পাওয়া যায় যেগুলো পরলে চেহারা পুরোটাই দেখা যায়৷

নিকাব

নিকাব পরলে নারীর পুরো শরীর ঢেকে যায়, শুধু চোখ দু’টো খোলা থাকে৷ সাধারণত পুরোপুরি রক্ষণশীল মুসলমান নারীরা নিকাব পরেন৷ নিকাব মূলত কালো রঙের হলেও অন্যান্য রঙের নিকাবও ইদানীং দেখা যায়৷

দোপাট্টা

দক্ষিণ এশিয়ার মুসলিম নারীদের মধ্যে জনপ্রিয় দোপাট্টা বা ওড়না৷ নিকাব বা বোরকার মতো না হলেও এই পোশাকেও নারীর শরীর অনেকটা ঢাকা থাকে৷ তবে চুলের কিছুটা, চেহারা এবং গলা দেখা যায়৷ দক্ষিণ এশিয়ায় অন্যান্য ধর্মের মেয়েরাও দোপাট্টা পরেন৷

আল-আমিরা

মূলত দুই টুকরো কাপড় দিয়ে আল-আমিরা তৈরি করা হয়৷ একটি টুকরো দিয়ে চুল পুরোপুরি ঢেকে দেয়া হয় আর অন্য টুকরোটা হিজাবের মতো জড়িয়ে দেয়া হয়৷ কম বয়সি মুসলিম নারীদের মধ্যে এই আল-আমিরা বেশ জনপ্রিয়৷

শায়লা

শায়লা হচ্ছে লম্বা, চারকোনা এক ধরনের স্কার্ফ, যা গল্ফ অঞ্চলের মুসলিম নারীদের মধ্যে জনপ্রিয়৷ এটি সাধারণত কালো রঙের হয় এবং কাঁধের কাছে পিন দিয়ে আটকাতে হয় এটিকে৷ তবে হিজাবের মতো সবকিছু ঢেকে রাখে না শায়লা৷

এশার্প

অনেকটা হিজাবের মতো হলেই এসার্প তৈরি হয় সিল্ক দিয়ে এবং বেশ উজ্জ্বল রঙের হয়৷ মূলত তুরস্কের মুসলিম নারীরা এটা পরিধান করেন৷ এটি বিভিন্ন রং এবং ডিজাইনে পাওয়া যায়৷

কেরুডুং আর টুডুং

ইন্দোনেশিয়ার আধুনিক মেয়েরা আজকাল যে হিজাব ব্যবহার করছে, তার নাম কেরুডুং৷ আর প্রতিবেশী দেশ মালয়েশিয়ায় নারীদের মধ্যে জনপ্রিয় টুডুং৷ এই দু’টি অনেকটা চাদরের মতো হলেও, একটি অংশে সুন্দর প্যার্টার্ন থাকে এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে থাকে বিভিন্ন রঙের শেডও৷ হিজাবের মতো টুডুং বা কেরুডুং-ও চুল, গলা এবং কাঁধ পুরোপুরি ঢেকে ফেলে৷

চাদর

ইরানের মেয়েদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় চাদর৷ বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় সাধারণত সে দেশের নারীরা চাদর পরে নেন৷

বোরকা

মুসলিম নারীরা সারা চেহারা এবং সারা শরীর পুরোপুরি ঢেকে ফেলে বোরকা পরিধান করেন৷ ক্ষেত্রবিশেষে বোরকার চোখের অংশে জাল দেয়া থাকে, যাতে তারা দেখতে পারেন৷ কালো ছাড়াও বিভিন্ন রংঙের বোরকা হয়৷

জিলবুবস

সারা শরীর ঢেকে রেখেও নারীর স্তন এবং পশ্চাতদেশের আকার ফুটিয়ে তোলা যায় এই পোশাকে৷ এ জন্যই একে জিলবুবস বলা হয়৷ ইন্দোনেশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই পোশাকের ব্যবহার দেখা যায়৷ তবে এই পোশাক নিয়ে বিতর্ক রয়েছে৷ দ্রষ্টব্য: মুসলিম নারীদের পোশাক সংক্রান্ত বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ছবিঘরটি তৈরি করা হয়েছে৷

প্রশ্নটা এ কারণেই আরো আসছে যে, সত্যিই যদি হিজাব পরা ধর্মীয় অনুভূতি থেকে হয় তাহলে হিজাব পরিহিতা নারীর চলন-বলনেও তার প্রকাশ ঘটবে, তাই নয় কি? কিন্তু আজকের এই সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে হিজাব পরা অনেক নারীকে নিজেকে যেভাবে তুলে ধরতে দেখি, প্রশ্নটা তখন আমার মনে আরো জোড়ালো হয়ে উকি মারে!

বাংলাদেশে আবার কোনো কোনো মেয়েকে বলতে শুনেছি, পাড়ার বখাটে ছেলেদের হাত থকে রক্ষা পেতেই নাকি তাদের হিজাব পরার শুরু৷

শুধু বাংলাদেশে কেন, যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েও দেখেছি কিশোরী মেয়েদের হিজাব পরার প্রবণতা৷ জার্মানিতে কখনো মসজিদের ভেতরে যাওয়া হয়নি বলে আমার আগ্রহ ছিল অ্যামেরিকার মসজিদে যাওয়ার৷ কোনো এক শুক্রবার আমার ছোট বোন ও তার স্বামীর সাথে ডালাসের বিশাল এক মসজিদে গিয়েছিলাম জুম্মার নামাজের সময়৷ নারী-পুরুষ মিলিয়ে সেখানে নামাজ পড়তে এসেছিলেন বিভিন্ন দেশের কয়েক শত মুসলমান৷ ওখানে প্রায় দু'শো মুসলমান কিশোরী মেয়ে একই রকম কালো রঙের হিজাব পরে নামাজে শরিক হয়েছিল৷ পরে জেনেছি, ওরা ইসলামিক স্কুলের ছাত্রী এবং সরাসরি স্কুল থেকেই তখন নামাজে এসেছিল৷

শাড়ি বা কামিজ পরে গ্রামের মেয়েরা পুকুরে সাঁতার কাটে, এটা বাংলাদেশে খুবই স্বাভাবিক৷ কিন্তু তাই বলে নারীদের বোরকা বা হিজাব পরে সাঁতার কাটা, সেটাও আবার পুরুষদের সঙ্গে একই সুইমিং পুলে! হ্যাঁ, তেমনটাই দেখেছি মালয়েশিয়ায় বেড়াতে গিয়ে৷ সেখানে নারীরা বোরকা বা হিজাব পরেই সুইমিং পুলে সাঁতার কাটেন৷ যদিও ওখনকার সুইমিং পুলে কে কী পোশাক পরে নেমেছে, তা নিয়ে কেউ মাথা ঘামায় না৷

মাথার চুল দেখানো চলবে না

১৯৭৯ সালের পর থেকে ইরানের শাসকবর্গ মহিলাদের ‘শালীন’ পোশাক-আশাক পরিধানের নির্দেশ দিয়েছেন৷ এই ‘ড্রেস কোড’ অনুযায়ী মহিলাদের মাথার চুল পুরোপুরি ঢাকা থাকতে হবে; লম্বা ঢোলা পাতলুন আর ওভারকোট পড়তে হবে; সেগুলো যতদূর সম্ভব কালো বা ছাই রঙের হলেই ভালো৷

নীরব প্রতিরোধ

প্রায় চার দশকের নিপীড়ন সত্ত্বেও মহিলাদের সাহস অটুট৷ বহু ইরানি মহিলা কড়া ড্রেস কোডের নিজস্ব ব্যাখ্যা করে নিয়েছেন৷ তারা হিজাব আর বোরখা পরেন বটে, তবে নিজেদের মতো করে৷

সর্বত্র নিয়ন্ত্রণ

রঙচঙে আর খোলামেলা ফ্যাশন কাম্য নয়৷ প্রতিবছর গরমে পথেঘাটে নৈতিকতার প্রহরীদের নজরদারি বাড়ে৷ বিধিনিয়ম মেনে না চললে, পুলিশ পথ আটকায়, শুরু হয় লম্বা তর্ক-বিতর্ক, বাগবিতণ্ডা...

ফলশ্রুতি

‘মরাল পুলিশ’-কে সন্তোষজনক কারণ না দেখাতে পারলে অর্থদণ্ড, এমনকি কারাদণ্ডও হতে পারে৷ আটক মহিলাদের মুচলেকা দিতে হয় যে, তারা ভবিষ্যতে নিয়ম মেনে চলবেন৷ জেলহাজতে থাকাকালীন মহিলাদের জামাকাপড় ছিঁড়ে ফেলে নোংরা কালো ‘চাদর’ পরিয়ে বাড়ি পাঠানো হয়৷

রঙচঙে, আঁটোসাটো আর ছোট...

অনেক তরুণী শাস্তির ভয়েও সাজ ছাড়তে রাজি নন৷ নৈতিকতার প্রহরীদের দৌরাত্ম্য সত্ত্বেও কমবয়সি মহিলারা ক্রমেই আরো বেশি করে আধুনিক সাজপোশাকের দিকে ঝুঁকছেন৷ বহু মডেল সোশ্যাল মিডিয়ায় এই হালফ্যাশন পরিবেশন করে থাকেন৷

নিপীড়ন সত্ত্বেও ফ্যাশন

ইরানি মডেল শবনম মোলাভি এমনকি মার্কিন ফ্যাশন ম্যাগাজিন ‘এফএসএইচএন’-এর প্রচ্ছদও অলঙ্কৃত করেছেন৷ গত মে মাসে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়, ‘ইসলাম পরিপন্থি সংস্কৃতি’ প্রচারের দায়ে৷ কয়েকদিন পরে তিনি জামিনে ছাড়া পান৷

রোহানির আমলেও বোরখা বাধ্যতামূলক

তবে ফ্যাশন সচেতনতাকে অত সহজে নিষিদ্ধ করা যায় না৷ নৈতিকতার প্রহরীদের যাবতীয় উৎপাত ইরানি মহিলাদের ফ্যাশনেবল জামাকাপড় পরার শখ রোধ করতে পারেনি৷

নিষ্ফল প্রতিশ্রুতি

প্রেসিডেন্ট হাসান রোহানি ২০১২ সালের নির্বাচনি প্রচার অভিযানে ‘খোলা রাস্তায় হয়রানি’ বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন৷ কিন্তু যে বিশটির বেশি সংস্থা মহিলাদের পোশাক-আশাকের উপর নজর রাখার দায়িত্বে, তাদের একটি বড় অংশ রোহানির নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত৷

নৈতিক গোয়েন্দা পুলিশ

২০১৬ সালের এপ্রিল মাস থেকে সরকার নিজেই আরো প্রস্তুতি নিচ্ছে৷ তেহরানের পুলিশ প্রধান জানিয়েছেন যে, মোট সাত হাজার পুরুষ ও মহিলা সাদাপোশাকের গোয়েন্দা পুলিশ হিসেবে মহিলাদের সাজপোশাক ও আচার-ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা শুরু করেছেন৷

ইন্টারনেটে সংহতি

গত জুলাই মাসের শেষে ইরানি পুরুষরা #মাইনহিজাব (অর্থাৎ আমার হিজাব) হ্যাশট্যাগ দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি অভিযান শুরু করেন৷ তারা ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম নিজেদের হিজাব পরা অবস্থায় ছবি পোস্ট করে ইরানি মহিলাদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করছেন৷

মালয়েশিয়া না হয় মুসলিম দেশ, কিন্তু অ্যামেরিকাতেও বাঙালি নারীদের টি-শার্ট আর টাইটস পরে সুইমিং পুলে সাঁতার কাটতে দেখেছি৷ তবে আমি যেহেতু ইউরোপে থাকি, তাই বিষয়টা নিয়ে প্রশ্নও জাগে মনে৷

ইউরোপের মুসলিম নারীরা বিকিনি বা সুইম স্যুট পরতে না চাইলে তাঁদের কি সাঁতার কাটা বন্ধ হয়ে যাবে? তাঁদের জন্য সাঁতার কাটার বিশেষ পোশাক ‘বুর্কিনি' নিয়ে ইউরোপে যে হৈচৈ চলছে, তাতে এ প্রশ্ন উঠতেই পারে৷ এই যেমন, ফ্রান্সের কিছু কিছু জায়গায় গোসলের জন্য ব্যবহৃত এই লম্বা পোশাক নিষিদ্ধই করে দেওয়া হয়েছিল৷ পরে অবশ্য এর বিরুদ্ধে আদালতে আপিল করা হয়৷ এ নিয়ে বিতর্ক আজও শেষ হয়নি৷

সে যাই হোক, একটা কথা বলাই যায় যে হিজাব পরার প্রবণতা বাংলাদেশের নারীদের মধ্যে যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে বিদেশে বসবাসকারী বাংলাদেশি ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের মধ্যেও৷ এটা আমি দেখেছি অ্যামেরিকা, ক্যানাডা, ইংল্যান্ড এবং ইউরোপের অন্যান্য দেশে৷

জার্মানিতে বাঙালি নারীদের হিজাব পরার যে প্রবণতা শুরু হয়েছে, তার বয়স খুব বেশি দিন নয়৷ তবে এ কথা ঠিক যে, অন্যান্য মুসলিম নারী, বিশেষ করে তুর্কি মহিলারা বহু আগে থেকেই স্কার্টের মতো সাধারণ পোশাকের সাথে মাথায় হিজাব পরতেন৷

DW Programm Hindi Redaktion Nurunnahar Sattar

নুরুননাহার সাত্তার, ডয়চে ভেলে

তাছাড়া দিনদিন পরিস্থিতি বদলাচ্ছে৷ গত কিছুদিন বিভিন্ন দেশ থেকে জার্মানিতে যে শরণার্থী এসেছেন, তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগই মুসলিম৷ এ কারণে এখন রাস্তায় বেরোলেই আগের চেয়ে অনেক বেশি হিজাব পরা নারী দেখতে পাই৷ এই তো সেদিন, রাস্তায় বেশ কয়েকজন নারীকে দেখলাম, যাদের মাথা থেকে পা পর্যন্ত কালো নিকাবে ঢাকা৷ জার্মানিতে এরকম নিকাব দেখতে মানুষ তেমন একটা অভ্যস্ত নয়৷ ফলে কালো নিকাবে ঢাকা নারীদের দেখে কেউ কেউ বিরূপ মন্তব্যও করেন৷

কিছু প্রশ্ন অবশ্য থেকেই যায় – হিজাব বা বোরকার আধিক্যের কারণ কি ধর্মীয় অনুভূতি? নাকি পরিবার বা সামাজিক চাপ থেকেই বোরকা পরতে বাধ্য হচ্ছে নারী? নাকি তাঁরা মাথায় হিজাব পরছেন শুধুমাত্র ফ্যাশন করার জন্য?

আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

বর্তমানে হিজাব প্রসঙ্গটি সারা বিশ্বেই আলোচিত৷ যেমন বাংলাদেশে, তেমনি ইউরোপ-অ্যামেরিকা বা অন্যান্য দেশে৷ ৮০ বা ৯০-এর দশকেও বাংলাদেশে অল্প সংখ্যক মহিলাদের সাধারণ বোরকা পরতে দেখেছি৷ তবে তারপর যখনই বাংলাদেশে গেছি, তখনই নারীদের পর্দা করার ক্ষেত্রে বেশ কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করেছি৷ আর আজকাল তো হিজাব পরা নারীদের সংখ্যা এতটাই বেড়ে গেছে যে, রাস্তায়, অফিত-আদালতে বা সামাজিক অনুষ্ঠানে হিজাব পরা নারীর সংখ্যাই বেশি বলে মনে হচ্ছে৷ অথচ আমাদের মা, চাচিদের দেখেছি তাঁরা বাড়ির বাইরে গেলে কিংবা মুরুব্বিদের দেখলে মাথায় ঘোমটা বা শাড়ির আচল তুলে দিতেন৷ আমি বলছি সেই সত্তর দশকের কথা৷ আসলে মাঝে মাঝে জানতে ইচ্ছে করে, মহিলাদের মধ্যে এই পরিবর্তন কি তাঁদের ধর্মীয় অনুভূতি থেকে এসেছে? নাকি পুরুষতান্ত্রিক সমাজে পরিবার এবং পুরুষদের ধর্মীয় মূল্যবোধকে অগ্রাধিকার দিতেই নারীদের হিজাব করার প্রবণতা বাড়ছে?