ব্লগওয়াচ

সংশয় দূর করলেন সাকিব, তবুও চলছে আলোচনা

গত কয়েকদিন ধরেই ক্রিকেট থেকে সাকিব আল হাসানের সাময়িক ছুটির সিদ্ধান্ত নিয়ে হৈ চৈ চলছে গণমাধ্যমে৷ অবশেষে সাকিব নিজেই সংবাদ সম্মেলন এবং ফেসবুকে বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন৷ কিন্তু এরপরও থেমে নেই আলোচনা৷

default

টেস্ট ক্রিকেট থেকে ৬ মাসের বিশ্রাম চেয়েছিলেন এই অলরাউন্ডার৷ তবে পেয়েছেন একটি টেস্ট সিরিজ না খেলার সুযোগ৷ এ নিয়েই চলছিল নানা ধরনের আলোচনা৷ ভক্তদের মনে জেগেছিল নানা প্রশ্ন৷ সব সংশয়ের অবসান ঘটাতেই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়েছিলেন সাকিব আল হাসান৷

জানিয়েছেন, যেহেতু অনেক বেশি খেলা হয়, তাই তাঁর ফিটনেসটাও (ট্রেনিং) ওভাবে করা হয় না বা করা হলেও মানসিকভাবে চাঙা থাকার যে ব্যাপারটি আছে, সেটি হয় না৷ অনেকটা বিরামহীনভাবেই ১০-১১ বছর ধরে খেলে চলেছেন৷ তাই এবার একটু বিরতি প্রাপ্য হয়ে গিয়েছিল বলে মনে করেন তিনি৷

নিজের ফেসবুক পাতায়ও ভক্তদের উদ্দেশে এমন কথাই লিখেছেন সাকিব, ‘‘আপনারা জানেন আমি গত কয়েক বছর ধরে দেশের গৌরবের জন্য বিরতিহীন ক্রিকেট খেলে যাচ্ছি , যার কারণে আমার অনেক শারীরিক ও মানসিক ধকল যাচ্ছে৷ এই ব্যাপারটি মাথায় রেখে আমি ঠিক করেছিলাম, আসন্ন দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্ট সিরিজের দুটি টেস্টে সামিয়িক বিরতি নেবো৷ বিসিবি বিষয়টি তাদের বিজ্ঞ বিবেচনায় নিয়ে আমাকে খেলা থেকে বিরতি নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে৷

ফলে, আমি মনে করি, সাময়িক এই বিরতি আমাকে আগামী খেলাগুলোর জন্য আরো শক্তি ও মনোবল জোগাবে এবং আমাকে ও পুরো দলকে আগামীতে সাফল্যের চূড়ায় নিয়ে যেতে সাহায্য করবে৷ আমি সবাইকে ধন্যবাদ জানাতে চাই সীমাহীন ভালোবাসা ও অনুপ্রেরণা দেওয়ার জন্য৷ আসুন সবাই সামনের দক্ষিণ আফ্রিকা টেস্ট সিরিজের জন্য আমাদের টাইগারদের সাফল্য কামনা করি৷’’

এদিকে, সাকিব বিরতি নেয়ায় প্রধান নির্বাচকের জন্য এটা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ ডয়চে ভেলের কন্টেন্ট পার্টনার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন বলেছেন, ‘‘কাজটি সহজ ছিল না মোটেও৷ দল নির্বাচনে সাকিবের নামটি লিখে তবেই আমরা এগিয়ে যাই৷ এবার সেই সাকিবের বিকল্প ভাবতে হচ্ছে আমাদের৷’’

সাকিব আল হাসানের সংবাদ সম্মেলন এবং ফেসবুকে ঘোষণার পরও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনার ঝড় বইছে৷

শরিফুল ইসলাম ফেসবুক পাতায় লীখেছেন, ‘‘সাকিব আল হাসান শারীরিক বা মানসিকভাবে মোটেই অসুস্থ বা ক্লান্ত নন৷ তিনি এটা একগুঁয়েমি করলেন বা প্রতিশোধ নিলেন৷’’

সজীব চক্রবর্ত্তী অবশ্য লিখেছেন, সাকিব ছাড়া বাংলাদেশের টেস্ট খেলা দেখার আগ্রহ কমে যাবে৷ তিনি লিখেছেন, ‘‘সাকিব ছাড়া টেস্ট কল্পনা করা যেমন কঠিন, খেলা দেখারও আগ্রহ থাকবে না৷ সাকিব স্বেচ্ছায় বিশ্রামে গেল৷ সাকিব ছাড়া টেস্ট এত সহজ হবে না হাড়ে হাড়ে টের পাবে দল আর হাতুড়ে৷ নাসিরকে আবার তার পুরনো চাকরি দেয়া হয়েছে, পানি টানার৷ জানি না কী হবে৷ মিস করব সাকিবকে৷’’

নাজমিন আক্তার জানিয়েছেন সাকিবের বিরতি নেয়ার কথা শুনে তার বিরক্তি লেগেছিল৷ তবে তাঁর সংবাদ সম্মেলন দেখে সেই বিরক্তি কেটে গেছে৷ তিনি লিখেছেন, ‘‘কালকের পুরো সাক্ষাৎকার দেখে এখন মনে হচ্ছে, টানা ১১ বছর সার্ভিস দেয়ার পর এরকম একটা বিরতি তিনি চাইতেই পারেন৷ দরকার আছে৷ মনের উপর তো জোর চলে না৷  ইনজুরিমুক্ত একটা সাকিব আল হাসানকে আগামী ৪/৫ বছর দেখতে হলে যদি দুই টেস্ট না খেলে, তাহলে তাই সই৷’’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘‘কয়েকদিন আগেও যারা বেয়াদবমুক্ত ক্রিকেট দল চাই স্লোগান দিত, প্রতি ঘণ্টায় তারাই এখন বলছে, সাকিব খেলবে না মানে? তার চৌদ্দগোষ্ঠী খেলবে৷’’

মো. রবিউল খান অবশ্য সাকিবের এই বিরতি মেনে নিতে পারছেন না৷ তিনি লিখেছেন, ‘‘যে কারণেই এ সিদ্ধান্ত নিক না কেন সাকিবের এরকম সিদ্ধান্ত মানা যায় না, কেননা, সাকিব একাদশে থাকলে আমার মনে হয়, ১২ জন নিয়ে খেলি৷ ও না থাকলে ওর অভাব কেউ পূরণ করতে পারবে না৷ সেই সাথে হয়ত আমাদের টেস্টে উন্নতির অগ্রযাত্রাটা থেমে যাবে৷’’

হৃদয় ইসলামের কণ্ঠেও অনেকটা রবিউলের সুর৷ তিনি লিখেছেন, ‘‘দক্ষিণ আফ্রিকা টেস্ট সিরিজে দেখা যাবে না জীবন্ত কিংবদন্তি সাকিব আল হাসানকে৷ সাকিব আল হাসান দলে না থাকা মানে দুইজন প্লেয়ার কমে যাওয়া৷ ব্যাটিং, বোলিং করে একাই দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতেন তিনি৷ বিরতি পেলে হয়তো বস আবার নতুন উদ্যমে ফিরতে পারবেন৷ বাংলাদেশ টেস্ট ক্রিকেটের উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম হলো সাকিব আল হাসান৷ খুব মিস করবো দক্ষিন আফ্রিকা টেস্ট সিরিজে৷ আবারও তাঁকে দেখা যাবে ডিসেম্বরে ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কা টেস্ট সিরিজে৷ মিস ইউ টেস্ট ক্রিকেটের বরপুত্র সাকিব আল হাসান৷’’

নাজমুল মনি সাকিবের বিরতির সংবাদ শুনে বিরাট একটা ধাক্কা খেয়েছেন বলে লিখেছেন৷ তিনি ফেসবুকে প্রশ্ন রেখেছেন, ‘‘আচ্ছা, বাংলাদেশ বছরে কয়টা টেস্ট খেলে? সাকিব বিশ্রাম চেয়েছেন এতে আমার কোনো আপত্তি নাই, বাংলাদেশের হয়ে তিন ফরম্যাটে বিরতিহীনভাবে খেলে চলেছেন, খেলছেন বিশ্বজুড়ে টি টোয়েন্টি লিগ৷ সুতরাং বিশ্রাম সাকিবের দরকার৷ এই কথাটা সাধারণ দর্শকরাও বলেছিল কিছুদিন আগেও৷ কিন্তু সেটা যে জাতীয় দলের খেলা থেকে বিশ্রাম, সেটা কল্পনা করিনি৷ সাকিব যদি সিদ্ধান্ত নিয়েই থাকেন বিশ্রাম নেবার তাহলে সেটা অন্যভাবে ম্যানেজ করা যেতো৷ তাছাড়া এই বছর তুলনামূলক ম্যাচ কমই খেলেছেন সাকিব, আইপিএলে সাইড বেঞ্চে বসে থেকেছেন৷ ফলে ডিপিএল এবং চ্যাম্পিয়নস ট্রফির কন্ডিশনিং ক্যাম্পে অংশ নেননি৷ চ্যাম্পিয়নস ট্রফির পর পাকিস্তান সফর বাতিল করায় লম্বা ছুটি পেয়েছেন সব ক্রিকেটার৷ তারপরও যদি বিশ্রামের প্রয়োজন মনে করেন, তাহলে তিনি সিপিএল বাদ দিতে পারতেন, অথবা বিপিএল! টেস্ট থেকে বিশ্রামের সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই মেনে নিতে পারলাম না৷’’

সংকলন: অমৃতা পারভেজ

সম্পাদনা: আশীষ চক্রবর্ত্তী

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

Albanian Shqip

Amharic አማርኛ

Arabic العربية

Bengali বাংলা

Bosnian B/H/S

Bulgarian Български

Chinese (Simplified) 简

Chinese (Traditional) 繁

Croatian Hrvatski

Dari دری

English English

French Français

German Deutsch

Greek Ελληνικά

Hausa Hausa

Hindi हिन्दी

Indonesian Bahasa Indonesia

Kiswahili Kiswahili

Macedonian Македонски

Pashto پښتو

Persian فارسی

Polish Polski

Portuguese Português para África

Portuguese Português do Brasil

Romanian Română

Russian Русский

Serbian Српски/Srpski

Spanish Español

Turkish Türkçe

Ukrainian Українська

Urdu اردو