সংসদে নেই, তবুও আলোচনায় এফডিপি

জার্মানির সংসদের নিম্ন কক্ষ বুন্ডেসটাগে কোনো আসন না থাকলেও আলোচনা থেমে নেই ফ্রি ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এফডিপি) বা মুক্ত গণতন্ত্রী দল নিয়ে৷

জার্মানির সংসদের নিম্ন কক্ষ বুন্ডেসটাগে কোনো আসন না থাকলেও আলোচনা থেমে নেই ফ্রি ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এফডিপি) বা মুক্ত গণতন্ত্রী দল নিয়ে৷

সম্প্রতি দেশটির সবচেয়ে জনবহুল রাজ্যের মোড়ঘোরানো নির্বাচনে তৃতীয় স্থানে চলে এসে চমক দেখিয়েছে তারা৷ এবার দৃষ্টি দিয়েছে রাজধানী বার্লিনের দিকে৷

ছোট দল আর সীমিত জনসমর্থন নিয়েও একটি দল কীভাবে ক্ষমতার চাবি নিজেদের মতো করে ঘোরাতে পারে তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এফডিপি৷

আগামী সেপ্টেম্বরের নির্বাচনের পর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের রক্ষণশীল দল নিজেদের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে দেশ চালাবে – এমন সম্ভাবনা নেই বললেই চলে৷ তাই তারা যদি সামাজিক গণতন্ত্রী এসপিডির সাথে আরেকটি মহাজোট সরকার না করতে চায়, তাহলে হয়তো দৃষ্টি দিতে হবে ব্যবসা-বান্ধব মধ্যপন্থি এফডিপির দিকে৷

অতীতে উদার হিসাবে পরিচিত এই দলটির চ্যান্সেলর কনরাড আডেনাউয়ার থেকে হেলমুট কোল হয়ে ম্যার্কেল পর্যন্ত রক্ষণশীল নেতৃত্বাধীন জোট সরকারে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে৷

রাজনীতি

প্রাণী সুরক্ষা দল

জার্মানিতে প্রাণী অধিকার বিষয়ক অ্যাক্টিভিস্টরা সুযোগ পেলে পুরো হাইওয়ে বন্ধ করে দেন যাতে ব্যাঙেরা নিরাপদে রাস্তা পার হতে পারে৷ এমন দেশে তাই ‘অ্যানিমেল প্রোটেকশন পার্টি’ বা প্রাণী সুরক্ষা দল থাকবে না, তা কি হতে পারে? তবে গ্রিন পার্টির কারণে এ দলের পালে হাওয়া কম থাকে৷ ২০১৩ সালে সাক্যুল্যে ১৪০,০০০ ভোট পেয়েছিল দলটি, যেখানে জার্মানিতে ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৬২ মিলিয়ন৷

রাজনীতি

দ্য রিপাবলিকানস

ব্যাপারটা কিছুটা বিভ্রান্তিকর৷ জার্মানির রয়েছে নিজস্ব রিপাবলিকান পার্টি, নাম আরইপি৷ তবে এই দলের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কোনো সম্পর্ক নেই৷ জার্মান রিপাবলিকনরা হচ্ছেন ডানপন্থি জাতীয়তাবাদী, যারা নিজেদের ‘রক্ষণশীল দেশপ্রেমিক’ এবং দেশের ‘সংস্কৃতি এবং আত্মপরিচয়’ রক্ষায় লড়াইরত বলে মনে করেন৷

রাজনীতি

দ্য পার্টি

হ্যাঁ, এই দলের নাম ‘দ্য পার্টি’৷ জার্মানির স্যাটায়ার ম্যাগাজিন ‘টাইটানিক’ এর সম্পাদকরা ২০০৪ সালে এই দলটি প্রতিষ্ঠা করেন৷ দলটির প্রধান হচ্ছেন মার্টিন স্যোনেবর্ন (ছবিতে)৷ ২০১৪ সালে তিনি ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টে দলটির জন্য একটি আসন নিশ্চিত করেন৷ ভবিষ্যতে দলটির অবস্থা আরো ভালো হতে পারে৷ গত নির্বাচনে তাদের জুটেছিল সাক্যুলে ৭৯,০০০ ভোট৷

রাজনীতি

গণভোট দল

জার্মানির রেফারেন্ডাম পার্টি বা গণভোট দলের কাছে সুইজারল্যান্ড এক বিশাল অনুপ্রেরণা৷ দলটি চায় দেশের সব রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গনভোটের মাধ্যমে জনগণ নেবে৷ সুইজারল্যান্ডে ২০১৬ সালে তেরোটি গণভোটের আয়োজন করা হয়েছিল৷

রাজনীতি

মার্ক্সিস্ট-লেনিনিস্ট পার্টি

জার্মানির এমএলপিডি একটি ছোট দল, যদিও দেশটির অর্ধেক মানুষ এক সময় কমিউনিস্ট ছিলেন৷ মানে ১৯৪৯ থেকে ১৯৮৯ সাল অবধি যখন জার্মানি দুই ভাগে বিভক্ত ছিল৷ তৎকালীন পূর্ব জার্মানি তখন শাসন করেছিল সোশ্যালিস্ট ইউনিটি পার্টি৷ বর্তমানে উগ্র বামপন্থি এমএলপিডি’র জার্মান রাজনীতিতে কোনো ভূমিকা নেই৷ গত নির্বাচনে তারা পেয়েছিল মাত্র ২৪,০০০ ভোট৷

রাজনীতি

ক্রিশ্চিয়ানস ফর জার্মানি

‘অ্যালায়েন্স সি - ক্রিশ্চিয়ানস ফর জার্মানি’ একটি ক্রিশ্চিয়ান পার্টি, যেটির যাত্রা শুরু হয় ২০১৫ সালে৷ খ্রিষ্টান-মৌলবাদীদের একটি দল এবং শ্রমিক, পরিবেশ এবং পরিবারভিত্তিক একটি দল একত্র হয়ে এই দল গড়ে৷ বাইবেলের মান রক্ষা করে দেশ পরিচালনা করতে চায় এই দল৷

রাজনীতি

দ্য পেনশনারস

এই দলকে ২০১৭ সালের নির্বাচনের ব্যালট পেপারে আর দেখা যাবে না, কেননা, দলটি অবসর ঘোষণা করেছে৷ দ্য পেনশনারস দলটি ২০১৩ সালের নির্বাচনে ২৫,০০০ ভোট পেয়েছিল৷ গত বছর দলের কর্মকর্তারা দলটি ভেঙ্গে দেন৷

মধ্যপন্থি হওয়ার কারণে সামাজিক গণতন্ত্রীদের সঙ্গেও যায় মুক্ত গণতন্ত্রীরা৷ এফডিপি সামাজিক গণতন্ত্রীদের নির্বাচিত চ্যান্সেলর ভিলি ব্রান্ট এবং হেলমুট স্মিট-এর সময়ে জোট সরকারের অংশীদার ছিল৷ পূর্ব জার্মানির কমিউনিস্ট পার্টির উত্তরাধিকারী বামদলের সঙ্গে এসডিপির জোট গঠনের বিরুদ্ধে বেশ বড় বিক্ষোভ হয়েছিলো৷ সুতরাং মার্টিন শুলৎসের নেতৃত্বাধীন এসপিডিরও জোট করার জন্য মুক্ত গণতন্ত্রী বা সবুজ দল ছাড়া অন্য উপায় নেই৷

বর্তমানে দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন তরুণ চেয়ারম্যান ক্রিস্টিয়ান লিন্ডনার৷ এমনও হতে পারে, তাঁর পছন্দই আঙ্গেলা ম্যার্কেল বা মার্টিন শুলৎসের একজনকে চ্যান্সেলর বানিয়ে দিতে পারে৷

এফডিপি এতটাই গুরুত্বপূর্ণ?

দলটি টানা ৬৪ বছর সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছে৷ তবে ২০১৩ সালে ৫ শতাংশ ভোট না পাওয়ায় তারা সংসদের প্রতিনিধিত্ব হারায়৷ এর কারণ হিসাবে অনেকাংশে নেতৃত্বকে দায়ী করা হয়৷ ব্যাপকভাবে এমন ধারণাও রয়েছে যে, দলটি কেবল ক্ষমতায় থাকতে চায়, আইন প্রণয়নে তাদের কোনো সুনির্দিষ্ট নীতি নেই৷ ৩৮ বছর বয়স্ক লিন্ডনার এ সব বিষয় থেকে বের হয়ে আসার চেষ্টা করছেন৷ সম্ভাব্য জোট সহযোগী নির্ধারণ না করে তিনি রাজনৈতিক অবস্থানের উপর গুরুত্ব দিচ্ছেন

এফডিপি কী করতে চায়?

তাদের দুইটা প্রধান নীতি হলো, বেসরকারি খাতে কোনো ধরনের সরকারি হস্তক্ষেপ বা প্রণোদনা থাকবে না৷ বাজার হবে একেবারে উন্মুক্ত৷ ব্যক্তির জীবনে রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ ন্যূনতম পর্যায়ে নিয়ে আসতে হবে৷

গত ৩০ এপ্রিল পার্টি কনফারেন্সে প্ল্যাটফর্ম অনুমোদন হয়েছে৷ সেখানে দুটি বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হয়, ডিজিটাইজেশন এবং শিক্ষা৷ তারা দেশের ডিজিটাল অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং ডিজিটাল অ্যাফেয়ার্স নামে একটা মন্ত্রণালয় সৃষ্টি করার অঙ্গীকার করছে৷ স্কুল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে বিনিয়োগ বাড়াতে চায়৷

মুক্ত গণতন্ত্রীরা দ্বৈত নাগরিকত্বকে সমর্থন করে৷ সিডিইউ-সিএসইউ সেটা করে না৷ এফডিপি তৃতীয় প্রজন্মে এসে অভিবাসীদের এক নাগরিকত্ব রাখার পক্ষে৷ উদ্বাস্তু সংকট মোকাবিলায় ম্যার্কেল সরকারের পদক্ষেপেরও সমালোচনা করেছেন লিন্ডনার৷ তিনি বলেছেন, ‘এই মানুষদের যথাযথ স্বাস্থ্য সুবিধা দেয়া হয়নি'৷ আশ্রয়ের আবেদন খারিজ হওয়ার সংশ্লিষ্টদের দ্রুত নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর আহ্বান জানান৷

চ্যান্সেলর কে হবেন?

জার্মানির সবচেয়ে বড় দল দুটি হচ্ছে খ্রিষ্টীয় গণতন্ত্রী (সিডিইউ) এবং সামাজিক গণতন্ত্রী (এসপিডি)৷ স্বাভাবিকভাবেই সেপ্টেম্বরের নির্বাচনে এই দু’টি দলের চ্যান্সেলর পদপ্রার্থী থেকে কোনো একজন চ্যান্সেলর হবেন ধরে নেয়া যায়৷ তাসত্ত্বেও এই পদে অন্যান্য বড় দলগুলোরও প্রার্থী রয়েছে৷ চলুন চ্যান্সেলর প্রার্থীদের জানা-অজানা দিকগুলো জেনে নেয়া যাক৷

ক্ষমতার উচ্চশিখরে

৫৯ বছর বয়সি আঙ্গেলা ম্যার্কেল গত আট বছর ধরে জার্মানি শাসন করছেন৷ পূর্ব জার্মানির অন্যতম এক গণতান্ত্রিক দলে ১৯৮৯ সালে তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু হয়৷ এরপর তিনি রক্ষণশীল দল সিডিইউ-তে যোগ দেন৷ চ্যান্সেলর হিসেবে ম্যার্কেল তরুণ জার্মানদের বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা বাতিল করেছেন এবং পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদনের ইতি টানার ব্যবস্থা করেছেন৷

ভ্রমণ, রান্না, শাসন

ম্যার্কেলকে পৃথিবীর অন্যতম প্রধান ক্ষমতাধর নারী হিসেবে বিবেচনা করা হয়৷ এই নারী প্রকৃতি ভালোবাসেন৷ তাঁর প্রিয় দু’টি শখ হচ্ছে স্বামীর সঙ্গে গ্রামের পথ ধরে হাঁটা এবং রান্না করা৷ ম্যার্কেল বড় হয়েছেন সাবেক পূর্ব জার্মানিতে৷ পদার্থ বিদ্যায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন তিনি৷

সত্যিকার অর্থেই কঠিন প্রার্থী...

৬৬ বছর বয়সি পেয়ার স্টাইনব্রুক চলতি নির্বাচনে এসপিডি-র চ্যান্সেলর প্রার্থী৷ ২০০৫ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তিনি ম্যার্কেলের অধীনে অর্থমন্ত্রী ছিলেন৷ স্টাইনব্রুক ভবিষ্যতে আর কখনো ম্যার্কেলের অধীনে কাজ না করার ঘোষণা দিয়েছেন৷ এই অর্থনীতিবিদ নির্বাচনি প্রচারে জার্মানিতে একটি ন্যূনতম মজুরি কাঠামো এবং বাড়ি ভাড়া নির্ধারণের সুনির্দিষ্ট নীতির কথা বলেছেন৷

...কৌশলের দিকে গুরুত্ব

মাত্র ছয় বছর বয়স থেকে দাবা খেলছেন পেয়ার স্টাইনব্রুক৷ কোনো বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করলেও একটি দাবা কম্পিউটারকে হারানোর চেষ্টা করছেন তিনি৷ এই এসপিডি প্রার্থী একসময় বলেছিলেন, দাবা হচ্ছে এমন এক খেলা যেখানে একজন ব্যক্তি সবসময় প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ভালো করার চেষ্টা করেন৷

একটি অসম যৌথ নেতৃত্ব

সবুজ দলের দুই প্রার্থী কার্যত সবাইকে প্রতিনিধিত্ব করছেন৷ ৪৭ বছর বয়সি কাটরিন গ্যোরিং-একার্ট মধ্যবিত্ত আর ৫৯ বছর বয়সি ইয়ুর্গেন ট্রিটিন দলের বামপন্থীদের প্রতিনিধি৷ কাটরিন এসেছেন পূর্ব জার্মানি থেকে ইয়ুর্গেন পশ্চিম জার্মানির৷ উভয়েই জার্মানির উচ্চবেতনধারীদের উপর উচ্চকর আরোপের পক্ষে এবং দু’জনই ‘জেনারেল মেম্বারশিপ’ ভোটে বিজয়ী হয়েছেন – জার্মানিতে প্রথমবারের মতো এটা ঘটেছে৷

বাইরে সরব, বাড়িতে নিরব

সবুজ দলের শীর্ষ প্রার্থী ইয়ুর্গেন ট্রিটিন বেশ স্থির স্বভাবের মানুষ৷ এমনকি সম্প্রতি এক নৌকা দুর্ঘটনায় ডুবে যাওয়ার শঙ্কায় থাকলেও তিনি খুব একটা উদ্বিগ্ন হননি৷ সাবেক এই পরিবেশমন্ত্রী কোনো রকম বাড়তি নিরাপত্তা ছাড়াই মিছিলে সামিল হয়ে পরিবেশ বাঁচাতে এবং বর্ণবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে পছন্দ করেন৷ এই সমাজবিজ্ঞানী বাড়িতে অবশ্য নিরব থাকেন৷

সবুজ নর্তকী

অন্যদিকে কাটরিন গ্যোরিং-একার্ট নাচ শিখেছেন বাবার কাছ থেকে৷ বাবার নাচের স্কুল থেকে শিক্ষা নিয়ে তিনি বিভিন্ন প্রতিযোগিতায়ও অংশ নিয়েছেন৷ আর তখন থেকেই বড় আয়োজনে সাবলিলভাবেই অংশ নেন তিনি৷ ব্যক্তিজীবনে দুই সন্তানের জননী ক্যাথরিন৷

ব্যবসা, অর্থনীতি, ব্রুডারলে

মুক্তগণতন্ত্রী দলের (এফডিপি) শীর্ষপ্রার্থী রাইনার ব্রুডারলের বয়স এখন ৬৮৷ তিনি পুরোপুরি ব্যবসামনষ্ক রাজনীতিবিদ৷ অর্থমন্ত্রী হিসেবে কেরিয়ার শুরুর পর থেকে তাঁর কাজে অর্থনীতিই প্রাধান্য পাচ্ছে৷ রাজ্য নির্বাচনগুলাতে এফডিপির শোচনীয় হারের পর দলের সব পদ থেকে পদত্যাগ করেন ব্রুডারলে৷ বর্তমানে তিনি জার্মান সংসদের নিম্নকক্ষ বুন্ডেসটাগে দলের নেতা হিসেবে রয়েছেন৷

ব্যক্তিগত বিষয়ে কথা নয়...

জুন মাসের মাঝামাঝি সময় এক দুর্ঘটনায় ব্রুডারলের এক পা এবং এক হাত ভেঙে যায়৷ নির্বাচনের প্রাক্কালে এই দুর্ঘটনা তাঁকে ভাবিয়ে তুলেছিল, দ্রুত সেরে উঠতে চেয়েছিলেন তিনি৷ সপ্তাহখানেক পুর্নবাসন কেন্দ্রে কাটিয়ে দ্রুত ফিরেছেনও ব্রুডারলে৷ এই তেজস্বী রাজনীতিবিদ তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ব্যক্তিগত রাখতেই পছন্দ করেন৷ যতটুকু সবাই জানে তাহচ্ছে তিনি বিবাহিত, ইভানগেলিকাল এবং মাইনৎসের বাসিন্দা৷

বাম এবং আরো বামপন্থী

বাম দলের উপ-প্রধান সারা ভাগেনক্নেষ্ট (৪৪) এবং প্রধান গ্রেগর গিসি (৬৫) একে অপরকে বিশেষ পছন্দ করেন না৷ একসঙ্গে কাজ করাও কোনো আগ্রহ তাঁদের মধ্যে নেই৷ তাসত্ত্বেও দু’জনই দলের পক্ষে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন৷ এই দু’জনকে ঝগড়া থেকে দূরে রাখতে দলের অপর ছয় প্রার্থী চেষ্টা করছেন৷

বামপন্থীর ব্যক্তিজীবন

সারা ভাগেনক্নেষ্টকে নিঃসঙ্গ মনে করা হয়, তবে তিনি তাঁর ব্যক্তিজীবনের নানা দিক বাম দলের সাবেক চেয়ারম্যান অস্কার লাফনটেনের সঙ্গে শেয়ার করেন৷ নিজের একাকী জীবন প্রসঙ্গে সারার বক্তব্য হচ্ছে, ‘‘পড়ার এবং ভাবার জন্য আমার সময় এবং স্বাধীনতা প্রয়োজন৷’’ পিএইচডিধারী এই রাজনীতিবিদ আসলে শিক্ষাজীবনে বিজ্ঞানী হতে চেয়েছিলেন৷

একজন সুবক্তা

ছোটবেলায় সোভিয়েত চলচ্চিত্রের হাস্যরসাত্মক বিভিন্ন চরিত্রের প্রতি আসক্ত ছিলেন গ্রেগর গিসি৷ বর্তমানে তিনি থিয়েটার নিয়ে আলোচনা করতে, গদ্য পড়তে আর ক্ল্যাসিক মিউজিক শুনতে ভালোবাসেন৷ এই প্রশিক্ষিত আইনজীবী এখন খানিকটা সতর্ক জীবনযাপন করছেন৷ তাঁর হৃদযন্ত্রে সমস্যা ধরা পড়েছে৷

স্বচ্ছলদের দল এফডিপি কর ছাড়েও খুশি হয়৷

এফডিপির ইতিহাস ভাগ্য বদলের ইতিহাস৷ দশকের পর দশক তারা সরকারে অংশ নিয়েছে৷ ‘কিংমেকার' হিসাবে তারা তাদের প্রভাব দেখাতে চায়৷ ১৯৮২ সালে দলটির মন্ত্রী সামাজিক গণতন্ত্রীদের চ্যান্সেলর স্মিটকে ত্যাগ করে৷ রক্ষণশীলদের কোল-এর উত্থানে ভূমিকা রাখেন৷ হেলমুট কোল-এর সঙ্গে এফডিপি থেকে হওয়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী হান্স-ডিট্রিশ গেনশারকে দুই জার্মানির একত্রীকরণের অনুঘটক মনে করা হয়৷

১৯৯৮ সালে এসপিডির গেয়ারহার্ড শ্র্যোডার সবুজ দলের সঙ্গে জোট করে ক্ষমতায় গেলে ২৯ বছর পর সরকারের বাইরে চলে যায় এফডিপি৷ এ সময় দলটি পরের নির্বাচনে ১৮ শতাংশ ভোট পাওয়ার লক্ষ্যও নির্ধারণ করে৷

২০০৯ সালের নির্বাচনে দলটি ১৪ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট পায় এবং ম্যার্কেলের সরকারে যোগ দেয়৷ তবে এ সময় সবকিছু ভালোভাবে কাটেনি৷

দলটি নেতা গিডো ভেস্টারভেলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হন৷ তবে তাঁকে নিয়ে বিভিন্ন সময় ব্যাপক সমালোচনা হয়৷ প্রথম সংবাদ সম্মেলনেই বিবিসির এক সাংবাদিককে জার্মান ভাষায় কথা বলতে বলে তিনি সমালোচিত হন৷ একের পর এক স্থানীয় নির্বাচনে হারতে থাকে তারা৷ ২০১৩ সালের জাতীয় নির্বাচনে এসে দলটি পায় ৪ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট৷ যাতে দলটি সংসদে প্রতিনিধিত্ব হারায়৷ এরপরই লিন্ডনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন৷

এফডিপির সামনের সুযোগ

মুক্ত গণতন্ত্রীদের অনেক সদস্য রয়েছে৷ কিন্তু মানুষের জন্য তাদের বার্তা কী? বর্তমান নেতা লিন্ডনার গণমাধ্যম বান্ধব এবং তাঁর গ্রহণযোগ্যতাও রয়েছে৷ কিন্তু জনগণকে একতাবদ্ধ করার মতো ইস্যুর খরায় রয়েছে দলটি৷

অবশ্য সম্প্রতি জার্মানির সবচেয়ে জনবহুল নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়ার নির্বাচনে এফডিপি সফলতা পেয়েছে৷

রক্ষণশীলদের সাথে এফডিপির দ্বি-দলীয় জোট সম্ভব৷ সেটা হলে চার বছর পর ক্ষমতায় ফিরবে দলটি৷ সবুজ দলের সঙ্গে মিলে রক্ষণশীল বা সামাজিক গণতন্ত্রী যে কারো সঙ্গে তারা ক্ষমতায় ফিরতে পারে৷ অবশ্য সবুজ দলের সঙ্গে তাদের ঐতিহ্যগত প্রতিযোগিতা সেই সম্ভবনাকে কমিয়ে দেয়৷ একটা সময় তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তি ছিল এফডিপি৷ সবুজ দল এই স্থানটি কেড়ে নিয়েছে৷ এটা তারা কোনোদিনই ভুলতে পারেনি৷

সবকিছুর মধ্যে অনেকেই মনে করছেন, আগামী সেপ্টেম্বরের নির্বাচনে মুক্ত গণতন্ত্রী দল এফডিপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে৷