সন্তান জন্মের সময় মা ছুটি পেলে বাবা পাবেন না কেন?

ভারতে মাতৃত্বকালীন ছুটি ১২ সপ্তাহ থেকে বাড়িয়ে ২৬ সপ্তাহ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার৷ এই সবেতন ছুটি সব প্রতিষ্ঠানেই প্রযোজ্য হবে৷তবে দাবি উঠেছে, শিশুসন্তানের দেখভালে মায়েদের সাহায্য করতে পিতাদেরও সবেতন ছুটি পাওয়া উচিত৷

আপনি কী ভাবছেন?

এখানে ক্লিক করুন ও আলোচনায় যোগ দিন

একটা সময় ছিল যখন সংসারে বা পরিবারে নারী-পুরুষের ভূমিকা ভাগ করা ছিল৷ শিশু প্রতিপালন করতে এবং ঘর গৃহস্থালি সামলাতে হতো মহিলাদের আর পুরুষদের যেতে হতো বাইরে রোজগার করতে৷ অর্থিক দিক থেকে মেয়েদের নির্ভরতা ষোল আনা ছিল পুরুষদের ওপর৷ সেদিন আর নেই৷ একান্নবর্তী পরিবার ভেঙে এখন হয়েছে অনুপরিবার৷ শিক্ষাদীক্ষা আর যোগ্যতায় মেয়েরা আজ সমান তালে পা ফেলে চলেছে পুরুষদের সঙ্গে৷ যেহেতু প্রাকৃতিক কারণে সন্তানধারণ করতে হয় মায়েদেরই, মা হিসেবে শিশুসন্তানের শারিরীক, মানসিক এবং আবেগগত দায়িত্ব মায়েদের ওপরেই বর্তায়৷ তাই সেই বাড়তি চাপ বা দায়িত্ব ভাগ করে নিতে হলে পুরুষদের উপযুক্ত ভূমিকা পালন করতে হবে৷ সেজন্য তাঁদের ক্ষেত্রেও পিতৃত্বকালীন সবেতন ছুটি অবশ্যই প্রাপ্য৷ এখান থেকেই শুরু হয়েছে বিতর্ক৷ পুরুষদের যদি শিশু পরিচর্যা এবং ঘর গেরস্থালির কাজে মেয়েদের সাহায্য করতে হয়, তাহলে তাঁরা কেন বাড়তি ছুটি পাবেন না?

বেশ কিছু মহিলা সাংসদ এবং নাগরিক সমাজ এই দাবিটাই কেন্দ্রীয় নারী ও শিশু বিকাশ মন্ত্রী মেনকা গান্ধীর সামনে রাখেন৷ এদের যুক্তি পিতৃত্বকালীন বিশেষ ছুটি মঞ্জুর বাধ্যতামূলক করা না হলে তাতে উল্টো ফল হবে৷ লিঙ্গ বৈষম্য বাড়বে৷ শিশুসন্তানের দেখভাল করা স্রেফ ময়েদের একার দায়িত্ব হতে পারে না৷ এই প্রসঙ্গে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সোশ্যাল সায়েন্সের অধ্যাপক বুদ্ধদেব ঘোষ কেন্দ্রীয় নারী ও শিশু কল্যাণমন্ত্রী মেনকা গান্ধীর অনুরূপ মত ব্যক্ত করে ডয়চে ভেলেকে বললেন, ‘‘পিতৃত্বকালীন ছুটি দেওয়াটা বড় কথা নয়. পিতারা সেই ছুটির সদ্ব্যবহার করছেন কিনা সেটাই আসল কথা৷

শিশুরা কাঁদে কেন?

যে কোনো শিশুই চিৎকার করে কেঁদে তার ভূমিষ্ঠ হওয়ার খবর জানিয়ে দেয়৷ তারপরও কারণে-অকারণেই ওরা কাঁদে৷ এই সুন্দর ভুবনের সাথে মানিয়ে নিতে ওদের যেমন কিছুটা সময় লাগে, তেমনই নতুন মা-বাবারও লাগে খানিকটা সময় সব কিছু গুছিয়ে নিতে৷ যা খুবই স্বাভাবিক৷

আমার কান্না কেউ কি শুনছে না?

মাঝে মাঝে শিশুরা চিৎকার করে ওঠে, বিশেষ করে কাছাকাছি অনেকক্ষণ কোনো শব্দ শুনতে না পেলে৷ অন্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্যই হয়ত তখন কাঁদে তারা৷ মজার ব্যাপার, ঐ মুহূর্তে কেউ কাছে গিয়ে কথা বললে বা কোলে তুলে নিলে সাথে সাথেই শিশুদের কান্না থেমে যায়৷

বাঙালি বাবা-মায়ের সন্তান

দেশে সন্তান জন্মের পর থেকেই সে বাচ্চা কোলে কোলে থাকে৷ বাচ্চা কাঁদুক আর না কাঁদুক৷ নতুন মা সারাক্ষণই তাঁর শিশুটিকে নিয়ে ব্যস্ত আর সেই শিশু সর্বক্ষণই পেয়ে থাকে মায়ের শরীরের উষ্ণতা৷ শিশুকে কোলে নেওয়ার জন্য বাবা-মা ছাড়াও আত্মীয়স্বজন থাকেন৷ এছাড়া, বাচ্চাকে শুধু দেখাশোনা করার জন্য আলাদা লোকও অনেক সময় রাখা হয়৷

জার্মান শিশু

জার্মানিতে কোনো শিশু কাঁদলেই চট করে কোলো তুলে নেওয়া হতো না কয়েক বছর আগ পর্যন্তও৷ শিশু কাঁদলে ওকে শুইয়ে রাখা হতো৷ এক সময় সেই ছোট্ট শিশু কেঁদে কেঁদে ঘুমিয়ে পরতো৷ কারণ, মা সারাক্ষণ বাচ্চাকে কোলো নিলে বাড়ির অন্য কাজ কে করবে? রাতে প্রতিদিন ঘড়ি ধরে একই সময়ে বাচ্চাকে বিছানায় শুইয়ে দেওয়া হতো ঘর অন্ধকার করে৷ বলা বাহুল্য জার্মানিতে গ্রীষ্মকালে প্রায় ১১টা পর্যন্ত বাইরে সূর্যের আলো থাকে৷

সময় পাল্টেছে, বদলেছে চিন্তাধারা

একদিকে যেমন জার্মানির মতো উন্নত দেশগুলিতে প্রযুক্তি দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে, তেমনই অন্যদিকে উন্নয়নশীল দেশেরও কিছু বিষয় গ্রহণ করতে শুরু করেছে তারা৷ শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. গেন কামেদা বলেন, পশ্চিমের সংস্কৃতিটা এমন যে শিশুরা মায়ের শরীরের উষ্ণতা কম পায়, কারণ এ দেশে বাচ্চারা বিছানায় বেশি সময় থাকে আর এটাই হয়ত শিশুদের রাতে কান্নাকটি করার বড় কারণ৷

নতুন বাবা-মা

নতুন মা-বাবার নানা প্রশ্ন, শিশুটির কান্নার কারণ তাঁরা বুঝতে পারেন না৷ ক্ষুধা, শরীর খারাপ, ক্লান্ত নাকি আদর, কি চায় বেবিটি? আসলে শরীরের উষ্ণতা পেলে শিশুরা সব কিছুই ভুলে যায়, যদি না বড় কোনো শারীরিক কষ্ট থেকে থাকে, বলেন ডা. কামেদা৷ তাঁর পরামর্শ, পিতা-মাতা হলে অনেককিছুই বাদ দিতে হয়, তাই বাইরে গেলে শিশুকে কোলে করে সঙ্গে নেবার চেষ্টা করবেন – যাতে শিশুটি শরীরের উষ্ণতা পায়৷

ডাক্তারের পরামর্শ

নতুন বাবা-মায়ের জন্য ডাক্তার কামেদার আরো পরামর্শ, শিশুর কাছাকাছি থাকুন, শিশুকে সময় দিন, কোলে তুলে নিন৷ অল্প কিছুদিন পরেই দেখবেন, শিশু শুধু কাঁদেই না, বরং খুব শীঘ্রই তারা হাসতে শিখবে, হাসাবে মা-বাবাকেও৷

এটা নিয়ে বিতর্ক হতেই পারে৷ আসলে কি জানেন, আমাদের দেশে ধরেই নেওয়া হয় শিশুসন্তান প্রতিপালনের দায়দায়িত্ব মায়েদেরই, কারণ, আমাদের সমাজে পিতৃতান্ত্রিকতা অত্যন্ত প্রবল৷ তা থেকেই কথায় কথায় উঠে আসে, আমি কি চুড়ি পরে এসেছি? এই হীনমন্য মানসিকতাটা দূর করতে আগে আন্দোলন গড়ে ওঠা দরকার৷'' ডয়চে ভেলেকে সমাজ বিজ্ঞানী বুদ্ধদেব ঘোষ আরো বলেন, ‘‘দরকার পুরুষদের মধ্যে সচেতনতা জাগানো৷ গড়ে তোলা দরকার সামাজিক কালচার যাতে পুরুষ সমাজ নিজেরাই ভাবতে পারেন, শিশুসন্তান প্রতিপালনের দায়দায়িত্ব মা ও বাবার সমান৷ একা মা শুধু রাত জাগবেন, ডায়পার পালটাবেন তা-তো হয় না৷ আমি যেটা বলতে চাইছি, আগে তৈরি হোক সচেতনতা, যেমনটা হয়েছে জার্মানি বা অন্য উন্নত দেশে৷ তারপর সবেতন ছুটির প্রশ্ন৷ তা না হলে ছুটির অপব্যবহারই হবে৷ সবেতন ছুটি মানে একটা খরচের প্রশ্ন আছে, সেটা তো সমাজকেই বহন করতে হবে৷ কাজেই সেটা যাতে সার্থক হয়, সেটাও দেখতে হবে৷''

কেন্দ্রীয় নারী ও শিশু বিকাশ মন্ত্রী মেনকা গান্ধী ঘোষণা করেছেন, তাঁর বিশেষ উদ্যোগে কেন্দ্রীয় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় মাতৃত্বকালীন সবেতন ছুটির মেয়াদ বর্তমানের ১২ সপ্তাহ থেকে বাড়িয়ে ২৬ সপ্তাহ করা হচ্ছে৷ এ সংক্রান্ত বর্তমানের আইন সংশোধনী বিলটি সংসদের পেশ করা হয় গত বর্ষাকালীন অধিবেশনে এবং উচ্চকক্ষ রাজ্যসভাতে সেটি পাশ হয়৷ এখন নিম্নকক্ষ লোকসভায় সেটি পাশ হবে সম্ভবত সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে৷ তবে সরকার তার আগেই দরকার হলে বিশেষ অধ্যাদেশ জারি করে তা কার্যকর করতে চায়৷ পুরুষদের জন্য পিতৃত্বকালীন সবেতন ছুটি সম্পর্কে মেনকা গান্ধী মনে করেন, পুরুষদের সবেতন ছুটি বাড়ালেও আসল উদ্ধেশ্য সিদ্ধ হবার সম্ভবনা কম, কারণ, বাস্তব অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, বর্তমানে যত ছুটি পুরুষরা পান, সেটাও তাঁরা ঐ সব কাজে ব্যয় করেন না৷ বাড়তি ছুটি দিলেও সেটাকে তাঁরা ‘হলিডে' বলেই গণ্য করবেন৷ সরকারের চলতি নিয়মবিধি অনুসারে সরকারি কর্মচারিরা ১৫ দিনের সবেতন ছুটি নিতে পারেন এবং সেই ছুটি অন্য ছুটির সঙ্গেও যুক্ত করতে পারেন৷ সেটার সদ্বব্যবহার করে পিতারা যদি আশা দিতে পারেন, তাহলে পিতৃত্বকালীন ছুটি বাড়ানোর কথা বিবেচনা করা যেতে পারে৷ তবে বেসরকারি ক্ষেত্রে তা বাধ্যতামূলক নয়৷ কোনো কোনো কোম্পানিতে এক সপ্তাহ, বড়জোর দু'সপ্তাহ৷

ফিরিয়ে দাও শৈশব

দক্ষিণ এশিয়ার আধুনিক নগরকেন্দ্রিক জীবনযাত্রার মূলমন্ত্র হলো প্রতিযোগিতা৷ একেবারে ছোট বয়স থেকেই তাই চাপের শেষ নেই৷ পড়াশোনা, নাচগান, আঁকা, শরীরচর্চা, খেলাধুলা – সব কিছুতেই সেরা হয়ে ওঠার জন্য শিশুদের উপর চাপ দেওয়া হয়৷ এর পরিণাম কি ভালো হতে পারে?

সন্তান পালনে পেশাদারি সাহায্য

অন্য সব বিষয়ের মতো সন্তান পালনের ক্ষেত্রেও পুরানো অনেক ধ্যানধারণা আজ অচল হয়ে পড়েছে৷ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ধাত্রীরা জার্মানিতে বাবা-মায়েদের এই কাজে দক্ষ করে তোলার চেষ্টা করেন৷ দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও সর্বশেষ বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের ভিত্তিতে তারা সন্তান পালন সংক্রান্ত নানা পরামর্শ দেন৷ স্বাস্থ্য বিমা সংস্থাই ধাত্রীর পারিশ্রমিক দেয়৷

বাবা-মা একটু সময় দিলে

জন্মের পর শিশুর জন্য বাবা-মায়ের স্পর্শ, তাদের আদর-ভালোবাসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ৷ কিন্তু তাদের অত সময় আছে কি? জার্মানিতে নানা মডেলের আওতায় বাবা-মা প্রথম বছরে সন্তানের সঙ্গে অনেক সময় কাটানোর সুযোগ পান৷ রাষ্ট্র ও কর্মদাতা প্রতিষ্ঠান কর্মীদের জন্য সেই ব্যবস্থা করে দেয়৷

পুঁথিগত শিক্ষার প্রস্তুতি

এক থেকে দুই বছর বয়সের মধ্যে জার্মানির শিশুরা সাধারণত কিন্ডারগার্টেনে যাবার সুযোগ পায়৷ কিন্তু সেখানে পুঁথিগত শিক্ষা নিষিদ্ধ৷ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীদের কাছ থেকে খেলাচ্ছলে জীবনের নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে নানারকম শিক্ষা পায় কচিকাচারা৷ স্কুলে যাবার আগে এই প্রস্তুতি তাদের খুব কাজে লাগে৷

প্রকৃতির সঙ্গে একাত্মবোধ

ঢাকা-কলকাতার মতো শহরের কংক্রিটের জঙ্গলে অনেক শিশু সহজে মাটির সংস্পর্শে আসতে পারে না৷ জার্মানিতে শিশুদের প্রকৃতির কোলে যেতে উৎসাহ দেওয়া হয়৷ এমনকি কিছু এলাকায় জঙ্গলের মধ্যেই কিন্ডারগার্টেন রয়েছে৷ গাছপালা ও নানা প্রাণীর সঙ্গে সাক্ষাৎ পরিচয় হয় তাদের৷

স্কুলে যাওয়া বাধ্যতামূলক

সাধারণত ৬ বছর বয়সে স্কুলে যায় জার্মানির বাচ্চারা৷ তখনই পড়াশোনা শুরু হয়৷ প্রাথমিক স্কুলশিক্ষা বাধ্যতামূলক৷ স্কুলে আলাদা ইউনিফর্ম নেই৷ প্রথম দিনে কচিকাচাদের উপহারে ভরা এক বিশেষ ঠোঙা দেওয়ার রেওয়াজ আছে৷

পড়ার চাপ

স্কুলের পড়াশোনা স্কুলেই শেখানোর চেষ্টা করা হয়৷ বাড়িতে ফিরে কিছু হোমওয়ার্ক করলেই চলে৷ সাধারণত গৃহশিক্ষক বা কোচিং ক্লাসের প্রয়োজন পড়ে না৷ তবে কিছু ক্ষেত্রে দুর্বলতা দূর করতে বাড়তি সাহায্যের ব্যবস্থা রয়েছে৷ শিক্ষা রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তের আওতায় পড়ে বলে জার্মানিতে অনেক সংস্কার আটকে আছে বলে নানা মহলে অভিযোগ ওঠে৷

কেউ কেউ এমন সংশয়ও ব্যক্ত করেছেন যে, মহিলাদের ২৬ সপ্তাহ সবেতন ছুটি দিলে ভবিষ্যতে বেসরকারি কোম্পানি, বিশেষ করে ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানিগুলিতে মহিলাদের নিয়োগ সীমিত হতে পারে৷ সবেতন ছুটির অপব্যবহার রোধে মহিলা ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রণালয় কিছু কিছু রক্ষাকবচের সংস্থান রেখেছেন৷ যেমন মাতৃত্বকালীন সবেতন ছুটির শর্ত হবে ঐ মহিলাকে ন্যূনতম সময় পর্যন্ত কাজে বহাল থাকতে হবে৷ সেটা হতে পারে এক বছর বা দু'বছর৷ জাতীয় মহিলা কমিশনের মতে, মায়েদের ওপর চাপ কমাতে ভারতে এখন পিতৃত্বকালীন ছুটি মঞ্জুর করার কথা চিন্তা করার সময় এসেছে৷

আপনি কী মনে করেন? নারীর মতো পুরুষেরও কি শিশু জন্মের পর ছুটির প্রয়োজন? লিখুন নীচের ঘরে৷

জার্মানি ইউরোপ | 17.01.2014
বিজ্ঞান পরিবেশ | 10.08.2013

একটা সময় ছিল যখন সংসারে বা পরিবারে নারী-পুরুষের ভূমিকা ভাগ করা ছিল৷ শিশু প্রতিপালন করতে এবং ঘর গৃহস্থালি সামলাতে হতো মহিলাদের আর পুরুষদের যেতে হতো বাইরে রোজগার করতে৷ অর্থিক দিক থেকে মেয়েদের নির্ভরতা ষোল আনা ছিল পুরুষদের ওপর৷ সেদিন আর নেই৷ একান্নবর্তী পরিবার ভেঙে এখন হয়েছে অনুপরিবার৷ শিক্ষাদীক্ষা আর যোগ্যতায় মেয়েরা আজ সমান তালে পা ফেলে চলেছে পুরুষদের সঙ্গে৷ যেহেতু প্রাকৃতিক কারণে সন্তানধারণ করতে হয় মায়েদেরই, মা হিসেবে শিশুসন্তানের শারিরীক, মানসিক এবং আবেগগত দায়িত্ব মায়েদের ওপরেই বর্তায়৷ তাই সেই বাড়তি চাপ বা দায়িত্ব ভাগ করে নিতে হলে পুরুষদের উপযুক্ত ভূমিকা পালন করতে হবে৷ সেজন্য তাঁদের ক্ষেত্রেও পিতৃত্বকালীন সবেতন ছুটি অবশ্যই প্রাপ্য৷ এখান থেকেই শুরু হয়েছে বিতর্ক৷ পুরুষদের যদি শিশু পরিচর্যা এবং ঘর গেরস্থালির কাজে মেয়েদের সাহায্য করতে হয়, তাহলে তাঁরা কেন বাড়তি ছুটি পাবেন না?

আরো প্রতিবেদন...