সাইগা অ্যান্টিলোপের সন্ধানে অভিনব অভিযান

কাজাখস্তানের বিস্তীর্ণ স্টেপ অঞ্চলে থাকে এক বিরল প্রজাতির প্রাণী৷ আচমকা বিশাল সংখ্যায় তাদের মৃত্যুর ঘটনা বিজ্ঞানীদের বিচলিত করে তুলেছে৷ তাঁরা এক অভিযান চালিয়ে এই প্রাণীর বিষয়ে আরও তথ্য জানার চেষ্টা চালাচ্ছেন৷

বেশ কয়েক দিন ধরে গবেষকরা কাজাখস্তানের স্টেপ অঞ্চলে সাইগার খোঁজ চালাচ্ছেন৷ পাকা রাস্তা ছেড়ে মাঠে নামতে হয়েছে তাঁদের৷ অভিযানের নেতা স্টেফেন সুটার বলেন, ‘‘এই প্রাণীর সন্ধান পাওয়াই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ৷ কারণ তাদের সংখ্যা কম, তারা কোথায় থাকে তাও জানি না৷ সপ্তাহ দুয়েক আগে গণনার সময়ে তাদের দেখেছি৷ তারপর তারা অন্য কোথাও চলে গেছে৷ কেউ এখনো তাদের দেখেনি৷ এলাকাটা বিশাল বড়৷''

সংরক্ষিত এলাকার আয়তন প্রায় ফ্রান্সের মতো৷ এ যেন খড়ের গাদায় সূচ খোঁজার মতো প্রচেষ্টা৷ আর মাত্র ৩৩টি সাইগা অ্যান্টিলোপ অবশিষ্ট আছে বলে জানা গেছে৷ গত বছর একসঙ্গে অনেক প্রাণীর মৃত্যু হয়৷ সন্তান জন্ম দেওয়ার সময় এই অঘটন ঘটে৷ একের পর এক প্রাণীর মৃত্যু হয়৷ শুধু এই অঞ্চলেই দুই লাখের বেশি প্রাণী মরে গেছে৷ প্রায় ৯০ শতাংশ কয়েক দিনের মধ্যে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে৷ অথচ এককালে এখানেই সবচেয়ে বেশি সাইগা বসবাস করতো৷ স্টেফেন সুটার বলেন, ‘‘আমি বিহ্বল হয়ে পড়েছিলাম৷ ফিল্ডে থেকে নিজের চোখে প্রথম সাইগাগুলির লাশ দেখেছিলাম৷ সেখানেই সবার আগে মৃত্যুলীলা শুরু হয়েছিল৷ আমি সেখানেই ছিলাম৷''

গাধার মতো

এদের নাম খুলান৷ গাধা গোত্রের এই প্রাণীটি ‘মঙ্গোলিয়ান ওয়াইল্ড অ্যাস’ নামেও পরিচিত৷ মঙ্গোলিয়া ও উত্তর চীনের বিশাল এলাকা জুড়ে দল বেঁধে ঘুরে বেড়ায় তারা৷ খাবার আর পানির সন্ধানে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বেশ কয়েক হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে পারে খুলান৷ তবে তাদের মাংসের লোভে ইদানীং শিকারিরা তাদের পেছনে লাগায় হুমকির মুখে পড়েছে তারা৷

মার্কো পোলো ভেড়া

ত্রয়োদশ শতকের অভিযাত্রী মার্কো পোলো তাঁর একটি বইতে এই ভেড়ার নাম রেখেছিলেন আরগালি৷ তবে এটি মার্কো পোলো ভেড়া নামেও পরিচিত৷ আফগানিস্তান, চীন, কাজাখস্তান, কিরঘিস্তান, তাজিকিস্তান, পাকিস্তান ও উজবেকিস্তানের মধ্যে অবাধ বিচরণ তাদের৷ সুন্দর ও মূল্যবান শিংয়ের কারণে শিকারিদের নজর পড়েছে এই ভেড়ার ওপর৷

ফিরে আসা

১৯৬৯ সালে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছিল৷ পরে ১৯৯২ সালে আবারও এই জাতের ঘোড়ার জন্ম দেন বিজ্ঞানীরা৷ বর্তমানে মঙ্গোলিয়ায় প্রায় ৩০০টি ‘শেভালস্কি’ ঘোড়ার দেখা পাওয়া যাবে৷

গজলা-হরিণ

সাদা লেজের একেকটি মঙ্গোলিয়ান গজলা-হরিণ এক বছরে প্রায় ৩২ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা চষে বেড়ায়৷

অর্ধেকে নেমে এসেছে সংখ্যা

মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার প্রায় ২০টির মতো দেশে ঘুরে বেড়ায় কালো লেজের গজলা-হরিণ৷ শীতের সময় খাবারের সন্ধানে দিনে গড়ে প্রায় ৩০ কিলোমিটার এলাকা চষে বেড়ায় তারা৷ তবে চোরাশিকারিদের কারণে এই হরিণদের সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে৷

দুই কুঁজের উট

নাম ‘বেকট্রিয়ান ক্যামেল’৷ এরা প্রতিদিন প্রায় ৭৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেয়৷ কুঁজের মধ্যে জমা থাকা চর্বি থেকে তারা শক্তি পায়৷ পথের মধ্যে যেমন আছে উঁচু পর্বত, তেমনি আছে মরুভূমি৷ নানা কারণে নিজেদের এলাকায় থাকতে না পারা বেকট্রিয়ান উটদের এখন দেখা পাওয়া যায় উত্তর চীন ও দক্ষিণ মঙ্গোলিয়ার তিনটি স্থানে৷

চিতাদের জায়গার অভাব

একসময় মধ্য এশিয়া আর মধ্যপ্রাচ্যের বিশাল এলাকায় বিচরণ ছিল তাদের৷ কিন্তু এখন তাদের এলাকা মূলত ইরানের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে৷ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে খরা দেখা দেওয়া ও মাত্রাতিরিক্ত পশুচারণের কারণে চিতাদের এই আবাসস্থলও সংকুচিত হয়ে আসছে৷

বুখারা হরিণ

কাজাখস্থান, তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, উজবেকিস্তান ও আফগানিস্তানের বিশাল এলাকাজুড়ে থাকে তারা৷ সবকিছু ঠিক থাকলে নিজেদের এলাকায় থাকতেই পছন্দ তাদের৷ তবে পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকলে উন্নত জীবনের আশায় ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ হরিণ অন্যান্য এলাকায় পাড়ি জমিয়ে থাকে তারা৷

এই টিলার পেছনে ৫,০০০ প্রাণী দাফন করা হয়েছে৷ প্রাণীদের মৃত্যুর অস্বাভাবিক ঘটনার পর স্টেফেন সুটার ও ব্রিটিশ অ্যান্টিলোপ-গবেষক রিচার্ড কক এই প্রথম ঘটনাস্থলে ফিরলেন৷ একসঙ্গে এতগুলি সাইগার মৃত্যুর কারণ তাঁরা জানতে চান৷ এই প্রাণীদের মৃত্যুর কারণ হিসেবে ‘পাস্টোরেলা' নামের এক ব্যাকটেরিয়া শনাক্ত করা হয়েছে৷ গবেষকরা এও জানেন, যে মৃত্যুলীলার আগে আচমকা তাপমাত্রা অস্বাভাবিক মাত্রায় কমে গিয়েছিল৷ রয়েল ভেটেরানারি কলেজের রিচার্ড কক বলেন, ‘‘প্রাণীগুলি প্রবল মানসিক চাপের মধ্যে ছিল৷ তাদের পশম ঝরে পড়েছিল৷ ফলে শীতের সুরক্ষা আর ছিল না৷ তাই স্ট্রেস দেখা দিয়েছিল৷ সেইসঙ্গে ব্যাকটেরিয়ার সংস্পর্শে এসে শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে৷ ৫ থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে তাদের মৃত্যু হয়৷''

সাইগা অ্যান্টিলোপের এমন গণমৃত্যু আগেও অনেকবার ঘটেছে৷ তবে এমন বিশাল মাত্রা কোনোদিন দেখা যায়নি৷ প্রশ্ন হলো, সংক্রমণের ফলে সব প্রাণীর মৃত্যু হলো কেন? তাছাড়া এই রোগ একই সঙ্গে একাধিক জায়গায় কেন উদয় হলো?

পরের দিন সকালে আশার আলো দেখা গেল৷ সাইগাদের পদচিহ্ন দেখা গেল৷ রিচার্ড কক বলেন, ‘‘দেখতে পাচ্ছেন, জানতে পাচ্ছেন যে ওরা এখানেই আছে৷ পায়ের চিহ্ন দেখা যাচ্ছে৷ তারা বেশি দূরে নয়৷ তারা অসাধারণ জীব, চালচলন দেখলেই বোঝা যায়৷ শুধু সন্তান জন্ম দেওয়ার সময়েই আমরা তাদের কাছে যেতে পারি৷ তারা ঘণ্টায় ৭০ কিলোমিটার বেগে দৌড়াতে পারে৷ স্টেফেন আমাকে বলেছে, দিনে তারা ১০০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে৷''

ভিডিও দেখুন 05:28
এখন লাইভ
05:28 মিনিট
অন্বেষণ | 06.09.2016

কেন বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে সাইগা অ্যান্টিলোপ?

আরও এক দিন বিফল হলো৷ অতএব তাঁবু খাটিয়ে অপেক্ষা করা ছাড়া কোনো উপায় নেই৷ পরের দিনের ঘটনার জন্য কেউ প্রস্তুত ছিল না৷ স্টেপ অঞ্চলের ভূতের মতো তারা উদয় হলো৷ অভিযানের লক্ষ্য সফল হলো৷ স্টেফেন সুটার বলেন, ‘‘অবশেষে সাইগাদের খুঁজে পাওয়া গেছে৷ আমরা অনেক দূর গিয়েছিলাম৷ তারা এমন জায়গায় লুকিয়ে ছিল, যে খুঁজে পাওয়া মুশকিল৷ আমরা ভালো করে দেখেছি, এখানে কমপক্ষে ২,০০০ সাইগা রয়েছে৷''

স্টেপ অঞ্চলে ১,০০০ কিলোমিটার গভীরে প্রাণীগুলি সন্তান জন্ম দিতে সমবেত হয়েছে৷ বেশিরভাগ বাছুর হাঁটতে শিখে গেছে৷ তারা বেশ বহাল তবিয়তে রয়েছে৷ কঠিন পরিবেশে এমন গণমৃত্যু সত্ত্বেও কাজাখস্তানের প্রাচীন এই প্রজাতি হাজার হাজার বছর ধরে টিকে রয়েছে৷ তবে আরও একবার এমন গণমৃত্যুর ঘটনা ঘটলে তারা বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে বলে গবেষকরা আশঙ্কা করছেন৷

চিতা : দ্য স্প্রিন্টার

ক্ষুধার্ত চিতার সামনে পড়লে আর রক্ষা নেই, ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার বেগে ছুটতে পারে চিতা৷ নিঃশব্দে শিকারের কাছাকাছি গিয়ে এমন বেগে তাড়া করতে শুরু করলে ভয়ঙ্কর এই শিকারী প্রাণীর হাত থেকে রক্ষা পাওয়া অনেকটা ভাগ্যের ব্যাপার৷ একটাই আশার কথা- চিতা বেশিক্ষণ খুব দ্রুত দৌড়াতে পারেনা৷ তাই কয়েকশ মিটারের মধ্যে ধরতে না পারলে হরিণের মতো পছন্দের খাবার হাতছাড়া করার হতাশায়ও ভুগতে হয় চিতাকে৷

গতির সঙ্গে কষ্টসহিষ্ণুতা

‘প্রংহর্ন’ অন্য হরিণদের মতোই ক্ষিপ্রগতির হলেও এক জায়গায় পৃথিবীর বাকি প্রাণীদের চেয়ে এগিয়ে৷ কিছু প্রাণী শুরুতে খুব দ্রুত ছুটতে পারলেও কিছুক্ষণের মধ্যে ক্লান্ত হয়ে পড়ে, ফলে গতিও কমে আসে দ্রুত৷ প্রংহর্ন সেরকম নয়৷ পাঁচ কিলোমিটার পর্যন্ত অনায়াসে ঘণ্টায় ৭০ কিলোমিটার গতিতে ছুটতে পারে৷ ফলে চিতা, বাঘ, সিংহ বা অন্য যে-কোনো প্রাণীই শিকার করতে আসুক, শুরুর ঝড়টা সামলে নিলে প্রংহর্নকে আর কে পায়!

দ্রুততম পাখি

সব পাখি কিন্তু ওড়ে না৷ কোনো কোনো পাখি ডানা না মেলে দু পায়ে ছুটতেই বেশি ভালোবাসে৷ বিশালদেহী উটপাখি তো উড়তেই পারেনা৷ তবে দৌড়ায় অবিশ্বাস্য গতিতে৷ ঘণ্টায় ৭০ কিলোমিটার গতিতে ছোটে বলে তারা যে শুধু পাখিজগতের দ্রুততম সদস্য তা-ই নয়, অন্তত আধঘণ্টা পর্যন্ত ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটারের বেগ ধরে রাখতে পারে বলে তাদের কষ্টসহিষ্ণুতারও প্রশংসা করতে হয় আলাদাভাবে৷

‘শকুন হইতে সাবধান’

১৯৭৩ সালে একটা বিমান প্রায় বিধ্বস্ত হতে বসেছিল শকুনের কবলে পড়ে৷ ১১ হাজার ২০০ মিটার অর্থাৎ ৩৬ হাজার ৭৪৫ ফুট ওপর দিয়ে উড়ছিল বিমানটি৷ এক রুপেল শকুন উড়তে উড়তে সেখানে গিয়ে হাজির এবং বিমানের সঙ্গে ধাক্কা৷ পাখি সাধারণত ১০০ থেকে ২,০০০ মিটার উঁচুতে ওড়ে৷ শুধু অভিবাসী পাখিরাই প্রবল শীতে মৃত্যুর আশঙ্কা থেকে বাঁচতে যখন দেশান্তরী হয়, বিশেষ করে যখন হিমালয়ের ওপর দিয়ে উড়তে হয়, তখন বড় জোর ৯,০০০ মিটার উঁচুতে ওঠে৷

সবচেয়ে উঁচুতে লাফ

বিশাল আকৃতির বুনো বেড়াল শ্রেণির এই প্রাণী একেবারে জায়গায় দাঁড়িয়ে সাড়ে পাঁচ মিটার, অর্থাৎ ১৮ ফুট ওপরের মগডাল থেকে শিকার ধরে আনতে পারে৷ স্থলচর আর কোনো প্রাণী লাফিয়ে এত উঁচুতে উঠতে পারেনা৷ ৫০ কেজি ওজনের শরীর নিয়ে পুমা কী করে যে এত উঁচুতে লাফিয়ে উঠতে পারে, কে জানে! প্রাণীকুলে ডলফিনই শুধু পুমার চেয়ে বেশি, ৭ মিটার উঁচুতে উঠতে পারে লাফিয়ে৷ তবে জলচর ডলফিন লাফের আগে অনেকটা পথ সাঁতরে গতি বাড়িয়ে নেয়৷

সবচেয়ে ছোট পাখি

সবচেয়ে ছোট পাখির নাম হামিং বার্ড৷ সাধারণ জ্ঞানের বই পড়ে এটা নিশ্চয়ই অনেক আগেই জেনে গেছেন সবাই৷ সবচেয়ে ছোট হামিং বার্ডের শরীর দুই ইঞ্চি বা ৬ সেন্টিমিটারের মতো৷ ওজন অন্য পাখির পালকের সমান, মাত্র ২ গ্রাম! খুব ছোট পাখি, খুব ছোট ডানাও তাদের৷ তাই উড়তে হয় অনেক কষ্ট করে৷ ওড়ার সময় সেকেন্ডে ৪০ থেকে ৫০ বার ডানা ঝাপটায় হামিং বার্ড৷

সবচেয়ে গভীরে

ডাইভ দিয়ে সমুদ্রের পানির ৩,০০০ মিটার গভীরে চলে যায় তিমি৷ একঘণ্টা শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ করে থাকতেও পারে সেখানে৷ আর কোনো স্তন্যপায়ী প্রানী পানির এত গভীর তলদেশে যেতে পারে না৷ এতক্ষণ ধরে তিমির মতো শ্বাস বন্ধ রাখাটা অন্য কোনো প্রাণীর পক্ষে সম্ভব নয়৷ তিমি নাকি ডাইভ দেয়ার সময়ই মস্তিস্ক আর হৃৎপিণ্ডে রক্ত পাঠিয়ে দেয়৷ আর এভাবেই দম বন্ধ করে ঘণ্টা পার করার জাদু দেখায় পৃথিবীর সবচেয়ে বড় এই প্রাণী৷

খরতাপে নির্বিকার

‘অরিক্স’ হরিণ ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় তপ্ত হাওয়া গায়ে মেখে নিশ্চিন্তে ঘুরে বেড়ায়৷ মানুষ হলে অমন তাপে মৃত্যু নির্ঘাত৷ অরিক্সের দেহের রক্ত শীততাপ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে৷ তাছাড়া তৃষ্ণা খুব কম পায় বলে অন্য প্রাণীদের মতো গরমে ঘন ঘন পানি পান করারও দরকার পড়েনা৷ সপ্তাহে একবার পানি পান করলেই সুস্থ থাকে অরিক্স৷ এমন হলে কারো গায়ে তাপ দুর্ভোগ হয় কী করে!

সেরা কান

প্রাণীকুলে সেরা কান বাঁদুরের৷ নিশাচর এই প্রাণী তার বড় বড় কান শব্দের উৎসের দিকে ঘোরালে যেন দীর্ঘ এক চোঙ চলে যায় সেখানে, টেনে নিয়ে আসে শব্দকে৷ ঘুটঘুটে অন্ধকারেও বাঁদুরের তাই পোকামাকড় ধরে খেতে কোনো অসুবিধা হয়না৷

লাফের আসল চ্যাম্পিয়ন

মাছিদেরও আছে অসাধারণ এক ক্ষমতা৷ শরীরের উচ্চতার চেয়ে ২০০ গুণ উঁচুতে লাফিয়ে উঠতে পারে তারা৷ ফ্রগহপার তো আরেক কাঠি সরেস৷ নিজের শরীরের উচ্চতার চেয়ে ৪০০ গুণ বেশি উঁচুতে এক লাফে হেসেখেলে উঠে যায় তারা!

বেশ কয়েক দিন ধরে গবেষকরা কাজাখস্তানের স্টেপ অঞ্চলে সাইগার খোঁজ চালাচ্ছেন৷ পাকা রাস্তা ছেড়ে মাঠে নামতে হয়েছে তাঁদের৷ অভিযানের নেতা স্টেফেন সুটার বলেন, ‘‘এই প্রাণীর সন্ধান পাওয়াই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ৷ কারণ তাদের সংখ্যা কম, তারা কোথায় থাকে তাও জানি না৷ সপ্তাহ দুয়েক আগে গণনার সময়ে তাদের দেখেছি৷ তারপর তারা অন্য কোথাও চলে গেছে৷ কেউ এখনো তাদের দেখেনি৷ এলাকাটা বিশাল বড়৷''