মধ্যপ্রাচ্য

সিরিয়ার উদ্বাস্তুতে লেবাননে ব্যবসা চাঙা

গত তিন বছরে লেবাননের মুদি দোকানদার আলী খিয়ামী তাঁর দোকানে অতিরিক্ত ছয় জন কর্মচারী নিয়োগ করেছেন৷ দোকানের লাভের টাকায় কিনেছেন বসবাসের জায়গা৷ অনায়াসে জুগিয়েছেন সন্তানদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার খরচ৷

default

ঋণগ্রস্ত দোকানদার থেকে বর্তমান অবস্থায় আসার পেছনে ভূমিকা রেখেছে সিরিয়া থেকে যাওয়া উদ্বাস্তুরা৷সিরিয়ার এসব মানুষ জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির আওতায় একটি ইলেকট্রনিক কার্ড পায়৷ সেই কার্ডের মাধ্যমে তাঁদেরকে মুদি দোকানের মাল কিনতে প্রতি মাসে মাথাপিছু ২৭ ডলার করে দেয়া হয়৷

এই সহযোগিতা কেবল উদ্বাস্তুদের জীবনেই প্রভাব ফেলেনি, এতে লাভবান হচ্ছে লেবাননের ব্যবাসয়ীরাও৷খিয়ামী বলেন, এই কর্মসূচি আমার জীবন বদলে দিয়েছে৷তিনি জানান, পূর্বে তার মাসিক আয় ২ হাজার ডলারের মতো ছিল৷ এখন এটা বেড়ে ১০ হাজার ডলার হয়েছে৷

ভিডিও দেখুন 01:23

যেভাবে সমুদ্র জয় করলেন আলী

 

দক্ষিণ বৈরুতের এই দোকানে দরজায় একটি ছোট নীল স্টিকার লাগানো আছে৷ তা দিয়ে বোঝা যায়, দোকানটি বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি অনুমোদিত৷ দেশজুড়ে এ রকম দোকান আছে আরো ৫০০টি৷

লেবাননের জনসংখ্যা ৪০ লাখের মতো৷ এই দেশে সিরিয়ার ১০ লাখের মতো সিরিয়ার উদ্বাস্তু আশ্রয় নিয়েছে৷ এরা লেবাননের ভঙ্গুর পানি-বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উপর চাপ তৈরি করেছে৷

সিরিয়ার এই সংকট অন্তত দুই লাখ লেবানিজকে নতুন করে দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দিয়েছে, যেখানে আগে থেকেই ১০ লাখের মতো মানুষ দরিদ্র ছিল৷

এই কর্মসূচি থেকে ৭ লাখ সিরিয়ান উদ্বাস্তু উপকৃত হচ্ছে৷ ডেবিট কার্ডের লেনদেনও অর্থনৈতিক চাপ মোকাবেলায় কিছুটা ভূমিকা রাখছে৷

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির মুখপাত্র অ্যাডওয়ার্ড জনসন এএফপিকে বলেন, এই কর্মসূচির মাধ্যমে কেবল উদ্বাস্তুরা উপকৃত হচ্ছে না৷ বরং যখন লেবানিজ দোকান থেকে পণ্য কেনা হয়, তখন তাঁরাও উপকৃত হচ্ছে৷

২০১৩ সালে এই কর্মসূচি শুরুর পর উদ্বাস্তুরা ডাব্লিউএফপিতে এসব নিবন্ধিত দোকান থেকে ৯০ কোটি মার্কিন ডলারের পণ্য কিনেছেন৷ পণ্যের দাম, প্রাপ্যতা, পরিচ্ছন্নতা, উদ্বাস্তুদের অবস্থানস্থলের সঙ্গে নৈকট্য ইত্যাদি বিবেচনা করে দোকানকে এই নিবন্ধন দেয়া হয়৷ 

খিয়ামীর দোকানে আসা একজন সিরিয়ান ক্রেতা বলেন, এই কর্মসূচির ফলে উদ্বাস্তুদের বোঝা মনে করার পরিবর্তে এই দোকানদারের মতো অনেকে তাঁদেরকে নিজেদের ভাগ্যলক্ষ্মী মনে করে৷

এই প্রক্রিয়ার ফলে সুনির্দিষ্ট এই দোকানগুলোতে সিরিয়ানদের পছন্দের পণ্যও যত্ম করে রাখা হচ্ছে৷

লেবাননের বেকা উপত্যকার এ রকম অন্য এক দোকানদার সাদেক হামজা জানান, বর্তমানে তাঁর ৬০ ভাগ ক্রেতাই সিরিয়ান৷ বিক্রি বেড়ে যাওয়ায় কম দামে অন্যদেরও পণ্য দিতে পারছেন৷       

পশ্চিম বৈরুতের ওমর আল-শেখের অভিজ্ঞতা অবশ্য কিছুটা ভিন্ন৷ যদিও উদ্বাস্তুরা আসায় তাঁর মাসিক আয় প্রায় দ্বিগুন হয়েছে৷ তবে তিনি প্রায় ২০ শতাংশ লেবানিজ ক্রেতা হারিয়েছেন৷

কারণ লেবানিজরা ভীড় এড়াতে চায়৷ অনেকের বিদ্বেষপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গিও থাকতে পারে৷ মাঝে মধ্যে অনেক লেবানিজ ক্রেতা মুখ ফুটে সিরিয়ানদের বিষয়ে অভিযোগও করেছে৷

তবে ওমর এসব বিষয়কে খুব একটা আমলে নিতে চান না৷ তিনি সিরিয়ানদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ অব্যাহত রাখতে চান৷

এএফপি /এসএন

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

Albanian Shqip

Amharic አማርኛ

Arabic العربية

Bengali বাংলা

Bosnian B/H/S

Bulgarian Български

Chinese (Simplified) 简

Chinese (Traditional) 繁

Croatian Hrvatski

Dari دری

English English

French Français

German Deutsch

Greek Ελληνικά

Hausa Hausa

Hindi हिन्दी

Indonesian Bahasa Indonesia

Kiswahili Kiswahili

Macedonian Македонски

Pashto پښتو

Persian فارسی

Polish Polski

Portuguese Português para África

Portuguese Português do Brasil

Romanian Română

Russian Русский

Serbian Српски/Srpski

Spanish Español

Turkish Türkçe

Ukrainian Українська

Urdu اردو