সিরীয় শরণার্থী ফুটবলারের অবিশ্বাস্য গল্প

সিরিয়ার অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক মোহাম্মদ জাদৌ-এর গল্প যে কারো কাছেই অবিশ্বাস্য মনে হবে৷ যুদ্ধের কারণে ঘরবাড়ি, পরিবার ছেড়ে এখন জার্মানিতে আশ্রয় নিয়েছে সে৷

মাত্র ১৭ বছর বয়সেই নানা বিভৎসতার মুখোমুখি হতে হয়েছে জাদৌকে৷ মাকে যেতে দেখেছে তুরস্কের পথে৷ তাই জাদৌ জানে না কবে আবার মায়ের সাথে দেখা হবে৷ কিন্তু জীবনে যতই সংকটই আসুক না কেন, ফুটবলকে ছাড়েনি জাদৌ৷ জার্মানিতে আজ সে শরণার্থী৷ তারপরও ফুটবল নিয়ে নিজের স্বপ্নের কথা তুলে ধরেছে মোহাম্মদ জাদৌ, একটি সাক্ষাৎকারে৷

আপনি কী ভাবছেন?

এখানে ক্লিক করুন ও আলোচনায় যোগ দিন

তার এই সাক্ষাৎকার ইউটিউবে দেখেছেন ২ লাখ ১৬ হাজার মানুষ৷ ভিডিওর নীচে অনেকেই মন্তব্য করেছেন যে, সাক্ষাৎকারটি তাদের চোখে জল এনে দিয়েছে৷ অনেকেই এই কিশোরের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন৷

জাদৌ যখন ইউরোপে আসছিল, দীর্ঘ বন্ধুর পথ পাড়ি দিতে হয়েছে তাকে৷ পথে ৫০০ মানুষের মৃত্যু নিজের চোখে দেখেছে সে৷ এখানেই শেষ নয়৷ জার্মানিতে এসেও শরণার্থী হিসেবে নানা বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে জাদৌকে৷ কিন্তু সেই বন্ধুর পথেও সব সময় তার ‘বন্ধু' ছিল ফুটবল৷

খেলা যে তার জীবন৷ তাই আজও খেলা চালিয়ে যাচ্ছে জাদৌ৷ তার স্বপ্ন বুন্দেসলিগায় খেলার, স্বপ্ন সিরিয়ায় ফিরে পরিবারের সাথে মিলিত হওয়ার৷

আলেপ্পোয় সুখি সংসার

২০১৬ সালে তোলা কোটা পরিবারের ছবি৷ খলিল, তাঁর স্ত্রী হামিদা, সন্তান মান্নান, ডোলোভান, আয়াজ এবং নের্ভানা৷ তখন সিরিয়ায় কোনো গৃহযুদ্ধ ছিল না, ছিল না ধ্বংসলীলা৷

দেশত্যাগের সিদ্ধান্ত

সিরিয়ায় ২০১১ সালে গৃহযুদ্ধ শুরুর সময় খলিল কোটো সেদেশের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের একটি শাখার প্রধান ছিলেন৷ গৃহযুদ্ধ শুরুর পর চাকুরি হারান এই ইলেক্ট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ার৷ একসময় খাদ্য এবং পানির অভাব প্রকট হতে থাকে৷ ২০১৪ সালের এপ্রিলে পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে, তারা তুরস্ক চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, যেখানে খলিলের মা বাস করতেন৷

ধাপে ধাপে আগানো

খলিল তুরস্কে কোনো কাজ খুঁজে পাননি৷ তাই ২০১৪ সালের জুলাইয়ে তাঁর পরিবার জার্মানিতে আসার সিদ্ধান্ত নেন৷ খলিলের ভাই ইউরোপে বাস করেন৷ তিনিই পরিবারটিকে জার্মানিতে আসতে উৎসাহ যোগান৷ শরণার্থী হিসেবে জার্মানিতে আসার পথে বুলগেরিয়ায় একটি শরণার্থী শিবিরে ছয় মাস কাটান কোটো পরিবার৷ এই চামচটি সেই শিবিরের এক স্মৃতিচিহ্ন৷

জার্মানিতে স্বাগতম

অবশেষে জার্মানিতে কোটো পরিবার৷ জার্মানির উত্তরের শহর ব্রেমেনে তাদের রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে৷ সেখানকার এক নারী খলিলকে এই জিন্সের প্যান্টটি দিয়েছেন, জার্মানিতে পাওয়া তাঁর প্রথম পোশাক এটি৷

অনিশ্চিত ভবিষ্যত

খলিলের সন্তানরা এখন জার্মান স্কুলে যাচ্ছেন৷ আর খলিল এবং তাঁর স্ত্রী হামিদা শিখছেন জার্মান৷ ইলেক্ট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ার জার্মানিতে একটি চাকরি পাবেন বলে আশা করছেন৷ সিরিয়ায় ফেলে আসা অতীত মাঝে মাঝে মনে করে আনন্দ খোঁজেন তারা৷ আয়াজের সিরিয়ার স্কুলের আইডি কার্ড এটি৷

খলিল তুরস্কে কোনো কাজ খুঁজে পাননি৷ তাই ২০১৪ সালের জুলাইয়ে তাঁর পরিবার জার্মানিতে আসার সিদ্ধান্ত নেন৷ খলিলের ভাই ইউরোপে বাস করেন৷ তিনিই পরিবারটিকে জার্মানিতে আসতে উৎসাহ যোগান৷ শরণার্থী হিসেবে জার্মানিতে আসার পথে বুলগেরিয়ায় একটি শরণার্থী শিবিরে ছয় মাস কাটান কোটো পরিবার৷ এই চামচটি সেই শিবিরের এক স্মৃতিচিহ্ন৷

বিশ্ব | 26.05.2016

মাত্র ১৭ বছর বয়সেই নানা বিভৎসতার মুখোমুখি হতে হয়েছে জাদৌকে৷ মাকে যেতে দেখেছে তুরস্কের পথে৷ তাই জাদৌ জানে না কবে আবার মায়ের সাথে দেখা হবে৷ কিন্তু জীবনে যতই সংকটই আসুক না কেন, ফুটবলকে ছাড়েনি জাদৌ৷ জার্মানিতে আজ সে শরণার্থী৷ তারপরও ফুটবল নিয়ে নিজের স্বপ্নের কথা তুলে ধরেছে মোহাম্মদ জাদৌ, একটি সাক্ষাৎকারে৷

তার এই সাক্ষাৎকার ইউটিউবে দেখেছেন ২ লাখ ১৬ হাজার মানুষ৷ ভিডিওর নীচে অনেকেই মন্তব্য করেছেন যে, সাক্ষাৎকারটি তাদের চোখে জল এনে দিয়েছে৷ অনেকেই এই কিশোরের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন৷

জাদৌ যখন ইউরোপে আসছিল, দীর্ঘ বন্ধুর পথ পাড়ি দিতে হয়েছে তাকে৷ পথে ৫০০ মানুষের মৃত্যু নিজের চোখে দেখেছে সে৷ এখানেই শেষ নয়৷ জার্মানিতে এসেও শরণার্থী হিসেবে নানা বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে জাদৌকে৷ কিন্তু সেই বন্ধুর পথেও সব সময় তার ‘বন্ধু' ছিল ফুটবল৷

খেলা যে তার জীবন৷ তাই আজও খেলা চালিয়ে যাচ্ছে জাদৌ৷ তার স্বপ্ন বুন্দেসলিগায় খেলার, স্বপ্ন সিরিয়ায় ফিরে পরিবারের সাথে মিলিত হওয়ার৷

আলেপ্পোয় সুখি সংসার

২০১৬ সালে তোলা কোটা পরিবারের ছবি৷ খলিল, তাঁর স্ত্রী হামিদা, সন্তান মান্নান, ডোলোভান, আয়াজ এবং নের্ভানা৷ তখন সিরিয়ায় কোনো গৃহযুদ্ধ ছিল না, ছিল না ধ্বংসলীলা৷

দেশত্যাগের সিদ্ধান্ত

সিরিয়ায় ২০১১ সালে গৃহযুদ্ধ শুরুর সময় খলিল কোটো সেদেশের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের একটি শাখার প্রধান ছিলেন৷ গৃহযুদ্ধ শুরুর পর চাকুরি হারান এই ইলেক্ট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ার৷ একসময় খাদ্য এবং পানির অভাব প্রকট হতে থাকে৷ ২০১৪ সালের এপ্রিলে পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে, তারা তুরস্ক চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, যেখানে খলিলের মা বাস করতেন৷

ধাপে ধাপে আগানো

খলিল তুরস্কে কোনো কাজ খুঁজে পাননি৷ তাই ২০১৪ সালের জুলাইয়ে তাঁর পরিবার জার্মানিতে আসার সিদ্ধান্ত নেন৷ খলিলের ভাই ইউরোপে বাস করেন৷ তিনিই পরিবারটিকে জার্মানিতে আসতে উৎসাহ যোগান৷ শরণার্থী হিসেবে জার্মানিতে আসার পথে বুলগেরিয়ায় একটি শরণার্থী শিবিরে ছয় মাস কাটান কোটো পরিবার৷ এই চামচটি সেই শিবিরের এক স্মৃতিচিহ্ন৷

জার্মানিতে স্বাগতম

অবশেষে জার্মানিতে কোটো পরিবার৷ জার্মানির উত্তরের শহর ব্রেমেনে তাদের রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে৷ সেখানকার এক নারী খলিলকে এই জিন্সের প্যান্টটি দিয়েছেন, জার্মানিতে পাওয়া তাঁর প্রথম পোশাক এটি৷

অনিশ্চিত ভবিষ্যত

খলিলের সন্তানরা এখন জার্মান স্কুলে যাচ্ছেন৷ আর খলিল এবং তাঁর স্ত্রী হামিদা শিখছেন জার্মান৷ ইলেক্ট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ার জার্মানিতে একটি চাকরি পাবেন বলে আশা করছেন৷ সিরিয়ায় ফেলে আসা অতীত মাঝে মাঝে মনে করে আনন্দ খোঁজেন তারা৷ আয়াজের সিরিয়ার স্কুলের আইডি কার্ড এটি৷

ভিডিওটি দেখলেন? কেমন লাগলো জাদৌর গল্প? জানান আমাদের, লিখুন নীচের ঘরে৷

এপিবি/ডিজি