হারেও হতাশার কিছু দেখছেন না মুশফিক

যে কোনো খেলাতে দল যতই সংকল্পবদ্ধ থাকুক না কেন ছোটখাটো টেকনিক্যাল ক্রুটি দূর করতে না পারলে কখনোই সাফল্য আসে না৷ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্ট হারের পর এ বিষয়টির ওপরেই জোর দিয়েছেন মুশফিকুর রহিম৷

অধিনায়ক মুশফিক এরইমধ্যে খেলোয়াড়দের টেকনিক্যাল ত্রুটি দূর করতে না পারলে একই পরিস্থিতিতে বারবার পড়তে হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন৷

বলেছেন, ‘‘অনেকেই ভাবেন আমরা হয়ত টেকনিক্যালি খুব সাউন্ড....হয়ত টেকনিক্যালি আমরা খুব ভালো৷ কিন্তু এখনও অনেক জায়গা আছে উন্নতি করার৷ এই যেমন, উইকেটে কীভাবে থাকতে হবে, কীভাবে রান করতে হবে – এসব শেখার সুযোগ আমরা তো খুব বেশি পাই না৷ আমরা গত কিছু দিনে দুই বা তিনটে টেস্টে এই সুযোগ পেয়েছি৷ কিন্তু সুযোগগুলো ঠিকমতো কাজে লাগাতে পারিনি৷ সুযোগগুলো যদি কাজে লাগাতে না পারি, তাহলে কিন্তু শিখতেও পারব না৷''

খেলাধুলা

জানুয়ারি ৬-১০, ২০০৫, প্রতিপক্ষ জিম্বাবোয়ে: বাংলাদেশ ২২৬ রানে জয়ী

টাইগাররা প্রথমবারের মতো টেস্ট জয়ের স্বাদ পায় চট্টগ্রামে৷ ২০০৫ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে প্রথম ইনিংসে ৪৮৮ রান তোলে স্বাগতিকরা৷ আর দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে ৯ উইকেটে ২০৪ রান করে৷ প্রথম ইনিংসে জিম্বাবোয়ের স্কোর ছিল ৩১২ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ১৫৪ রান৷

খেলাধুলা

জুলাই ৯-১৩, ২০০৯, প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ: বাংলাদেশ ৯৫ রানে জয়ী

দেশের বাইরে বাংলাদেশ প্রথম টেস্ট জয়ের দেখা পায় ২০০৯ সালের ১৩ জুলাই৷ কিংসটাউনে সেই টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৯৫ রানে হারায় টাইগাররা৷

খেলাধুলা

জুলাই ১৭-২০, ২০০৯, প্রতিপক্ষ ওয়েস্টইন্ডিজ: বাংলাদেশ চার উইকেটে জয়ী

সেবার ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর ছিল সাফল্যে ঠাসা৷ দ্বিতীয় টেস্টে সেন্ট জর্জেসে স্বাগতিকদের হারায় টাইগাররা, সেবার জিতেছিল চার উইকেটে৷

খেলাধুলা

এপ্রিল ২৫-২৯, ২০১৩, প্রতিপক্ষ জিম্বাবোয়ে: বাংলাদেশ ১৪৩ রানে জয়ী

জিম্বাবোয়ের হারারেতে স্বাগতিকদের আবার ‘বধ’ করে টাইগাররা৷ প্রথম ইনিংসে ৩৯১ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৯ উইকেটে ২৯১ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ৷ জবাবে প্রথম ইনিংসে ২৮২ আর দ্বিতীয় ইনিংসে ২৫৭ রানেই গুটিয়ে যায় জিম্বাবোয়ে৷

খেলাধুলা

অক্টোবর ২৫-২৭, ২০১৪, প্রতিপক্ষ জিম্বাবোয়ে: বাংলাদেশ তিন উইকেটে জয়ী

ঢাকায় বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়৷ তিন দিনে শেষ হওয়া সেই টেস্টে শুরুতে ব্যাট করতে গিয়ে প্রথম ইনিংসে ২৪০ রান করে জিম্বাবোয়ে৷ আর দ্বিতীয় ইনিংসে তাদের সংগ্রহ ছিল ১১৪৷ অন্যদিকে, প্রথম ইনিংসে ২৫৪ আর দ্বিতীয় ইনংসে ৭ উইকেটে ১০৭ রান তুলে জিতে যায় স্বাগতিকরা৷

খেলাধুলা

নভেম্বর ৩-৭, ২০১৪, প্রতিপক্ষ জিম্বাবোয়ে: বাংলাদেশ ১৬২ রানে জয়ী

খুলনায় জিম্বাবোয়েকে হারায় বাংলাদেশ৷ সেই টেস্ট পাঁচ দিন পর্যন্ত গড়ালেও শেষমেশ তেমন একটা সুবিধা করতে পারেনি জিম্বাবোয়ে৷ ফলাফল স্বাগতিকদের ১৬২ রানের জয়৷

খেলাধুলা

নভেম্বর ১২-১৬, ২০১৪, প্রতিপক্ষ জিম্বাবোয়ে: বাংলাদেশ ১৮৬ রানে জয়ী

আবারো চট্টগ্রামে জিম্বাবোয়েকে হারায় টাইগাররা৷ সেবার ব্যবধান ছিল ১৮৬ রানের৷

খেলাধুলা

অক্টোবর ২৮-৩০, ২০১৬, প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড: বাংলাদেশ ১০৮ রানে জয়ী

এখন পর্যন্ত বড় কোনো ক্রিকেট শক্তির বিরুদ্ধে বাংলাদেশের একমাত্র টেস্ট জয় এটি৷ ঢাকায় ইংল্যান্ডকে নাস্তানাবুদ করে টাইগাররা৷

খেলাধুলা

মার্চ ১৫-১৯, ২০১৭, প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা: বাংলাদেশ ৪ উইকেটে জয়ী

একদিকে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের শততম ম্যাচে জয়, অন্যদিকে প্রথমবারের মত শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে জয়-দুই দিক দিয়েই ঐতিহাসিক বাংলাদেশের এই টেস্ট ম্যাচটি৷ পঞ্চম দিনে ৪ উইকেটে জয় নিশ্চিত করে টাইগাররা৷ ম্যাচ সেরা হয়েছেন তামিম ইকবাল৷

খেলাধুলা

আগস্ট ২৭-৩০, ২০১৭, প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া: বাংলাদেশ ২০ রানে জয়ী

প্রথমবারের মত অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বাংলাদেশ ইতিহাস গড়ে৷ এটা ছিল সাকিব ও তামিমের ৫০তম টেস্ট। সাকিব মোট ১০ উইকেট নিয়ে এবং তামিম দুই ইনিংসেই অর্ধশত করে স্মরণীয় করে রাখলেন এই টেস্টকে৷ ম্যাচ সেরা সাকিব আল হাসান৷ দ্রষ্টব্য: ইএসপিএন ক্রিকইনফো থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ছবিঘরটি তৈরি করা হয়েছে৷

চট্টগ্রামে দ্বিতীয় টেস্ট ৭ উইকেটে হেরে সিরিজ ১-১-এ ড্র করেছে বাংলাদেশ৷ প্রথম টেস্ট জয়ের পর উচ্ছ্বাসে ভেসে গিয়েছিল পুরো দেশ৷ তারপর দ্বিতীয় টেস্ট হেরে সিরিজ জয়ের সুযোগ হাতছাড়া হলেও তাতে হতাশ হওয়ার কিছু দেখছেন না মুশফিকুর রহিম৷ তাঁ মতে, ‘‘অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ ড্র-ও অবশ্য বাংলাদেশের জন্য বড় অর্জন৷ সাত উইকেটের হার, তারপরও সিরিজ ড্র-কে অর্জন বলায় অনেকে আপত্তি তুলতে পারেন৷ তবে তাঁদের আগে বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশ ঠিক কোথায় আছে, সেটা ঠিকমতো বুঝে নিতে হবে৷''

বাংলাদেশের উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান আরো বলেন, ‘‘একটা ম্যাচ ভালো করলে এত উপরে উঠে যাই৷ আবার একটা খারাপ করলে এত নীচে নেমে যাই৷ বাংলাদেশ দলকে এভাবে দেখা ব্যক্তিগতভাবে আমি কখনোই সমর্থন করি না৷'' তাঁর কথায়, ‘‘আমার মনে হয়, আমরা প্রথম টেস্টে খুব অসাধারণ কাজ করেছি৷ এখন অন্তত চোখে চোখ রেখে ওদের চ্যালেঞ্জ করার সামর্থ্য হয়েছে৷ এটা বড় একটা প্রাপ্তি৷''

অস্ট্রেলিয়ার কাছে শেখার আছে অনেক কিছু৷ বিরুদ্ধ কন্ডিশনে নিজের ইনিংস কীভাবে গড়তে হয় তার এক বড় উদাহরণ এখন ডেভিড ওয়ার্নার৷ মুশফিক মনে করেন, সিরিজের দুই টেস্টেই সেঞুরি করা অস্ট্রেলিয়ার উদ্বোধনী এই ব্যাটসম্যানের কাছে অনেক কিছু শেখার আছে৷

তিনি বলেন, ‘‘ওয়ার্নারকে দেখেন, ও কত আক্রমণাত্মক একজন ব্যাটসম্যান৷ কিন্তু এখানে কত কষ্ট করে রান করেছে, এটা সম্ভবত ওর সবচেয়ে মন্থর সেঞ্চুরি৷ আমার মনে হয়, আমরা এখান থেকে অনেক কিছু শিখতে পারি৷ এই উইকেটে ও কীভাবে রান করেছে৷ ও চাইলে আরও আক্রমণাত্মক খেলতে পারতো৷ তখন অনেক সুযোগ আসতে পারতো ওকে আউট করার৷''

চট্টগ্রামে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে ৩৭৭ রানের জবাবে যখন বাংলাদেশ ব্যাট করছিল, তখন এক পর্যায়ে ইনিংস পরাজয়ও হাতছানি দিচ্ছিল৷  কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা না হলেও অস্ট্রেলিয়ার সামনে বড় কোনো চ্যালেঞ্জ দিতে পারেনি বাংলাদেশ৷

তবে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস ১৫৭ রানে গুঁড়িয়ে দেবার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখেন অস্ট্রেলিয়ার স্পিনার নাথান লায়ন৷ দ্বিতীয় ইনিংসে একাই ছয়টি উইকেট নিয়েছেন তিনি৷ প্রথম ইনিংসেও লায়নের সংগ্রহ ছিল সাতটি উইকেট৷

এএম/ডিজি