বিজ্ঞান পরিবেশ

হিমালয়ের হিমবাহগুলো দ্রুত গলছে, তথ্যটি ভুল

হিমালয়ের বরফ গলে যাচ্ছে৷ আর এই হিমবাহগুলো গলে যাওয়ার মাত্রা এতটাই দ্রুত যে বিশ্বের উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ২০৩৫ সালের মধ্যে হিমালয়ের এই হিমবাহগুলো গলে যাবে৷

default

ফাইল ফটো

জাতিসংঘের ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি) এই তথ্যই জানিয়েছিল সম্প্রতি৷ কিন্তু এখন বলা হচ্ছে এই পূর্বাভাষ একটি ‘একটি দুঃখজনক ভুল'৷

হিমালয়, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ভারত, চীন, নেপাল ও ভুটান - এই ছয়টি দেশের প্রায় আড়াই হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকায় ছড়িয়ে থাকা হিমালয় পর্বতমালা হচ্ছে দুই মেরুর বাইরে বরফের সবচেয়ে বড় উৎস৷ বরফ, তুষার ও পানির বিপুল মজুদের কারণেই বিশ্বের উচ্চতম পর্বত শ্রেণীটির নাম হয়েছে 'হিমালয়'৷ বলা হয় 'তৃতীয় মেরু'৷ সব মিলিয়ে হিমালয়ে রয়েছে ১২ হাজার কিউবিক কিলোমিটার পানি৷

হিমালয়ের মজুদ বরফ থেকে জন্ম নিয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় জলপ্রবাহ৷ এমন একাধিক প্রবাহ মিলে তৈরি হয় নদী৷ এশিয়ার প্রধান পাঁচটি নদীধারা সিন্ধু, গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, মেঘনা ও ইরাবতির উৎস হচ্ছে হিমালয় পর্বতমালা৷ এসব ধারার শত শত শাখানদী ও উপনদী প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে হিমালয়ের ওপর নির্ভরশীল৷ নদী অববাহিকার বসতির কথা ধরলে পশ্চিমে আফগানিস্তান থেকে পূর্বে মিয়ানমার এবং উত্তরে তিব্বত মালভূমি থেকে দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত ২০০ কোটিরও বেশি মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি, সেচ, পরিবেশগত ভারসাম্য, জীববৈচিত্র্য, যোগাযোগ, সংস্কৃতি হিমালয়ের ওপর সরাসরি নির্ভরশীল৷

নোবেল বিজয়ী সংস্থা ইন্টারগভর্ণমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি) চেয়ারম্যান রাজেন্দ্র পাচৌরি গণমাধ্যমে পাঠানো এক ই-মেইল বার্তায় বলেছেন, প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ না করার কারণে এই ভুল হয়েছে৷ প্যানেলের ইতিহাসে এ ধরণের ঘটনা এবারই প্রথম৷ জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক আন্দোলনে ভূমিকা রাখার জন্য ২০০৭ সালে শান্তিতে নোবেল যৌথভাবে পান যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যাল গোর এবং আইপিসিসি৷ বিশ্বের সেরা আড়াই হাজার জলবায়ু বিজ্ঞানীর সমন্বয়ে গঠিত এই প্যানেল জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ ছোবল থেকে পৃথিবীকে রক্ষার জন্য কাজ করে যাচ্ছে৷ কিন্তু সংস্থাটি একটি প্রতিবেদনে অতিরঞ্জিত তথ্য প্রকাশ করায় সমালোচনার মুখে পড়ে৷ এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল যে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হিমালয়ের হিমবাহগুলো দ্রম্নত গলে যাবে৷ বর্তমান উষ্ণতা চলতে থাকলে ২০৩৫ সালের মধ্যেই হিমালয়ের হিমবাহ বিলীন হয়ে যাবে৷

সংস্থাটির ওই রিপোর্ট আতঙ্কের সৃষ্টি করে৷ কারণ এশিয়ার কোটি কোটি মানুষ এই হিমবাহ গলা পানির ওপর নির্ভরশীল৷ প্রতিবেদনের উপসংহারে এর ফলাফলের বাস্তবতা সম্পর্কে নব্বই ভাগেরও বেশি সম্ভাব্যতার কথা বলা হয়েছিল৷

কিন্তু এখন পরিস্থিতি ফলাফলের ধারেকাছেও নেই৷ বিজ্ঞান বিষয়ক সাময়িকী নিউ সায়েন্টিস্ট ১৯৯৯ সালে ভারতের সিকিম রাজ্য সরকারের হিমবাহ বিশেষজ্ঞ ড. সৈয়দ হাসনাইনের একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছিল৷ জলবায়ু বিজ্ঞানী হাসনাইন বলেছিলেন, হিমালয়ের অবস্থা খুবই খারাপ, হিমবাহগুলো একটা সময়ে নিঃশেষ হয়ে যাবে৷ ড. হাসনাইন বর্তমানে দিল্লির একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান এনার্জি রিসোর্সেস ইনস্টিটিউটে (টিইআরআই) ফেলো হিসেবে কাজ করছেন৷ ২০৩৫ সালের মধ্যে হিমালয়ের বরফ গলে যাবে এই মর্মে তাকে উদ্ধৃত করে ম্যাগাজিনটিতে যে প্রতিবেদন ছাপা হয়েছিল সেটাকে তিনি ভুল বলে একটি ই-মেইল বার্তায় জানিয়েছেন৷ সম্প্রতি তিনি তাঁর গবেষণার আলোকে বলেছেন, হিমালয়ের হিমবাহ নিঃশেষের বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য দীর্ঘ সময় প্রয়োজন৷ এজন্য কমপক্ষে এক দশক অপেক্ষা করতে হবে৷ জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হিমবাহের অংশবিশেষ পুরোপুরি নিঃশেষ হতে পারে৷

রাজেন্দ্র কুমার পাচৌরির নেতৃত্বাধীন এই প্যানেল এখন স্বীকার করছে যে, হিমালয় সংক্রান্ত ওই প্রতিবেদনের উপসংহারে পৌঁছাতে যথাযথ গবেষণা পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়নি৷ পাচৌরি বলেন, ২০৩৫ সালের মধ্যে হিমবাহগুলো নিশ্চিহ্ন হতে পারে বলে পূর্বাভাষ দেয়ার ফলে সম্ভবত অনেক লোক সত্যিকার অর্থেই সতর্ক হয়েছেন৷ তবে, হিমালয়ের হিমবাহের অস্তিত্বের প্রতি প্রকৃত ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে৷ কল্পনাপ্রসূত ওই প্রতিবেদন নিয়ে প্যানেল কর্তৃপক্ষ তিরস্কার ও সমালোচনার মুখে পড়েছে৷ মনে করা হয় যে এটা ছাপা সংক্রান্ত কোন ভুল হলেও হতে পারে৷ কিন্তু ভারত সরকারের তীব্র প্রতিবাদ ও সমালোচনায় ভ্রূক্ষেপ করলেন না পাচৌরি৷ দ্বিতীয়বারের জন্য ওই প্রতিবেদন পরীক্ষা করতেও তিনি সক্রিয় ছিলেন না৷ কিন্তু সমালোচনার দাবানল ক্রমশই বাড়তে থাকে৷ যে কারণে আইপিসিসি কো-চেয়ারম্যান ক্রিস্টোফার ফিল্ড বলেছিলেন, আইপিসিসি এটাকে গুরত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে বিবেচনা করে এবং যত দ্রুত সম্ভব এ বিষয়ে একটি সমাধান দেয়ার জন্য আমরা কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছি৷

প্রতিবেদক: সাগর সরওয়ার

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

Albanian Shqip

Amharic አማርኛ

Arabic العربية

Bengali বাংলা

Bosnian B/H/S

Bulgarian Български

Chinese (Simplified) 简

Chinese (Traditional) 繁

Croatian Hrvatski

Dari دری

English English

French Français

German Deutsch

Greek Ελληνικά

Hausa Hausa

Hindi हिन्दी

Indonesian Bahasa Indonesia

Kiswahili Kiswahili

Macedonian Македонски

Pashto پښتو

Persian فارسی

Polish Polski

Portuguese Português para África

Portuguese Português do Brasil

Romanian Română

Russian Русский

Serbian Српски/Srpski

Spanish Español

Turkish Türkçe

Ukrainian Українська

Urdu اردو