1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

ইরান চুক্তিতে থাকবে জার্মানি

৯ মে ২০১৮

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান চুক্তি থেকে সরে আসার ঘোষণা দিয়েছেন৷ কিন্তু ইরানসহ চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী বাকি পাঁচ দেশ চুক্তি চালিয়ে যাবে বলে জানিয়েছে৷

https://p.dw.com/p/2xPWv
ছবি: Imago/Zumapress/C. May

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ সদস্যসহ জার্মানি ও ইরানের মধ্যে ২০১৫ সালে চুক্তিটি সই হয়েছিল৷ কিন্তু মঙ্গলবার সেই চুক্তি থেকে সরে আসার ঘোষণা দেনডোনাল্ড ট্রাম্প৷ সেই সঙ্গে চুক্তির আগে ইরানের বিরুদ্ধে থাকা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আবারও জারি করা হবে বলে জানান তিনি৷

ট্রাম্প যেন ইরান চুক্তিতে থাকেন সেজন্য ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ, জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলসহ বিশ্বনেতারা চেষ্টা করেছিলেন৷

ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন ইউরোপের নেতারা৷ তবে ইসরায়েল, সৌদি আরব ও আরব আমিরাত ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছে৷

ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি (বানানভেদে রোহানি) বলেছেন, তেহরান আন্তর্জাতিক চুক্তি মেনে চলবে৷  চুক্তি ছেড়ে যাওয়ায় ট্রাম্পের সমালোচনাকরেছেন তিনি৷ ‘‘চুক্তি থেকে সরে আসায় যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক চুক্তি লঙ্ঘন করল,'' বলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট৷ পরবর্তী করণীয় নিয়ে তিনি চুক্তির অপর পক্ষগুলোর সঙ্গে কথা বলবেন বলেও জানিয়েছেন৷

Trump: 'The US will withdraw from the Iran nuclear deal'

এদিকে ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জার্মানি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আগামী সোমবার ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন৷

ট্রাম্পের ঘোষণার পর ইরানকে ‘সংযত আচরণ' করতে এবং চুক্তির বিষয়াদি মেনে চলার অনুরোধ করেছে জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স৷ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে'র কার্যালয় থেকে প্রকাশ করা এক যৌথ বিবৃতিতে ইরানের প্রতি এই আহ্বান জানানো হয়৷ এছাড়া ঐ বিবৃতিতে চুক্তি চালিয়ে যেতে বাকি দেশগুলোকে বাধা না দিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিও অনুরোধ জানানো হয়েছে৷

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ ট্রাম্পের ঘোষণায় হতাশা প্রকাশ করেছেন৷ টুইটারে তিনি লিখেছেন, ‘‘ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তে দুঃখ প্রকাশ করেছে৷ পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি এখন বিপন্ন৷''

এদিকে, জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাইকো মাস বলেছেন, তাঁর দেশ ইরান চুক্তি ছেড়ে যাবে না৷ বরং এই চুক্তি চালিয়ে যেতে সব ধরনের সহায়তা করবে জার্মানি৷

জার্মানির ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ট্রাম্পের ঘোষণায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন৷ কারণ তিনি  ইরানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক থাকা কোম্পানিগুলোর উপরও নিষেধাজ্ঞা জারির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন৷ এক্ষেত্রে জার্মান কোম্পানিগুলোও ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ী নেতা ফল্কার ট্রায়ার৷

চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী অন্যতম দেশ রাশিয়া ট্রাম্পের একক সিদ্ধান্তে ‘গভীর হতাশা' প্রকাশ করেছে৷

চুক্তি নিয়ে আলোচনার সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মোঘেরিনি৷ এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, ইরান চুক্তির ভবিষ্যৎ ‘এক দেশের হাতে নেই'৷

ইরান সংসদের স্পিকার আল লারিদজানি বলেছেন, সমস্যা নিয়ে কাজ করার মতো মানসিক দক্ষতা ট্রাম্পের নেই৷ ইরানের সাংসদরা বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা পুড়িয়েছেন৷

ট্রাম্পের প্রশংসা

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু ট্রাম্পের প্রশংসা করে একে ‘ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত' বলে আখ্যায়িত করেছেন৷

সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘‘চুক্তির পর নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় ইরানের যে আর্থিক অগ্রগতি হয়েছিল, সেটা দিয়ে তারা অত্র অঞ্চলকে অস্থির করে তুলছিল৷''

আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আনোয়ার গারগাশ টুইটারে লিখেছেন, ইরান চুক্তির কারণে অত্র অঞ্চলে পরমাণু প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা ছিল৷

এদিকে, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে ‘মিসগাইডেড' বলে আখ্যায়িত করেছেন৷ কারণ যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় বন্ধুরাষ্ট্রসমূহ, নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ ও যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রতিরক্ষামন্ত্রী - সবাই ইরান চুক্তি কার্যকর হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন, বলেন ওবামা৷ এভাবে একের পর একে সাবেক প্রশাসনের চুক্তি বাতিলের মাধ্যমে বিশ্ব পরিসরে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হচ্ছে বলেও মনে করেন এই সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট৷

জেডএইচ/ডিজি (এপি, রয়টার্স)

স্কিপ নেক্সট সেকশন এই বিষয়ে আরো তথ্য

এই বিষয়ে আরো তথ্য