1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

‘মারাত্মক রাজনৈতিক ভুল করবেন না'

১২ জুন ২০১৯

ব্রেক্সিট সম্পর্কে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থীদের অবস্থানের প্রেক্ষিতে আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ব্রিটেনের সংসদ সদস্যদের সতর্ক করে দিয়েছেন৷ ইইউ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, নতুন নেতার সঙ্গে কোনো দরকষাকষির সুযোগ নেই৷

https://p.dw.com/p/3KCk7
ব্রিটেনের আগামী প্রধানমন্ত্রী হতে চান বরিস জনসন
ছবি: Getty Images/AFP/D. Leal-Olivas

সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চললে জুলাই মাসের শেষে ব্রিটেনে নতুন প্রধানমন্ত্রী শাসনভার গ্রহণ করবেন৷ তবে ব্রেক্সিট কার্যকর করার জন্য তাঁর হাতে মাত্র তিন মাস সময় থাকবে৷ কারণ ৩১শে অক্টোবর ব্রিটেন ইইউ ত্যাগ করতে চলেছে৷ নতুন শীর্ষ নেতা এই মেয়াদ আরও বাড়ানোর আবেদন করবেন কিনা, করলে ইইউ সম্মতি জানাবে কিনা, তাও স্পষ্ট নয়৷ টোরি দল তথা দেশের নেতৃত্বের দৌড়ে যাঁরা আসরে নেমেছেন, তাঁদের একটা বড় অংশ নির্ধারিত তারিখেই ব্রেক্সিট কার্যকর করার পক্ষে৷ তবে তাঁরা কীভাবে এত কম সময়ের মধ্যে এমন দুরূহ কাজ করবেন, সে বিষয়ে সন্তোষজনক উত্তর পাওয়া যাচ্ছে না৷ কয়েক জন প্রার্থী এ বিষয়ে ‘অবাস্তব' প্রতিশ্রুতি দিয়ে চলেছেন বলেও অভিযোগ উঠছে৷

এমন প্রেক্ষাপটে ব্রিটেনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি সম্পর্কে সংশয় প্রকাশ করছেন ইইউ নেতারা৷ প্রতিবেশী দেশ আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী লিও ভারাদকার ব্রিটেনের সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে ‘মারাত্মক রাজনৈতিক ভুল পদক্ষেপ' সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছেন৷ তাঁর মতে, ব্রিটেনের বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন যে বিচ্ছেদ চুক্তি সম্পর্কে ঐকমত্যে পৌঁছেছে, নতুন নেতা ক্ষমতায় এলে ইইউ তার তুলনায় আরও ভাল চুক্তি মেনে নেবে, এই ধারণা সম্পূর্ণ ভূল৷ উল্লেখ্য, ব্রিটেনের সংসদ তিন-তিনবার এই চুক্তির বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে

ইউরোপীয় কমিশনের বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জঁ ক্লোদ ইয়ুংকারও মঙ্গলবার আবার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যে ব্রিটেনের নতুন শীর্ষ নেতা কার্যভার গ্রহণ করলেও ব্রেক্সিট চুক্তিতে কোনো রদবদল সম্ভব নয়৷ তিনি বলেন, ‘‘টেরেসা মে ও জঁ ক্লোদ ইয়ুংকার নয়, ব্রিটেন ও ইইউ এই চুক্তি স্বাক্ষর করেছে৷ ইউরোপীয় কমিশনের এক মুখপাত্রও একই সুরে সে কথা জানিয়ে দিয়েছেন৷

টোরি দলের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় প্রার্থী হিসেবে পরিচিত বরিস জনসন ৩১শে অক্টোবর ব্রেক্সিট কার্যকর করতে বদ্ধপরিকর৷ যে কোনো বিলম্বকে তিনি দলের পরাজয় হিসেবে তুলে ধরতে চলেছেন৷ তবে এই কড়া অবস্থানকে জনসন ইইউ-র সঙ্গে নতুন আলোচনার চাল হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছেন৷ প্রয়োজনে চুক্তি ছাড়াই ব্রেক্সিট কার্যকর করতে তিনি পিছপা হবেন না বলে তিনি জানিয়েছেন৷ তবে ইইউ-র কাছে বকেয়া অর্থ আটকে রাখার হুমকি দিয়ে জনসন সবচেয়ে বড় বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন৷

টোরি দলের নেতৃত্বের দৌড়ে অন্য কয়েকজন প্রার্থী বরিস জনসন-এর খোলাখুলি সমালোচনা করছেন৷ প্রার্থীদের মধ্যে প্রকাশ্য টেলিভিশন বিতর্কে জনসন-কে অংশ নিতে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন ম্যাট হ্যানকক, মার্ক হার্পার-সহ অনেক প্রতিদ্বন্দ্বী৷ জনসন অবশ্য এমন বিতর্ক এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছেন৷ বেফাঁস মন্তব্য বা লাগামহীন রসিকতার জন্য পরিচিত এই প্রার্থী নিজের জয়ের সম্ভাবনা ঝুঁকির মুখে ফেলতে চাইছেন না বলে সমালোচকরা মনে করছেন৷

এসবি/কেএম (রয়টার্স, এএফপি)