‘অনেকক্ষেত্রে সাংবাদিকতার সাধারণ নৈতিকতাও মানা হচ্ছে না’

বাংলাদেশে সাংবাদিকতার ‘এথিকস’ কতটুকু মানা হয়? আর নীতিহীন সাংবাদিকতার বিস্তারের কারণই বা কী? প্রশ্ন উঠেছে সাংবাদিকদের দলবাজি নিয়ে৷ আছে আর্থিক অসততা ও মালিকপক্ষের স্বার্থরক্ষার অভিযোগ৷

এক

আপনি কী ভাবছেন?

এখানে ক্লিক করুন ও আলোচনায় যোগ দিন

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে একটি সেরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘মাছরাঙা টিভি'-র একটি প্রতিবেদন প্রচারের পর তা নিয়ে বেশ আলোচনা-সমালোচনা হয়৷ প্রতিবেদনের বিষয় নিয়ে কেউ তেমন প্রশ্ন না তুললেও, প্রশ্ন ওঠে উপস্থাপনা নিয়ে৷ শিক্ষার মান নিয়ে করা সেই প্রতিবেদনে সদ্য এসএসসি পাশ করা কিছু শিক্ষার্থীকে সাধারণ জ্ঞানের কিছু প্রশ্ন করা হয়৷ সেসব প্রশ্নের অধিকাংশেরই জবাব তারা দিতে পারেনি৷

প্রতিবেদনটি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়৷ প্রতিবেদনে ওই শিক্ষার্থীদের সরাসরি দেখানো হয়৷ ফলে তারা সামাজিক, পারিবারিক এবং সামগ্রিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হয়৷ প্রশ্ন ওঠে, শিক্ষার্থীদের মুখগুলো সরাসরি প্রতিবেদনে দেখানোর অদৌ কোনো প্রয়োজন ছিল কিনা৷ প্রতিবেদনে যেসব তথ্য, বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে তা কি শিক্ষার্থীদের সরাসরি না দেখিয়ে তুলে ধরা সম্ভব ছিল কিনা৷ আর শিক্ষার মানের একটি সার্বিক চিত্র তুলে ধরতে এই অপ্রাপ্ত বয়স্ক শিক্ষার্থীদের ‘ফোকাস' করা ঠিক হয়েছে কিনা৷

দুই

বিবিসি বাংলা গত মাসে তাদের ওয়েবসাইটে একটি খবর প্রকাশ করে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র এবং প্রধানমন্ত্রী'র তথ্য উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিয়ে৷ তাতে ইসরায়েলের লিকুদ পার্টির নেতা মান্দি এন সাফাদির ইউটিউবে প্রচারিত একটি বক্তব্যের ভিত্তিতে বলা হয়, জয়ের সঙ্গে সাফাদির ওয়াশিংটনে বৈঠক হয়েছিল৷ এই প্রতিবেদনে জয়ের কোনো বক্তব্য নেয়া হয়নি বা স্বাধীন কোনো সূত্র থেকে তথ্যের সত্যতা যাচাই করা হয়নি৷ পরে অবশ্য বিবিসি বাংলা তাদের প্রতিবেদনটির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে

তিন

গত ১৪ই ডিসেম্বর কক্সবাজারে ৪০ হাজার অবৈধ মাদক ইয়াবাসহ আটক হন বেসরকারি টেলিভিশন গাজী টিভির স্থানীয় সাংবাদিক মোহাম্মদ সেলিম ও তার স্ত্রী মুন্নি আক্তার৷ তারা গজী টিভির স্টিকার লাগানো একটি গাড়িতে করে ঐ ইয়াবা বহন করছিলেন৷ সেলিম একইসঙ্গে কক্সবাজার থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক কক্সবাজার বার্তা'.র ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক৷

উপরের তিনটি ঘটনা যে বাংলাদেশের সাংবাদিকতার সার্বিক চিত্র তা নয়, তবে এটা কোনো বিচ্ছিন্ন চিত্রও নয়, কারণ, বাংলাদেশে ‘এথিকস অফ জার্নালিজম' বা সাংবাদিকতার নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে প্রায়ই৷ ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহমফুজ আনাম নিজেই সাংবাদিকতার নীতিমালা ভঙ্গের কথা স্বীকার করেছেন৷ তিনি ওয়ান ইলেভেনের সময় বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে তার পত্রিকায় প্রকাশিত কিছু খবরকে ‘সেনা গোয়েন্দা সংস্থার সরবরাহ করা' বলে স্বীকার করেছেন৷ তিনি জানিয়েছেন, স্বাধীন কোনো সূত্র থেকে ওই তথ্য নিশ্চিত করা যায়নি৷ ওই খবর প্রকাশকে তিনি ‘সম্পাদকীয় ভুল' হিসেবে স্বীকার করে নিয়েছেন৷

বাংলাদেশে সাংবাদিকতার নীতিমালা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে মোট দাগে কয়েকটি বিষয় লক্ষ করা যায়৷

১. রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব
২. মালিক পক্ষের ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষা
৩. ব্যক্তিগত এবং প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা আদায়
৪. অদক্ষতা

সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের তিন বছর পূর্তিতে আয়োজিত আলোকচিত্র প্রদর্শনীর দুই দরজায় সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনির কবরের এপিটাফ-এর একটি আলোকচিত্র৷

সাগর-রুনি ও তাঁদের একমাত্র শিশুপুত্র মেঘের একটি মর্মস্পর্শী ছবি৷ ছবিটির বামদিকে মেঘের আঁকা বাবার ছবি আর ডানে মায়ের ছবি৷ কোনো এক ‘মা দিবসে’ ছবিটি এঁকেছিল মেঘ, যার পাশে কাঁচা হাতে লেখা – ‘‘ভালোবাসি মা’’৷

এক

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে একটি সেরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘মাছরাঙা টিভি'-র একটি প্রতিবেদন প্রচারের পর তা নিয়ে বেশ আলোচনা-সমালোচনা হয়৷ প্রতিবেদনের বিষয় নিয়ে কেউ তেমন প্রশ্ন না তুললেও, প্রশ্ন ওঠে উপস্থাপনা নিয়ে৷ শিক্ষার মান নিয়ে করা সেই প্রতিবেদনে সদ্য এসএসসি পাশ করা কিছু শিক্ষার্থীকে সাধারণ জ্ঞানের কিছু প্রশ্ন করা হয়৷ সেসব প্রশ্নের অধিকাংশেরই জবাব তারা দিতে পারেনি৷

প্রতিবেদনটি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়৷ প্রতিবেদনে ওই শিক্ষার্থীদের সরাসরি দেখানো হয়৷ ফলে তারা সামাজিক, পারিবারিক এবং সামগ্রিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হয়৷ প্রশ্ন ওঠে, শিক্ষার্থীদের মুখগুলো সরাসরি প্রতিবেদনে দেখানোর অদৌ কোনো প্রয়োজন ছিল কিনা৷ প্রতিবেদনে যেসব তথ্য, বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে তা কি শিক্ষার্থীদের সরাসরি না দেখিয়ে তুলে ধরা সম্ভব ছিল কিনা৷ আর শিক্ষার মানের একটি সার্বিক চিত্র তুলে ধরতে এই অপ্রাপ্ত বয়স্ক শিক্ষার্থীদের ‘ফোকাস' করা ঠিক হয়েছে কিনা৷

দুই

বিবিসি বাংলা গত মাসে তাদের ওয়েবসাইটে একটি খবর প্রকাশ করে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র এবং প্রধানমন্ত্রী'র তথ্য উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিয়ে৷ তাতে ইসরায়েলের লিকুদ পার্টির নেতা মান্দি এন সাফাদির ইউটিউবে প্রচারিত একটি বক্তব্যের ভিত্তিতে বলা হয়, জয়ের সঙ্গে সাফাদির ওয়াশিংটনে বৈঠক হয়েছিল৷ এই প্রতিবেদনে জয়ের কোনো বক্তব্য নেয়া হয়নি বা স্বাধীন কোনো সূত্র থেকে তথ্যের সত্যতা যাচাই করা হয়নি৷ পরে অবশ্য বিবিসি বাংলা তাদের প্রতিবেদনটির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে

তিন

গত ১৪ই ডিসেম্বর কক্সবাজারে ৪০ হাজার অবৈধ মাদক ইয়াবাসহ আটক হন বেসরকারি টেলিভিশন গাজী টিভির স্থানীয় সাংবাদিক মোহাম্মদ সেলিম ও তার স্ত্রী মুন্নি আক্তার৷ তারা গজী টিভির স্টিকার লাগানো একটি গাড়িতে করে ঐ ইয়াবা বহন করছিলেন৷ সেলিম একইসঙ্গে কক্সবাজার থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক কক্সবাজার বার্তা'.র ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক৷

উপরের তিনটি ঘটনা যে বাংলাদেশের সাংবাদিকতার সার্বিক চিত্র তা নয়, তবে এটা কোনো বিচ্ছিন্ন চিত্রও নয়, কারণ, বাংলাদেশে ‘এথিকস অফ জার্নালিজম' বা সাংবাদিকতার নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে প্রায়ই৷ ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহমফুজ আনাম নিজেই সাংবাদিকতার নীতিমালা ভঙ্গের কথা স্বীকার করেছেন৷ তিনি ওয়ান ইলেভেনের সময় বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে তার পত্রিকায় প্রকাশিত কিছু খবরকে ‘সেনা গোয়েন্দা সংস্থার সরবরাহ করা' বলে স্বীকার করেছেন৷ তিনি জানিয়েছেন, স্বাধীন কোনো সূত্র থেকে ওই তথ্য নিশ্চিত করা যায়নি৷ ওই খবর প্রকাশকে তিনি ‘সম্পাদকীয় ভুল' হিসেবে স্বীকার করে নিয়েছেন৷

বাংলাদেশে সাংবাদিকতার নীতিমালা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে মোট দাগে কয়েকটি বিষয় লক্ষ করা যায়৷

১. রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব
২. মালিক পক্ষের ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষা
৩. ব্যক্তিগত এবং প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা আদায়
৪. অদক্ষতা

বেসরকারি টেলিভিশন চানেল একুশে টিভির হেড অব নিউজ রাশেদ চৌধুরী ডয়চে ভেলেকে বলেন,

ছবিতে বর্বোরোচিত হত্যাকাণ্ড

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনির বর্বোরোচিত হত্যাকাণ্ডের তিন বছর পূর্তিতে এই প্রদর্শনীটির আয়োজন করেছে সাগর-রুনির পরিবার, বন্ধু-বান্ধব ও শুভানুধ্যায়ীরা৷ প্রদর্শনীটি চলবে ২৬শে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত৷

স্থান পেয়েছে কবরের ‘এপিটাফ’

সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের তিন বছর পূর্তিতে আয়োজিত আলোকচিত্র প্রদর্শনীর দুই দরজায় সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনির কবরের এপিটাফ-এর একটি আলোকচিত্র৷

‘আমরা তোমাদের ভুলবো না’

‘সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করি’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনীটিতে সাংবাদিক দম্পতির কর্মস্থলের পরিচয়-পত্র৷ ঢাকায় মাছরাঙা টেলিভিশনে যোগ দেয়ার আগে সাগর সরওয়ার কাজ করতেন ডয়চে ভেলেতে আর মেহেরুন রুনি কাজ করতেন বাংলাদেশের বেসরকারি টেলিভিশন ‘চ্যানেল আই’-এ৷

ছোটবেলার সেই দিনগুলো...

সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনির পরিচয়-পত্রের পাশে রুনির ছোটবেলার আলোকচিত্র৷ মেহেরুন রুনির পারিবারিক অ্যালবামের এ সব ছবিও স্থান পেয়েছে প্রদর্শনীতে৷

‘আজও বড় ভালোবাসি তোমায়’

সাগর-রুনি ও তাঁদের একমাত্র শিশুপুত্র মেঘের একটি মর্মস্পর্শী ছবি৷ ছবিটির বামদিকে মেঘের আঁকা বাবার ছবি আর ডানে মায়ের ছবি৷ কোনো এক ‘মা দিবসে’ ছবিটি এঁকেছিল মেঘ, যার পাশে কাঁচা হাতে লেখা – ‘‘ভালোবাসি মা’’৷

চঞ্চল মেঘের প্রশ্নবিদ্ধ চোখ

প্রদর্শনী জুড়ে সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে মাহির সরওয়ার মেঘের চঞ্চলতা৷ পুরো গ্যালারি জুড়ে আপন মনে খেলে চলা ছোট্ট এই শিশুটির দু’চোখেই যেন বাবা-মা হত্যার বিচারের আকুতি৷ মেঘ কি পাবে বর্বর এ হত্যাকাণ্ডের বিচার?

ছোট্ট মেঘের হাতের কাজ

ডয়চে ভেলেতে কাজের সূত্রে মেঘকে নিয়ে সাগর-রুনির বসবাস ছিল জার্মানিতে৷ সে সময়ে স্কুলের জন্য তৈরি করা মেঘের একটি ছবির অ্যালবাম৷

সত্যি কি আমরা ভুলে যায়নি?

সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের পর প্রকাশিত বাংলাদেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকা৷ আর তার সামনে, দেয়ালে লেখা ‘Let’s Forget Sagar-Runi’ – ‘আসুন আমরা সাগর-রুনিকে ভুলে যাই’৷

হারিয়ে যাওয়া বোনের জন্য...

প্রদর্শনীতে মেহেরুন রুনির ছোটবেলার একটি ছবি বোর্ডে লাগাচ্ছেন ভাই নওশেদ আলম৷ চার ভাই-বোনের মধ্যে রুনি ছিলেন দ্বিতীয় সন্তান৷

দোষীদের খোঁজ পাওয়া যাবে তো?

রুনির আরেক ভাই নওশের রোমান৷ তিনি জানান, ‘‘সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করে সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতেই এ প্রদর্শনীর আয়োজন৷ এতে পুরো ঘটনার ভয়াবহতা ফুটে না উঠলেও, জঘন্যতম এই অপরাধের প্রতি মানুষের মধ্যে এক ধরনের সচেতনতা সৃষ্টি করার প্রয়াস রয়েছে৷’’

কোথায় গেল সাগরের ল্যাপটপ?

প্রদর্শনীতে সাগর সরওয়ারের ব্যবহৃত ল্যাপটপের পাশে তাঁরই লেখা একটি বই৷ মাঝে প্রতীক হিসেবে রাখা হয়েছে একটি খেলনার পিস্তল৷

চোখে চশমা, মুখে সেই অনবদ্য হাসি

সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের তিন বছর পূর্তিতে আয়োজিত প্রদর্শনীতে মেহেরুন রুনি ও সাগর সরওয়ারের ব্যবহৃত চশমা৷ এ আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে সাংবাদিক দম্পতির বিভিন্ন আলোকচিত্র ছাড়াও দৈনন্দিন ব্যবহার্য জিনিসপত্রও স্থান পেয়েছে৷

আজও কেমন জলজ্যান্ত!

প্রদর্শনীতে আলোকচিত্রের পাশাপাশি দেখানো হচ্ছে ভিডিও ক্লিপও৷ সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের পর নানা ঘটনার ভিডিও-চিত্র দেখানো হচ্ছে প্রজেক্টরে৷

নৃশংসতার প্রতীক

নিহত এই সাংবাদিক দম্পতির প্রতি সম্মান জানাতে এবং একই সাথে পুরো রহস্য উদঘাটনের দাবি জানিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো এই আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন৷ ২০১২ সালের ১১ই ফেব্রুয়ারি পশ্চিম রাজাবাজারে নিজেদের ভাড়া করা ফ্ল্যাটে, অজ্ঞাত আততায়ীদের হাতে নৃশংসভাবে খুন হন তাঁরা৷

নীরবে-নিভৃতে কাঁদে...

মেহেরুন রুনির পুরনো ছবির সামনে অশ্রুসজল মা নুরন নাহার মির্জা৷ সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে আজও নীরবে-নিভৃতে চোখের জল ফেলে চলছেন এই মা৷

সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই

প্রদর্শনীতে সাগর-রুনি ও মেঘের ছবির সঙ্গে ‘সেলফি’ তুলছেন এক দর্শনার্থী৷ সাধারণ মানুষের হৃদয়ে স্থান পাওয়া সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনির হত্যাকাণ্ডের বিচার এখন বাংলাদেশের মানুষের প্রাণের দাবি৷

‘‘বাংলাদেশের সাংবাদিকতায় নীতিহীনতা প্রবলভাবে জেঁকে বসেছে৷ এটা যতটা না অদক্ষতার কারণে, তার চেয়ে বেশি স্বার্থ, সুযোগ-সুবিধা ও আর্থিক লাভের কারণে হয়েছে৷ আমি বলবো না সবাই, তবে বড় এক গ্রুপ সিনিয়র সাংবাদিক নিজেদের স্বার্থে সংবাদমাধ্যমকে ব্যবহার করছেন৷ একদিকে তারা এটা করে রাজনৈতিক সুবিধা নিচ্ছেন, অন্যদিকে মালিকের ব্যক্তিগত স্বার্থে কাজ করে পদ টিকিয়ে রাখছেন৷ আমি বলবো, এই দালাল সাংবাদিকরা সাংবাদিকতার নৈতিক বিচ্যুতির জন্য দায়ী৷''

তিনি বলেন, ‘‘এ সব ক্ষমতাধর নীতিহীন সাংবাদিকদের কাছে নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকরাও জিম্মি৷ তারা যদি সিনিয়র ওই সাংবাদিকদের কথা মতো নীতিহীন সাংবাদিকতায় রাজি না হন, তাহলে চাকরি হারাতে হয়৷ এরকম অনেক উদাহরণ আছে৷ আমি নাম বলতে চাই না৷ তাদের সবাই চেনেন৷''

সাংবাদিকতার নীতিমালা না মানায় অনেক সংকটের সৃষ্টি হচ্ছে৷ কেউ কেউ ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন৷ আবার তথ্য বিভ্রান্তিতে পড়ছেন গণমাধ্যমের গ্রাহক৷ এমনকি কোনো কোনো মানুষের জীবনে চরম বিপর্যয়ও নেমে আসছে৷ আর সার্বিকভাবে গণমাধ্যম আস্থার সংকটে পড়ছে৷

রাশেদ চৌধুরীর মতে, ‘‘বাংলাদেশে কারো কারো কাছে সাংবাদিকতা অবৈধ সম্পদ আর ক্ষমতা অর্জনের হাতিয়ার৷ সেক্ষেত্রে সাংবাদিকতার অতি প্রয়োজনীয় নীতিমালা এখানে উপেক্ষিত৷ শব্দ ব্যবহার, জেন্ডার নীতিমালা, ছবি ও ফুটেজের নীতিমালা এখানে অনেকটাই উপেক্ষিত৷ নারী ও শিশু, তৃতীয় লিঙ্গ, আদিবাসী, হেট স্পিচ এই বিষয়গুলো এখানকার সংবাদমাধ্যম তেমন আমলে নেয় না বা বুঝতে পারে না৷ আর এখানে তখ্য ‘ক্রসচেক' করার ক্ষেত্রে রয়েছে ভয়াবহ ঘাটতি৷''

তাই তো শিশুকে কোনো ঘটনায় ‘এক্সপোজ' করা যাবে, কখন যাবে না তা বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম ঠিক বুঝে উঠতে পারে না৷ এ কারণেই এখানে এখানো ‘কিশোর অপরাধীর' ছবি ছাপা হয়৷ মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে দেখানো হয় সংবাদমাধ্যমে৷ আর কোনো এক পক্ষের অভিযোগ যাচাই বাছাই ছাড়াই প্রকাশ করা হয়৷

বাংলাদেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এক নারীর ‘চরিত্র' নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে গত বছর৷ আর সেই নারীর একান্ত ব্যক্তিগত ছবিও প্রকাশ করে৷ পরে অবশ্য টেলিভিশন চ্যানেলটির বিরুদ্ধে মামলা হয়৷ আরেক টেলিভিশন চ্যানেল কিশোরদের ‘অপরাধের' চিত্র সরাসরি প্রচার করে বেশ সমালোচনার মুখে পড়ে৷ আর ব্যবসায়িক স্বার্থে কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে বা পক্ষে প্রতিবেদন প্রকাশ করার বহু উদাহরণ আছে বাংলাদেশে৷

ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হতে সংবাদ প্রকাশ করা বা না করা বাংলাদেশে একটি সাধারণ ঘটনা৷ প্রতিবেদক প্রতিবেদন তৈরির পরও তা আটকে যায় বা উল্টে যায় স্বার্থের কারণে৷

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শফিউল আলম ভুঁইয়া ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘বাংলাদেশে প্রধান সমস্যা হলো সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণের অভাব৷ সাংবাদিকতার সাধারণ কিছু নীতিমালা আছে, যা সারা বিশ্বেই স্বীকৃত৷

ইরিত্রিয়া

রিপোটার্স উইদাউট বর্ডার্সের প্রকাশিত ২০১৬ প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্স অনুযায়ী, যে দেশটিতে গণমাধ্যমের কোনোই স্বাধীনতা নেই, সেটি হচ্ছে ইরিত্রিয়া৷ গত ২০ বছরের বেশি সময় ধরে স্বৈরশাসকের কবলে থাকে দেশটির কমপক্ষে ১৫ সাংবাদিক এই মুহূর্তে জেলে আছেন৷ প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্সে ১৮০টি দেশের মধ্যে সবার নীচে আছে ইরিত্রিয়া৷

উত্তর কোরিয়া

ইরিত্রিয়ার পরই নীচের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে উত্তর কোরিয়া৷ কিম জুন-উনের নেতৃত্বাধীন দেশটি গত ১৫ বছর ধরেই প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্সের একেবারে নীচের দিকে অবস্থান করছে৷ দেশটিতে বিদেশি সাংবাদিকদের ভিসা তেমন দেয়া হয় না, যদিও বা কেউ ভিসা পান, তাঁকে রাখা হয় কড়া নজরদারিতে৷

তুর্কমেনিস্তান

এই দেশটিকে বলা হয় পৃথিবীর অন্যতম তথ্য কৃষ্ণ গহ্বর৷ স্বাধীনভাবে কোনো সাংবাদিক কাজ করতে চাইলে তাঁর জন্য মোটামুটি কারাভোগ এবং নির্যাতন নিশ্চিত দেশটিতে৷ ইনডেক্সে তাদের অবস্থান নীচের দিক থেকে তৃতীয়৷

ফিনল্যান্ড

এবার যাওয়া যাক, তালিকার উপরের দিকের অবস্থা৷ গত পাঁচবছর ধরেই প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্সের শীর্ষে অবস্থান করছে ফিনল্যান্ড৷ দেশটির গণমাধ্যম সবচেয়ে বেশি স্বাধীনতা উপভোগ করে৷ তবে সেদেশের অধিকাংশ পত্রিকা দু’টি মিডিয়া গ্রুপের মালিকানায় রয়েছে৷

নেদারল্যান্ডস

প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্সে গত একবছরে দু’ধাপ এগিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে চলে এসেছে নেদারল্যান্ডস৷ দেশটির গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আইনিভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে৷

বাংলাদেশ

বাংলাদেশে গতবছর চারজন ব্লগার এবং প্রকাশক খুন হওয়ার পরও প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্সে কিঞ্চিৎ উন্নতি ঘটেছে৷ আগের বছরের তুলনায় দুই ধাপ এগিয়ে দেশটির অবস্থান এখন ১৪৪তম, তবে গ্লোবাল স্কোর কমেছে মাইনাস ২ দশমিক ৯৯ শতাংশ৷

এর বাইরে কোনো কোনো দেশের আইনই সেই দেশের জন্য কিছু নীতিমালা বেঁধে দেয়৷ আমরা যদি সাংবাদিকতার সাধারণ নৈতিকতা নিয়ে কথা বলি, তাহলে বলা যায় এখানে তা ঠিকমতো মানা হচ্ছে না৷''

তিনি বলেন, ‘‘এর প্রধান কারণ প্রশিক্ষণের অভাব ৷ এছাড়া আগে সংবাদ দেয়ার প্রবণতা বা প্রতিযোগিতাও অন্যতম কারণ৷তবে এর বাইরে আরো অনেক কারণেই সাংবাদিকতার এথিকস এখানে লঙ্ঘন করা হয়৷ সেটা রাজনৈতিক, ব্যক্তিগত স্বার্থ বা প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থে হতে পারে৷''

সাংবাদিকতার এই অধ্যাপক মনে করেন, ‘‘এথিকস ভঙ্গ করর বা না মানার কারণে সাংবাদিকরা শেষ পর্যন্ত নিজেরাও ক্ষতিগ্রস্ত হন৷ তারা ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যান৷''

এই দু'জন বিশ্লেষকই অবশ্য মনে করেন এর বাইরে রাজনৈতিক চাপও নীতিমালা ভঙ্গের অন্যতম প্রধান কারণ৷

আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷