‘অন্যান্য প্রাচীর’ নিয়ে সতর্ক করলেন জার্মান প্রেসিডেন্ট

মঙ্গলবার জার্মানিতে দুই জার্মানির পুনরেকত্রীকরণ দিবস পালিত হয়েছে৷ এ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জার্মান প্রেসিডেন্ট ফ্রাংক-ভাল্টার স্টাইনমায়ার বলেন, জার্মানিকে বিভক্ত করতে ‘অন্যান্য প্রাচীর’ গড়ে উঠেছে৷

১৯৯০ সালের ৩ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানি এক হয়েছিল৷ তার আগে ১৯৮৯ সালের ৯ নভেম্বর বার্লিন প্রাচীরের পতন হয়েছিল৷ সেই ঘটনার উল্লেখ করে জার্মান প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘‘আমাদের দেশের মধ্য দিয়ে যে দেয়াল চলে গিয়েছিল তা আর নেই৷ তবে ২৪ সেপ্টেম্বর একটা বিষয় পরিষ্কার হয়ে গেছে যে, অন্যান্য দেয়াল গড়ে উঠেছে৷ এই দেয়াল সহজে চোখে পড়ে না, সেখানে নেই কোনো কাঁটাতারের বেড়া৷ কিন্তু এই প্রাচীর ‘আমাদের’ পথে এসে দাঁড়িয়েছে৷’’ উল্লেখ্য, ২৪ সেপ্টেম্বর জার্মানিতে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে৷ এই নির্বাচনে তৃতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে ইসলাম ও শরণার্থীবিরোধী দল এএফডি বা ‘জার্মানির জন্য বিকল্প’ দল৷

সমাজ-সংস্কৃতি | 16.06.2017
ভিডিও দেখুন 30:42
এখন লাইভ
30:42 মিনিট
DW News | 03.10.2017

Steinmeier: New 'walls' now divide Germany

জার্মান প্রেসিডেন্ট তাঁর বক্তব্যের একটি বড় অংশ জুড়ে তরুণ জার্মান ভোটারদের নিয়ে কথা বলেন, যাঁরা জন্মের পর থেকে শুধু একীভূত জার্মানি দেখেছে, বিভক্ত নয়৷ ‘‘আজ আমরা যা উদযাপন করছি তা সাধারণ - কিন্তু কোনোভাবেই তা সহজে পাওয়া যায়নি,’’ বলেন তিনি৷ তরুণ জার্মান, যারা বিভক্ত জার্মানি দেখেনি, তাদেরকে জার্মান প্রেসিডেন্ট ‘যাঁরা বিভক্ত জার্মানি দেখেছেন’ তাঁদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দিয়েছেন৷

নতুন সংসদে এএফডির উপস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে স্টাইনমায়ার বলেন, ‘‘নয়দিন আগে যে জার্মান বুন্ডেসটাগ নির্বাচিত হয়েছে, তা অন্যরকম হবে৷ এটি (নির্বাচন) সমাজে বিভক্তি ও হতাশাকে স্পষ্ট করে দিয়েছে৷’’ এখন যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি বিরাজ করছে, তাতে পরিবর্তন আসবে উল্লেখ করে জার্মান প্রেসিডেন্ট বলেন, এর সমাধান আসতে হবে গণতন্ত্রপন্থিদের কাছ থেকে, যারা গণতন্ত্র অবজ্ঞা করে তাদের কাছ থেকে নয়৷

১৯৯০ সালের পর কিছু ‘ভুল’ কাজ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন জার্মান প্রেসিডেন্ট৷ ‘‘পুনরেকত্রীকরণের পর পূর্ব জার্মানরা যে ভঙ্গুর পরিস্থিতিতে বসবাস করেছে, তা পশ্চিমে (জার্মানি) বসবাসকারী আমাদের প্রজন্মের ব্যক্তিরা কখনও জানতে পারেনি,’’ বলেন তিনি৷ সে কারণে দুই জার্মানির পরিস্থিতি এখনও ভিন্ন৷ পশ্চিমের চেয়ে পূর্ব জার্মানিতে এএফডির বেশ ভালো ফল করার মধ্য দিয়ে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে৷

পুনরএকত্রিত জার্মানি | 03.10.2012

সংসদ নির্বাচনের আরেক আলোচিত বিষয় ‘অভিবাসন’ নিয়েও কথা বলেন জার্মান প্রেসিডেন্ট৷ তিনি নতুন নীতিমালা তৈরি করে রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হওয়া ব্যক্তি ও আর্থিক কারণে অভিবাসী হতে চাওয়াদের মধ্যে পার্থক্য করার আহ্বান জানান৷

জার্মান প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের সময় জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল ও বুন্ডেসটাগের প্রেসিডেন্ট নোর্বার্ট লামার্ট উপস্থিত ছিলেন৷

ক্রিস্টিনা বুরাক, রেবেকা স্টাউডেনমায়ার/জেডএইচ

২০১৩ সালের নভেম্বরের ছবিঘরটি দেখুন...

পুনরেকত্রীকরণের শিল্প

এই দেয়াল শিল্প ইতিহাসকে বিভক্ত করেছে৷ তাই সমান্তরালভাবে ৬০ বছরের জার্মান শিল্পের ইতিহাস এখানে উঠেছে ফুটে৷ ইনস্টিটিউট ফর ফরেন কালচারাল রিলেশন্স ‘ওয়ার্ল্ড ট্যুর’ নামে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে৷ এখানে তৎকালীন পূর্ব জার্মানির আলোকচিত্রী সিবিলে ব্যার্গেমান সোভিয়েত ব্লক ভাঙার ক্রমিক চিত্র তুলে ধরেছেন৷

গ্রাউন্ড জিরো

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানি৷ নাৎসিবাহিনীর অত্যাচারের চিত্রের পর আর কিছু কি দেয়ার থাকতে পারে? এ যেন ‘গ্রাউন্ড জিরো’ থেকে কনটেম্পোরারি আর্ট বা সমকালীন শিল্পের ইতিহাস শুরু৷

অসঙ্গতিপূর্ণ শিল্পের গোপন রহস্য

গ্যারহার্ড আল্টেনবুর্গ জার্মানির পূর্বাঞ্চলের ভিন্নধর্মী শিল্পীদের মধ্যে অন্যতম৷ তাঁর কাজে কখনোই সামাজিক বাস্তবতা প্রতিফলিত হয়নি৷ অনেক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও আল্টেনবুর্গ সৃষ্টি করেছিলেন গোপন কিছু করার৷ পুনরেকত্রীভূত জার্মানিতে এখন তাঁর কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত৷ এমনকি বুন্ডেসটাগ বা জার্মান সংসদেও তাঁর চিত্রকর্ম ঝোলানো আছে৷

পশ্চিমে বিমূর্ত ছবির প্রতি সমর্থন

পশ্চিম জার্মান চিত্রশিল্পী ব্যার্নার্ড শুলৎসের ছবিতে কাব্য যেমন আছে, তেমনি আছে একটা বিমূর্ত ধারণা৷ আইএফএ জানিয়েছে, আল্টেনবুর্গের মধ্যেও একই ধরণের শৈল্পিক চিন্তাভাবনা কাজ করেছে৷ ১৯৫৯ সালে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কনটেম্পোরারি প্রদর্শনীতে তাঁদের দু’জনের চিত্রকর্ম প্রদর্শিত হয়৷

পূর্ব জার্মানির ফটোগ্রাফিতে স্বাধীনতা

গত ৬০ বছরের ফটোগ্রাফিতে পুরো জার্মানির যে বিষয়টি আবিষ্কার হয়েছে, তা হোল স্বাধীন আর্ট ফর্ম৷ তৎকালীন পূর্ব বার্লিনের ফটোগ্রাফার আর্নো ফিশার ১৯৫৭ সালে এই রাস্তার ছবিটি তুলেছিলেন৷ ফিশারের ছবি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয়, বরং মানুষের অস্তিত্ব বোঝানোর আগ্রহই তাঁর শিল্পকর্মে বেশি লক্ষ্যণীয়৷

উত্তেজনামুলক নয়, পার্থিব

ফটোগ্রাফার সারগেসহাইমার অনেকটা আর্নো ফিশারের মতো, যা দেখেন তারই ছবি তুলতে ভালোবাসেন৷ সারগেসহাইমারের আসল নাম কার্ল-হাইনৎস হার্গেসহাইমার৷ তিনি যতটা না উত্তেজনামূলক বিষয়বস্তুর ছবি তুলতে ভালোবাসতেন, তার চেয়ে বেশি ভালোবাসতেন পার্থিব কোনো কিছুর ছবি তুলতে৷

পূর্বের জ্যামিতিক শিল্প

বার্লিন প্রাচীরের পতনের পর আইএফএ জিডিআর শিল্পীদের শিল্পকর্মকে সমর্থন দেয়৷ হ্যার্মান গ্ল্যোকনারও তাঁদের মধ্যে একজন৷ এখানে দেখা যাচ্ছে দেয়ালের যে পাশে যে শিল্পীদের বসবাস, তাঁদের কাজের মধ্যে সম্পর্ক৷

পশ্চিমের জ্যামিতিক শিল্প

দ্বিমাত্রিক রং, ছন্দময় ভঙ্গি: সাবেক পশ্চিম জার্মানির অংশ মিউনিখ শহরের গ্রাফিক শিল্পী গ্যুন্টার ফ্রুট্রুংকের কাজের ধরণটা একেবারেই অন্যরকম৷ তাঁর অন্যতম জনপ্রিয় কাজগুলোর একটি হলো জার্মানির বিখ্যাত স্বল্প মূল্যের বিপণি আল্ডি-র প্লাস্টিক ব্যাগ৷

গতানুগতিক শিল্পের বিরুদ্ধে

ইওসেফ বয়েসের এই চিত্রকর্মটির নাম ‘আই ডু নট নো আ উইকএন্ড’৷ ১৯৬০ সালে তৎকালীন পশ্চিম জার্মানিতে তিনি দর্শকদের তাঁর ঘণ্টাব্যাপী ‘পারফর্মেন্স’ দিয়ে প্ররোচিত করেছিলেন৷ তাঁর মতো করে পূর্ব-পশ্চিমের বিভেদ নিয়ে এমন কাজ করার মতো সাহস কোনো পূর্ব জার্মান শিল্পী দেখাননি৷

পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারী

অনেক বছর আগে যখন নারীর সম অধিকারের বিষয়টি এত ব্যাপক ছিল না, তখন নারী শিল্পীদের সুযোগ দিয়েছিল আইএফএ৷ ৭০-এর দশকে নারী বিপ্লবীদের পাশাপাশি ভূমিকা রেখেছিলেন নারী শিল্পীরাও৷ তাঁদের মধ্যে অন্যতম কাথারিনা ফ্রিচ৷

ড্রেসডেনে ড্যুসেলডর্ফ স্কুল অফ ফটোগ্রাফি

পূর্ব বা পশ্চিম? স্টেশন সিরিজের কয়েকটি ছবির একটি এই ছবিটি৷ ছবিটি ড্যুসেলডর্ফ স্কুল অফ ফটোগ্রাফির কথা মনে করিয়ে দেয়, যেটি বার্ন এবং হিয়া বেশারের তৈরি৷ তাঁরা দু’জন শিল্পকারখানার চুল্লির উপর ফটোগ্রাফির জন্য সুপরিচিত৷

ফটো সাংবাদিকতার চেয়েও বেশি কিছু

প্রথম দেখায় এটি শুধু ২০০১ সালে ইটালিতে অনুষ্ঠিত জি-এইট সম্মেলনের বিক্ষোভের ছবি ছাড়া কিছুই নয়৷ কিন্তু ভালোভাবে দেখলে এটায় একটা নতুন ধরণ চোখে পড়বে, জানান আইএফএ-র কিউরেটর ভিনজেন৷ ফটো সাংবাদিক জুলিয়ান ব়্যোডার এই কিউরেটরের নতুন আবিষ্কার৷