1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

অবশেষে ব্রেক্সিট চুক্তি প্রস্তুত!

১৭ অক্টোবর ২০১৯

ইইউ শীর্ষ সম্মেলন শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে ব্রেক্সিটের প্রশ্নে বোঝাপড়া সম্ভব হয়েছে বলে দুই পক্ষ জানিয়েছে৷ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী জনসন সংসদের সমর্থনের ডাক দিয়েছেন৷

https://p.dw.com/p/3RQ41
বরিস জনসন ও জঁ-ক্লোদ ইয়ুংকার
ছবি: Getty Images/J. Sammer

ব্রিটেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন গত কয়েক দিন প্রায় বিরতিহীন আলোচনা চালিয়ে পরিবর্তিত ব্রেক্সিট চুক্তির একটি খসড়া সম্পর্কে ঐকমত্যে পৌঁছেছে৷ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ও ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট জঁ-ক্লোদ ইয়ুংকার এই খবর জানিয়েছেন৷

কিন্তু এ যাত্রায় ইইউ আগের তুলনায় সতর্ক হয়ে উঠেছে৷ সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে-ও ইইউ-র সঙ্গে বিচ্ছেদ চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন৷ তা সত্ত্বেও তিন-তিনবার তিনি সংসদে তা অনুমোদন করতে ব্যর্থ হন৷ বর্তমান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ব্রিটেনের সংসদে সর্বশেষ বোঝাপড়ার লক্ষ্যে যথেষ্ট সমর্থন আদায় করতে পারবেন কিনা, তাও এখনো স্পষ্ট নয়৷ বিশেষ করে উত্তর আয়ারল্যান্ডে সরকারি জোটের শরিক দল নতুন চুক্তির বিরোধিতা করছে৷ দেশ হিসেবে ব্রিটেন এই চুক্তি মেনে নিলে তবেই ইইউ আনুষ্ঠানিকভাবে এই সমঝোতা মেনে নিতে প্রস্তুত৷ তবে কিছু সূত্র অনুযায়ী, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কয়েকটি বিষয় নিয়ে অনিশ্চয়তা দূর হয় নি৷ ইউরোপীয় সরকারগুলির পরিষদের প্রধান ডোনাল্ড টুস্ক আগেই জানিয়েছিলেন যে নীতিগতভাবে চুক্তির মৌলিক ভিত্তি প্রস্তুত হয়ে গেছে৷

এমন প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ব্রাসেলসে ইইউ শীর্ষ সম্মেলনে উপস্থিত নেতারা ব্রেক্সিট চুক্তি স্বাক্ষর করবেন কিনা, তা এখনো স্পষ্ট নয়৷ ব্রিটেনের সরকার এবং সংসদ চুক্তি অনুমোদন করলে চলতি মাসে আরেকটি জরুরি শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করে ইইউ নেতারা চূড়ান্ত চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে৷ শনিবার ব্রিটিশ সংসদের বিশেষ জরুরি অধিবেশনে নতুন ব্রেক্সিট চুক্তির পক্ষে সমর্থনের মাত্রা স্পষ্ট হয়ে যাবে, এমনটাই আশা করা হচ্ছে৷ তবে সব পক্ষ সম্মতি জানালেও ৩১শে অক্টোবর ব্রেক্সিট কার্যকর করার জন্য যথেষ্ট সময় আর নেই বলে ইইউ কর্মকর্তারা মনে করছেন৷ সে ক্ষেত্রে শুধু প্রক্রিয়াগত কারণে এই তারিখ কিছুকাল পিছিয়ে দেওয়া হতে পারে৷ ইউরোপীয় কমিশনের বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জঁ ক্লোদ ইয়ুংকার রসিকতা করে বলেন, ‘‘সবাই ইংরিজি বোঝে, কিন্তু কেউ ইংল্যান্ডকে বোঝে না৷''

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বরিস জনসন আগেই সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছেন৷ ইইউ-র সঙ্গে বিচ্ছেদ চুক্তির আওতায় উত্তর আয়ারল্যান্ড প্রদেশকে যুক্তরাজ্য থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন করতে চাইলে তিনি বিরোধী ও বিদ্রোহী পক্ষের প্রবল বিরোধিতার মুখে পড়বেন৷ তবে কিছু রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞের মতে, জনসন ইইউ-পন্থি ও কট্টর ব্রেক্সিটপন্থিদের সাবধান করে দিতে পারেন৷ এই চুক্তি মেনে না নিলে তিনি প্রথম দলকে চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের ভয় দেখাতে পারেন৷ দ্বিতীয় দলকে বলতে পারেন, এখনই চুক্তি মেনে না নিলে ব্রেক্সিটের স্বপ্ন পুরোপুরি বানচাল হয়ে যেতে পারে৷ নতুন নির্বাচন অথবা ব্রেক্সিটের প্রশ্নে দ্বিতীয় গণভোট আয়োজিত হলে ভোটাররা ব্রেক্সিটের বিরুদ্ধে রায় দিতে পারেন৷ উল্লেখ্য, লেবার পার্টির নেতা জেরেমি কর্বিন দ্বিতীয় গণভোটের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন৷

ইইউ ও বরিস জনসনের সমাধানসূত্রের আওতায় উত্তর আয়ারল্যান্ড প্রদেশ কার্যত ইইউ-র শুল্ক ইউনিয়নে থেকে যেতে পারে৷ তবে পণ্যের উপর ভ্যাট কার্যকর করার বিষয়ে জটিলতা থেকে গিয়েছিল৷ ইইউ ও ব্রিটেনের ভিন্ন ভ্যাটের হারের মধ্যে সামঞ্জস্য আনা মধ্যস্থতাকারীদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে৷ বিষয়টির নিষ্পত্তি হলে চূড়ান্ত আইনের খসড়া প্রস্তুত হয়ে যাবে বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে৷

এসবি/কেএম (রয়টার্স, ডিপিএ, এএফপি)