অভিবাসন প্রত্যাশীদের নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে ইউরোপে

ভূমধ্যসাগরে ৪০০ অভিবাসন প্রত্যাশীর মৃত্যুর আশঙ্কা ইউরোপে উদ্বেগ আরো বাড়িয়েছে৷ মধ্যপ্রাচ্য এবং আফ্রিকা থেকে ইউরোপমুখী মানুষ বাড়ছে৷ সাগরেই সলিল সমাধি হচ্ছে অনেকের৷ গত এক বছরে পরিস্থিতি অনেক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে৷

লিবিয়া থেকে ইটালি যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে আনুমানিক ৫৫০ যাত্রী নিয়ে ভূমধ্যসাগরে ডুবে যায় একটি জাহাজ৷ ১৪০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়৷ এ ছাড়া খুঁজে পাওয়া গেছে ৯টি মৃতদেহ৷ বাকিদের উদ্ধারের কোনো সম্ভাবনা নেই, কেননা জাহাজটি গভীর সমুদ্রে তলিয়ে যাওয়ায় উদ্ধার তৎপরতাই বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে৷

অভিবাসন প্রত্যাশীদের এমন করুণ পরিণতি নতুন কিছু নয়৷ ২০০০ সাল থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ২২ হাজার মানুষ অবৈধ উপায়ে জলপথে ইউরোপে প্রবেশ করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে৷ তবে গত এক বছরে অভিবাসন প্রত্যাশীদের চাপ এবং মৃত্যুর হার অনেক বেড়েছে৷ জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক কমিশনার আন্টোনিয়ো গুটেরেস জানিয়েছেন, গত বছর ভূমধ্যসাগর দিয়েই ইউরোপে প্রবেশ করার চেষ্টা করেছে অন্তত ২ লক্ষ ১৯ হাজার মানুষ৷ মারা গেছেন কমপক্ষে সাড়ে তিন হাজার অভিবাসন প্রত্যাশী৷

Italien Untergang Flüchtlingsboot - gerettete Flüchtlinge aus Lybien

উদ্ধারকৃতদের কয়েকজন

২০১৩ সালে মৃতের সংখ্যা সেই তুলনায় অনেক কম ছিল৷ সেবছর মারা গিয়েছিল ৬০০ জন৷ গত বছর জানুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে মারা গিয়েছিল ১৭ জন৷ একই সময়ে এ বছর মারা গেছে ৯০০ মানুষ৷

স্বাভাবিক কারণেই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে৷ কয়েকদিন আগে ভূমধ্যসাগরে অভিবাসন প্রত্যাশীদের সন্ধান শুরু করে ইটালি৷ পাঁচ দিনেই উদ্ধার করা হয় ১০ হাজার মানুষ৷ ধরা না পড়লে তাদের কেউ কেউ হয়তো ঢুকে পড়তেন ইটালিতে, আবার অনেকেই হয়তো চলে যেতেন জীবনের ওপারে৷

হয় নতুন জীবন, নয়তো মৃত্যু- এই দুই বিকল্পকে মাথায় রেখেই দেশ ছাড়ছেন হাজার হাজার মানুষ৷ ঠিক কতজন মৃত্যু বরণ করছেন তার সঠিক সংখ্যা নিরূপণের কোনো উপায় নেই৷ তীর থেকে অনেক দূরে জাহাজ ডুবলে সব যাত্রী গভীর সমুদ্রে তলিয়ে যায়৷ উদ্ধার প্রচেষ্টা সফল হওয়ার ক্ষীণতম সম্ভাবনাও থাকেনা৷ অনেক ক্ষেত্রেই হাল ছেড়ে দিতে হয় আগেভাগে৷ তাই অভিবাসন প্রত্যাশীর সংখ্যাবৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ছে অকালমৃত্যুর হার৷ অভিবাসন বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা আইওএম এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে৷ ইউরোপেও উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা এবং শঙ্কা বেড়েই চলেছে৷

এসিবি/এসবি (এএফপি)