‘অল্প কিছুদিনের মধ্যে সমস্যার সমাধান আশা করতে পারছি না’

রাজনৈতিক সমস্যা হঠাত্‍ সমাধান হতে পারে, আবার যুগ যুগ চলতেও পারে৷ এ আপ্তবাক্যটিকেই বেশি স্মরণযোগ্য মনে করেন অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত৷ তবে ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেছেন, পানিবণ্টন চুক্তির দ্রুত সমাধান হবে এমনটি আশা করা কঠিন৷

ভারতের সঙ্গে পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে পানি বিশেষজ্ঞ ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরেটাস অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত ডয়চে ভেলেকে বলেছেন, ‘‘রাজনৈতিকভাবে সমাধানের দিকে খুব ধীরে ধীরে এগুচ্ছে৷ দীর্ঘদিন ধরে ভারতের পররাষ্ট্রনীতির যে ভিত্তি ছিল সেটা বদলানোর দরকার ছিল, এখন সেটা বদলেছে৷ একটা জগদ্দল পাথর সরাতে অনেক সময় লাগে৷ শুরু হয়েছে, এখনও দীর্ঘ পথ পার হতে হবে৷''

আপনি কী ভাবছেন?

এখানে ক্লিক করুন ও আলোচনায় যোগ দিন

ডয়চে ভেলে : পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে মূল সমস্যাটা কী?

আইনুন নিশাত : শুষ্ক মৌসুমে এই নদীগুলোতে পর্যাপ্ত পানি থাকে না, এটাই প্রধান সমস্যা৷

সমস্যাটি কি রাজনৈতিক, না এর পেছনে অন্য কিছু আছে?

প্রাকৃতিকভাবে শুকনো মৌসুমে পর্যাপ্ত পানি থাকে না, সেটা দুই দেশের জন্যই৷ ভারতের জন্য যথোপযুক্ত পানি নেই আর বাংলাদেশের জন্য তো নেই-ই৷ এর সমাধান বের করতে হবে কারিগরিভাবে৷ বর্ষাকালে পর্যাপ্ত পানি আসে৷ দুই দেশের কারোই এতটা প্রয়োজন নেই৷ এই পানি ধরে রেখে কারিগরিভাবে শুকনো মৌসুমে পানির প্রবাহ বাড়াতে হবে৷ এতে বর্ষার পানি সমস্যার সমাধান হবে, শীতের মৌসুমেরও সমাধান হবে৷ এই কাজটি এমনভাবে করতে হবে যাতে সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য হয়৷ প্রাকৃতিকভাবে এই কারণে বলছি যে, যে নদীতে একটা প্রবাহ তৈরি হয়, এতে ইকো সিস্টেম বিশেষ করে মাছের চলাচল কোনো ভাবেই বিঘ্নিত হয় না৷ এটার নজির পৃথিবীর বহু জায়গাতে আছে৷ বাংলাদেশ ও ভারতের বিশেষজ্ঞরা এর কারিগরি সমাধান দিতে সক্ষম৷ এটার জন্য প্রচুর বিনিয়োগের প্রয়োজন এবং এটা করতে গিয়ে প্রচুর পানি বিদ্যুৎ উত্‍পাদন হবে৷ অর্থনৈতিক দিক দিয়ে এটা অবশ্যই আকর্ষণীয় প্রকল্প হবে৷ কিন্তু এর ভিত্তি রচিত হতে হবে দুই দেশের রাজনৈতিক নেতাদের মাধ্যমে৷ 

অডিও শুনুন 08:20
এখন লাইভ
08:20 মিনিট
বিষয় | 30.05.2017

‘‘আমি মোটেই আশাবাদী নই’’

তাদের এমনভাবে নির্দেশ দিতে হবে যাতে টেকনিক্যাল লোকগুলো দুই দেশের জন্য একটা গ্রহণযোগ্য সমাধান বের করতে পারেন৷ এতদিন উজানের দেশ এবং ভাটির দেশের মধ্যে কোনো সহযোগিতা ছিল না৷ তিনটা দেশ যদি জড়িত হয় তাহলে রক্ষা নেই৷ কোনো জায়গাতে চারটা দেশও জড়িত আছে৷ যেমন ব্রহ্মপুত্রের ক্ষেত্রে৷ ইদানিং আমরা লক্ষ্য করছি, ভারত তার দ্বিপাক্ষিক পররাষ্ট্রনীতির যে ভিত্তি ছিল, সেখান থেকে সরে আসছে৷ অববাহিকাভিত্তিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে ২০১১ সালে ভারত ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীদ্বয় চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন৷ তার ভিত্তিতে অববাহিকাভিত্তিক ব্যবস্থাপনা গড়ে উঠতে পারে৷ অর্থাত্‍ সমাধানের জন্য যে ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন সেটার প্রাথমিক কাজ হয়েছে৷ এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, বাংলাদেশ- ভারত-ভুটানের মধ্যে অভিন্ন নদী ধরলা, দুধকুমারের ব্যাপারে কথা বলার জন্য ভারত আগ্রহী হচ্ছে৷

গঙ্গার ক্ষেত্রে কথা বলতে গেলে বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালের মধ্যে আলোচনা প্রয়োজন৷ তিস্তার সমাধান আনতে গেলে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আলোচনা প্রয়োজন৷ এর জন্য ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিম দুটো রাজ্যকে জড়াতে হবে৷ বাংলাদেশ তো আর সিকিমের সঙ্গে আলোচনা করতে পারে না৷ এখন সমস্যা কী, তার সমাধান কী সেটাও জানা আছে৷ রাজনৈতিকভাবে সেই সমাধানের দিকে খুব ধীরে ধীরে এগুনো হচ্ছে৷ দীর্ঘদিন ধরে ভারতের পররাষ্ট্রনীতির যে ভিত্তি ছিল সেটা বদলানোর দরকার ছিল, সেটা বদলেছে৷

পানিবণ্টন চুক্তির প্রধান ইস্যু তিস্তা৷ শুধু তিস্তা কেন? আরো তো অনেক নদী আছে?

রাজনৈতিকভাবে প্রধান ইস্যু তিস্তা৷ কিন্তু আমি মনে করি, ৫৪টা নদী আছে, এর সবগুলোই গুরুত্বপূর্ণ৷ কুমিল্লার মানুষের কাছে গোমতি গুরুত্বপূর্ণ৷ মৌলভীবাজারের লোকের কাছে মনু গুরুত্বপূর্ণ, সুনামগঞ্জের লোকের কাছে সুরমা গুরুত্বপূর্ণ৷ আর রংপুরের লোকের কাছে তিস্তা গুরুত্বপূর্ণ৷ কাজেই এই গুরুত্বটা আপনারা কিভাবে দেন, এটা আমি বুঝি না৷ তবে এটা বলতে পারেন, দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক তিক্ততা যেটা হয়েছে, সেটা তিস্তাকে নিয়ে৷ তবে তিস্তার সমাধান হলেই যে বাকি ৫৪টা নদীর সমাধান হয়ে যাবে– এটা বলা যাবে না৷ আসলে সবগুলো নদীর বিষয়েই সমাধান প্রয়োজন৷

তিস্তা চুক্তি হলে রাজনৈতিক লাভটা বেশি, নাকি  অর্থনৈতিক লাভটা বেশি হবে?

প্রথম কথা হচ্ছে, তিস্তা নিয়ে যে আলোচনা হচ্ছে, সেটা অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি৷ অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি মানে, এটা ফাইনাল চুক্তি না৷ একটু আগে আমি যেটা বলছিলাম, তিস্তার ক্ষেত্রে যা, গঙ্গা-ধরলা-গোমতি-দুধকুমার-মনুর ক্ষেত্রেও তাই৷ এগুলোর কোনোটিতেই শুকনো মৌসুমে পর্যাপ্ত পানি থাকে না৷ এখন তিস্তার ক্ষেত্রে যে অ্যাপ্রোচটা গ্রহণ করা হচ্ছে, শুকনো মৌসুমে যতটুকু পানি আছে, তা দুই দেশ বণ্টন করে নেবে৷ শুকনো মৌসুমে সেখানে পানি থাকে ৬ হাজার কিউসেক৷ তাতে ভারতের চাহিদা ১৬ হাজার কিউসেক, আর বাংলাদেশের চাহিদা ৮ হাজার কিউসেক৷ কাজেই ৬ হাজার কিউসেট পানি দিয়ে ২৪ হাজার কিউসেক পানির চাহিদা মেটানো সম্ভব নয়৷ তাই অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি হিসেবে ঠিক আছে, দুই দেশেরই যাতে অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়, ভারত একতরফাভাবে পানি নেবে না৷ এই ‘প্রিন্সিপাল' প্রতিষ্ঠিত হলে তারপরে দুই দেশ মিলে সারা বছরের পানির সমস্যার সমাধান করতে পারবে৷

সমাজ-সংস্কৃতি

দূষণকালো বুড়িগঙ্গা

ভয়াবহ দূষণে বুড়িগঙ্গা নদীর পানি কুচকুচে কালো৷ ঢাকার প্রাণ বলা হয় এই বুড়িগঙ্গাকে৷ কিন্তু দূষণে জর্জরিত নদীটি দিনে দিনে যেন মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছে৷

সমাজ-সংস্কৃতি

বর্জ্যের নদী

ঢাকার বাবুবাজার এলাকা দিয়ে সরাসরি বর্জ্য মিশ্রিত পানি ফেলা হচ্ছে বুড়িগঙ্গায়৷ ঢাকার বিভিন্ন এলাকার এরকম বেশ কিছু জায়গা থেকে সরাসরি বুড়িগঙ্গায় ফেলা হয় বর্জ্য৷ বুড়িগঙ্গার পানি দূষণের এটি একটি অন্যতম কারণ৷

সমাজ-সংস্কৃতি

রাসায়নিকের ব্যাগ থেকে...

বুড়িগঙ্গার পানিতে রাসায়নিক বহন করার ব্যাগ পরিস্কার করছেন শ্রমিকরা৷ পুরনো ঢাকার বেশ কয়েকটি স্থানে নিয়মিত রাসায়নিক বহনের ব্যাগ, কন্টেইনার পরিস্কার করার কারণে এ নদীর পানি দূষিত হচ্ছে৷

সমাজ-সংস্কৃতি

নদীতে রাসায়নিক

পুরনো ঢাকার ইসলামবাগ, শোয়ারিঘাট, কামরাঙ্গিরচরসহ বিভিন্ন এলাকায় বুড়িগঙ্গার তীরজুড়ে চলে প্লাস্টিক পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণের কাজ৷ বিভিন্ন রাসায়নিব দ্রব্য মিশ্রিত এসব প্লাস্টিকের সামগ্রী পরিস্কারের কাজটি সরাসরি করা হয় বুড়িগঙ্গার পানিতে৷

সমাজ-সংস্কৃতি

ফল ব্যবসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া!

বুড়িগঙ্গার পানি দূষণের আরেকটি কারণ ফলে ব্যবহৃত প্লাস্টিক জাতীয় মোড়ক, ফোম ইত্যাদি৷ পুরনো ঢাকার বাদামতলী এলাকায় ঢাকার সবচেয়ে বড় ফলের পাইকারী বাজার থেকে এসব অপচনশীল দ্রব্যাদি সরাসরি ফেলা হয় বুড়িগঙ্গায়৷

সমাজ-সংস্কৃতি

নদীর আরেক শত্রু ডকইয়ার্ড

বুড়িগঙ্গার তীর ঘেঁষেই গড়ে উঠেছে বেশ কিছু ডকইয়ার্ড৷ এসব ডকইয়ার্ডের কারণেও দূষিত হচ্ছে বুড়িগঙ্গা৷ ডকইয়ার্ডের জাহাজের তেল আর পোড়া মবিল এ দূষণে ভূমিকা রাখে৷

সমাজ-সংস্কৃতি

পলি ঢাকে পলিথিন

পলিথিনের ব্যাগও বুড়িগঙ্গা দূষণের অন্যতম কারণ৷ বাংলাদেশে পলিথিন ব্যবহারে কিছুটা বিধিনিষেধ থাকলেও বাস্তবে সে আইন কোথাও মানা হয় না৷ ফলে ঢাকা শহরের সর্বত্র অবাধে পলিথিন ব্যবহার করা হয় এবং বিভিন্ন ড্রেন হয়ে ব্যবহৃত সব পলিথিন চলে আসে বুড়িগঙ্গায়৷

সমাজ-সংস্কৃতি

নদী যেন ডাস্টবিন

বুড়িগঙ্গা তীরবর্তী অনেক এলাকার মানুষই সরাসরি বুড়িগঙ্গায় ময়লা-আবর্জনা ফেলেন৷ এসব ময়লা-আবর্জনা বুড়িগঙ্গার পানিতে মিশে যায়৷

সমাজ-সংস্কৃতি

নৌ চলাচলও ব্যাহত যখন

বর্ষা মৌসুমে ভাটি থেকে প্রচুর কচুরিপনা এসে বুড়িগঙ্গার পানি ঢেকে ফেলে৷ এ সময়ে এ নদীতে নৌকা ও জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যহত হয়৷

সমাজ-সংস্কৃতি

তীরে ইটভাটা

বুড়িগঙ্গার তীর ঘেঁষে বিভিন্ন এলাকায় আছে বেশ কিছু ইটভাটা৷

সমাজ-সংস্কৃতি

তুরাগ দখল

এ ছবি ঢাকার আমিনবাজারের কাছের তুরাগ নদের৷ দখলে জর্জরিত এ নদের দুই পাড়৷ দখলকারীরা মূলত প্রভাবশালী বালু আর পাথর ব্যবসায়ী৷

সমাজ-সংস্কৃতি

গোসল যখন দূষণের কারণ

ঢাকার মিরপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় তুরাগ নদে গবাদি পশু আর মানুষের গোসল চলছে একই সঙ্গে৷

সমাজ-সংস্কৃতি

শীতলক্ষ্যায় শিল্পের অভিশাপ

নারায়ণগঞ্জের শীতালক্ষ্যা নদীও ভয়াবাহ দূষণের শিকার৷ এ নদীর পানি শীত মৌসুমে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে৷ এ নদী দূষণের অন্যতম কারণ এর দুই তীরের অসংখ্য শিল্প কারখানা৷

সমাজ-সংস্কৃতি

শীতলক্ষ্যার দুরবস্থা

নরসিংদীর পলাশ এলাকায় একটি শিল্প কারাখানা থেকে রাসায়নিক মিশ্রিত বর্জ্য শীতালক্ষায় ফেলা হচ্ছে৷

সমাজ-সংস্কৃতি

মৃতপ্রায় চাক্তাই

চট্টগ্রামের চাক্তাই এখন প্রায় মৃত৷ অথচ এক সময় এই চাক্তাই খাল ছিল চট্টগ্রামের প্রাণ৷

সমাজ-সংস্কৃতি

দূষণের কবলে সুরমা

সিলেট শহরের পাশে কীন ব্রিজের নিচে দূষণে জর্জরিত সুরমা নদী৷ সিলেট শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে এ নদীতে বর্জ্য ফেলার কারণে মারাত্মক দূষিত এ নদীর পানিও এখন ব্যবহারের অনুপযোগী৷

সমাজ-সংস্কৃতি

গবাদি পশুর মৃতদেহও নদীতে

খুলনা ভৈরব নদীতে ভাসমান মৃত পশুর মাংস খাচ্ছে কাক৷ বাংলাদেশে মৃত গবাদি পশুর বেশিরভাগই সরাসরি ফেলা হয় নদীতে৷ মৃত গবাদি পশু পচে নদীগুলো দূষিত করে৷

আগে যেটা বলছিলাম, ওই ফ্রেমওয়ার্কে ফেললে দেখা যাবে, তিস্তাতে বর্ষাকালে ৩ থেকে ৪ লাখ কিউসেক পানি থাকে৷ তার থেকে কিছু পানি জলাধারের মাধ্যমে সংরক্ষণ করে রাখলে শুকনো মৌসুমে স্বাভাকিবভাবেই ২৫ হাজার কিউসেট পানি উত্‍পাদন করা যাবে৷ তাতে প্রচুর পানি-বিদ্যুত্‍ উত্‍পাদিত হবে৷ এই পানি বিদ্যুতের মাধ্যমেই এই প্রকল্পের অর্থনৈতিক যথার্থতা প্রমাণিত হবে৷ এই কাজ করতে গেলে সামাজিক বিরূপ প্রতিক্রিয়া হতে পারে, অর্থাত্‍, জলাধারের জন্য প্রচুর জমির প্রয়োজন হবে৷ সেটার সমাধান করতে হবে এবং ইকোলোজিক্যালি অর্থাত্‍ মাছের চলাচলের পথে যেন কোন ধরণের বাধার সৃষ্টি না হয়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে৷

সম্প্রতি ফারাক্কা পানিবণ্টন নিয়েও কথা উঠেছে৷ নতুন করে এই চুক্তিটির সংশোধন নিয়েও আলোচনা হচ্ছে৷ ভারতের পক্ষ থেকে চুক্তির সুফল নিয়ে প্রশ্ন তুলছে...

আমি আগেই বলেছি, শুকনো মৌসুমে পর্যাপ্ত পানি থাকে না, সেটা দুই দেশের জন্যই৷ কাজেই এক প্লেট খাবার যদি তিনজন মিলে খান, তাহলে কারো পেটই ভরবে না৷ কাজেই কারো সন্তুষ্টি আসবে না৷ প্রথমত যেটুকু এসেছে সেটা ভাগাভাগি করা৷ দ্বিতীয়ত এই ভাগ যেহেতু কারো জন্যই পর্যাপ্ত নয়, তাই একটা ব্যবস্থাপনায় আসতে হবে৷ আর সেটা করতে গেলে তৃতীয় দেশ নেপালকে জড়াতে হবে৷ আর তৃতীয় অংশ হলো সকল অভিন্ন নদীর ক্ষেত্রে একটা ব্যবস্থাপনায় যেতে হবে৷ আমিও বলবো, গঙ্গা চুক্তির সঠিক, সুচারু এবং চুক্তি যে লক্ষে করা হয়েছিল, তা পূরণের জন্য কাজ করা হোক এবং এটা করতে গেলে এই চুক্তিটাকে অবশ্যই ঢেলে সাজাতে হবে৷

আপনি বলছিলেন, আমরা ধীরে ধীরে এগুচ্ছি৷ এই এগুনো পরিণতি পেতে কেমন সময় লাগতে পারে?

আমি মোটেই আশাবাদী নই৷ কারণ, একটা জগদ্দল পাথর সরাতে অনেক সময় লাগে৷ যেখান থেকে সরানো হবে, যাদের ভূমি থেকে সরানো হবে, এখন তারা স্বীকার করছে– এটা সরানো প্রয়োজন৷ এটা সরানোর জন্য প্রচুর শক্তির প্রয়োজন৷ প্রচুর লোকবল প্রয়োজন, এক্সপার্ট প্রয়োজন৷ প্রচুর অর্থ প্রয়োজন এবং এটা বহুলাংশে প্রতিবেশী দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির জটিলতার বলি হতে পারে৷ শুরু হয়েছে, এখনও দীর্ঘ পথ পার হতে হবে৷ ভারতের রাজনৈতিক নেতারা কিভাবে এটাকে হ্যান্ডেল করে, সেটা দেখতে হবে৷ বিষয়টা অত্যন্ত জটিল৷ এটাতে রাজনীতিটা সবচেয়ে বেশি প্রকট থাকে৷ রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান হঠাত্‍ করেই হয়ে যেতে পারে, আবার যুগ যুগ ধরে চলতে পারে৷ এটার সমাধানের সঠিক রাস্তায় চলতে ভারত আগ্রহী ছিল না, ২০১১ সাল থেকে আগ্রহী হয়েছে৷ কাজেই অল্প কিছুদিনের মধ্যে এই সমস্যার সমাধান হবে এটা আশা করা (উচিত, এটা) আমার অভিজ্ঞতা তা বলে না৷

আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷