অস্ট্রেলিয়ার পন্থায় শরণার্থী সমস্যার সমাধান কি সম্ভব?

ভূমধ্যসাগরে বহু শরণার্থীর সলিলসমাধির পর অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী টোনি অ্যাবট ইউরোপীয়দের উপদেশ দিয়েছেন, অস্ট্রেলিয়ার পন্থা অনুসরণ করার: ‘স্টপ দ্য বোটস’৷

শরণার্থীদের নৌকোগুলো আটকানোই সমস্যা সমাধানের একমাত্র পন্থা বলে অ্যাবট মনে করেন – এমনকি ইউরোপের জন্যও৷ গত সপ্তাহান্তে প্রায় ৮০০ মানুষ ভূমধ্যসাগরে প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের উদ্বাস্তু ত্রাণ সংস্থা৷ অতঃপর অ্যাবট অস্ট্রেলিয়ার এবিসি টেলিভিশনকে বলেছেন: ‘‘এ ভাবে মরা বন্ধ করার বাস্তবিক পন্থা হল নৌকোগুলোকে আটকানো৷''

রক্ষণশীল রাজনীতিক অ্যাবট স্বদেশে বহু বছর ধরে সেই পন্থাই অনুসরণ করে আসছেন: ‘‘স্টপ দ্য বোটস!'' – নৌকা রোখো – এই ছিল তাঁর নির্বাচনী স্লোগান৷ এ ভাবেই তাঁর ‘লিবারাল পার্টি অফ অস্ট্রেলিয়া' ২০১৩ সালের সংসদীয় নির্বাচনে জেতে৷ প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর পরই অ্যাবট তাঁর ‘‘সভারেইন বর্ডার্স'' বা ‘সার্বভৌম সীমান্ত' অভিযান শুরু করেন৷

ভিডিও মারফত অ্যাসাইলামের সিদ্ধান্ত

অস্ট্রেলিয়ার নৌবাহিনী শরণার্থীদের নৌকাগুলিকে অস্ট্রেলিয়ার উপকূলে পৌঁছানোর অনেক আগেই ধরে ফেলে এবং তাদের ফিরে যেতে বাধ্য করে৷ ২০১৪ সালের জুলাই মাসে অস্ট্রেলিয়ার সীমান্তরক্ষী বাহিনী উপকূল থেকে শত শত কিলোমিটার দূরে একটি বোটকে থামায়৷ সেই বোটে শ্রীলঙ্কা থেকে আসা ৪১ জন শরণার্থী ছিল৷ অস্ট্রেলীয় কর্মকর্তারা ভিডিও কনফারেন্স মারফৎ এই শরণার্থীদের রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন শুনে তা প্রত্যাখ্যান করেন৷ বোটটি শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়৷ অস্ট্রেলিয়ার এই ‘‘অফশোর প্রসেসিং'' বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনের সমালোচনার সম্মুখীন হয়৷

Australien Premierminister Tony Abbott 08.01.2015

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী টোনি অ্যাবট ইউরোপীয়দের উপদেশ, ‘স্টপ দ্য বোটস'৷

অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন মন্ত্রী পিটার ডাটন কিন্তু বারংবার দেখানোর চেষ্টা করেছেন, শরণার্থীদের ব্যাপারে সরকারের অনমনীয় নীতি কতোটা সফল হয়েছে: বিগত দেড় বছরে আর কোনো শরণার্থী বোট কিংবা জাহাজ অস্ট্রেলিয়ার উপকূলে পৌঁছতে পারেনি, জলে ডুবে মারা যায়নি কোনো শরণার্থী৷

শরণার্থী নেওয়ার পরিবর্তে উন্নয়ন সাহায্য

যে সব শরণার্থীদের তৎক্ষণাৎ ফেরৎ পাঠানো হয় না, তাদেরও যে সকলকে অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে আসা হয়, এমন নয়৷ তার পরিবর্তে সরকারের তরফ থেকে এই শরণার্থীদের ক্রিসমাস আইল্যান্ড, নাউরু অথবা পাপুয়া-নিউগিনির মতো দ্বীপরাষ্ট্রে অবস্থিত শরণার্থী শিবিরে প্রেরণ করা হয়৷ এমনকি শিশুদেরও এই শিবিরগুলিতে আটক করে রাখা হয়৷ এবং শরণার্থীদের রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন মঞ্জুর হলেও তাদের সাধারণত নাউরু অথবা পাপুয়া-নিউগিনিতেই থেকে যেতে হয় – কেননা সেখানে তাদের ‘‘কোনো নিপীড়ন সহ্য করতে হচ্ছে না'', অ্যাবট যেমন সম্প্রতি একটি সংবাদপত্র সাক্ষাৎকারে বলেছেন৷

রাজনৈতিক আশ্রয়প্রাপ্ত শরণার্থীদের ভবিষ্যতে কাম্বোডিয়ার একটি শরণার্থী শিবিরে স্থানান্তরিত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে, কেননা ‘‘কাম্বোডিয়া একটি নিরাপদ দেশ, যেখানে পুলিশ আইন-শৃঙ্খলার ব্যবস্থা করে৷'' সেজন্য অস্ট্রেলিয়া কাম্বোডিয়াকে আগামী চার বছরে চার কোটি অস্ট্রেলীয় ডলার বা প্রায় তিন কোটি ইউরো প্রদান করবে৷

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অস্ট্রেলীয় সরকারের এই সর্বাধুনিক পরিকল্পনাকে ‘‘রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের প্রতি আচরণের একটি নতুন নিম্নতম পর্যায়'' বলে অভিহিত করেছে৷