1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

অ্যাপলকে ঠেকাতে জাপানে ই-রিডার ছাড়ছে সনি

৩০ মে ২০১০

প্রযুক্তির উৎকর্ষতার ক্ষেত্রে বর্তমান যুগের সর্বাধুনিক সংযোজন অ্যাপল কোম্পানির আইপ্যাড৷ ল্যাপটপ কম্পিউটারের ক্ষুদ্র সংস্করণ বলা চলে একে৷ তবে অ্যাপলকে ঠেকাতে এবার মাঠে নামছে জাপানের সনি৷

https://p.dw.com/p/Nd2h
ছবি: picture-alliance/ dpa

ইন্টারনেটের এই যুগে এখন সবকিছুই যেন হাতের মুঠোয় চলে এসেছে৷ যে কোন বিষয় জানতে চাইলে ইন্টারনেট থাকলেই হল৷ এর পাশাপাশি সবকিছুই এখন ইলেকট্রনিকসের মধ্যে নিজেদের আশ্রয় খুঁজে নিচ্ছে৷ তাই কাগজের বইয়ের জায়গায় এখন চলে এসেছে ই-বুক বা ডিজিটাল বই৷ অর্থাৎ ভারী ও মোটা বইয়ের বদলে এখন পকেটের মধ্যেই জায়গা করে নিয়েছে ছোট্ট ই-বুক৷ পাঠককে এখন আর বইয়ের ওজন কিংবা পৃষ্ঠা সংখ্যা নিয়ে ভাবতে হয় না, কিংবা বইয়ের জন্য তাকে গ্রন্থাগারেও ছুটতে হয় না৷ ছোট্ট ই-বুক তাকে এক্ষেত্রে সহায়তা করে যাচ্ছে৷ আর এই ই-বুক সেবার ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে সনি কর্পোরেশন৷ মূলত আমাজন ডট কম এর কিন্ডল এন্ড ব্যরনেস এন্ড নোবলস সংস্থার সঙ্গে একসাথে তারা এই ই-বুক সার্ভিস দিয়ে যাচ্ছে৷ এতদিন ধরে এটা কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ছিল৷

Elektronisches Buch aus Japan
ডিজিটাল বই পড়ছেন একজনছবি: AP

সনির নতুন ঘোষণা

তবে সম্প্রতি সনি ঘোষণা দিয়েছে, যে এই বছরের শেষ নাগাদ তারা জাপানে ছাড়তে যাচ্ছে ই-রিডার৷ জাপানের বাজারে আইপ্যাড আসার আগমুহূর্তে এই ঘোষণা দেয় সনি৷ বোঝা যাচ্ছে অ্যাপলের আগ্রাসন ঠেকাতেই এই ঘোষণা দিলো সনি৷ উল্লেখ্য, প্লে স্টেশন এবং ফ্ল্যাট টিভির বাজারে সনি নেতৃত্ব দিয়ে আসছে৷ এর পাশাপাশি তারা এতদিন ধরে ই-বুক এর বাজারেও প্রাধান্য বিস্তার করে ছিল৷ তবে অ্যাপলের আইপ্যাড সেখানে এখন নাক গলাতে বসেছে৷ সনি জানিয়েছে, শুধু জাপান নয় চলতি বছর তারা চীন, অস্ট্রেলিয়া, স্পেন এবং ইটালিতেও তাদের ই-রিডার চালু করতে যাচ্ছে৷ কিন্তু ই-বুক থেকে এই ই-রিডারের পার্থক্য কি? আগেই বলেছি ই-বুক হচ্ছে বইয়ের ডিজিটাল সংস্করণ৷ আর এই ই-বুক যে ছোট্ট যন্ত্রটিতে করে আপনি বহন করেন সেটি হচ্ছে ই-রিডার৷ আকারে অনেকটা আইপ্যাডের সমানই৷ তবে সুযোগ সুবিধার হিসেবে আইপ্যাড অনেক বেশি এগিয়ে৷ কারণ, একটি ল্যাপটপ কম্পিউটারের ক্ষুদ্র সংস্করণ এখন আইপ্যাড৷ এখানে ইন্টারনেটের মাধ্যমে যেমন বই পড়া যায়, তেমনি গান শোনা, ভিডিও দেখাসহ আরও বহু সুবিধা পাওয়া যায়৷ তবে এরপরও হতাশ হতে চাচ্ছে না সনি৷ বই পড়ুয়াদের কাছে তাদের ই-রিডার জনপ্রিয় করে তুলতে তারা এতে আরও বেশি সুযোগ সুবিধা দেওয়ার কথা ভাবছে৷ বইয়ের পাশাপাশি, সংবাদপত্র, ম্যাগাজিন, কমিকস সহ আরও অনেক কিছু পড়ার সুবিধা সম্বলিত ই-রিডার তারা এবার এশিয়ার বাজারে ছাড়বে৷ ফলে যাদের কাছে বিনোদনের চেয়ে পড়ার গুরুত্ব বেশি তারা নিশ্চয়ই আইপ্যাডের চেয়ে সনির ই-বুককেই বেশি প্রাধান্য দেবেন৷

iPad / USA / Verkaufsstart
এই মুহুর্তে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে আছে আইপ্যাডছবি: AP

যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে আইপ্যাড

এদিকে অ্যাপলকে ঠেকাতে সনির নতুন উদ্যোগ কতটা কার্যকরী হবে সেটা ভবিষ্যতের ব্যাপার৷ তবে প্রযুক্তির বাজারে এখন অ্যাপল যে সবার আগে তার সর্বশেষ প্রমাণ মাইক্রোসফটকে পেছনে ফেলা৷ আইপ্যাডের কল্যানে মাইক্রোসফটের বহুদিনের শীর্ষ অবস্থান খর্ব করে দিয়েছে অ্যাপল৷ এদিকে শুক্রবার থেকে এশিয়া, ইউরোপ ও অস্ট্রেলিয়ার বাজারে পা রেখেছে আইপ্যাড৷ আর আগের মত এবারও শুরুতেই মাত করেছে আইপ্যাড৷ সিডনিতে অ্যাপলের বিক্রয় কেন্দ্রে ৩০ ঘন্টা আগে থেকেই আগ্রহী ক্রেতারা লাইনে দাঁড়াতে শুরু করেন৷ উল্লেখ্য, গত ৩ এপ্রিল সর্বপ্রথম যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আসে আইপ্যাড৷ অ্যাপলের পরিকল্পনা ছিল এপ্রিলের শেষ নাগাদ অন্যান্য বাজারে আইপ্যাড ছাড়ার৷ কিন্তু মার্কিন বাজারে এত বেশি চাহিদা ছিল যে এই পরিকল্পনা এক মাস পেছাতে হয়৷ জানা গেছে, প্রথম ২৮ দিনে যুক্তরাষ্ট্রে ১০ লাখ আইপ্যাড বিক্রি হয়েছে৷ আইফোন যখন ছাড়া হয়েছিল তখন এই সংখ্যায় পৌঁছাতে সময় লেগেছিল দুই মাসের মত৷

প্রতিবেদন: রিয়াজুল ইসলাম, সম্পাদনা: সাগর সরওয়ার