আইএস বন্দি থেকে আইএস শিকারি: মাসুদ আকিল

কুর্দ সাংবাদিক মাসুদ আকিল সিরিয়ায় জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের হাতে ২৮০ দিন ধরে বন্দি ছিলেন৷ জার্মানিতে পালানোর পর তিনি ইউরোপে আইএস সন্ত্রাসীদের খুঁজে বার করতে শুরু করেন৷ ডয়চে ভেলের জন্য ফ্রাংক হফমানের বিশেষ বিবরণ৷

কিবোর্ডে আঙুল চলেছে৷ মাসুদের কম্পিউটার ইসলামিক স্টেট বা আইএস সন্ত্রাসীদের সংক্রান্ত তথ্যে ভরা৷ মাসুদ আপাতত কয়েকটি ফেসবুক প্রোফাইলের স্ক্রিনশটের খোঁজ করছেন; এক সম্ভাব্য আইএস সমর্থক ইউরোপে পৌঁছানোর পর তার উগ্রপন্থি দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে মাসুদকে খোলাখুলিভাবে লেখে৷ লোকটিকে মাসুদের সিরিয়া থেকে মনে আছে – কিন্তু তার ফেসবুক প্রোফাইল উধাও হয়েছে৷ তাই তাঁর নিজের স্টোর করা সেই ফেসবুক প্রোফাইলটির স্ক্রিনশটের সন্ধান করছেন মাসুদ৷

সমাজ-সংস্কৃতি | 04.08.2017

 ‘‘ওদের অনেকে গোড়ায় কিরকম খোলাখুলি কথা বলেছে, তা বিশ্বাস করা শক্ত’’, ২৪ বছর বয়সি মাসুদ ডয়চে ভেলেকে বলেন৷ ২০১৬ সালের গোড়ার দিকে, মাসুদ যখন নিজে বলকান রুট ধরে জার্মানির দিকে পালাচ্ছেন, তখন তিনি হঠাৎ উপলব্ধি করেন যে, তাঁর নিপীড়নকারীরা ইউরোপেও রয়েছে – ইসলামিক স্টেট!

২০১৪ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে মাসুদকে সিরিয়ায় আইএস-এর ছ'টি বিভিন্ন কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছিল৷ একটি সাক্ষাৎকার নিতে যাওয়ার সময় আইএস সদস্যরা মাসুদ ও তাঁর সহযোগী ফরহাদকে একটি চৌরাস্তার মোড়ে গাড়ি থেকে অপহরণ করে৷

তারিখটা ছিল ২০১৪ সালের ১৫ই ডিসেম্বর৷ বস্তুত উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ার রোজাভায় এই রাস্তার মোড়টি আইএস-এর নয়, বরং কুর্দ গণ সুরক্ষা গোষ্ঠী ওয়াইপিজি-র যোদ্ধাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল৷ আইএস-এর অবস্থিতি তখন রোজাভা থেকে অনেক দূরে৷ 

আইএস-কে কি কেউ হুঁশিয়ারি দিয়েছিল?

কুর্দ টেলিভিশন সাংবাদিকরা যে ঐ চৌরাস্তা দিয়ে যাবেন, আইএস-এর কাছে সে ব্যাপারে খুব সম্ভবত আগে থেকে খবর ছিল৷ মাসুদ ও তাঁর সহযোগী ফরহাদ হামো আইএস-এর কাছে পুরোপুরি অপরিচিত ছিলেন না৷ এর আগের ২০ মাস ধরে তাঁরা তাঁদের টেলিভিশন কেন্দ্রের জন্য প্রায় প্রতিদিন রিপোর্ট ফাইল করেছেন: বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয় ছাড়া যুদ্ধের প্রগতি সম্পর্কেও রিপোর্ট দিয়েছেন তাঁরা৷

মাসুদকে সিরিয়ায় আইএস-এর ছ'টি বিভিন্ন কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছিল

রোজাভার কুর্দ নেতৃত্ব তখন এলাকাটিতে স্থিতি আনার কাজে ব্যস্ত – ওয়াইপিজি তখন আইএস-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈরী হিসেবে নাম করছে ও তারাই ছিল তখন সিরীয় সংঘাতে সংশ্লিষ্ট একমাত্র গোষ্ঠী, যারা বাইরে থেকে সাহায্য পাচ্ছিল, কেননা প্রতিবেশি তুরস্ক থেকে পিকেকে গোষ্ঠী তাদের মদত দিচ্ছিল৷ আজ রোজাভার ওয়াইপিজি যোদ্ধারা মার্কিন নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাস বিরোধী জোটের অঙ্গ ও তারা ইসলামিক স্টেট সম্বন্ধে যা জানে, তা অতি মূল্যবান তথ্য৷

ইসলামিক স্টেট বিশেষ করে সিরিয়ার পিছনে-পড়ে-থাকা মানুষদের সমর্থন সংগ্রহ করার চেষ্টা করেছে, বলেন মাসুদ: ‘‘আইএস-এর এলাকার মানুষজন প্রধানত মরু অঞ্চলে বাস করতেন, যেখানে স্কুল-কলেজ বলে কিছু ছিল না৷ সিরীয় সরকার তাদের স্রেফ উপেক্ষা করছিল৷ কাজেই এই সব মানুষ বিনা জীবিকায় সেখানে আটকা পড়ে ছিল৷ এ ধরনের মানুষ উগ্রপন্থি আদর্শে চট করে আকৃষ্ট হন৷ আইএস সেটা জানত ও সে প্রবণতার সুযোগ নিতে পেরেছিল৷’’

ইসলামিক স্টেটের জেলখানার ভেতরটা কেমন?

সাধারণ ভবন

বাইরে থেকে দেখে কেউ যেন বুঝতে না পারে সেজন্য শহরের আবাসিক এলাকার এই বাড়িতে জেলখানা স্থাপন করেছিল ইসলামিক স্টেট৷ সম্প্রতি এই কারাগারের সন্ধান পান ইরাকি সেনাবাহিনী৷

ইসলামিক স্টেটের জেলখানার ভেতরটা কেমন?

তবে সব ব্যবস্থা ছিল

শুধু বাইরে থেকে বোঝা যেত না, এই যা৷ কিন্তু জেলখানাটির ব্যবস্থাপনা ছিল সাধারণ কারাগারের মতোই৷ ফলে বন্দিদের সেখানে নেয়ার পর তাদের জামাকাপড় সহ অন্যান্য জিনিসপত্র নিয়ে নেয়া হত৷ পরে কোনো বন্দি ছাড়া পেলে তা ফেরত দেয়া হতো৷

ইসলামিক স্টেটের জেলখানার ভেতরটা কেমন?

যাদের আটক রাখা হত

আইএস-এর হাতে বন্দি ইরাকি সামরিক বাহিনীর সদস্য ও ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের লোকজনদের ধরে এখানে রাখা হতো৷ স্টিলের এই দরজার পেছনেই ছিল কারাগারের শুরু৷

ইসলামিক স্টেটের জেলখানার ভেতরটা কেমন?

অভিযানের বয়স আট মাস

মসুল থেকে আইএসকে হটাতে অভিযান চলছে৷ তবে সাধারণ মানুষ বাস করে এমন এলাকায় আইএস সদস্যরা চলে যাওয়ায় অভিযানের গতি কমে গেছে৷ ছবিতে আইএস এর জেলখানার ভেতরে একজন ইরাকি সেনাকে পাহারা দিতে দেখা যাচ্ছে৷

ইসলামিক স্টেটের জেলখানার ভেতরটা কেমন?

বোমা তৈরির সরঞ্জাম

জেলখানার একটি ঘরের মেঝেতে বোমা তৈরির সরঞ্জাম পড়ে রয়েছে৷ কোনো স্থান থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় আইএস সাধারণ ঐ স্থানে ‘বুবি ট্র্যাপ’, অর্থাৎ এমন কিছু ফেলে যায় যা অন্যদের ক্ষতি করে৷

ইসলামিক স্টেটের জেলখানার ভেতরটা কেমন?

অমুসলিমদের মাংস খাওয়ার পরামর্শ!

যুদ্ধের সময় প্রয়োজন হলে আইএস তার অনুসারীদের অমুসলিমদের মাংস খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে৷

ইসলামিক স্টেটের জেলখানার ভেতরটা কেমন?

পর্যবেক্ষণ ক্যামেরা

বন্দিদের উপর সার্বক্ষণিক নজর রাখার জন্য জেলখানার ঘরগুলোতে সার্ভিলেন্স ক্যামেরা বসিয়েছিল আইএস৷

এই পরিস্থিতিতে তরুণ ভিডিও সাংবাদিক মাসুদ ও তাঁর সহযোগীকে জিম্মি করে আইএস, ও জিম্মিদের উপর শারীরিক নিপীড়ন চালায়৷ মাসুদ সে অত্যাচারের কথা বললেন: ‘‘ওরা আমাকে নিপীড়ন করার সময় জেরা চালিয়েছে৷ আমার পায়ে ও পিঠে আঘাত করেছে৷ ওরা আমার মুখে ঘুঁষি মেরেছে, চুল টেনেছে, কুর্দ কাফের বলে আমাকে গাল দিয়েছে – বলেছে যে, সব কুর্দকে মেরে ফেলা উচিত, আমাদের সবাইকে, কেননা আমরা এলাকাটিকে ইসলামপন্থিদের ধারণা অনুযায়ী ইসলামি হতে দিচ্ছি না৷’’

মাসুদ যখন সিরিয়ায় আইএস-এর দ্বিতীয় কারাগার আল-শাদ্দাদিতে পৌঁছান, তখন তাঁর জন্য রীতিমতো একটি অ্যাডমিশন ফর্ম ভর্তি করেন টিউনিশিয়া থেকে আসা এক আইএস সদস্য, যেন আইএস সত্যিই একটি ‘স্টেট’ বা রাষ্ট্র হয়ে উঠেছে: ‘‘আইএস-এর কারাগারে আইএস-এর আইডি-র মতো,’’ বলেন মাসুদ৷

হামবড়াই

আইএস-এর সদস্যরা ভুলও করেছে: ‘‘ওরা আমার কাছে ওদের চর পাঠিয়ে ওদের সংগঠনের ক্ষমতা প্রমাণ করার চেষ্টা করেছে'', বলেন মাসুদ৷ ‘‘ওরা আমাকে আইএস-এর ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি সম্পর্কে খবরের কাগজের প্রবন্ধ আর পশ্চিমি মিডিয়ার ভিডিও দেখিয়েছে৷ বিষয়টি নিয়ে ওরা খুব গর্বিত ছিল৷’’

হয়ত একটু বেশি গর্বিত ছিল, বলে মাসুদের ধারণা৷ শেষমেষ মৃত্যু অবধারিত, বলে ধরে নিয়ে যে সব আইএস চর মাসুদের কারাকক্ষে এসেছে, তারা খোলাখুলিভাবে তাদের করা হত্যাকাণ্ডের কথা বলেছে৷ মাসুদকে তারা এমন অনেক খুঁটিনাটি জানিয়েছে যা মাসুদ আজ অবধি ভোলেননি৷ ‘‘আমার তথ্যের একটা উৎস হলো আমি আইএস-এর কারাগারে যা শুনেছি৷ এছাড়া বিভিন্ন আইএস সদস্য ও বেসামরিক ব্যক্তি, যারা অন্যান্য আইএস যোদ্ধাদের কথা জানত৷ ২০১৫ আর ২০১৬ সালে যে সব সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও সম্ভাব্য সন্ত্রাসী জার্মানিতে পালিয়ে এসেছে, তাদের খুঁজে বার করতে এই তথ্য আমাকে সাহায্য করেছে,’’ বলে মাসুদ আজ মনে করেন৷

যুদ্ধের মাঠে সেল্ফি

যুদ্ধযাত্রার পূর্বে লিবিয়ার বিশেষ বাহিনী

জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট বা আইএস-এর সর্বশেষ শক্ত ঘাঁটি লিবিয়ার বেনগাজিতে প্রবেশের পূর্বে লিবিয়ান সেনাবাহিনীর বিশেষ ফোর্সের সদস্যরা সেল্ফি তুলছেন৷ গত ৫ জুলাই ছবিটি তোলা হয়েছে৷

যুদ্ধের মাঠে সেল্ফি

সেনাধ্যক্ষের সাথে সেল্ফি

ইরাকের পূর্ব মোসুলে আইএস বিরোধী অভিযানকালে লে. জে. আবদেলওয়াহাব আল সাদী সাথে সাধারণ মানুষ সেল্ফি তুলছেন৷ গত ৯ জানুয়ারি ছবিটি তোলা হয়েছে৷

যুদ্ধের মাঠে সেল্ফি

ব়্যাপিড রেসপন্স ফোর্সের সেল্ফি

ইরাকের সরকারি বাহিনীর সাথে আইএস-এর সংঘাতে পূর্ব মোসুলের একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত হাসপাতালের সামনে সেল্ফি তুলছেন দেশটির ব়্যাপিড রেসপন্স ফোর্সের সেল্ফি৷

যুদ্ধের মাঠে সেল্ফি

কুর্দিদের সঙ্গে যোগ দেয়া আরব সৈন্যদের সেল্ফি

কুর্দি পেশমের্গা সেনাদের সাথে যোগ দেয়া একদল আরব সৈন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শেষে সেল্ফি তুলছে৷ ইরাকের ডুহোক প্রদেশ থেকে গত ৭ ফেব্রুয়ারি ছবিটি তোলা হয়েছে৷

যুদ্ধের মাঠে সেল্ফি

মোসুলে ইরাকি বাহিনী

তখনও মোসুলের এক অংশে রয়েছে আইএস-এর রাজত্ব৷ উদ্ধারে চলছে সরকারি বাহিনীর তৎপরতা৷ এ সময় পশ্চিম মোসুলের একটি ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িতে বসে সেল্ফি তুলছেন ইরাকি সৈন্যরা৷ গত ৫ জুন এই ছবিটি তোলা হয়েছে৷

যুদ্ধের মাঠে সেল্ফি

মোসুল জয়ের পর

আইএস-এর হাত থেকে ইরাকের প্রাচীন নগরী মোসুল পুনরুদ্ধার করার পর গ্র্যান্ড আল-নূরী মসজিদের সামনে দাঁড়িয়ে সেল্ফি তুলছেন দেশটির কাউন্টার টেরোরিজম সার্ভিসের সদস্যরা৷

যুদ্ধের মাঠে সেল্ফি

ধ্বংসের মাঝে নির্মাণের প্রত্যয়

সিরিয়ার দিরা প্রদেশের সাইদা শহরে বিদ্রোহী অধ্যুষিত একটি নির্মাণাধীন ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে সেল্ফি তুলছেন ‘ইউ ডেস্ট্রয় অ্যান্ড উই রিবিল্ড ব্রিগ্রেড’ নামে একটি সংগঠনের সদস্যরা৷

যুদ্ধের মাঠে সেল্ফি

রাশিয়ান কমান্ডারের সাথে সিরিয়ান নারীর সেল্ফি

এক রাশিয়ান কমান্ডারের সঙ্গে সেলফি তুলছেন এক সিরিয়ান নারী৷ মধ্য সিরিয়ার হোমস শহরের ওয়ায়ের জেলা থেকে গত ২১ মে এই ছবি তোলা হয়েছে৷

যুদ্ধের মাঠে সেল্ফি

বিধ্বস্ত মসজিদে সেল্ফি

সিরিয়ার আলেপ্পোর একটি বিধ্বস্ত মসজিদের ভেতরে একদল মানুষ সেল্ফি তুলছে৷

যুদ্ধের মাঠে সেল্ফি

ফ্রি সিরিয়ান আর্মির সেল্ফি

সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় শহর আল-বাবের নিকটবর্তী কোয়াবাসিন শহরে আইএস বিরোধী অভিযানকালে ফ্রি সিরিয়ান আর্মির এক যোদ্ধা৷

আইএস-এর বিভিন্ন নিপীড়ন কক্ষে মোট ২৮০ দিন কাটানোর পর মাসুদ একটি বন্দিবিনিময় কর্মসূচিতে মুক্তি পান ও সঙ্গে সঙ্গে জার্মানিতে পলায়ন করেন৷

জার্মান সরকারকে তথ্য প্রদান

কাজেই মাসুদ যখন জার্মানিতে আসেন, তখন তিনি বিশদ তথ্য সঙ্গে করে নিয়ে আসেন – সে তথ্য এমনই বিশদ যে, বিশেষজ্ঞরা মাসুদের বিবরণকে বিশেষভাবে বিশ্বাসযোগ্য বলে গণ্য করেন৷

মাসুদের অভিজ্ঞতা যেন তাঁর স্মৃতিশক্তিকে আরো প্রখর করেছে৷ বার্লিনের সাংবাদিক পেটার ক্যোফ-এর সঙ্গে যৌথভাবে একটি বই লিখেছেন মাসুদ, যা এ-মাসেই প্রকাশিত হচ্ছে৷ বইটিতে মাসুদ আকিল ব্যাখ্যা করেছেন, কেন তিনি তাঁর পরিচয় গোপন করছেন না এবং কেন তিনি আইএস-এর বিরুদ্ধে সক্রিয় প্রতিরোধের পন্থা বেছে নিয়েছেন: ‘‘আমি চাই না যে, এই দানবগুলো এমন একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করুক যেখানে জার্মানিতেও জঙ্গলের আইন চালু হবে৷ কাজেই আমি যা কিছু জানি, আমার সব তথ্য জার্মান কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছি৷’’

সেই তথ্য আজ জার্মান পুলিশকে চলতি নানা তদন্তে সাহায্য করছে৷ দৃশ্যত জার্মান দায়রা পুলিশ দপ্তর (বিকেএ) অবশেষে উদ্বাস্তুদের কাছ থেকে পাওয়া হুঁশিয়ারি ও খোঁজখবরকে অনেক বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, অতীতে যা ঘটেনি৷ মাসুদ আকিল স্বয়ং বলেছেন যে তিনি জার্মানিতে আসার পর কেন যে তাঁকে ঠিকমতো জেরা করা হয়নি, তা তিনি আজও বুঝে উঠতে পারেননি৷

ফ্রাংক হফমান/এসি

‘ইসলামিক স্টেট’ আসলে কী?

আইএস কোথা থেকে এসেছে?

ইসলামিক স্টেট (আইএস) সুন্নী ইসলামিস্ট আদর্শে বিশ্বাসী আল-কায়েদার একটি উপদল, যেটি আইএসআইএল, আইসিস এবং দায়েশ নামেও পরিচিত৷ ২০০৩ সালে ইরাকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন আক্রমণের পর এটির বহিঃপ্রকাশ ঘটে৷ এই গোষ্ঠীর নেতৃত্বে রয়েছেন আবু বকর আল-বাগদাদি৷ জঙ্গি গোষ্ঠীটির লক্ষ্য হচ্ছে ইরাক, সিরিয়া এবং অন্যান্যা অঞ্চল নিয়ে একটি ইসলামিক স্টেট বা খেলাফত প্রতিষ্ঠা করা৷

‘ইসলামিক স্টেট’ আসলে কী?

আইএস কোথায় কাজ করে?

বিশ্বের ১৮টি দেশে আইএস সক্রিয় রয়েছে বলে ধারণা করা হয়৷ ইরাক এবং সিরিয়ার কিছু অংশ এই গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এটি সিরিয়ার রাকা শহরকে রাজধানী হিসেবে বিবেচনা করে৷ তবে ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে এখন অবধি নিজেদের দখলে থেকে এক চতুর্থাংশ এলাকা তাদের হাতছাড়া হয়ে গেছে৷

‘ইসলামিক স্টেট’ আসলে কী?

কারা তাদের বিরুদ্ধে লড়ছে?

আইএস-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বেশ কয়েকটি গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে৷ বিশ্বের ৫০টিরও বেশি দেশের সমন্বয়ে তৈরি মার্কিন নেতৃত্বাধীন একটি ‘কোয়ালিশন’ আইএস অধ্যুষিত এলাকায় বিমান হামলা চালাচ্ছে৷ এই কোয়ালিশনে কয়েকটি আরব দেশও রয়েছে৷ অন্যদিকে সিরিয়া সরকারের পক্ষে সেদেশে বিমান হামলা চালাচ্ছে রাশিয়া৷ তবে ভূমিতে তাদের বিরুদ্ধে লড়ছে কুর্দিশ পেশমার্গার মতো আঞ্চলিক শক্তিগুলো৷

‘ইসলামিক স্টেট’ আসলে কী?

আইএস-এর অর্থের উৎস কী?

জঙ্গি গোষ্ঠীটির অর্থ আয়ের অন্যতম উৎস হচ্ছে তেল এবং গ্যাস৷ এটি এখনো সিরিয়ার তেল উৎপাদনের এক তৃতীয়াংশ দখলে রেখেছে৷ আর মার্কিন নেতৃত্বাধীন বিমান হামলার অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে জঙ্গি গোষ্ঠীর এই মূল্যবান সম্পদ৷ এছাড়া কর, মুক্তিপন এবং লুট করা পুরাকীর্তি বিক্রি করেও অর্থ আয় করে এই জঙ্গি গোষ্ঠীটি৷

‘ইসলামিক স্টেট’ আসলে কী?

আইএস কোথায় কোথায় জঙ্গি হামলা চালিয়েছে?

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অসংখ্য জঙ্গি হামলার দায় স্বীকার করেছে আইএস৷ চলত বছর সবচেয়ে ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলাটি চালানো হয়েছে ইরাকের রাজধানী বাগদাদে, যেখানে দু’শোর বেশি মানুষ নিহত ও অসংখ্য মানুষ আহত হয়েছে৷ আইএস-এর নেতারা জঙ্গি গোষ্ঠীটির আদর্শে বিশ্বাসীদের এককভাবে বিভিন্নস্থানে আঘাত হানতে উৎসাহ প্রদান করে৷

‘ইসলামিক স্টেট’ আসলে কী?

অন্যান্য আর কী কৌশল ব্যবহার করে আইএস?

নিজেদের ক্ষমতার পরিধি বাড়াতে অনেক কৌশল ব্যবহার করে আইএস৷ জঙ্গি গোষ্ঠীটি ‘কালচারাল ক্লিনজিংয়ের’ নামে সিরিয়া এবং ইরাকের অনেক ঐতিহাসিক শিল্পকর্ম লুট ও ধ্বংস করেছে৷ এছাড়া সংখ্যালঘু ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর কয়েকহাজার মেয়েকে ক্রীতদাসী বানিয়েছে৷ গোষ্ঠীটি নিজেদের ‘প্রোপোগান্ডা’ এবং নিয়োগের কাজে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে থাকে৷

‘ইসলামিক স্টেট’ আসলে কী?

শরণার্থী হয়েছেন কতজন?

সিরিয়ায় চলমান গৃহযুদ্ধের কারণে সেদেশের প্রায় ৬০ লাখ মানুষ প্রতিবেশী লেবানন, জর্ডান এবং তুরস্কে আশ্রয় নিয়েছেন৷ অনেক সিরীয় ইউরোপেও পাড়ি জমিয়েছেন৷ এছাড়া প্রায় ৩০ লাখ ইরাকে ইরাকের মধ্যেই অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন বলে খবর৷

আমাদের অনুসরণ করুন