আফগানিস্তানের নতুন প্রেসিডেন্ট গনি, বিক্ষোভ মিছিল অব্যাহত

আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন বিশ্বব্যাংকের সাবেক অর্থনীতিবিদ আশরাফ গনি৷ তিনি পেয়েছেন ৫৬ শতাংশ ভোট৷ দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের স্থলাভিষিক্ত হবেন তিনি৷

সোমবার আফগানিস্তানে দ্বিতীয় দফা ভোটের প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশিত হয়৷ নির্বাচন কমিশন জানায়, প্রাথমিক ফলাফলে আশরাফ গনির প্রতিদ্বন্দ্বী আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ পেয়েছেন ৪৪ শতাংশ ভোট৷ আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ অবশ্য এই ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছেন৷ তাঁর মুখপাত্র রহমান রাহিমি সংবাদ সংস্থা এপি-কে বলেছেন, ‘‘তারা ভোট জালিয়াতির শিকার হয়েছেন৷ এই ফলাফল জনগণের মতামতের প্রতিফলন নয়৷'' কমিশন তাঁদের অভিযোগ তদন্ত করে দেখছে৷

তবে দেশটির সাবেক অর্থমন্ত্রী আশরাফ গনি বলেছেন, ন্যায়সংগতভাবেই তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন৷ অবশ্য সরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হবে ২২শে জুলাই৷ কিন্তু এরই মধ্যে গনি সমর্থকরা রাজধানী কাবুলে জয় উদযাপন শুরু করেছে৷ অন্যদিকে আবদুল্লাহ সমর্থকরা বিক্ষোভ মিছিল করেছে দেশটিতে৷

গত ১৪ই জুন দ্বিতীয় দফার এ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ হয়৷ গত এপ্রিলে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম দফার ভোট৷ তবে ওই নির্বাচনে কোনো প্রার্থীই শতকরা ৫০ ভাগের বেশি ভোট না পাওয়ায় দ্বিতীয় দফায় ভোট গড়ায়৷

সব ঠিক থাকলে এই ভোটের মধ্য দিয়েই আফগানিস্তানে প্রথমবারের মতো গণতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর হবে৷ দেশের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসাবে দায়িত্ব নেবেন আশরাফ গনি৷

সমাজ সংস্কৃতি | 05.04.2014

সংবাদ সম্মেলনে আশরাফ গনি

আশরাফ গনি

অর্থনীতিবিদ থেকে রাজনীতিবিদে পরিণত হওয়া আশরাফের জন্ম ১৯৪৯ সালে৷ লেখাপড়ার জন্য ১৯৭৭ সালে দেশ ছাড়ার পর দীর্ঘদিন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন, চাকরি করেছেন বিশ্বব্যাংকে৷ ২৪ বছর বিদেশে কাটিয়ে দেশ পুনর্গঠনের স্বপ্ন নিয়ে দেশে ফেরার পর তিনি যোগ দেন রাজনীতিতে৷

তালেবান শাসনের অবসানের পর আফগানিস্তানের প্রথম অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন আশরাফ৷ ২০০২ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত তিনি হামিদ কারজাই সরকারের অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন৷ ওই সময়ে নতুন মুদ্রা চালু করে, কর ব্যবস্থার সংস্কার করে এবং দাতাদের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের মাধ্যমে তিনি আলোচনায় আসেন৷ কিন্তু বদমেজাজ, ঔদ্ধত্য এবং কাউকে কাছে ঘেঁষতে না দেয়ার মনোভাবের কারণে যথেষ্ট বদনামও তাঁকে কুড়াতে হয়েছে৷

২০০৯ সালের নির্বাচনে আশরাফও অংশ নিয়েছিলেন৷ কিন্তু সেবার তিনি ভোট পান মাত্র ৩ শতাংশ৷ তবে এবার সাবেক মিলিশিয়া কমান্ডার আবদুল রশিদ দস্তুমকে ‘রানিং মেট' বানিয়ে প্রথম দফার নির্বাচনে তিনি আবির্ভূত হয়েছেন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্ত প্রার্থী হিসাবে৷ প্রথম পর্বে তাঁর পাওয়া ভোটের উল্লেখযোগ্য অংশ সংখ্যাগরিষ্ঠ পশতু ভোটারদের কাছ থেকে এসেছে৷ হামিদ কারজাইয়ের মতো আশরাফও একজন পশতুভাষী৷

বিশ্লেষকদের মতে, আশরাফ প্রেসিডেন্ট হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আফগানিস্তানের সম্পর্কের উন্নতি ঘটতে পারে৷ কিন্তু নিজের মেজাজ বদলাতে না পারলে দেশ চালানো তাঁর জন্য কঠিনই হবে৷

এপিবি/ডিজি (এপি, এএফপি, রয়টার্স)

আরো প্রতিবেদন...

সমাজ সংস্কৃতি | 3 ঘণ্টা আগে

নয় মাস মেয়াদ বাড়লো অ্যাকর্ডের

01:32 মিনিট
মিডিয়া সেন্টার | 6 ঘণ্টা আগে

আজকের খবর

আমাদের অনুসরণ করুন