আবারো বাসের মধ্যে ধর্ষণ, দায়ী কে?

১৬ই ডিসেম্বর ২০১২ – দিল্লির একটি বাসে গণধর্ষণ কাণ্ডের পর মারা গিয়েছিল নির্ভয়া৷ তার মৃত্যুর ক্ষত এখনও শুকায়নি বহু মানুষের বিবেকে৷ অথচ আজ, তিন বছর পর আবারো সে ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলো৷ বাসের মধ্যেই ঘটে গেল আরো একটা ধর্ষণ৷

নির্ভয়ার নির্মম মৃত্যুর এতগুলো বছর পরও ভারতে একই রকমভাবে ঘটে চলেছে নারী ধর্ষণ, যৌন নির্যাতনের ঘটনা৷ প্রতি ২২ মিনিটে একটি করে যৌন নিগ্রহের ঘটনা ঘটছে দেশটিতে৷ আর তার সর্বশেষ উদাহরণটি ঘটেছে দেশটির আইটি-হাব বেঙ্গালুরুতে৷

মেয়েটির বয়স ২৩, কাজ করতো একটি ‘কল সেন্টার'-এ৷ কাজের পর একটা পার্টি সেরে রাত ৯.৪৫ নাগাদ বাড়ি ফিরছিল মেয়েটি৷ কিন্তু....বাসস্টপ থেকেই প্রথমে অপহরণ, তারপর একটা মিনিবাসের মধ্যে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হলো তাকে৷ ধর্ষক একজন নয়, তিন-তিনটি ‘পুরুষ'৷

বাসস্টপটি বেঙ্গালুরুর বিখ্যাত কোরমঙ্গলায় অবস্থিত৷ অঞ্চলটি উচ্চবিত্ত, উচ্চ-মধ্যবিত্তদের মধ্যে খুবই পরিচিত, ‘পার্টি-হাব' যাকে বলে আর কি! বহু বিপিও, আইটি কোম্পানির পার্টি, নানারকম অনুষ্ঠান হয়ে থাকে সেখানে৷ তা অফিসের পার্টি যখন, তখন কোম্পানি থেকে গাড়ি দেয়া হয়নি কেন? রাতে কর্মচারীদের গাড়ি করে বাড়ি পৌঁছে দেয়ার না একটা আইন আছে ভারতে? – টুইটারে এমন প্রশ্ন করেছেন অনেকেই৷

ধর্ষণের শিকার মেয়েটি জানায় যে, সে পার্টির পর অটোরিক্সার জন্য অপেক্ষা করলো৷ আর তখনই মিনিবাসটি তার সামনে দাঁড়ায় এবং তাকে টানতে টানতে বাসে তোলা হয়৷ মেয়েটির কান্না আর চিৎকার বাসস্টপে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলোর কানে পৌঁছায় না৷ তারা নির্লিপ্তের মতো দাঁড়িয়ে তামাশা দেখে৷ এরপর ছুরি দেখিয়ে এক-একজন করে তিনজন ধর্ষণ করে তাকে৷ তারপর কার্যসিদ্ধির পর, আবারো সেই বাসস্টপেই ছুড়ে মেরে ফেলে চলে যায়৷ এই বর্বরোচিত ঘটনার প্রতিবাদ করতে টুইটারকেই বেছে নিয়েছেন মাহরুখ ইনায়েতের মতো অনেকে৷

পুলিশও ইতিমধ্যে তিনজন ধর্ষকের মধ্যে দু'জনকে গ্রেপ্তার করেছে বলে দাবি করেছে৷ যোগেশ (২৭) এবং সুনীল (23) নামের এই দুই ব্যক্তি তাদের অপরাধ স্বীকার করেছে বলেও জানিয়েছে তারা৷ কিন্তু শুধুমাত্র অপরাধীকে কঠিন থেকে কঠিনতম শাস্তি দিলেই কি সমাজের এই ক্যানসারকে সারিয়ে তোলা যাবে? প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে৷

প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে কীভাবে পুলিশ-প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে একটার পর একটা ধর্ষণ, শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটে চলেছে ভারতে? ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন, মানব পাচার – এ সব ঘৃণ্য কাজকে ঠেকাতে সুশীল সমাজকে হতে হবে আরো অনেক বেশি সক্রিয়, প্রয়োজনে আঙুল তুলতে হবে সরকারের দিকে, বলছেন অনেকেই৷ আশার কথা, ইউটিউবকে হাতিয়ার করে সমাজকে সচেতন করার কাজটা অন্ততপক্ষে শুরু হয়েছে ইতিমধ্যে...৷

ধর্ষিতার দুই আঙুল পরীক্ষা

প্রমাণ করার জন্য

ধর্ষণকারীকে সাজা দিতে তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনাটাই যথেষ্ট নয়৷ ধর্ষণ যে হয়েছে, সেটা প্রমাণ করতে হয়৷ তাই এতদিন পর্যন্ত বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চিকিৎসকরা দুই আঙুল পরীক্ষা করতেন৷

ধর্ষিতার দুই আঙুল পরীক্ষা

সম্ভোগের অভ্যাস

নিগৃহীতা মহিলার যৌনসম্ভোগের অভিজ্ঞতা বা অভ্যাস আছে কিনা, তা যাচাই করা হতো, কোথাও কোথাও এখনও হয়ে থাকে যোনিপথে আঙুল ঢুকিয়ে৷

ধর্ষিতার দুই আঙুল পরীক্ষা

কুমারিত্বের প্রমাণ

আঙুলের স্পর্শে চিকিৎসকরা বুঝতে পারেন, একজন নারীর সতীচ্ছদ অক্ষত আছে কিনা, অর্থাৎ সেই নারীর কুমারিত্ব অক্ষুণ্ণ আছে কিনা৷

ধর্ষিতার দুই আঙুল পরীক্ষা

ভিত্তিহীন ধারণা

আঙুলের সাহায্যে নাকি বোঝা যায়, বলপূর্বক যৌন সম্পর্ক হয়েছিল, না সম্মতি নিয়ে৷ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই পদ্ধতিকে ভিত্তিহীন বলে নিষিদ্ধ করার পক্ষপাতী৷

ধর্ষিতার দুই আঙুল পরীক্ষা

সর্বোচ্চ রায়

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ২০১৩ সালেই বলেছিল, দুই আঙুল পরীক্ষা ধর্ষিতার পক্ষে শারীরিক ও মানসিকভাবে অবমাননাকর৷ সরকারের বিকল্প পদ্ধতির সন্ধান করা উচিত৷

ধর্ষিতার দুই আঙুল পরীক্ষা

আর্মিতে ভর্তি হতে গেলে

ইন্দোনেশিয়ায় মহিলারা আর্মিতে ভর্তি হতে চাইলে, তাঁদের এই পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়৷ দেশটির আর্মি প্রধান জেনারেল মোয়েলদোকোর কথায়, ‘‘দুই আঙুল পরীক্ষা নারীর আচার-আচরণ, চরিত্র নিরীক্ষণের মূল চাবিকাঠি৷’’ বলা বাহুল্য, দক্ষিণ এশিয়া ছাড়াও মধ্য-পূর্ব এবং উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোতেও এটি একটি চালু পরীক্ষা৷

আপনার মতে এই ধর্ষণের জন্য দায়ী কে? জানান নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

আমাদের অনুসরণ করুন