‘আমাদের হাতেই বন্য প্রাণীর ভবিষ্যৎ'

বাংলাদেশে একটা কথা বেশ প্রচলিত – ‘বাঘ বাঁচলে বাঁচবে বন, রক্ষা পাবে সুন্দরবন'৷ হ্যাঁ, তবে শুধু সুন্দরবনই নয়, বন্য প্রাণী বাঁচলে আমরাও বাঁচবো৷ পৃথিবীর জন্য, পরিবেশের জন্য, মানুষের জন্যও যে তাদের বাঁচিয়ে রাখা দরকার৷

আপনি কী ভাবছেন?

এখানে ক্লিক করুন ও আলোচনায় যোগ দিন

আর এই কাজটা করতে হবে আমাদেরই৷ ৩রা মার্চ, বিশ্ব বন্য প্রাণী দিবসে এ কথাই মনে করিয়ে দিয়েছে জাতিসংঘ৷ তৈরি করেছে সুন্দর একটি ভিডিও, যার মারফত তারা স্পষ্ট করেই বলেছে, ‘মনুষের হাতেই রয়েছে বন্য প্রাণীর ভবিষ্যৎ৷'

ভিডিওটিতে সামগ্রিকভাবে বন্য প্রাণী রক্ষার আহ্বান জানানো হলেও এ বছর হাতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে তারা৷ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অফ নেচার (আইইউসিএন) ২০০৪ সালে হাতির ওপর একটা জরিপ করে৷ সেই জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশে মাত্র ২২৭টি হাতির অস্তিত্ব পাওয়া গেছে৷ ভয়ের বিষয় হলো যে, এ সংখ্যাটাও কমছে ক্রমশই৷

অন্যদিকে, ২০০৪ সালে ৪৪০টি বাঘের অস্তিত্বের কথা বলা হলেও, সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশের সুন্দরবনে আর মাত্র ১০৬টি রয়েল বেঙ্গল টাইগার বেঁচে আছে বলে জানিয়েছেন বন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা তপন কুমার দে৷

আর মাত্র ১০ বছর?

হাতি যে হারে কমছে, তাতে ১০ বছর পর চিড়িয়াখানা ছাড়া আর সব জায়গা থেকে এই প্রাণীটির চিহ্ন মুছে গেলে নাকি অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না৷ আশঙ্কাটা যে মোটেই বাড়াবাড়ি নয়, তা দুটো তথ্য দিলেই বুঝতে পারবেন৷ একশ’ বছর আগে আফ্রিকায় মোট এক কোটি হাতি ছিল৷ এখন সেখানে মাত্র সাড়ে চার থেকে সাত লাখের মতো হাতি টিকে আছে৷ এশিয়ায় আছে মাত্র ৩৫ থেকে ৪০ হাজার হাতি৷ গত দশ বছরে নাকি সারা বিশ্ব থেকে ৬২ ভাগ হাতি কমেছে!

দাঁতের জন্য মরছে হাতি

কথায় আছে, মরা হাতির দাম লাখ টাকা৷ সত্যিই তাই৷ বিশেষ করে হাতির দাঁত তো হীরা-মুক্তা-জহরতের মতোই মূল্যবান৷ সেই দাঁতের লোভে আফ্রিকার জঙ্গল থেকে প্রতিদিন কমপক্ষে একশ’টি হাতি মারা হয়৷ হাতির দাঁত সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় চীনে৷ গত জুলাই মাসে জুরিখ বিমানবন্দরে ২৬২ কিলোগ্রাম ওজনের হাতির দাঁতসহ ধরা পড়ে এক চীনা নাগরিক৷

জঙ্গিদের টাকার উৎসও হাতি!

বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অবৈধ ব্যবসা এই হাতির দাঁতের কেনাবেচা৷ মাদক এবং মানবপাচারের পরই এর স্থান৷ অনেক যু্দ্ধ-দাঙ্গা-হাঙ্গামার পেছনেও ভূমিকার রাখে হাতির দাঁত৷ আফ্রিকা অঞ্চলের দুই ইসলামি জঙ্গি সংগঠন বোকো হারাম এবং আল-শাবাব বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অস্ত্র কেনে হাতির দাঁতের বিনিময়ে!

জঙ্গল কমছে, কমছে হাতি

জনসংখ্যা বাড়ছে৷ আর জনসংখ্যা বৃদ্ধির চাপ পড়ছে জঙ্গলের ওপর৷ মানুষ জঙ্গল কেটে সেখানে গড়ছে বাসস্থান, কলকারখানা৷ ফলে জঙ্গলের প্রাণীরা পড়ছে বিপদে৷ হাতির জন্যও জঙ্গল ক্রমশই কমছে, বাড়ছে বিপদ৷ গত এক শতকে আফ্রিকার জনসংখ্যা চারগুণ বেড়েছে৷ হাতির সংখ্যা সেখানে এক কোটি থেকে কমে সাত লাখ বা তারও কম হওয়াই তো স্বাভাবিক, তাই না?

হাতিরক্ষায় তৎপর ওবামা

চীনের পর হাতির দাঁত সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় যুক্তরাষ্ট্রে৷ তবে ধীরে ধীরে হয়ত সেখানে অবৈধ এ ব্যবসাটা কমবে৷ গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এই ব্যবসা একেবারে বন্ধ করতে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা৷

২০১২ সালের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী বাঘ ও হাতি হত্যায় সর্বোচ্চ শাস্তি সাত বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়েছে৷ কিন্তু তারপরও বাঘ মারার ঘটনা ঘটে চলেছে বাংলাদেশে৷ তার ওপর আছে চোরাকারবারিদের উপদ্রব৷ তাই বনের প্রাণী রক্ষায় সচেতনতার বিকল্প নেই৷ আর জাতিসংঘের এই ভিডিওটি দেখলে আপনি কিছুটা সচেতন অবশ্যই হবেন৷

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিবছর এই ৩রা মার্চ দিনটি বিশ্ব বন্য প্রাণী দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে৷

মেরু অঞ্চলের বাসিন্দা সাদা ভল্লুকরা খাবারের অভাব পড়লে শক্তিসঞ্চয় করতে কিছুদিন হাইবারনেশনে কাটাতে পারতো বলে এতদিন জানা ছিল৷ কিন্তু সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে সেটা সত্যি নয়৷

বিশ্ব যখন সেসিলের মৃত্যুর ঘটনায় শোকাহত তখনই কেনিয়ায় পাঁচটি হাতিকে হত্যার খবর জানা যায়৷ সংরক্ষিত একটি পার্কে ঐ হাতিগুলোকে দাঁতহীন অবস্থায় মরে পড়তে দেখা যায়৷ অসাধু ব্যবসায়ীদের হাতে প্রতিবছর শত শত হাতির মৃত্যু হয়৷

আর এই কাজটা করতে হবে আমাদেরই৷ ৩রা মার্চ, বিশ্ব বন্য প্রাণী দিবসে এ কথাই মনে করিয়ে দিয়েছে জাতিসংঘ৷ তৈরি করেছে সুন্দর একটি ভিডিও, যার মারফত তারা স্পষ্ট করেই বলেছে, ‘মনুষের হাতেই রয়েছে বন্য প্রাণীর ভবিষ্যৎ৷'

ভিডিওটিতে সামগ্রিকভাবে বন্য প্রাণী রক্ষার আহ্বান জানানো হলেও এ বছর হাতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে তারা৷ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অফ নেচার (আইইউসিএন) ২০০৪ সালে হাতির ওপর একটা জরিপ করে৷ সেই জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশে মাত্র ২২৭টি হাতির অস্তিত্ব পাওয়া গেছে৷ ভয়ের বিষয় হলো যে, এ সংখ্যাটাও কমছে ক্রমশই৷

অন্যদিকে, ২০০৪ সালে ৪৪০টি বাঘের অস্তিত্বের কথা বলা হলেও, সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশের সুন্দরবনে আর মাত্র ১০৬টি রয়েল বেঙ্গল টাইগার বেঁচে আছে বলে জানিয়েছেন বন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা তপন কুমার দে৷

আর মাত্র ১০ বছর?

হাতি যে হারে কমছে, তাতে ১০ বছর পর চিড়িয়াখানা ছাড়া আর সব জায়গা থেকে এই প্রাণীটির চিহ্ন মুছে গেলে নাকি অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না৷ আশঙ্কাটা যে মোটেই বাড়াবাড়ি নয়, তা দুটো তথ্য দিলেই বুঝতে পারবেন৷ একশ’ বছর আগে আফ্রিকায় মোট এক কোটি হাতি ছিল৷ এখন সেখানে মাত্র সাড়ে চার থেকে সাত লাখের মতো হাতি টিকে আছে৷ এশিয়ায় আছে মাত্র ৩৫ থেকে ৪০ হাজার হাতি৷ গত দশ বছরে নাকি সারা বিশ্ব থেকে ৬২ ভাগ হাতি কমেছে!

দাঁতের জন্য মরছে হাতি

কথায় আছে, মরা হাতির দাম লাখ টাকা৷ সত্যিই তাই৷ বিশেষ করে হাতির দাঁত তো হীরা-মুক্তা-জহরতের মতোই মূল্যবান৷ সেই দাঁতের লোভে আফ্রিকার জঙ্গল থেকে প্রতিদিন কমপক্ষে একশ’টি হাতি মারা হয়৷ হাতির দাঁত সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় চীনে৷ গত জুলাই মাসে জুরিখ বিমানবন্দরে ২৬২ কিলোগ্রাম ওজনের হাতির দাঁতসহ ধরা পড়ে এক চীনা নাগরিক৷

জঙ্গিদের টাকার উৎসও হাতি!

বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অবৈধ ব্যবসা এই হাতির দাঁতের কেনাবেচা৷ মাদক এবং মানবপাচারের পরই এর স্থান৷ অনেক যু্দ্ধ-দাঙ্গা-হাঙ্গামার পেছনেও ভূমিকার রাখে হাতির দাঁত৷ আফ্রিকা অঞ্চলের দুই ইসলামি জঙ্গি সংগঠন বোকো হারাম এবং আল-শাবাব বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অস্ত্র কেনে হাতির দাঁতের বিনিময়ে!

জঙ্গল কমছে, কমছে হাতি

জনসংখ্যা বাড়ছে৷ আর জনসংখ্যা বৃদ্ধির চাপ পড়ছে জঙ্গলের ওপর৷ মানুষ জঙ্গল কেটে সেখানে গড়ছে বাসস্থান, কলকারখানা৷ ফলে জঙ্গলের প্রাণীরা পড়ছে বিপদে৷ হাতির জন্যও জঙ্গল ক্রমশই কমছে, বাড়ছে বিপদ৷ গত এক শতকে আফ্রিকার জনসংখ্যা চারগুণ বেড়েছে৷ হাতির সংখ্যা সেখানে এক কোটি থেকে কমে সাত লাখ বা তারও কম হওয়াই তো স্বাভাবিক, তাই না?

হাতিরক্ষায় তৎপর ওবামা

চীনের পর হাতির দাঁত সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় যুক্তরাষ্ট্রে৷ তবে ধীরে ধীরে হয়ত সেখানে অবৈধ এ ব্যবসাটা কমবে৷ গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এই ব্যবসা একেবারে বন্ধ করতে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা৷

২০১২ সালের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী বাঘ ও হাতি হত্যায় সর্বোচ্চ শাস্তি সাত বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়েছে৷ কিন্তু তারপরও বাঘ মারার ঘটনা ঘটে চলেছে বাংলাদেশে৷ তার ওপর আছে চোরাকারবারিদের উপদ্রব৷ তাই বনের প্রাণী রক্ষায় সচেতনতার বিকল্প নেই৷ আর জাতিসংঘের এই ভিডিওটি দেখলে আপনি কিছুটা সচেতন অবশ্যই হবেন৷

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিবছর এই ৩রা মার্চ দিনটি বিশ্ব বন্য প্রাণী দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে৷

ডিজি/এসিবি

‘আমাদের হাতেই বন্য প্রাণীর ভবিষ্যৎ' – এ কথাটা কি আপনি মানেন? জানান নীচের ঘরে৷

আগের তথ্য সত্যি নয়!

মেরু অঞ্চলের বাসিন্দা সাদা ভল্লুকরা খাবারের অভাব পড়লে শক্তিসঞ্চয় করতে কিছুদিন হাইবারনেশনে কাটাতে পারতো বলে এতদিন জানা ছিল৷ কিন্তু সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে সেটা সত্যি নয়৷

কমে যাচ্ছে বাঘের গর্জন

সম্প্রতি জানা গেছে, সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে নাকি বাঘের সংখ্যা মাত্র ১০৬টি৷ অথচ ২০০৪ সালের এক জরিপে সংখ্যাটা ছিল ৪৪০৷ বিশ্বব্যাপীও বাঘের সংখ্যা কমছে৷ গত এক শতকে বাঘের সংখ্যা এক লক্ষ থেকে কমে মাত্র ৩,২০০তে দাঁড়িয়েছে৷

জনপ্রিয় সিংহ ‘সেসিল’

জিম্বাবোয়ের প্রখ্যাত সিংহ সেসিলকে গত জুলাই মাসে হত্যা করেন এক মার্কিন শিকারি৷ বিষয়টির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর যুক্তরাষ্ট্র সহ সারা বিশ্বে সমালোচনার ঝড় ওঠে৷ যুক্তরাষ্ট্রেরই অনেক নাগরিক এই ঘটনায় মার্কিন ঐ শিকারিকে বিচারের মুখোমুখি করতে জিম্বাবোয়েতে পাঠানোর পক্ষে সোচ্চার হয়েছেন৷

হাতির মৃত্যু

বিশ্ব যখন সেসিলের মৃত্যুর ঘটনায় শোকাহত তখনই কেনিয়ায় পাঁচটি হাতিকে হত্যার খবর জানা যায়৷ সংরক্ষিত একটি পার্কে ঐ হাতিগুলোকে দাঁতহীন অবস্থায় মরে পড়তে দেখা যায়৷ অসাধু ব্যবসায়ীদের হাতে প্রতিবছর শত শত হাতির মৃত্যু হয়৷

রইলো বাকি চার

চেক প্রজাতন্ত্রের একটি চিড়িয়াখানায় গত মাসের শেষ সপ্তাহে নাবির নামের একটি উত্তরাঞ্চলীয় সাদা গন্ডারের মৃত্যু হয়৷ ফলে বিশ্বে এখন এই প্রজাতির আর মাত্র চারটি গন্ডার থাকলো৷ বিজ্ঞানীরা ঐ গন্ডারগুলোর প্রজননের চেষ্টা করছে৷ কিন্তু এখন পর্যন্ত সফলতার খবর আসেনি৷

কুমিরও নিরাপদ নয়

অস্ট্রেলিয়ার একটি শহরে পুরনো এক রেফ্রিজারেটরে একসঙ্গে ৫০টি লবণাক্ত পানির কুমিরের মাথা পাওয়া গেছে৷ কুমিরের চামড়া মূল্যবান হওয়ায় অসাধু শিকারিদের জীবন আজ হুমকির মুখে৷

লাল স্যামন

জুন মাসে প্রচণ্ড গরমের কারণে পানির উষ্ণতা বেড়ে যাওয়ায় কলম্বিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় আড়াই লক্ষ লাল স্যামন মাছের হয় মৃত্যু হয়েছে, না হয় মৃত্যুর কাছাকাছি পৌঁছে গেছে বলে জানা গেছে৷

আর এই কাজটা করতে হবে আমাদেরই৷ ৩রা মার্চ, বিশ্ব বন্য প্রাণী দিবসে এ কথাই মনে করিয়ে দিয়েছে জাতিসংঘ৷ তৈরি করেছে সুন্দর একটি ভিডিও, যার মারফত তারা স্পষ্ট করেই বলেছে, ‘মনুষের হাতেই রয়েছে বন্য প্রাণীর ভবিষ্যৎ৷'

সংশ্লিষ্ট বিষয়